সিয়ামের মধ্যে মানুষের দুনিয়া এবং আখেরাতের জীবনে কী কী উপকার রয়েছে?
বিভাগ:
1 টি উত্তর
সিয়াম পালনের সবচেয়ে বড় লাভটা হচ্ছে মুত্তাকী হওয়ার সুযোগ। আর কেউ মুত্তাকী হলে সে একইসাথে দুনিয়া এবং আখিরাতে লাভবান। আর সিয়াম মানুষকে অদৃশ্যের চর্চা করতে শেখায়। আল্লাহ যে সবকিছু দেখেন, এই বিশ্বাসে মানুষকে দৃঢ় ও অটল রাখে। পরকালের বিশ্বাসকেও পাকাপোক্ত করে। এছাড়া সিয়াম পালনের মাধ্যমে একজন মানুষ অতিরিক্ত মেদ কমানোর মাধ্যমে শারিরীকভাবে উপকৃত হয়ে থাকেন। সিয়ামের মধ্যে মানুষের জীবনে কী কী উপকার রয়েছে এর উপকারিতা বহুবিধ যার অংশবিশেষ নিম্নে তুলে ধরা হলঃ (ক) প্রথমতঃ মানসিক উপকারিতা [১] সিয়াম তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহ ভীরু হতে সহায়তা করে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ [১] ঈমানদারগণ!, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (বাকারাঃ ১৮৩) [২] শয়তানী শক্তি ও কু-প্রবৃত্তির ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। মানবদেহের শরীরের যে শিরা উপশিরা দিয়ে শয়তান চলাচল করে সিয়ামের ফলে সেগুলো নিস্তেজ ও কর্মহীন হয়ে পড়ে। [৩] সিয়াম হল আল্লাহর নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পন ও ইবাদতের প্রশিক্ষণ। [৪] আল্লাহর আনুগত্যে ধৈর্য ধারণ ও হারাম বস্ত্ত থেকে দূরে থাকার সহনশীলতার প্রশিক্ষণ দেয় এ সিয়াম। [৫] ঈমান দৃঢ়করণ এবং বান্দার প্রতি আল্লাহর সার্বক্ষণিক নজরদারীর অনুভূতি সৃষ্টি করে দেয়। এজন্য রোযাদার লোকচক্ষুর আড়ালে গোপনেও কোন কিছু খায় না। [৬] দুনিয়ার ভোগ বিলাসের মোহ কমিয়ে সিয়াম পালনকারীকে আখিরাতমূখী হওয়ার দীক্ষা দেয় এবং ইবাদতের প্রতি তার ক্ষেত্র প্রসারিত করে দেয়। [৭] সিয়াম সাধনার ফলে বান্দা সৎ গুণাবলী ও সচ্চরিত্রের অধিকারী হয়ে থাকে। [৮] সিয়ামে ক্ষুধার অনুভূতিতে অভাবী ও দরীদ্র জনগোষ্ঠীর দূরাবস্থা অনুধাবন করতে শিখায়। ফলে তাকে বঞ্চিত ও অনাহারী মানুষের প্রতি দয়াদ্র ও সহানুভুতিশীল করে তুলে। [৯] সৃষ্ট জীবের সেবা করার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। [১০] সিয়াম পালন আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সাহায্য করে। [১১] এ রমযান বান্দাকে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা শিক্ষা দেয়। (খ) দ্বিতীয়তঃ দৈহিক উপকারিতা। [১] সিয়াম মানব দেহে নতুন সূক্ষ্ম কোষ (ঈবষষ) গঠন করে থাকে। [২] সিয়াম পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রকে বিশ্রাম দিয়ে থাকে। ফলে এগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং তা আবার সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। [৩] মোটা মানুষের স্থূলতা কমিয়ে আনতে সিয়াম সাহায্য করে। [৪] মাত্রাতিরিক্ত ওজন কমিয়ে এনে অনেক রোগবালাই থেকে হিফাযত করে। [৫] অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতে ডাইবেটিস ও গ্যাস্ট্রিক রোগ নিরাময়ে সিয়াম ফলদায়ক ও এক প্রকার সহজ চিকিৎসা।