নাপাকি দূর করার উপায়? যদি এমন কিছুতে বীর্য লাগে যেটা ধোয়া সম্ভব না। বা বীর্য যদি তোশকে লাগে তাহলে সেটাতো ধোয়া সম্ভব না। সেক্ষত্রে কি উপায়ে সেটি পবিত্র করা যাবে?
3 টি উত্তর
ভালোভাবে শুধু যেখানে বীর্য লেগেছে সে জায়গাটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন ।

প্রশ্নকর্তা ভাই আপনি যদি নাপাক বস্তুটির নাম উল্লেখ করতেন তবে উত্তর দিতে অনেক সুবিধা হতো৷ কিন্তু তবুও আমি এমন কিছু বস্তুর উদাহরণ টেনে বুঝানোর চেষ্টা করছি যা ধৌত করা সম্ভব নয় /ধৌত না করেও পবিত্র করা যায়৷                             

★নাপাক চর্বি অথবা তেল থেকে সাবান তৈরি করা হলে সাবান পাক হবে।

★তেল অথবা ঘি যদি নাপাক হয়, তাহলে তেল বা ঘির মধ্যে সমপরিমাণ পানি ঢেলে দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। পানি শেষ হওয়ার পর আবার ওই পরিমাণ পানি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। এভাবে তিনবার করলে তা পাক হবে। অথবা তেল বা ঘিয়ের মধ্যে পানি দিতে হবে। পানির ওপর তেল বা ঘি এসে যাবে। তখন তা ওপর থেকে তুলে নিয়ে আবার পানি ঢালতে হবে। এভাবে তিনবার করলে তা পাক হয়ে যাবে।

★মধু, সিরাপ বা শরবত যদি নাপাক হয়, তাহলে তাতে পানি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। পানি সরে গেলে আবার পানি দিতে হবে। এভাবে তিনবার করলে তা পাক হবে।

★জমাট হওয়া ঘি, চর্বি অথবা মধু যদি নাপাক হয়, তাহলে নাপাক অংশটুকু বাদ দিলেই পাক হয়ে যাবে।

★সানা আটা অথবা শুকনো আটা নাপাক হয়ে গেলে নাপাক অংশ তুলে ফেললেই বাকিটা পাক হয়ে যাবে। যেমন সানা আটার ওপর কুকুর মুখ দিয়েছে, তাহলে মুখ লাগা অংশটুকু ফেলে দিলেই পাক হয়ে যাবে অথবা শুকনো আটায় যদি মুখ দেয়, তাহলে তার মুখের লালা যতটুকুতে লেগেছে বলে মনে হবে, ততখানি আলাদা করে দিলে বাকিটুকু পাক হয়ে যাবে।

মাটি, ঢিল, বালু, পাথর প্রভৃতি শুকিয়ে গেলে পবিত্র হয়ে যায়। যে পাথর মসৃণ নয় এবং তরল বস্তু চুষে নেয়, তা শুকিয়ে গেলে পবিত্র হয়ে যায়।

লেখক : শিক্ষক, মাদ্রাসাতুল মদিনা

নাপাকি দুই প্রকারঃ–নাজাসাতে গলিজা এবং নাজাসাতে খফিফা। মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া পায়খানা, প্রসাব, প্রবহমান রক্ত ও বীর্য ইত্যাদি হলো নাজাসাতে গলিজা অর্থাৎ শক্ত নাপাকি। শরিয়তের দৃষ্টিতে এই নাপাকের হুকুম হল যদি কারো শরীর বা কাপড়ে ওই ধরনের নাপাক লাগে তখন উক্ত নাপাকী ধৌত করে পবিত্র করতে হবে। তোশক পবিত্র করার নিয়মঃ তোশক বা এজাতীয় জিনিশ যা নিংড়ানো যায় না তাতে নাপাকি লাগলে যদি তা উপরের আবরণে লেগে থাকে এবং ভিতরে প্রবেশ না করে, তাহলে সে নাপাকি দূর করে দেয়া বা তিন বার তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করে দেয়ার দ্বারা তা পাক হয়ে যায়। কিন্তু যদি তোশকে নাপাকি ভেতরে খুব ভালোভাবে চুষে নেয়, তা হলে তা তিন বার ধৌত করতে হবে। এবং প্রতিবার ধৌত করার পর শুকাতে হবে। শুকানোর অর্থ হচ্ছে তার উপর হাত রাখলে যেন ভিজে না যায়। (শামিঃ ১/৩৩২, কিতাবুল ফাতাওয়া)।