ক্লাসের একটা মেয়ে আমার সাথে শুধু কথা বলতে চায়, এর থেকে পরিত্রাণ পাবো কিভাবে?

যেমন ধরুনঃ রাস্তায় যদি দেখা হয়, তাহলে চমক করেই বলে ওঠে “এই হিজবুল্লাহ! কোথায় যাও?”

আবার ক্লাসের মধ্যে কয়েকটা প্রিয়ড করার পর যখন আমরা সবাই ফ্রী থাকি, তখন মেয়েটি আমার কাছে এসে বিভিন্ন রকমের কথা বলতে শুরু করে। যেমনঃ “এই, কেমন আছো? তোমার পরিবারের সবাই কেমন আছে?” - আরও কত কী!

এখন আমি চাই, এরকম যেন আর না হয়; কিন্তু কী করবো, ভেবে কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না। একটু পরামর্শ দিন তো.....

উল্লেখ্য, একদিন ক্লাসের মধ্যে স্যার আমাকে একটি গান গাইতে বলে, তার পরে থেকেই এই অবস্থা।

6 টি উত্তর

তাকে বুজিয়ে বলুন যে,আপনি তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক নন।এতেও কাজ না হলে অন্যদের দিয়ে বুজান যে আপনি মানুষটা অটতাও ভালো নাহ।

আর সে যদি একান্তই আপনাকে ভালোবেসে থাকে তাহলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিৎ কিনা ভেবে দেখতে পারেন।  

হয়তো মেয়েটি আপনাকে পছন্দ করে ।এমনকি ভালো ও বাসতে পারে । তাই আপনি সোজাসোজি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করুন এসবের মানে কি । যদি আপনি মেয়েটিকে পছন্দ না করেন তবে সরাসরি তাকে বলেন তোমাকে আমার পছন্দ হয় না ।

আপনার বৰ্ণনা শুনে স্পষ্টতই অনুমেয় যে, মেয়েটি আপনাকে পছন্দ করে ফেলেছে এবং তার উদ্দেশ্য আপনার সাথে প্রেমে জড়ানো । 

আপনি নিজেও ভালো করেই জানেন যে বিবাহপূর্ব প্রেম- ভালোবাসা ইসলামে নিষিদ্ধ । আর সে কারণেই হয়তবা আপনি তার থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছেন এবং এমনটা যেন না হয় সেটা চাচ্ছেন । অবশ্যই ভালো চিন্তা আপনার । 

আপনি এখন যে কাজটি করবেন,

আপনি তাকে সব কিছু ক্লিয়ার করে বুঝিয়ে বলবেন যে , এসব বিবাহপূর্ব প্রেম ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব কিংবা মাহরাম নয় এমন নারী পুরুষের সাথে কথা বলাটাও ও নিষিদ্ধ । এমত অবস্থায় আপনি সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহকে ভয় করে তার সাথে কোনরুপ বন্ধুত্ব করতে চাচ্ছেন না কিংবা অহেতুক কোন কথা বার্তাও বলতে চান না । আপনি এসব বলার সময় সূরা আন-নূর এর সেসব আয়াত এর উদাহরণ ও দিবেন যেখানে মহান আল্লাহ নারীদের কে পর্দা করার কথা বলেছেন এবং ছেলেদের দৃষ্টিকে নত করার কথা বলেছেন । এবং আরো করবেন যেন মেয়েটি হেদায়েত প্রাপ্ত হয়ে নিজেও চেন্জ হয়ে যায় । সেই সাথে কথা বলার ধরনটা যেন এমন না হয় যে সে কষ্ট পায় । 


আশাকরি ইসলামিক বুঝ পেয়ে সে নিজেকে শুধরে নিবে এবং আপনার সাথে আর এরূপটি করবে না ।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সকল পাপ কাজ থেকে দূরে থেকে মহান আল্লাহর গোলামী করার তৌফিক দান করুক । (আমিন)

হ্যা!আপনার বর্ণনামতে একথা স্পষ্ট যে,তার আপনাকে ভালোলাগে৷আপনার সাথে গভীর বন্ধুত্বে জড়াতে চাই৷এটা নিতান্তই তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার!কারো ভাল স্বভাব, চাল-চলন,অভ্যাস দেখে যে কারো ভালো লাগতে পারে৷ কিন্তু তার ডাকে ছাড়া দেওয়া এটাও আমার/আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার৷

ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত প্রেম /ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব নিষিদ্ধ ও হারাম!আপনার বর্ণনামতেও একথা স্পষ্ট যে,আপনি এমন কোন সম্পর্কে আগ্রহী নন৷ সুতরাং -সর্বপ্রথম আপনি একথাটাকে মনেপ্রাণে দৃঢ়ভাবে স্থির করে নিন যে,আপনি এমন কোন সম্পর্কে জড়াবেন না!তারপর......

আপনি যখন বুঝতে পারছেন যে আপনাকে তার ভালোলাগে/আপনার সাথে সম্পর্কে এগোতে চাই,তখন আপনি সরাসরি ‘না’ করে দিন। সরাসরি না করতে না পারলেও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিন যে আপনি আগ্রহী নন।

মনে রাখবেন এসব ক্ষেত্রে দিধায় না ভোগাই ভালো। যত শক্তভাবে না বলতে পারবেন, ওনি আপনার সাথে সম্পর্কে জড়াতে ততটা কম উৎসাহ পাবে। এভাবে দুয়েকবার ‘না’ বলে দিলে ওনি এমনিতেই আপনার থেকে দূরে থাকবে।

কারো হায়/হ্যালোতে একথা বলা অসম্ভব যে,সে আপনাকে ভালোবাসে!বা বুঝলেও এর সরাসরি প্রতিবাদ করা যৌক্তিক নয়৷ তাই আপনি একথা বলবেন না যে,আমি তোমাকে ভালোবাসতে পারবোনা বা আমি ভালোবাসায় বিশ্বাসী না!একথা বললে তার মনে ভালোবাসার অনুভূতি না থাকলেও জেগে যাবে,পরে আপনার পিছু ছাড়বেনা৷ সুতরাং -আপনি সরাসরি বলুন যে,আপনি কোন রকম অতিরিক্ততা পছন্দ করেন না!

সবছেয়ে বড় কথা হলো-আপনার চলাফেরা /আচার-আচরণে এবিষয়টা ফুটে ওটা যে,আপনি তাকে এবং এবিষয়গুলোকে এড়িয়ে চলতে চান।

এবং কোন রকম তর্কে জড়াবেন না,তর্ক/সাধারণ মধুর জগড়া থেকে সম্পর্ক গভীরতায় রূপ নেই !

ঐ যে প্রথমে বললাম,মনকে স্থির করুন,কোন বাহাবায় আপনি এ সম্পর্কে বিশ্বাসী না একথার৷ 

ইনশাআল্লাহ এভাবে চললে সে আপনা-আপনি আপনার থেকে দূরে যেতে বাদ্ধ হবে৷ 

আরো একটি কথা না বললে নয়,মাদ্রাসা বা কলেজ টাইমে অবসর সময় কাটানোর জন্য সবসময় একই জায়গা নির্বাচন করা থেকে বিরত থাকুন৷আপনি যদি তার এমন আচরণের পরও প্রতিদিন একই জায়গায় সময় কাটান সে মনে করবে আপনিও মনে মনে চান সে আপনাকে ডিস্টার্ব করুক৷অতএব-তার আপনার আচরণ যেন তার মনে আশা না জাগায়৷ 

আর হ্যা!এর থেকে পরিত্রাণের জন্য তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই৷ তাড়াহুড়ায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে৷ 

ভালো থাকবেন,নিজের প্রতি খেয়াল রাখবেন৷ 

হ্যাঁ, আমার মনে হয় মেয়েটি আপনাকে পছন্দ করে। তাই আপনাকে বারবার বিরক্ত করছে। কিন্তু ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত প্রেম ভালোবাসা সম্পূর্ণরুপে হারাম। এজন্য আপনার যা করা উচিতঃ-

  • মেয়েটির থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকবেন।
  • আপনি যদি উনার কথায় উত্তর দিতে বাধ্য হন, তবে চেষ্টা করবেন সর্বোচ্চ এক বা দুই শব্দে, অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে, গম্ভীরমুখে উত্তর দেওয়া।
  • আপনি অবসর সময় এমন জায়গায় কাটাবেন না যেখানে মেয়েটি আপনাকে ডিস্টার্ব করতে পারে। আর এমন জায়গায় তো কক্ষণো না যেখানে মেয়েটি আপনার সাথে একা কথা বলার সুযোগ পাবে।
  • নিজেকে সবসময় কোন কাজে ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করুন। 
  • আল্লাহর কাছে শাইত্বানের ফিতনা হতে আশ্রয় চেয়ে বেশি বেশি দোয়া করুন।
  • আর মেয়েটি যদি আপনাকে কোন কারণে বিরক্ত করা বাড়িয়ে দেয়, তবে আপনি তাকে সরাসরি বলে দিন যে আপনি কোন গায়রে মাহরাম মেয়ের সাথে কথা বলতে আগ্রহী নন। এ ব্যাপারে মনে কোন প্রকার দুর্বলতা রাখবেন না। মেয়েটি কষ্ট পেল না কি পেল এটা ভাবতে গেলেই শেষ। 
  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এ ব্যাপারটিকে কোনমতেই হালকাভাবে দেখা যাবে না। বারসিসা ঘটনাটি নিশ্চয়ই পড়েছেন। অনেক আল্লাহর বড় বড় ওলীও নারীদের ফিতনায় পড়ে ধ্বংস হয়ে গেছেন।(আমার এক পরহেজগার বন্ধুরো একই অবস্থা)। অতএব, ছোটখাট কথাই তো, বললে সমস্যা কী? ভাবলে আপনারো অবস্থা তাদের মতোই হবে। অতএব সাবধান!
ইয়া আল্লাহ, আমাদের সবাইকে নারীদের ফিতনা থেকে বাঁচার তৌফিক দান করুন।
সৃষ্টিকর্তা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ দিয়েই মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তবে তিনি মানুষ সৃষ্টি করে কিছু দিকনির্দেশনা এবং আদেশ নিষেধ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আপনি হয়ত জানেন বিয়ে ছাড়া কোনো ছেলে মেয়ে বন্ধুত্ব করা, ভালোবাসা, নিদিষ্ট শর্ত ছাড়া কথা বলা দেখা করাও নিষেধ। আপনি হয়ত বিষটি সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন এবং আপনাকে সৃষ্টিকর্তার নিষেধ মানার মত ধর্যশক্তি তিনি দিয়েছেন। মেয়েটির হয়ত এই সম্পর্কে সঠিকভাবে বুঝতে পারতেছে না। এবং অজ্ঞতাবশত আপনার সাথে বন্ধুত্ব, বা ভালোবাসার সম্পর্কে জড়াতে চাচ্ছে। আপাতত আপনি মেয়েটি এড়িয়ে চলুন বিভিন্ন ব্যাবহার দ্বারা বুঝান যে আপনি তার প্রস্তাবে রাজি নয় আপনি তার মত না। আর কোনো ভাবে আশ্রয় দিবেন না। কোমলভাবে কোনো কথা বলবেন না। তবুও যদি আপনাকে বিরক্ত করে তাহলে বিভিন্ন ভাবে, ধর্মদিয়ে নিরব জায়গায় বুঝান। আশাকরি মেয়েটি বুঝতে পারবে এবং আপনার সমস্যাটি ইনশাল্লাহ সমাধান হয়ে যাবে।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ