সূরা আত তাহরীম এর ১ নাম্বার আয়াত এর শানে নযুল সহ ব্যখ্যা দিন?

সূরা আত তাহরীম এর ১ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন "

 হে নবী, আল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্যে তা নিজের জন্যে হারাম করেছেন কেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।"  


এখানে স্ত্রীদের জন্য নবী কি হারাম করে ছিলেন? ব্যখ্যা মূলক উত্তর দিবেন।।।

1 টি উত্তর

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের প্রতি হালাল জিনিস না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে জিনিসকে নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন তা কি ছিল? এব্যারে দুইটি মত পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে, যা সহীহ বুখারী ও মুসলিম ইত্যাদিতে বর্ণিত হয়েছে। ঘটনা হলোঃ তিনি যয়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ) এর কাছে কিছুক্ষণ থাকতেন এবং সেখানে মধু পান করতেন। হাফসা এবং আয়েশা (রাঃ) স্বাভাবিকতার অধিক সময় তার সেখানে থাকার পথ বন্ধ করার জন্য ফন্দি আঁটলেন যে, তাদের কারো কাছে যখন তিনি আসবেন, তখন তারা বলবেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি 'মাগাফীর' খেয়েছেন? আপনার মুখ থেকে 'মাগাফীর'এর গন্ধ আসছে। 'মাগাফীর' এক প্রকার গাছের মিষ্ট আঠা, যা খেলে মুখে এক প্রকার গন্ধ সৃষ্টি হয়। সুতরাং তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী তা-ই করলেন। উত্তরে তিনি বললেন, আমি তো যয়নাবের ঘরে কেবল মধু পান করেছি। এখন আমি শপথ করছি যে, আর কখনও তা পান করব না। তবে এ কথা তোমরা অন্য কাউকে বলো না। (সহীহ বুখারীঃ সূরা তাহরীমের তফসীর) সুনানে নাসাঈর বর্ণনায় এসেছে যে, তা ছিল একটি ক্রীতদাসী যাকে তিনি নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন। (সুনানে নাসায়ী ৩/৮৩) পক্ষান্তরে কিছু অন্য আলেমগণ নাসাঈর এ বর্ণনাকে দুর্বল গণ্য করেছেন। এর বিশদ বর্ণনা অন্যান্য কিতাবে এইভাবে এসেছে যে, তিনি ছিলেন মারিয়া ক্বিবত্বিয়া (রাঃ)। যাঁর গর্ভে নবী করীম (সাঃ) এর পুত্র ইবরাহীম জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি একদা হাফসা (রাঃ) এর ঘরে এসেছিলেন। তখন হাফসা (রাঃ) ঘরে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের নবী (সাঃ) ও মারিয়া ক্বিবত্বিয়ার উপস্থিতিতেই হাফসা (রাঃ) এসে যান। তাকে নবী (সাঃ)-এর সাথে নিজের ঘরে নির্জনে দেখে তিনি বড়ই নাখোশ হলেন। নবী (সাঃ) ও এ কথা অনুভব করলেন এবং তিনি হাফসা (রাঃ) কে খোশ করার জন্য কসম খেয়ে মারিয়া ক্বিবত্বিয়া (রাঃ) কে নিজের উপর হারাম করে নিলেন। আর হাফসা (রাঃ) কে তাকীদ করলেন যে, তিনি যেন এ কথা অন্য কাউকে না বলেন। ইমাম ইবনে হাজার প্রথমতঃ বলেন যে, এ ঘটনা বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা একে অপরকে বলিষ্ঠ করে। দ্বিতীয়তঃ তিনি বলেন যে, হতে পারে একই সময়ে উভয় ঘটনাই এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হয়েছে। (ফাতহুল বারী, সূরা তাহরীমের তাফসীর) ইমাম শওকানীও এ কথার সমর্থন করে উভয় ঘটনাকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। এ থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আল্লাহর হালাল করা জিনিসকে হারাম করার অধিকার কারো নেই। এমন কি রাসূল (সাঃ)-এরও ছিল না। রেফারেন্সঃ সহীহ বুখারীঃ ৪৯১২, ৫২৬৭, ৬৬৯১, মুসলিম: ১৪৭৪ নাসায়ীঃ ৭/৭১,৭২, ৩৯৫৯, দ্বিয়া আল-মাকদেসীঃ আল-আহাদিসুল মুখতারাহঃ ১৬৯৪, মুস্তাদরাকে হাকিমঃ ২/৪৯

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ