পুতুলের (সেক্স ডল) সাহায্যে রাগমোচন বা মৈথুন করলে কি, শরিয়ত বাধাগ্রস্ত করবে?
 (20 পয়েন্ট) 

জিজ্ঞাসার সময়

একটা ফতোয়া জানা দরকার ছিলো। তা হলো পুতুলের(সেক্স ডল) সাহায্যে  রাগমোচন বা মৈথুন  করলে কি, শরিয়ত  বাধাগ্রস্ত করবে। জানালে ভালো হয়। আর হ্যাঁ, জনাব,  প্লিজ কিছু মনে না করে,আশা করি, এই ভাইটিকে, উত্তর প্রধান করতে ইচ্ছুক হবেন।

2 Answer

 (2380 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

পুতুল (সেক্স ডল) এর সাহায্যে বীর্যপাত ঘটানো জায়েজ নেই৷ কেননা ইসলামী শরিয়তের বিধি অনুযায়ী শুধুমাত্র স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসীর সাথে মেলামেশা করার অনুমতি রয়েছে৷ কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘(অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছেন)... আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী। তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন (শরয়ী) দাসী ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমা লঙ্ঘনকারী। ’ (সূরা মুমিনুন আয়াত নং ১ ও ৫-৭)। তাফসিরে মাআরিফুল কোরআনে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখা হয়েছে— নিজের বিবাহিতা স্ত্রী কিংবা শরিয়তসম্মত বান্দী ছাড়া আর কোনো পদ্ধতিতে জৈবিক চাহিদা পূরণ করার সুযোগ নেই।   এ দুটি পদ্ধতি ছাড়া পৃথিবীতে জৈবিক চাহিদা পূরণের যত পন্থা আছে সব নিষিদ্ধ। (তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন উর্দু : ৬/২৯৭)।
 (11523 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া অন্যকোন ভাবে গুপ্ত অভ্যাস হাত বা অন্য কিছুর মাধ্যমে বীর্যপাত, স্বমৈথুন বা হস্ত মৈথুন করা কিতাব, সুন্নাহ ও সুস্থ বিবেকের নির্দেশ মতে হারাম। যদিও সেটা হোক পুতুলের সাহায্যে। শরিয়ত এই কাজে বাধাগ্রস্ত করে। কিতাব বা কুরআনের দলীল; আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে নিজেদের পত্নি অথবা অধিকারভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে অন্যথা করলে তারা নিন্দনীয় হবে না। আর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। (সূরা মু’মিনূনঃ ৫-৭) সুতরাং যে ব্যক্তি তার স্ত্রী ও অধিকারভুক্ত দাসী (অধিকারভুক্ত দাসী বলতে ক্রীতদাসী ও কাফের যুদ্ধবন্দিনীকে বুঝানো হয়েছে। এখানে কাজের মেয়ে, দাসী, খাদেম বা চাকরানী উদ্দেশ্য নয়।) ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা কামলালসা চরিতার্থ করতে চায়, সে ব্যক্তি “এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে” বলা বাহুল্য, এই আয়াতের পরিপেক্ষিতে সে সীমালঙ্ঘঙ্কারী বলে বিবেচিত হবে। সুন্নাহ থেকে দলীল, আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেন, হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যে কেউ স্ত্রী সঙ্গম ও বিবাহ খরচে সমর্থ, সে যেন বিবাহ করে! কারণ টা অধিক দৃষ্টি-সংযতকারী এবং অধিক যৌনাঙ্গ রক্ষাকারী, যেহেতু তা এর জন্য (খাসী করার মত) কাম দমন কারীর সমান। অথবা, এটি তার জন্য জৈবিক উত্তেজনা প্রশমনকারী। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ১৮৪৫ সহীহুল বুখারীঃ ১৯০৫, ৫০৬৫, ৫০৬৬, মুসলিমঃ ১৪০০, তিরমিযীঃ ১০৮১, নাসায়ীঃ ২২৩৯, আবূ দাউদঃ ২০৪৬, হাদিসের মানঃ সহিহ)। (বুখারী, মুসলিম) সুতরাং নবী (সাঃ) বিবাহে অসমর্থ ব্যক্তিকে রোযা রাখতে আদেশ করলেন, অথচ যদি হস্তমৈথুন বৈধ হত, তবে নিশ্চয় তিনি তা করতে নির্দেশ দিতেন। অতএব তা সহজ হওয়া স্বত্বেও যখন তিনি তা করতে নির্দেশ দিলেন না, তখন জানা গেল যে তা বৈধ নয়। আর সুচিন্তিত মত এই যে, যেহেতু এই কাজে বহুমুখী ক্ষতি ও অনিষ্টের আশঙ্কা রয়েছে, যা চিকিৎসাবিদগণ উল্লেখ করে থাকেন; এতে এমন ক্ষতি রয়েছে যা স্বাস্থ্যের পক্ষে বড় বিপদ বিপজ্জনক; এ কাজ যৌনশক্তিকে দুর্বল করে ফেলে, চিন্তাশক্তি ও দূরদর্শিতার ক্ষতি সাধন করে এবং কখনো বা এর অভ্যাসী ব্যক্তিকে প্রকৃত দাম্পত্যসুখ থেকে বঞ্চিত করে। কারণ যে কেউ এ ধরনের অভ্যাসে নিজ কাম-লালসাকে চরিতার্থ করে থাকে, সে হয়তো বা বিবাহের প্রতি ভ্রূক্ষেপই করবে না। (ইবনে উষাইমীন) মানুষের যৌন-ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য দুটি বৈধ মাধ্যম রেখেছেন একটি হল স্ত্রী। আর দ্বিতীয়টি হল অধিকারভুক্ত যুদ্ধবন্দিনী অথবা ক্রীতদাসী। বর্তমানে এই অধিকারভুক্ত দাসীর ব্যাপারটা ইসলামের নির্দেশিত কৌশল অনুসারে প্রায় শেষই হয়ে গেছে। দাস-দাসীর বিধান ‘মানসুখ ’ বা রহিত হয়ে যায়নি। আইনগতভাবে এই প্রথাকে একেবারে এই জন্য উচ্ছেদ করা হয়নি যে, ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাহলে অধিকারভুক্ত দাসী দ্বারা উপকৃত হওয়া যেতে পারে। বর্তমানে দাস-দাসী বিদ্যমান না থাকায় এ সম্পর্কিত আয়াত ও হাদীসগুলো বর্তমানে আমল করা হচ্ছেনা। মোট কথা ঈমানদারদের এটাও একটি গুণ যে, তারা যৌন-ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য উক্ত দুই মাধ্যম ছাড়া কোন অবৈধ মাধ্যম অবলম্বন করে না। বর্তমানে যেই সমস্ত পুরুষ ও নারীরা বাসা-বাড়িতে কাজ করে এরা মোটেও দাস-দাসী নয়, এরা হচ্ছে কর্মচারী বা শ্রমিক। দাস-দাসী এবং কর্মচারী/শ্রমিক সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস।
Recent Questions
Loading interface...
Trending Tags
Loading interface...