ব্যাভিচারি ও পবিত্র জীবনসঙ্গী সম্পর্কে? "আল্লাহ তায়ালা ব্যাভিচারির জন্য ব্যাভিচারী জীবন সঙ্গী রেখেছেন।" কোনো ব্যাভিচারি যদি তওবা করে, তাহলে সে কি ভালো ও সতীসাধ্বী জীবনসঙ্গী লাভ করতে পারবে?
বিভাগ: 

4 টি উত্তর

আল্লাহ অশেষ দয়াবান ও ক্ষমাশীল। কোনো বান্দা ভুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে অবশ্যই ক্ষমা করবেন। এবং বেশি বেশি ইসতেগফার করতে হবে।
কবুল হওয়ার মত তওবা করলে অবশ্যই ভালো জীবন সঙ্গী পাবেন.. .
আপনাকে অত্যান্ত বেশী পরিমানে অনুতাপ হয়ে আল্লাহ কাছে তওবা করুন। আল্লাহ নিশ্চই দয়া করে আপনার গুনা ক্ষমা করে দিবেন। তবে ভবিষ্যতে এধরনের গুনা থেকে বিরত থাকবেন।

"ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিক নারীকে ছাড়া বিয়ে করবে না এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক ছাড়া বিয়ে করবে না। আর মুমিনদের উপর এটা হারাম করা হয়েছে।" (সুরা আন-নূর, আয়াত নং ৩)

এ ব্যাপারে ব্যাখ্যাকারিগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, অধিক সময় এ রকমই ঘটে থাকে বলে এরকম বলা হয়েছে। আয়াতের অর্থ হল, সাধারণতঃ ব্যভিচারী ব্যক্তি বিবাহের জন্য নিজের মত ব্যভিচারিণীর দিকেই রুজু করে থাকে। সেই জন্য দেখা যায় অধিকাংশ ব্যভিচারী নারী-পুরুষ তাদেরই অনুরূপ ব্যভিচারী নারী-পুরুষের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক কায়েম করতে পছন্দ করে।

আর, এ কথা বলার আসল লক্ষ্য হলোঃ মু'মিনদেরকে সতর্ক করা যে, যেমনিভাবে ব্যভিচার একটি জঘন্যতম কর্ম ও মহাপাপ, তেমনি ব্যভিচারী ব্যক্তির সাথে বিবাহ ও দাম্পত্য জীবনের সম্পর্ক গড়াও অবৈধ। ইমাম শাওকানী (রঃ) এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। ওলামায়ে কেরামগণ বলেছেন যে, কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে বা কোন মহিলা কোন পুরুষের সাথে ব্যভিচার করে বসলে তাদের আপোসে বিবাহ হারাম। তবে তারা যদি বিশুদ্ধভাবে তওবা করে নেয়, তাহলে তা বৈধ। (তাফসীর ইবনে কাসীর)

জনাব, পবিত্র কুরআনে ব্যভিচারি পুরুষ ব্যভিচারী নারীর জন্য এ কারণে বলা হয়েছে যে, ব্যভিচারী ব্যক্তি নিজ যৌনকামনা চরিতার্থ করার জন্য অবৈধ রাস্তা অবলম্বন করে ব্যভিচারিণী মহিলার প্রতি রুজু করে থাকে, অনুরূপ ব্যভিচারিণী মহিলাও ব্যভিচারী পুরুষের প্রতি রুজু করে। কিন্তু মুমিনদের জন্য এ রকম করা হারাম। তাই, আল্লাহর কাছে তওবা করলে আল্লাহ তায়ালা মাফ করবেন এবং সতীসাধ্বী জীবনসঙ্গী তাকে উপহার দেবেন। "নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তওবা কবুলকারী ও অসীম দয়ালু।" (সুরা হুজরাত, আয়াত নং ১২) 

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ