ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ ফরজের পূর্বে পড়তে না পারলে করনীয় কি?
 (311 পয়েন্ট)

জিজ্ঞাসার সময়

কেউ যদি ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ ফরজের পূর্বে পড়তে না পারে এবং জামাতে শরিক হয়ে যায় তাহলে সে ওই দুই রাকাত সুন্নত কখন পড়বে? জামাতে ফরজ শেষ করেই যদি পড়ে নেয় তাহলে কোন সমস্যা আছে কি?

2 Answers

 (371 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

ফজরের ফরজ নামাযের পূর্বে দুই রাকাত সুন্নত নামায বাদ পরে যায়, তাহলে ফরজ নামাযের পর সুন্নত আদায় করতে হবে,,,, অর্থ্যাৎ ছুটে যাওয়া সুন্নাত ফরয ছালাতের পরপরই পড়া যাবে (তিরমিযী হা/৪২২,; ইবনু মাজাহ হা/১১৫১ সনদ ছহীহ; বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১০৪৩)। তবে সূর্য ওঠার পরেও পড়া যাবে (তিরমিযী হা/৪২৩, ছহীহাহ হা/২৩৬১)।
 (11794 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

প্রথমত দেখতে হবে, সুন্নত পড়ে ইমাম সাহেবকে কমপক্ষে দ্বিতীয় রাকাতে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা। সম্ভাবনা থাকলে সুন্নত পড়ে জামাতে শরিক হতে হবে। কেননা, ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেলেও সুন্নত পড়া যাবে। আর যদি সুন্নত পড়ে ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে সুন্নত পড়া ছাড়াই জামাতে অংশ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে তা পরে পড়ে নিতে হবে। কারণ, সুন্নত নামাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত। হাদিস শরিফে এর প্রভূত ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে। এছাড়াও এর প্রতি যেরূপ তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যা অন্য সুন্নতের ক্ষেত্রে ততটুকু দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমরা ফজরের সুন্নত ছেড়ে দিয়ো না। যদিও শত্রুবাহিনী তোমাদেরকে তাড়া দেয়। (আবু দাউদঃ ১২৫৮) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেন, ফজরের দুই রাকাত সুন্নত দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। (মুসলিমঃ ৭২৫) রাসুল (সাঃ) ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজে এত গুরুত্ব দিতেন যে, অন্য কোনো নফল বা সুন্নত নামাজে ততটুকু দিতেন না। (বুখারিঃ ১১৬৩, মুসলিমঃ ৭২৪) সুতরাং ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেলেও সুন্নত পড়ে যদি জামাতের সঙ্গে অন্তত দ্বিতীয় রাকাতও পাওয়া যায়, তাহলে সুন্নত নামাজ পড়ে নিতে হবে। আর দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে সুন্নত পড়বে না; বরং জামাতে শরিক হয়ে যাবে এবং সূর্যোদয়ের পর সুন্নত পড়ে নেবে। ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ফরজের পূর্বে আদায় করতে না পারলে তা সূর্য উঠার পর আদায় করা প্রসঙ্গে আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের দুই রাকাত সুন্নত আদায় করতে পারেনি সে সূর্য উঠার পর তা আদায় করবে। (সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪২৩ হাদিসের মানঃ সহিহ) সূর্য উঠার আগে তা আদায় করা যাবেনা। কেননা, ফজরের ফরজ নামাজের পর সুর্যোদয়ের পুর্বে ফজরের সুন্নত সহ সব ধরনের নফল নামাজ পড়া নিষেদ। হাদিসে এসেছে যে, তিন সময়ে নামাজ পড়া জায়েজ নয়। তার মাঝে একটি সময় হল ফজরের ফরজ পড়ার পর থেকে সুর্য উদয় হবার আগ পর্যন্ত। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পর সূর্যোদয়ের পূর্বে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। (জামে তিরমিযীঃ ১৮৩) এ হাদীসে ব্যাপকভাবেই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এ নিষেধাজ্ঞার অধীনে ফজরের সুন্নতও শামিল। এ থেকে ফজরের সুন্নতকে বাদ দেয়ার সহীহ ও নির্ভরযোগ্য কোনো হাদীস নেই।
সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...

জনপ্রিয় টপিকসমূহ

Loading...