জুম্মার নামাজের ফরজ দুই রাকাতের এর পরে, যে ২ রাকাত সুন্নত নামাজ আছে, সেটা না পড়লে কি গুনাহ হবে? বেশির ভাগ মানুষকে দেখি, শুধু জুম্মার ফরজ নামাজটাই পড়ে থাকে। এর পরের ২ রাকাত সুন্নত নামাজ না পড়েই, মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। এটা তে কি তাদের গুনাহ হবে না? ওই দুই রাকাত নামাজ পড়া কি আবশ্যিক?
1 টি উত্তর
জুমার ফরজের আগে চার রাকাত ও ফরজের পরে চার রাকাত নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। এসকল সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ নামাজ কোন ধরনের ওজর ছাড়া এমন সুন্নত গুলো তরক কারী গুনাহগার হবে। কিন্তু যে দুই রাকাত নামাজের কথা বলছেন এই তরক কারী গুনাহগার হবে না। জুমার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ, যা রাসুল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত। তবে জুমার পরের চার রাকাত সুন্নতের সঙ্গে আরও দুই রাকাত নামাজ পড়া উত্তম। হজরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সাঃ) জুমার নামাজের আগে চার রাকাত এবং জুমার নামাজের পর চার রাকাত নামাজ আদায় করতেন। চার রাকাত শেষে সালাম ফেরাতেন। (আল-মুজামুল আওসাতঃ ১৬১৭)। ইবনে মাসউদ (রাঃ) নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, নবী করিম (সাঃ) জুমার নামাজের আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত নামাজ আদায় করতেন। (আল- মুজামুল আওসাতঃ ৩৯৫৯, নাসবুর রায়াহঃ ২৪৮)। হজরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সাঃ) জুমার নামাজের আগে একসঙ্গে চার রাকাত নামাজ আদায় করতেন। (সুনান ইবনে মাজাহঃ ১১২৯)। হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজ আদায় করবে সে যেন এরপর চার রাকাত আদায় করে। (মুসলিমঃ ২০৭৫, তিরমিজিঃ ৫২৩)। হজরত সালেম (রাঃ) তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জুমার পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। (মুসলিমঃ ২০৭৮, তিরমিজিঃ ৫২১)।