Share

2 টি উত্তর

সূর্য যখন মাথার ঠিক উপরে থাকে তখন দুপুর ১২টা ধরে সময় নির্ধারণ করা হয়। আপনি যদি সূর্যঘড়ি দেখে থাকেন তাহলে আপনার বুঝতে সহজ হবে। একটা ছোট লাঠির বিভিন্ন সময়ের ছায়ার মাপ নির্ধারণ করে সময় নির্ধারণ করা হয়।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার শুরুর দিকে মানুষ সময় নির্ণয়ের জন্য সূর্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। একটি কাঠির ছায়ার ঘূর্ণন দেখে সময় জানা যেত। একে সানডায়াল বা সূর্যঘড়ি বলা হয়। এটিই ছিল পৃথিবীর আদি ঘড়ি।সুর্যের বিভিন্ন অবস্থান দেখে তারা সময় নির্ধারণ করতো।সুর্যের আবর্তনের সময় কোনো স্থানে যখন সূর্য ঠিক মাথার ওপর আসে বা সর্বোচ্চে অবস্থান করে, তখন এই স্থানে মধ্যাহ্ন হয়,এই সময়টিকে তারা দুপুর বলতো।এ সময় ঘড়িতে দুপুর ১২টা ধরে অন্যান্য সময় নির্ণয় করার প্রচলন ছিল।যখন সুর্য পশ্চিম দিকে ৯৮ ডিগ্রী কোণে হেলে যায় তখন সময় ধরা হত সুর্যাস্তের সময় এবং সুর্য পুর্বাকাশে ৯০ ডিগ্রী কোণে উদিত হলে সে সময়কে ভোর বলা হত। তবে সময়ের গণণা কোন কাঠিমেপে হতো তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া বিরল। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল রাতে। রাতে কি করে সময় জানা যায় তাই নিয়ে ভাবতে লাগল মানুষ। জ্যোতির্বিদরা তারা-নক্ষত্রের গতিপথ দেখে সময় বুঝতে পারলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। সে সময় বিজ্ঞানী প্লটো একটি ওয়াটার ক্লক আবিষ্কার করলেন। যেখানে শুধু সময় না অ্যালার্মের ব্যবস্থাও ছিল। তবে আজকের আধুনিক যুগে পদার্পণ হয় চীনে মোমঘড়ির মাধ্যমে। ১২ ইঞ্চি লম্বা ছয়টি মোমবাতিতে দাগ কেটে জ্বালিয়ে রাখা হত। প্রতিটি দাগ ২০ মিনিট সময় নির্দেশ করত। এরপর একজন মুসলিম বিজ্ঞানী আবুল হাসান ১৩৭১ সালে ত্রিকোণমিতি ও জ্যামিতিক সূত্র প্রয়োগ করে সূর্যঘড়ির আধুনিক সংস্করণ আবিষ্কার করেন। ১১ শতকের দিকে সমুদ্রের নাবিকরা কাজের সুবিধার জন্য একটি ঘড়ি প্রচলন করে যাকে বালুঘড়ি বলা হয়। পরবর্তিতে ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশে বালুঘড়ির ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেখা যায়। এরপর সময়ের সাথে সাথে মানুষ মেকানিক্যাল ঘড়ি তৈরি করতে সক্ষম হয়। যা আরও নিখুত সময় নির্ণয় করতে পারত। ১৫২৪ সালে জার্মানে পিটার হেনলাইন নামে একজন কারিগর একটি ঘড়ি তৈরি করেন। যেখানে একধরণের প্যাচাঁনো স্প্রিং ব্যবহার করা হয়। এটি ছিল পৃথিবীর প্রথম পোর্টেবল ঘড়ি। এরপর আসে পকেট ঘড়ি যা সে সময় ছেলেরা ব্যবহার করত। আর মেয়েদের জন্য ছিল হাতঘড়ি। ১৫৭১ সালে Robert Dudley সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথ এক কে একটি হাতঘড়ি উপহার দেন। দিনে দিনে ঘড়ি নানা ভাবে পরিবর্তন হয়েছে, প্রচলন হয় ডিজিটাল ঘড়ির।

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ