রাসূল (সঃ) নূরের তৈরি, এর দলিল জানতে চাই?
3 টি উত্তর
রাসুল মাটির তৈরি নূরের নয় ।
হ্যা অবশ্যয় রাসুল নূরের তৈরী       
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নূর দ্বারা সৃষ্ট এরূপ কোনো কথা কুরআন মাজিদে এবং সুপ্রসিদ্ধ সিহাহ-সিত্তাহ, মুসনাদ আবী হানীফা, মুআত্তা মালিক, মুসনাদ শাফিয়ী, মুসনাদ আহমাদ ইত্যাদি প্রসিদ্ধ হাদীসগ্রন্থগুলির মধ্যে এ বিষয়ে কোনো হাদীসই পাওয়া যায় না। কুরআনের কোনো কোনো আয়াতে ব্যবহৃত ‘নূর’ শব্দের ব্যাখ্যায় কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন যে, নূর বলতে মুহাম্মাদ (সাঃ) কে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, হে কিতাবধারীগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল এসে গেছে, সে তোমাদেরকে অনেক বিষয় বর্ণনা করে কিতাব থেকে যা তোমরা গোপন করতে আর অনেক বিষয় উপেক্ষা করে। তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। (সূরা মায়িদা আয়াতঃ ১৫) আলোচ্য আয়াতে নূর দ্বারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। (نُوْرٌ وَّكِتٰبٌ مُّبِيْنٌ) জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাবএখানে نُوْرٌ (আলো) ও وَّكِتٰبٌ مُّبِيْنٌ ( সুস্পষ্ট কিতাব) দ্বারা কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, (فَاٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِه۪ وَالنُّوْرِ الَّذِيْٓ أَنْزَلْنَا) অতএব তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের এবং যে জ্যোতি আমি অবতীর্ণ করেছি তাতে বিশ্বাস স্থাপন কর। (সূরা তাগাবুনঃ ৬৪:৮, তাফসীরে সা‘দী, পৃষ্ঠাঃ ২১৪) এ জ্যোতিপূর্ণ কুরআন দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে হিদায়াত দান করেন যারা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি কামনা করে এবং শান্তির পথে চলে। অতএব যারা নূর দ্বারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝায় তাদের ব্যাখ্যা ভুল। আর যারা বলে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মাদের নূর সৃষ্টি করেছেন তাও মিথ্যা। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন। (তিরমিযীঃ ২১৫৫, আবূ দাঊদঃ ৪৭০০, সহীহ )। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম মুহাম্মাদের নূর সৃষ্টি করেছেন এ মর্মে হাদীসটি বানোয়াট। (তালীকাতে মিশকাতঃ ১/৩৪, মেরকাতুল মাফাতিহঃ১/৩৮৭) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন মাটির তৈরি রক্ত মাংসে গড়া মানুষ। তিনি আবদুল্লাহর ঔরসে আমিনার গর্ভে জন্ম লাভ করেছেন। শুধু পার্থক্য এই যে, তিনি রাসূল, তার নিকট ওয়াহী আসে আর সাধারণ মানুষের নিকট ওয়াহী আসে না, যার ফলে তার মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। (সূরা কাহফ ১৮:১১০) সুতরাং নূরের তৈরি ফিরিশতামণ্ডলী। মহানবী (সঃ) আদমের অন্যতম সন্তান। সুতরাং তারাও আদিসৃষ্টি মাটি থেকেই। তিনি আল্লাহর তরফ থেকে অন্ধকারে নিমজ্জিত পথভ্রষ্ট মানুষের জন্য প্রেরিত নূর (জ্যোতি বা আলো) ছিলেন। সেই নূর বা আলোতে জাহেলিয়াতে তমসাচ্ছন্ন যুগ ও সমাজ আলোকিত হল। অন্ধকারে দিশাহারা মানুষ সেই আলোকবর্তিকায় সরল পথের দিশা পেল। তার দেহ নূরানি ছিল, কিন্তু তিনি নূর বা নূর থেকে সৃষ্টি ছিলেন না। মহান আল্লাহর সৃষ্টি বৃত্তান্তে একমাত্র ফিরিশতাই নূর থেকে সৃষ্টি।