ইসলাম কি সৃষ্টির শুরু থেকেই ছিলো?

 (44 পয়েন্ট)

জিজ্ঞাসার সময়

রেফারেন্স সহ জানতে চাই।

1 Answer

 (8683 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

পৃথিবীর শুরু থেকেই ইসলাম ছিলো এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা বজায় থাকবে। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) এবং প্রথম মানবী হযরত হাওয়া (আঃ) ইসলাম ধর্মের অনুসারী ছিলেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ‍্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম (সূরাঃ আল-ইমরান, আয়াত-১৯)। যেহেতু আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ‍্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম এবং ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আল্লাহ নিজেই, সেহেতু আল্লাহ পৃথিবীতে সকল নবী-রাসূলগণকেই পাঠিয়েছিলেন তাঁর মনোনীত একমাত্র ধর্ম ইসলাম প্রচারের জন‍্য। সকল নবী-রাসূলগণই আল্লাহর বাণী প্রচার করেছেন। সকলেই তাঁর উম্মতকে বলেছেন, এক আল্লাহর ইবাদত করার জন‍্য। মহান আল্লাহ পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ১০৪টি আসমানী কিতাব বা ইসলামী ধর্মগ্রন্থ নাযিল করেছেন। নবী-রাসূলগণ এসব ইসলামী ধর্মগ্রন্থের মাধ‍্যমে পৃথিবীতে আল্লাহর একমাত্র ধর্ম ইসলাম প্রচার করেছেন। নবী-রাসূলগণের মধ‍্যে হযরত আদম (আঃ) ইসলাম ধর্মের প্রথম প্রচারক ছিলেন এবং হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ প্রচারক ছিলেন। পবিত্র কুরআন ও হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মাধ‍্যমে মহান আল্লাহ তায়ালা ইসলাম ধর্মকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছেন। তাই মহান আল্লাহ পৃথিবীতে আর কোনো নবী বা রাসূল পাঠাবেন না। পবিত্র কুরআন সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর নাযিলকৃত সর্বশেষ ইসলামী ধর্মগ্রন্থ। যেহেতু আর কোনো নবীও পাঠাবেন না, সেহেতু আর কোনো ধর্মগ্রন্থও আল্লাহ নাযিল করবেন না। কুরআনের মধ‍্যেই সকল মানব সমস‍্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান রয়েছে। আর রাসূল (সাঃ)-এর হাদীস রয়েছে সহায়ক গাইড হিসেবে। পৃথিবীতে ইসলাম ব‍্যতীত যত ধর্ম রয়েছে, সব ধর্ম মানব রচিত, আল্লাহর মনোনীত কোনো ধর্ম নয়। হযরত ঈসা (আঃ), হযরত মূসা (আঃ) প্রত‍্যেকেই আল্লাহর বাণী প্রচার করেছেন। কিন্তু তাঁদের বিদায়ের পর তাঁদের অনুসারীরা বিপথগামী হয়ে তাঁদের প্রচারকৃত ইসলামী ধর্মগ্রন্থ বিকৃত করে ফেলে এবং ইহুদি-খ্রিস্টান নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। খ্রিস্টানরা নবীর নাম বিকৃত করে হযরত ঈসা (আঃ)-এর নাম দেয় যীশুখ্রীস্ট, ধর্মগ্রন্থের নাম ও বাণী বিকৃত করে ইসলামী ধর্মগ্রন্থ ইনজীলের নাম দেয় বাইবেল। হযরত ঈসা (আঃ)-এর মায়ের নাম বিকৃত করে হযরত মরিয়ম (আঃ)-এর নাম দেয় মাতা মেরী। হযরত ঈসা (আঃ) এর কোনো পিতা ছিলো না। তাঁকে পিতা ছাড়াই মহান আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন, যেমনিভাবে হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ)-কে পিতা-মাতা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন। অথচ হযরত ঈসা (আঃ)-এর বিদায়ের পর তাঁর অনুসারীরা পথভ্রষ্ট হয়ে তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলে নাম দেয় (নাঊযুবিল্লাহ)। অথচ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা ইখলাসে বলেছেন, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি। মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত ঈসা (আঃ)-কে মৃত‍্যু ব‍্যতীত তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং কিয়ামতের ৪০ বৎসর পূর্বে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মত হিসেবে ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে আগমন করবেন এবং সকল ফেতনা-ফাসাদ দূর করবেন। তখন তিনি নবী হিসেবে আসবেন না, আসবেন হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মত হিসেবে এবং নতুন করে কারো ঘরে জন্মগ্রহণ করবেন না, সরাসরি আল্লাহ তায়ালা তাঁকে দুনিয়াতে পাঠাবেন। ফেতনা-ফাসাদ দূর করে কিয়ামতের পূর্বে তিনি মৃত‍্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন। অথচ খ্রিস্টানরা মনে করে, হযরত ঈসা (আঃ) মারা গেছে। আসলে হযরত ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহ তায়ালা তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন (পবিত্র কুরআন)। অনুরূপ, হযরত মূসা (আঃ)-এর অনুসারীরা তাঁর বিদায়ের পর ইসলামী ধর্মগ্রন্থ তাওরাতকে বিকৃত করে ফেলে। খ্রিস্টান-ইহুদিরা আল্লাহর বাণী তাওরাত ও ইনজীলকে বিকৃত করে মনগড়া কথা যুক্ত করে ফেলে। বর্তমানে ইহুদি খ্রিস্টানরা বিপথগামী-পথভ্রষ্ট জাতি। এমনকি তারা আল্লাহ নামের পরিবর্তে ডগের সাথে মিল রেখে গড নামের প্রচলন করেছে (নাঊযুবিল্লাহ)। পৃথিবীর শুরু থেকেই মানবজাতির একটি অংশ আল্লাহ ও তাঁর নবীদের বিরোধীতা করে আসছে, তারা আল্লাহকে মানে না, অথচ তারা আল্লাহর সৃষ্টির পূজায় রত। তারা হচ্ছে কাফের, হিন্দু বা সনাতন ধর্মের অনুসারী। এটাও তাদের মনগড়া বানানো কুসংস্কারচ্ছন্ন ধর্ম। আর বৌদ্ধ ধর্ম এবং হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের মধ‍্যে খুব একটা পার্থক‍্য নেই। পৃথিবীর সকল ধর্মই মানব রচিত। শুধুমাত্র ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম। যেহেতু সকল নবী-রাসূলগণই ইসলাম প্রচার করেছেন, সেহেতু সকল নবী-রাসূলগণের উম্মতেরাই জান্নাতে যাবে, প্রকৃতপক্ষে যারা তাঁদেরকে সঠিকভাবে অনুসরণ করেছে। কিন্তু সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) দুনিয়াতে আসার পরে, যারা তাঁকে অনুসরণ করেনা এবং সর্বশেষ ইসলামী ধর্মগ্রন্থ কুরআন নাযিলের পরে, যারা তা অনুসরণ করেনা, তারা সকলেই জাহান্নামে যাবে (হোক মুসলমানের ঘরে জন্ম কিংবা অমুসলমানের ঘরে জন্ম)। অনুরূপ, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) দুনিয়াতে আসার পরে, যারা তাঁকে অনুসরণ করে এবং সর্বশেষ ইসলামী ধর্মগ্রন্থ কুরআন নাযিলের পরে, যারা তা অনুসরণ করে, তারা সকলেই জান্নাতে যাবে (হোক মুসলমানের ঘরে জন্ম কিংবা অমুসলমানের ঘরে জন্ম)। মহান আল্লাহর নাযিলকৃত ইসলামী পাঠ‍্যগ্রন্থসমূহ বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট মানবজাতির দ্বারা বিকৃত বা অরক্ষিত হলেও কুরআন মাজীদ কখনো বিকৃত হবে না বা অরক্ষিত অবস্থায় থাকবে না, কারণ এর হেফাজতকারী মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই। বিশ্ব হচ্ছে পাঠশালা, প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হচ্ছেন মহান আল্লাহ তায়ালা, শিক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে ইসলাম, প্রথম শিক্ষক হচ্ছেন নবী হযরত আদম (আঃ), প্রথম প্রধান শিক্ষকও হচ্ছেন রাসূল হযরত আদম (আঃ), শুরু থেকে মোট শিক্ষক হচ্ছেন ১২৪০০০ নবী, শুরু থেকে মোট প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন ৩১৫ জন রাসূল, সর্বপ্রধান শিক্ষক হচ্ছেন প্রধান ৪ জন নবী ও রাসূল (হযরত দাঊদ আঃ, হযরত মূসা আঃ, হযরত ঈসা আঃ এবং হযরত মোহাম্মদ সাঃ), সর্বশেষ শিক্ষক হচ্ছেন নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), সর্বশেষ প্রধান শিক্ষকও হচ্ছেন রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), শুরু থেকে মোট পাঠ‍্যগ্রন্থ হচ্ছে ১০৪টি আসমানী কিতাব বা ইসলামী ধর্মগ্রন্থ, শুরু থেকে মোট সর্বপ্রধান পাঠ‍্যগ্রন্থ হচ্ছে ৪টি (তাওরাত, যাবূর, ইনজীল, কুরআন মাজীদ), সর্বশেষ পাঠ‍্যগ্রন্থ বা পঠিত গ্রন্থ হচ্ছে কুরআন মাজীদ, সর্বশেষ প্রধান পাঠ‍্যগ্রন্থও হচ্ছে কুরআন মাজীদ, সহায়ক পাঠ‍্যগ্রন্থ বা গাইড হচ্ছে হাদীস গ্রন্থসমূহ, মানবজাতি হচ্ছে শিক্ষার্থী, ইবাদত-বন্দেগী হচ্ছে পড়াশুনা, দুনিয়া হচ্ছে পরীক্ষা কেন্দ্র, মহান আল্লাহ হচ্ছেন পরীক্ষক, আমলনামা হচ্ছে খাতা, আমল হচ্ছে কলম, আমলের পথ (গুনাহের পথ এবং সওয়াবের পথ) হচ্ছে প্রশ্ন, ভালো কাজ বা সওয়াবের কাজ হচ্ছে সঠিক উত্তর (যা ডান কাঁধের ফেরেশতা লিপিবদ্ধ করবে), খারাপ কাজ বা গুনাহের কাজ হচ্ছে ভুল উত্তর (যা বাম কাঁধের ফেরেশতা লিপিবদ্ধ করবে), হায়াৎ হলো পরীক্ষার সময়, মৃত‍্যু হচ্ছে পরীক্ষার সময় শেষ হওয়ার ঘন্টাধ্বনি, কবর হলো মৌখিক পরীক্ষার জায়গা, মৌখিক পরীক্ষক হচ্ছেন ফেরেশতা মুনকার-নাকীর, পর্যবেক্ষক হচ্ছেন মহান আল্লাহ তায়ালা, মৌখিক প্রশ্ন হচ্ছে তিনটিঃ ১। তোমার স্রষ্টা কে? ✔সঠিক উত্তর হচ্ছেঃ মহান আল্লাহ তায়ালা, ২। তোমার ধর্ম কী? ✔সঠিক উত্তর হচ্ছেঃ ইসলাম, ৩। তোমার নবী ও রাসূল কে? (হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-কে দেখিয়ে), ✔সঠিক উত্তর হচ্ছেঃ হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)। (যারা মৌখিক পরীক্ষায় ১০০% পাশ করবে, তাঁদের কবরকে মহান আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের বাগান করে দিবেন আর যারা ফেল করবে, তাঁদের কবরকে জাহান্নামের টুকরো করে দিবেন। অর্থাৎ শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষার রেজাল্ট ও পুরস্কার সবাই সাথে সাথে পেয়ে যাবে। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত বাকি থাকবে সম্পূর্ণ পরীক্ষার রেজাল্ট ও পুরস্কার), কিয়ামত হচ্ছে রেজাল্ট প্রকাশের তারিখ, হাশরের ময়দান হচ্ছে রেজাল্ট প্রকাশের জায়গা, রেজাল্ট প্রকাশকারী হচ্ছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা (প্রত‍্যেকের পাপ-পুণ‍্য সেদিন বিশাল পর্দায় ভিডিও আকারে দেখানো হবে, সাক্ষী দিবে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-পতঙ্গসমূহ, প্রত‍্যক্ষদর্শী হবে সবাই), রেজাল্ট পরিমাপের জিনিস হচ্ছে মিযান বা দাঁড়িপাল্লা, রেজাল্ট হচ্ছে প্রত‍্যেকের ডান হাতে বা বাম হাতে আমলনামা প্রদান, পুরস্কার হচ্ছে জান্নাত বা জাহান্নাম (জান্নাতে নেওয়ার জন‍্য সুপারিশকারী হচ্ছেন হযরত মোহাম্মদ সাঃ, পবিত্র কুরআন, মসজিদ। যারা জান্নাতী হবে, তাঁদেরকে স্বয়ং হযরত মোহাম্মদ সাঃ হাউজে কাওসারের পানি পান করাবেন। রোজাদারদের পুরস্কার আল্লাহ সেদিন নিজ হাতে দিবেন), জান্নাত বা জাহান্নামে যাওয়ার রাস্তা হলো পুলসিরাত (চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম এবং তরবারির চেয়েও ধারালো এই রাস্তা জান্নাতীরা বিজলীর মতো পার হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে, জাহান্নামীরা এই রাস্তা অতিক্রম করতে গিয়ে এর নিচে থাকা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে)। জান্নাত হচ্ছে চিরস্থায়ী সুখের জায়গা, যেখানে কোনো দুঃখ-কষ্ট থাকবে না, থাকবে সুখ আর সুখ। জান্নাত ৮টি। পক্ষান্তরে, জাহান্নাম হচ্ছে চিরস্থায়ী কষ্টের জায়গা, যেখানে থাকবে ভয়ংকর সব আজাব বা শাস্তি, থাকবে কষ্ট আর কষ্ট। জাহান্নাম ৭টি। জান্নাতে যেতে হলে বা জাহান্নাম থেকে বাঁচতে হলেঃ ১। তাকওয়া, ২। কালেমা, ৩। নামাজ, ৪। রোজা, ৫। হজ্জ্ব, ৬। যাকাত, ৭। জিকির, ৮। কুরআন তিলাওয়াত, ৯। হাদীস পাঠ, ১০। পর্দা তথা অশ্লীলতা থেকে মুক্ত, ১১। সৎ কাজ তথা ইসলামীক কাজ করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে জাহান্নামের কষ্ট থেকে রক্ষা করুন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ‍্যমে জান্নাতে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। ধন‍্যবাদ।
সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...

জনপ্রিয় বিভাগসমূহ

Loading...