পীরের অস্তিত্ব নিয়ে ইসলাম কি বলে? পীর ধরা হারাম সম্পর্কে কিছু তথ্য দাও?

পীরের অস্তিত্ব নিয়ে ইসলাম কি বলে? পীর ধরা হারাম সম্পর্কে কিছু তথ্য দাও?

(হাদীসের আলকে উত্তর চাই)

বিভাগ: 

1 টি উত্তর

পীর শব্দটি ফার্সি। শব্দগতভাবে এর অর্থ হলো জ্ঞানী। কুরআন হাদিসে যাদের আউলিয়া, মুর্শিদ ও শায়খ বলা হয়েছে, ফার্সিতে তাদের পীর সাহেব বলা হয়। পীর হচ্ছে ওস্তাদ। কেউ যদি নিজে নিজে সঠিক পথ পাওয়ার চেষ্টা করে তার ভ্রষ্টতাই স্বাভাবিক। তাই আউলিয়া, মুর্শিদ, শায়খ এবং পীরের কাছে কুরআন ও হাদীস শিখার জন্য পীর বা ওস্তাদ ধরে এটা তার জন্য হারাম হবেনা। যেমন ওস্তাদ কেবল একটা ধারাই বাঞ্ছনীয় নয়। শিক্ষার্থী মুসলিমের উচিৎ, যাকে হকপন্থী অভিজ্ঞ আলেম দেখবে, তাকেই ওস্তাদ বলে গণ্য করবে। যেহেতু মুসলিম কোন ব্যক্তি দেখে হক চেনে না, বরং হক দেখে ব্যক্তি চেনে। সুতরাং যে পীর বা ওস্তাদ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনুসারী নয়, তাকে নিজের পীর বা ওস্তাদ বানানো বৈধ নয়। পক্ষান্তরে যিনিই কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর অনুসারী, তিনিই মুসলিমের ওস্তাদ হওয়ার যোগ্য। অতএব প্রত্যেক হক পন্থী আলেমই মুসলিমের ওস্তাদ। মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমরা যদি না জান, তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর। ( নাহলঃ ৪৩, আম্বিয়াঃ ৭) মহান আল্লাহ আরো বলেছেন, হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস কর, তাহলে তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রাসুল ও তোমাদের নেত্রীবর্গ (ও উলামা)-দের অনুগত হও। আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও। এটিই হল উত্তম ও পরিণামে প্রকৃষ্টতর। (নিসাঃ ৫৯) জনাব! মাদরাসায় যিনি শিক্ষা প্রদান করেন, তার নাম হল টিচার, মুআল্লিম, শিক্ষক বা উস্তাদ। তেমনি কুরআন ও হাদীসের উপর আমল প্রশিক্ষণ দাতার নাম হল পীর, মুর্শীদ। এখন প্রশ্ন হতে পারে কুরআন ও হাদীস থাকতে পীর ধরবো কেন? কুরআন ও হাদীস থাকতে, তা শিখার জন্য উস্তাদের কাছে যাবো কেন? এক্ষেত্রে জেনে রাখা উচিত যে, যেমন দ্বীন শিখা আবশ্যক। তেমনি দ্বীনের উপর সহীহ পদ্ধতিতে আমল করাও আবশ্যক। এখন কোন ব্যক্তি যদি উস্তাদের কাছে না গিয়ে, মাদরাসায় ভর্তি না হয়ে দ্বীন শিখে ফেলতে পারে, তাহলে তার যেমন মাদরসায় ভর্তি হবার, উস্তাদের কাছে যাবার দরকার নেই। কারণ তার মূল উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে গেছে। তেমনি কোন ব্যক্তি যদি পীর তথা মুর্শীদের কাছে না গিয়েই সে তার আত্মশুদ্ধি করে ফেলতে পারে, তাহলে তার জন্য কোন পীর বা মুর্শীদের কাছে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ পীর বা মুর্শীদের কাছে যাবার যে প্রয়োজনীয়তা যে উদ্দেশ্যে ছিল তা তার অর্জিত হয়ে গেছে। কারো যদি নিজে নিজে কুরআন ও সুন্নাহ অনুপাতে স্বীয় আত্মশুদ্ধি হয়ে যায়, তাহলে কোন পীর বা শিক্ষকের কাছে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। যদি না হয়, তাহলে পীর বা শিক্ষকের কাছে গিয়ে স্বীয় নফসের শুদ্ধায়ন করা আবশ্যক। বাকি উস্তাদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে যেমন আমরা দেখি উক্ত বিষয়ে শিক্ষক নিজে প্রাজ্ঞ কি না? তেমনি দ্বীনী শরীয়ত অনুসরণে মনকে আত্মাশুদ্ধি করতে গিয়ে অবশ্যই ভাল করে যাচাই করতে পীর সাহেব নিজের আত্ম শুদ্ধ করেছেন কিনা? এর সহজ পথ হল, পীর সাহেব কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে অভিজ্ঞ কিনা? তিনি সুন্নাতের পাবন্দ কি না? তার চেহারা, তার আখলাক, তার পরিবার, তার আমল, তার জীবনের বাঁকে বাঁকে সুন্নাতের অনুসরণ আছে কি না? তিনি দুনিয়া বিমুখ কিনা? পর্দাসহ যাবতীয় শরীয়তের মাসায়েলের কঠোর পাবন্দ কি না? ইত্যাদি সমস্ত বিষয় দেখতে হবে। যদি কোন একটি বিষয়েও তাকে গাফেল দেখা যায়, তাহলে এমন পীর বা শিক্ষকের কাছে শিখতে যাওয়া, নিজের ঈমান আমলকে ধ্বংস করার শামিল হবে। তাই দেখে শুনে, যাচাই করে পীরের কাছে যাওয়া উচিত। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে কিছু ভন্ড ও ঈমানবিধ্বংসী পীরের আগমন। এসব ভন্ড ও ঈমানবিধ্বংসী পীরের কাছে গেলে আখেরাত ধ্বংস হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই পীর ধরার ক্ষেত্রে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। স্থানীয় হক্কানী কওমী মাদরাসা পড়ুয়া বড় কোন আলেমের পরামর্শে পীর ধরতে যান। কোন ভন্ড পীরের খপ্পরে পরে নিজের দ্বীন ও ঈমান ধ্বংস করবেন না। [লুৎফুর রহমান ফরায়েজী লিখন থেকে আংশিক সংগ্রহ]

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ