সাহরী কী? সাহরী খাওয়ার ফজীলত কী?

 (8683 পয়েন্ট)

জিজ্ঞাসার সময়

2 Answers

 (18073 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

সেহরি বা সেহেরি বা সাহরী হল মুসলিমদের দ্বারা গৃহীত ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী নাশতা খাবার, যা রমযান মাসে অথবা যে কোন দিন সাওম পালনের উদ্দেশ্যে ফজরের নামাজ বা ঊষার পূর্বে গ্রহণ করা হয়।

ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় রোজাদার ব্যক্তি রোজা রাখার উদ্দেশ্যে রাতের শেষভাগে সুবহে সাদিকের আগে যে খাবার গ্রহণ করে তাকে সেহরি বলা হয়। সেহরিতে খাবারের তালিকায় সস্তা বা দামি যাই থাকুক না কেন সেহরি অত্যন্ত বরকতময় একটি খাবার।

তা ছাড়া রোজদারের জন্য সেহরি খাওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। বিশেষ করে রোজাদার রোজা রাখার উদ্দেশ্যে রাতের শেষাংশে ঘুম থেকে জেগে খাবার গ্রহণ করা আল্লাহর বিধান পালনে বিশেষ তৎপরতা এবং আল্লাহর বিধানের সামনে নিজের আরাম আয়েশকে কোরবানি করার শামিল। এ কারণেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রোজাদারকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাই পেটে ক্ষুধা থাকুক বা না থাকুক সেহরি বর্জন করা মোটেও উচিত নয়। খাওয়ার চাহিদা একেবারেই যদি না থাকে তাহলেও ঘুম থেকে উঠে সামান্য হলেও কিছু খেয়ে নেওয়া উচিত। এর দ্বারা একদিকে রাসুলের সুন্নতের ওপর আমল হবে এবং সেহরির বরকতও হাসিল হবে। সেহরির ফজিলত ও বরকত সম্পর্কে রাসুলে কারিম(সা.)থেকে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।নিচে আলোচ্য বিষয়ে কয়েকটি হাদিস উল্লখে করা হলো :

হজরত আনাস(রা.)একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।রাসুলুল্লাহ(সা.)বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও।কারণ সেহরির মধ্যে বরকত রয়েছে।(সহীহ আল-বুখারী, হাদিস : ১৯২৩, সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১০৯৫, ইবনে মাযা, হাদিস : ১৬৯২, জামে তিরমিযী, হাদিস : ৭০৮)হজরত আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ(সা.) বলেছেন, আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হল, সেহরি খাওয়।(সহীহ মুসলিম,হাদিস : ১০৯৬ ,সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৪৩, আস্-সুনানুল কুবরা, হাদিস : ২৪৮৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৭৭৬২) অর্থাৎ আহলে কিতাবগণ সেহরি না খেয়ে উপবাস চর্চা করে। তাই রাসুলের উম্মত হিসেবে প্রত্যেকটি মুসলমানের উচিত রাসুলের সুন্নাত পালন করে সেহরি খেয়ে রোজা রাখা।

হজরত যায়েদ ইবনে সাবেত(রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ(সা.)এর সঙ্গে সেহরি খেলাম অতঃপর নামাজে দাঁড়ালাম।তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, সেহরি খাওয়া ও নামাজে দাঁড়ানোর মধ্যে সময়ের কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি উত্তরে বললেন, পঞ্চাশ আয়াত পাঠ করার মতো সময়ের ব্যবধান ছিল।(সহীহ আল-বোখারি, হাদিস : ১৯২১, সহীহ মুসলিম, হাদিস : ১০৯৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৬১৯, সুনানে দারেমি, হাদিস : ১৭৩৭) অনেকের ধারণা ফজরের আজান পর্যন্ত সেহরি খাওয় যায়।এ ধারণা একেবারেই ভুল।কারণ ফজরের আযান দেওয়া হয় সুবহে সাদিকের পরে। আর সেহরির শেষ সময় হলো, সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত।অতএব আজানের সময় পর্যন্ত সেহরি খেতে থাকলে অর্থাৎ সুবহে সাদিকের পরে সেহরি খেলে রোজা হবে না।

সুত্র:এখানে দেখুন

 (6653 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

সাহরি শব্দটি এসেছে আরবি সাহার থেকে। সাহার অর্থ হলো রাতের শেষাংশ, প্রভাত বা ভোররাত। আর সাহরি হলো শেষ রাত বা ভোরের খাবার। সাহরি এক বরকতপূর্ণ খাবারের নাম যা রোজাদার রোজার আগের রাতে সুবহে সাদিকের আগে গ্রহণ করেন।সাহরি গ্রহণ করা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। ইসলামে সাহরির অনেক গুরুত্ব রয়েছে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহরি খেতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও সাহরি খেতে নির্দেশ দিতেন।রোজা আগের উম্মতদের ওপরও ফরজ ছিল। কিন্তু আগের উম্মতের রোজা ও এ উম্মতের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি। অর্থাৎ তারা সাহরি খেত না কিন্তু এ উম্মত সাহরি গ্রহণ করে। হজরত আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাদের সিয়াম ও আহলে কিতাবদের (ইহুদি খ্রিস্টান) সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া। ’ সহিহ মুসলিম।   সাহরির যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনি সাহরির ফজিলতও অনেক। আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে’। সহিহ মুসলিম। সাহরির আরেক বিশেষ ফজিলত হলো, সাহরি গ্রহণকারীদের ওপর আল্লাহতায়ালার বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সাহরি খাওয়া বরকত, তাই তোমরা তা ছাড়বে না; এক ঢোক পানি পান করে হলেও। কারণ যারা সাহরি খায় আল্লাহ তাদের ওপর বিশেষ রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারা সাহরি গ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ দোয়া করতে থাকে। ’ মুসনাদে আহমাদ। সাহরির সময় হলো শেষ রাত। ফকিহ আবুল লাইস (রহ.) বলেছেন, সাহরির সময় হলো রাতের শেষ ষষ্ঠাংশ। দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম : ৩০৫। তবে সাহরির পুরো সময়ের মধ্যে শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া উত্তম। অর্থাৎ সাহরির পুরো সময়ের মধ্যে শেষভাগে কিন্তু সর্বশেষ সময়ের একটু আগে। এমন সময়ে খাবার গ্রহণ শুরু করা যেন সাহরির সর্বশেষ সময়ের অল্প কিছুক্ষণ আগেই খাওয়া শেষ হয়ে যায়। আর সাহরির সর্বশেষ সময় হলো সুবহে সাদিক উদিত হওয়া। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর পানাহার কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা না যায়’। সূরা বাকারা : ১৮৭। এ আয়াতে সুবহে সাদিকের শুভ্র রেখা ফুটে উঠাকে সাহরির শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সুবহে সাদিক উদিত হয়ে গেলে সামান্যও খাওয়া যাবে না। বরকতপূর্ণ এ খাবার অল্প হলেও গ্রহণ করা উচিত। আবার সারাদিন না খেয়ে থাকতে হবে ভেবে খুব বেশি পরিমাণ খাবার গ্রহণও উচিত নয়। স্বাভাবিক খিদের সময় যে পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা হয় তা-ই গ্রহণ করা উচিত।
সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...

জনপ্রিয় বিভাগসমূহ

Loading...