1 টি উত্তর

না, এটি কোনো রোগ নয়। অসমোরেগুলেশন প্রাণীদেহে লবন ও পানির ঘনত্ব ঠিক রাখার স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। আমরা জানি, যে প্রক্রিয়ায় তরল নিম্ন ঘনত্বের স্থান থেকে উচ্চ ঘনত্বের স্থানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবেশ করে তাকে অভিস্রবণ বা Osmosis বলে। প্রাণীদেহে এই অভিস্রবনের মাধ্যমে তরলের ঘনত্বের ভারসাম্য রক্ষা করার কাজটিকে বলা হয় অসমোরেগুলেশন (osmoregulation)। স্বাদু পানির মাছের দেহের অভ্যন্তরীন তরলের ঘনত্ব বাইরের পরিবেশের তরলের ঘনত্বের চাইতে বেশি হয়। তাই তরলের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পরিবেশের তরল মাছের আবরনীর সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে মাছের শরীরে প্রতিনিয়ত প্রবেশ করে। এই অতিরিক্ত তরল এরা মুত্রের মাধ্যমে বের করে দেয়। ফলে দেহে লবনের ঘাটতি দেখা দেয়। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের লবন এরা ফুলকায় অবস্থিত ক্লোরাইড (chloride) কোষের সাহায্যে সংগ্রহ করে। এভাবে মাছেরা শরীরে লবন ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। অন্যদিকে নোনা জলের মাছেদের অর্থাৎ সামুদ্রিক মাছেদের দেহে তরলের ঘনত্ব বাইরের পরিবেশের ঘনত্বের তুলনায় কম। তাই এদেরকে মুত্র ত্যাগ করতে হয় কম। মূলত তরলের ভারসাম্য রক্ষার এই পদ্ধতিকেই বলে অসমোরেগুলেশন।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ