কিভাবে চললে মানুষ আমাকে নিয়ে সমালোচনা করবে না?

কিভাবে চললে মানুষ আমাকে নিয়ে সমালোচনা করবে না?ও আমাকে নিয়ে হাসা হাসি করবে না অনেক মানুষ আছে যারা   আমার ভঙ্গি ও কার্য কলাপ দেখে বোকা বলে ও হাসে। কি করবো আমি আর মানুষের কথা ভেবে কিছু করি না আমি আর একটা কথা হল যদি আমি মানুষের মত মানুষ হয়ে না চলি তাহলে মানুষ আমাকে দেখে কি বলবে আমি যদি কিছু জীবনে জন্য না করি বা না করতে পারি  তাহলে মানুষে কি লাভ হবে আমার ক্ষতি হলে মানুষের মজা করে কেন কি করবো 
বিভাগ: 

7 টি উত্তর

এই দুনিয়ায় হয়তো এমন মানুষ নেই যাকে নিয়ে সমালোচনা হয়না। আপনি নিজেও তার ব্যতিক্রমী নন। আপনি নিজেকে ভদ্র এবং শালীন রাখুন। আপনি কখনোইই অন্যের ক্ষতি করবেন না,পারলে লোকের উপকার করুন। মার্জিত ভাবে চলাফেরা করুন। কেউ যেন আপনাকে অশালীন কিংবা বেয়াদব না ভাবে এটাই সব সময় মাথায় রাখবেন। মানুষকে সম্মান করতে শিখুন,সে বড় হোন কিংবা ছোট। অযথা কারোর সাথে বিবাদে জড়াবেন না। সাধারণত ভাবে জীবনযাপন করুন।
  • আপনি সব সময় আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলুন।ভয়কে দূর করুন।
  • বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করুন.
  • সুন্দরভাবে শালীনতার সাথে চলাফেরা করুন।
  • অন্যদের সাথে ঝগড়া করবেন না,খারাপ আচরণ করবেন না।
  • কেউ আপনার সাথে খারাপ আচরণ করলে,আপনি তাঁর সাথে আরও ভালো ব্যবহার করুন।এতে সে নিজের উপর লজ্জিত হবে।
  • সবার সাথে মিষ্ট ভাষায় কথা বলুন।
  • নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন যেন অন্যরা আপনাকে নিয়ে সমালোচনা করার খুঁত না খুঁজে পাই।
  • নিজের কাজ যথাযথভাবে করার পাশাপাশি অন্যকে সাহায্য করুন।কখনো কারও সমালোচনা করবেন না।
  • অন্য জন আপনার সমালোচনা করলে আপনি সে কথা কানে তুলবেন না।অবুঝ ভেবে ক্ষমা করে দিন।
  • আপনি বিভিন্ন সফল ব্যক্তিদের জীবনী পড়ুন।তাদের অনুসরণ করুন।
  • সবসময় প্রভুর উপর আস্থা রাখুন,তাঁর ইবাদত করুন।তিনি আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন।
আপনি সবার সাথে তাল মিলে চলবেন....তবেই মানুষ সমোলোচনা করবে না।।।আশা করি বুঝতে পেরেছেন।।।
যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন সমালোচনা থাকবে। আপনি যেইভাবেল চলতে চান প্রিয় নবী (স.) এর চেয়ে ভালো করে চলতে পারবেননা।অথচ প্রিয় নবী(স.) এরও বিরুদ্ধে সমালোচনা ছিল। মুলকথা যত ভালো করে চলবেন সমালোচনার হাড় তত বারবে।
পাছে লোকে কিছু বলে তাই বলে তাঁদের কথা ভেবে বসে থাকলে চলবে না। আপনি আপনার মত চলাফেরা করবেন। ভদ্র ব্যবহার করবেন,সবার সাথে সালাম বিনিময় করবেন। অন্য দের কথাতে কান দিবেন না। দুনিয়াতে এই ধরনের মানুষ গুলা আছে বলেই আমরা নিজেদের চেঞ্জ করতে পারি। আজ যদি উক্ত লোক গুলা আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি না করত আপনাকে বোকা না বলত তাহলে আপনি কখনো নিজেকে চেঞ্জ বা মোডিফাই করার কথা ভাবতেন না। তাই আমি বলব ওদের কথাতে কান না দিয়ে নিজের মত করে বাঁচুন।       
এক ভদ্রলোক স্ত্রীকে নিয়ে গাধায় চড়ে যাচ্ছিলেন। কিছু মানুষ তা দেখে মন্তব্য করল, ‘লোকটার একটুও মায়া-দয়া নাই, দুজন লোক একটা গাধার ওপর চড়ে যাচ্ছে! কত যে কষ্ট পাচ্ছে গাধাটা।’ ওই ভদ্রলোক যখন আরেকদিন তাঁর স্ত্রীকে গাধায় পিঠে নিয়ে নিজে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন মানুষ আবার মন্তব্য করেছিল, ‘দেখো, দেখো, লোকটা কত বোকা! নিজে হেঁটে স্ত্রীকে গাধার পিঠে নিয়ে যাচ্ছে।’ পরে একদিন ওই ভদ্রলোক নিজে গাধায় চড়ে স্ত্রীকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মানুষ আবার বলল, ‘হায় রে পৃথিবী, মানুষ কতই স্বার্থপর! নিজে গাধায় চড়ে একজন নারীকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে!’ ওই ভদ্রলোক যখন পরেরবার নিজে ওই তাঁর স্ত্রী দুজনই হেঁটে হেঁটে গাধা নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আবার মানুষ মন্তব্য করল, ‘হায়রে মানুষ! দিন দিন এতই বোকা হয়ে যাচ্ছে যে একটা গাধায় চড়ে কীভাবে যেতে হয় তা-ই জানে না।’ কী মনে হয়? আপনি যাই করেন না কেন, কিছু মানুষ আছে আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস আর নিন্দা করবেই। কারণ এটা তাদের স্বভাব। এবার সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কী এই স্বভাবের দ্বারা প্রভাবিত হবেন? না নিজের বুদ্ধিতে চলবেন? একদিন ডা. অশোক কুমার কুণ্ডুর সিলেট চেম্বারে অপেক্ষা করছিলাম বাবাকে দেখানোর জন্য। প্রায় ৫০ জনের মতো রোগী ও তাঁদের সঙ্গের লোকজন আমার মতোই অপেক্ষা করছিলেন। অপেক্ষা করতে করতে সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরেও যখন ডাক্তার আসেননি তখন অনেকেই ডাক্তারের দোষ- ত্রুটি আর নিন্দা করছিলেন। মনে হচ্ছিল সবার রোগের মূল কারণ যেন ডাক্তার নিজেই। হয়তো ডাক্তার সেদিন কোনো মুমূর্ষু রোগী নিয়ে একটু বেশি সময় দিচ্ছেন, হয়তো তাঁর আসার পথে যানজটে আটকে পড়ছেন বা হয়তো তিনি নিজেই অসুস্থ। আমি এটাও বুঝি যে তিনি হয়তো কাউকে দিয়ে যদি তাঁর বিলম্বের কারণ জানাতে পারতেন, সেটা খুবই ভালো হতো। আবার এমনও হতে পারে তিনি সে রকম পরিস্থিতিতেই নেই। কিন্তু সবাই তাঁকে নিয়ে এতই নিন্দা- বন্দনা করছিল কেন? আর তিনি যদি এতই নিন্দা আর তিরস্কারের পাত্র হন, সবাই তাঁর কাছে আসছে কেন? তাই আমি মনে করি, যখনই লোকজন আপনার সামান্য ভুল বা দোষ-ত্রুটিকে পাহাড়ের মতো বিশাল করে দেখবে, সমালোচনা করবে বা তিরস্কার করবে, মনে রাখবেন, এটা আপনার ভালো কাজের দক্ষতা, মহানুভবতা বা জনপ্রিয়তার একটা ঋণাত্মকভাবে প্রকাশিত ভালো ইঙ্গিত। তবে আপনার মধ্যে এমন কিছু আছে যা আরও ভালো করলে হয়তো ভালো হবে। এবার সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কি বিনা মূল্যে মূল্যায়ন করে দেওয়া এই ভর্ৎসনা আপনার কাজে লাগাবেন? না তিরস্কারের বলি হবেন? না আপনার ভুল না ধরে প্রশংসা করলে আপনি খুশি হবেন? একজন কলা বিক্রেতাকে দেখছিলাম ভদ্র ও নীরব হয়ে বাজারে কলা বিক্রি করছেন। প্রতি হালিতে বাজার দর থেকে ১ টাকা কম করে। তাঁর ব্যবহার এবং ভালো কলার কারণে বেশির ভাগ মানুষই তাঁর কাছ থেকে কলা কিনতেন। একদিন শুনলাম তাঁর কলা নাকি পেটে বেশি ক্ষতি করে বেশি ফরমালিন বা মেডিসিন ব্যবহারের কারণে। যদিও বাজারের সব কলা ব্যবসায়ী এবং তিনি একই জায়গা থেকেই কলা কিনতেন। আমার মতে তিনি প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। এবার চিন্তা করুন আপনি কি এসব মিথ্যা রটনা সাদরে গ্রহণ করবেন, না সমান দরে কলা বিক্রি করবেন, না কলা বিক্রি করা ছেড়ে দেবেন? ধরুন, আপনার এলাকায় আপনাকে ভদ্র ও মার্জিত ব্যবহারের কারণে সবাই ভালোবাসেন। একটা কাপড়ের দোকান খুলে ব্যবসার মাধ্যমে দিন দিন উন্নতির পথে অগ্রসর হচ্ছেন আপনি। এই এলাকায় আগের কলা বিক্রেতার মতো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীও নাই আপনার। কিন্তু হঠাৎ গুজব উঠল যে, আপনি চুরি করা কাপড় কম দামে কিনে গগনচুম্বী দামে বিক্রি করে অসৎ পথে টাকা আয় করছেন। আমার মনে হয় আপনিই আপনাকে সবচেয়ে ভালো জানেন আপনি সৎ না তাদের কথা ঠিক। তাই আপনি যদি সৎ থাকেন, আমি মনে করি কিছু লোকজন আপনার উন্নতি সহ্য করতে পারছে না এবং আপনি ঈর্ষার শিকার হচ্ছেন। এবার সিদ্ধান্ত আপনার আপনি কি তাঁদের কথায় প্রতিবাদ করতে তাঁদের মতো যুক্তি- তর্কে নেমে পড়বেন? না নিজের কাজ করবেন? আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক, অধ্যাপক এবং আমার থিসিস সুপারভাইজর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার কোনো কিছু লিখলেই তিনি যেমনি প্রশংসিত হন তেমনি সমালোচনা আর তিরস্কারের ঝড় উঠে। মানলাম তিনি অনেক কিছু সবার মতো চিন্তা করেন না বা সবার মন মতো লেখেন না। তবে তিনি যখন কোনো বিষয়েই কিছুই লেখেন না, তখনো দেখছি মানুষ সেটা নিয়ে নিন্দা করে তাঁর না লেখার জন্য। বাংলাদেশে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এতসব সম্মানিত শিক্ষক সম্পর্কে তো মানুষ এত নিন্দা করে না। তাই আমি মনে করি আপনার কাজ হয়তো কিছু মানুষের মনের মতো হচ্ছে না। তাই তারা নিন্দা করছে। এবার আপনিই ভাবুন আপনি কী সবার মন মতো হতে চান, না আপনার জ্ঞানমতো ভালো কাজ করতে চান? অনেকেই মনে করেন বিপুল জনসংখ্যায় বিস্ফোরিত আমাদের ছোট্ট একটা হাজারো সমস্যা জর্জরিত গরিব দেশে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমস্ত বিশ্বের বুকে যে উদারতার মহান শিক্ষা দিয়েছেন, একটা নোবেল পুরস্কারের সম্মান কি তার চেয়েও কম নয়? আবার অনেকে এটাও মনে করেন যে তিনি দেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন। তাই, সমালোচনা থাকবেই। চিন্তা করতে হবে কীভাবে আরও ভালো করা যায়। কাজেই, আপনি যদি এসব ঠাট্টা-উপহাস এবং নিন্দার সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে জয়ী হতে চান, আপনাকে আমি শুধু একটাই পরামর্শ দেব। এই পরামর্শটা এতই সহজ যে আপনাকে অনেকগুলো পয়েন্ট মনে রাখতে হবে না, কোনো সময় বের করতে হবে না, কোনো কিছু শিখতে হবে না, কোনো কিছু জানতে হবে না, কোনো কিছু করতেও হবে না, কোনো কিছু বলতেও হবে না, এমনকি কোনো কিছু ভাবতেও হবে না। আর তা হলো, পরবর্তীতে এমনকি এখন থেকে যখনই আপনি কোনো প্রকারের ঠাট্টা-উপহাস, নিন্দা বা তিরস্কারের সম্মুখীন হবেন, কিছুই করবেন না। এই কিছু না করার মন্ত্রটা আপনার ক্ষেত্রে মহৌষধের মতো কাজ করবে বলেই বিশ্বাস।

মানুষতো সমালোচনা করবেই সেই দিকে আপনি খেয়াল করবেন।


  • আগে অন্যদের কথা শুনবেন তারপর নিজের কথা বলবেন।
  • কোনো বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি করবেন না
  • সবার সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করবেন
  • হাসিমুখে কথা বলবেন
  • কেউ কোনো পরামর্শ দিলে মনোযোগ দিয়ে শুনবেন
  • কাউকে আগে নিজ থেকে পরামর্শ দিবেন নাম,উনি যদি পরামর্শ চাই তবেই দিবেন।  

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ