কখন ভিক্ষা করা জায়েজ?

 (4942 পয়েন্ট)

জিজ্ঞাসার সময়

2 Answers

 (325 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

যার অর্থ সম্বল নেই,কাজ করতে অক্ষম। হাদীসে আছে,যে ব্যাক্তির প্রচুর পরিমানে ঝিন আছে,পরিশোধ করতে সক্ষম না,সেই ব্যাক্তি ভিক্ষা করতে পারবে।
 (8088 পয়েন্ট) 

উত্তরের সময় 

রাসুলে আকরাম সা. ভিক্ষুকদের সম্পর্কে বলেন- ‘যে ব্যক্তি ধনী হওয়ার উদ্দেশ্যে লোকদের কাছে ভিক্ষা চাইবে, সে যেন নিজ চেহারাকে কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষতযুক্ত করে দিল। সে জাহান্নামের গরম পাথর ভক্ষণ করতে বাধ্য হবে। সুতরাং যার ইচ্ছা নিজের জন্য এসব জিনিস বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করুক, আর যার ইচ্ছা কম করুক।’ (সহীহ মুসলিম, পৃ. ৩৩৩)।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা জোর করে কারও কাছে ভিক্ষা চেয়ো না।’ (সূরা বাকারা : ২৭৩)। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি হলাম সম্পদের খাজনার মালিক। যাকে আমি স্বেচ্ছায় দান করব ও তার জন্য সে মাল হবে বরকতপূর্ণ; আর যাকে চাওয়া বা জোর করার কারণে মাল দেব সে ওই ব্যক্তির মতো হবে, যে পেটভরে খায়; কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারে না।’ (সহীহ মুসলিম, পৃ. ৩৩৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে হালাল কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং রাগের উদ্রেক সৃষ্টিকারী কাজ হলো স্ত্রীকে তালাক দেয়া ও ভিক্ষাবৃত্তি করা।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : হা. নং ৪৩৬)। অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে ভিক্ষা চায়, সে হাতে অঙ্গার একত্রিত করার মতো ভয়াবহ কাজ করে।’ (সুনানে বায়হাকি : ৬৩৪)।

 

তবে হাদিসে শুধু তিন শ্রেণীর মানুষের জন্য ভিক্ষা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে:

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তি ছাড়া কারোর জন্য ভিক্ষা করা জায়েজ নেই। তারা হলো- ১. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (যার পুরো সম্পদ নিঃশেষ হয়ে গেছে) তার জন্য ভিক্ষার অনুমতি রয়েছে। যখন প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে, তখন আর ভিক্ষা করা হালাল হবে না। ২. ওই ব্যক্তি, যার সম্পদ কোনো কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। তার প্রয়োজন অনুযায়ী ভিক্ষা করা হালাল। ৩. ওই ব্যক্তি, যে একেবারেই নিঃস্ব এবং তার বংশের তিনজন সাক্ষী দেয় যে, সে নিঃস্ব। তার জন্যও প্রয়োজন অনুযায়ী ভিক্ষা করা হালাল। এর বেশি হালাল নয়।’ (সহীহ মুসলিম, পৃ. ৩৩৪)। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন নামাজ আদায় করবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ করো।’ (সূরা জুমা : ১০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) কে সর্বোত্তম উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘নিজ হাতে কাজ করা এবং হালাল পথে ব্যবসা করে যে উপার্জন করা হয়, তাই সর্বোত্তম।’ (মেশকাতুলে মাসবীহ : ২৭৮৩)।

 

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Loading...

জনপ্রিয় বিভাগসমূহ

Loading...