অনলাইনে কীভাবে কাজ করলে টাকা পাবেন দেখুন আয় করার উপায়সমূহ

233 জন দেখেছেন

ইন্টারনেট শুধু এখন বিনোদনে ব্যবহার নয়, অনলাইনে

আয় করার পথ বেছে নিন। অনেকে হাজার হাজার - লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করছে। ইন্টারনেট ছাড়া মানুষের জীবন প্রায় অচল, এটা মানবজীবনে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। মানুষ এখন ঘরে বসে অনলাইনে অর্থ আয়ের

জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করছে। অনলাইনে

আয় করার জন্য অনেক উপায়ও তৈরি হয়েছে। সবাই এখন অনলাইনে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার দিয়ে আয় করতে চায়। ঘরে বসে ইনকাম করা গেলে এর চেয়ে সুখ আছে নাকি।

অনলাইনে কাজ করে উপার্জন করতে হলে

কোন প্ল্যাটফর্ম দ্বারা করছেন, সে

ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ অনলাইনে আয় করার বিভিন্ন সুযোগ থাকলেও কিছু কিছু

ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হতে পারেন। অনেক ভুয়া সাইটও রয়েছে। অনলাইনে কাজ করার জন্য দরকার ধৈর্য, হুট করেই আয় আসবে না। অনেক অনলাইন ওয়েবসাইট ও প্লাটফর্ম আছে,যেখানে প্রচুর পরিমাণে আয় করতে পারবেন।

.

আসুন জানি এগুলা সম্পর্কে—

.

.

১। ইউটিউব ঃ

 

ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করে ইনকাম করতে পারেন। এখানে আয় করতে হলে কোনো টাকা দিতে হয় না। ফ্রিতে চ্যানেল খুলে ভিডিও ছাড়লেই ইনকাম। তবে অবশ্যই মানসম্মত ভিডিও আর ভিউ হতে হবে। ইন্টারনেটে যতগুলা ভিডিও শেয়ারিং সাইট আছে তার মধ্যে ইউটিউব সবচেয়ে জনপ্রিয়। বাংলাদেশের ইউটিউবারগণ প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ইনকাম করেন। আরও বেশী করতে পারেন। কারণ আপনার ভিডিও কনটেন্ট যতভালো হবে যত ভিউ হবে ততই ইনকাম। এখানে ইনকাম হয় বিজ্ঞাপনে ক্লিকের মাধ্যমে। সো,

আপনিও ইউটিউবে চ্যানেল খুলে ভিডিও তৈরী করে আয় করতে পারেন।

 

 

২। ফেসবুক ঃ

 

ইউটিউবের মতো ফেসবুকেও আপনি ভিডিও আপলোড করে টাকা রোজগার করতে পারেন।

 

ফেসবুকে পেজ খুলে নিজের ভিডিও শেয়ার করে আয় করুন হাজার হাজার ডলার। পেজে যত লাইক এবং ফলোয়ার হবে ততই আপনার ভিডিও শো করবে সবার সামনে আর ভিউ হবে।

 

৩। ফ্রিল্যান্সিং

 

অনলাইনে আয় করার ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং কাজ সবচেয়ে জনপ্রিয়। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সাদের কাজের দক্ষতা দেখে ফ্রিল্যান্স কাজের

সুযোগ দেয় কিছু ওয়েবসাইট। সেখানে

অ্যাকাউন্ট খুলে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজের জন্য

আবেদন করবেন । কাজদাতা তাদের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে ফ্রিল্যান্সারকে কাজ

দেয়।

কতকগুলো ওয়েবাসাইট আছে, যেখানে কাজের দক্ষতার বিবরণ

দিতে হয়, যাতে কাজদাতা সরাসরি যোগাযোগ

করতে পারেন। যেমন, Upwork.com এবং

freelancer.com প্রতি ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায় এগুলো থেকে।

মনে রাখবেন, কাজ

শেষ করার পর কাজদাতার অনুমোদন পেলেই

আপনি টাকা পাবেন ।

কাজের মানের ওপর কাজদাতা রেটিংও দেয়। যতক্ষণ না কাজদাতার কাজ পছন্দ না হয় ততক্ষণ কাজ করে দিতে হয়। বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি 

ব্যবহার করে অর্থ আনতে হয়।

 

 

৪। ব্লগ লিখে ঃ

 

আপনি যদি কোনো বিষয়ে লিখতে পারদর্শী হন তাহলে বিভিন্ন ব্লগে আর্টিকেল লিখে আয় করতে পারেন। যেমন আমি এখন bissoy এ লিখেছি। আপনি মানসম্মত লেখালেখি করে প্রচুর পরিমানে আয় করতে পারেন এমন অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে। এছাড়া আপনি নিজে ফ্রিতে ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরী করেও লিখতে পারেন।

তবে আপনি যদি ইংলিশে পারদর্শী হন তাহলে আরো বেশী আয় হবে। অনেক ইংলিশ ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আর্টিকেল লিখে মোটা অঙ্কের টাকা ইনকাম করা যায়। এমন কয়েকটি সাইট আছে যেখানে একটা আর্টিকেল লিখে আপনি ৫০ থেকে ৮০ ডলার পেতে পারেন। তবে লেখার গুনগত মান ভালো হতে হবে এবং ১০০% নিজের লেখা হতে হবে। কপি পেষ্ট করে কোনো জায়গায়ই আপনি আয় করতে পারবেন না।

 

৫। নিজের ওয়েবসাইট বানিয়ে ঃ

 

নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ইন্টারনেটে অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু ইনভেষ্ট করতে হয়। এছাড়া আপনি ফ্রি ওয়েবসাইটও খুলতে পারেন এতে ইনকাম একটু কম হবে।  ওয়েবসাইট তৈরী করতে হলে ডোমেইন নেম, টেমপ্লেট, ওয়েবসাইট তৈরির নকশা এগুলা একটু জানতে হবে।

যখন পাঠক বা দর্শককে আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন

কনটেন্ট ও সেবা দিয়ে আকর্ষণ করতে পারবেন এবং প্রতিনিয়ত ভিজিটর আসবে , তখন গুগল

অ্যাডসেন্সে আবেদন করতে পারন।

এবং

গুগলের বিজ্ঞাপন যখন আপনার সাইটে দেখানো শুরু

হবে এবং পাঠকরা বা দর্শকরা ক্লিক করবে, তখনই আয় আসা

শুরু করবে। ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বা দর্শক যত

বেশী হবে, আয়ের পরিমাণও তত বেশী হবে।

 

৬। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ঃ

 

এই পথে আয়ের জন্য নিজের

ওয়েবপেজ বা ব্লগ প্রয়োজন অথবা আপনি ফেসবুক পেজ তৈরী করেও করতে পারেন ।যখন আপনার সাইট বা কোনোপেজ আপনার অনেক ভিজিটর আছে এমন জায়গায় বিভিন্ন ওয়েবসাইটের এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে আয় করতে পারেন।  যে ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করবেন অবশ্যই ঐ ওয়েবসাইটে আপনার একাউন্ট থাকতে হবে। লিংক শেয়ার করার পর যখন ঐ

প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা কোনো দর্শক

কিনবেন অথবা ভিজিট করে একাউন্ট করবেন, তখনই আপনার আয় আসতে শুরু করবে।

 

৭। গ্রাফিকস ডিজাইন ঃ

 

অনলাইনে ঘরে বসে আয়ের জন্য

গ্রাফিকস ডিজাইন ভালো একটি মাধ্য । যাদের এ কাজে দক্ষতা আছে, তারা

বিভিন্ন রকমের ডিজাইন অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে

দিয়ে দেন । সেখান থেকে তাদের আয়

হয়। তাদের তৈরি করা একটি পণ্য অনেকবার বিক্রি হয়।

অর্থাৎ একটি ভালো ডিজাইন থেকেই অনেকদিন

পর্যন্ত আয় হতে থাকে। অনলাইনে এভাবে

অনেক ওয়েবসাইটে গ্রাফিকসের কাজ বিক্রি করা

যায়। এছাড়া অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতেও

গ্রাফিকস ডিজাইনারদের বহুত চাহিদা আছে।

 

৮। ক্যাপচা টাইপিং ঃ

 

যদি আপনি টাইপিং এ দ্রুত হন, তাহলে ক্যাপচা টাইপ করে আয় করতে পারেন।  অনলাইনে অনেক ক্যাপচা টাইপিং ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি তাদের শর্তানুযায়ী ক্যাপচা টাইপ করে দিবেন আর এজন্য আপনাকে তারা টাকা দিবে। তবে বেশিরভাগই ভুয়া সাইট।  নির্ভরযোগ্য কতগুলো সাইট আছে যেগুলা পেমেন্ট দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। আপনি গুগলে সার্চ করলেই পাবেন।

 

 

৯। অনুবাদ ঃ

 

ইংলিশের পাশাপাশি অন্য কোনো ভাষায় আপনার দক্ষতা থাকলে সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আপনি আয়

করতে পারেন। কয়েকটি ওয়েবসাইট আছে,

যেখানে নানা রকম ডকুমেন্ট এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় অনুবাদ করে আয়

করা যায়। যারা স্প্যানিশ, আরবি,

জার্মান ও আরবিসহ অন্য ভাষা ভালোভাবে জানেন এবং এগুলা থেকে ইংলিশে অনুবাদ বা ইংলিশ থেকে

এইসব ভাষায় অনুবাদ করতে পারেন তারা ভালো রকমের আয়

করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে এ

ধরনের কাজ পাওয়া যায়।

 

১০। অনলাইন টিউটর ঃ

 

কোনো বিষয়ে যদি আপনি পারদর্শি হয়ে থাকেন,

তাহলে অনলাইনে সে বিষয়ে মানুষকে শিক্ষা দিতে পারেন।

অনলাইন টিউটরের এখন চাহিদা অনেক। ইন্টারনেটে বিভিন্ন

ওয়েবসাইটে অনলাইন টিউশনি করার সুযোগ আছে ।

যেখানে আপনি পড়াতে পারেন

ছাত্র। তবে সেখানে নিজের দক্ষতার পরীক্ষা দিতে

হয়। আপনি নির্বাচিত হলে ওয়েবিনার

ডিরেক্টর হিসেবে অনলাইন সেশনও পরিচালনা করতে

পারবেন।

 

এছাড়া আপনি অনলাইনে আরো বিভিন্ন কাজ করতে পারেন।  আরো কাজ রয়েছে যেমন, ওয়েব ডিজাইন, ডেটা এন্ট্রি, এড ক্লিক  এবং প্রশ্নের উত্তর দিয়েও আয় করা যায় ।

 

ধন্যবাদ

 

Anonymous (297 পয়েন্ট)

মন্তব্যসমূহ

ভাই ইউটিউব চ্যানেল ফ্রি কিভাবে খুলবো একটু বলবেন

খুব সহজ.. ভাই গুগলে গিয়ে সার্চ " ইউটিউব খোলার নিয়ম" অনেক টিউটোরিয়াল পাবেন..


সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ