বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
92 জন দেখেছেন
"বিজ্ঞান ও প্রকৌশল" বিভাগে করেছেন (2,188 পয়েন্ট)
পূনঃপ্রদর্শিত করেছেন
আমরা জানি শক্তির সৃষ্টি / ধ্বংস নেই শুধু রুপান্তর আছে। তাহলে সৃষ্টি না থাকলে এই শক্তি আসছে কিভাবে??

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (46 পয়েন্ট)
  • শুন্য থেকেই এই বিশাল শক্তি উৎপন্ন হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শূন্য বিন্দু থেকে মহাবিশ্বের উৎপত্তি। 
  • শক্তির নিত্যতা সূত্র অনুযায়ী, শূন্য বিন্দুর মোট শক্তির পরিমান হবে শূন্য। তাহলে প্রশ্ন ওঠে , যেখানে শক্তির পরিমান শূন্য , তা থেকে কিভাবে এ বিশাল মহাবিশ্বের লক্ষ লক্ষ কোটি তারকা, গ্রহ , উপগ্রহের সৃষ্টি হতে পারে ? বিজ্ঞানীরা বলছেন- পারে । সেটা একটা সমীকরন থেকে দেখা যেতে পারে - শূন্য বিন্দুতে অবস্থিত পরা শক্তি = E শূন্য বিন্দুতে অবস্থিত অপরা শক্তি = -E অতএব , শূন্য বিন্দুতে মোট শক্তি = E +(-E)= E – E = 0 অর্থাৎ, একটা শূন্য বিন্দুর মোট শক্তি যেমন শূন্য হওয়ার কথা,বাস্তবে কিন্তু সেটাই থাকছে। 
  • খেয়াল করতে হবে শূন্য বিন্দুতে উক্ত পরা বা অপরা শক্তির পরিমান যদি অসীম পরিমানও হয় , তাহলেও কিন্তু ফলাফল একই হবে।
  •  এভাবে মোট শক্তির পরিমান শূন্য হলে মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হবে ? সেটা বুঝতে গেলে আমাদেরকে এবার সেই ভ্যাকুয়াম ফ্লাক্সুয়েশন প্রতিক্রিয়ার দ্বারস্থ হতে হবে ।
  •  শূন্য বিন্দুতে ভ্যাকুয়াম ফ্লাক্সুয়েশনের প্রতিক্রিয়ার সময় পরা শক্তি ও অপরা শক্তি কোয়ান্টাম লেভেলে কি আচরন করবে সেটা নিশ্চিত নয়। সে ক্ষেত্রে সৃষ্ট দৃশ্যমান পরা বা অপরা শক্তির পরিমানে পার্থক্য থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সৃষ্ট পরা ও অপরা শক্তি পরস্পর পরস্পরকে ধ্বংস করে দেয়ার পরেও কিছু পরা বা অপরা শক্তি অবশিষ্ট থাকবে। 

  • সেটা বোঝা যেতে পারে নীচের সমীকরনের সাহায্যে- ধরা যাক, শূন্য বিন্দুতে সৃষ্ট পরা শক্তির পরিমান – X শূন্য বিন্দুতে সৃষ্ট অপরা শক্তির পরিমান- Y এখন যদি X > Y হয় বা X এর মান যদি Y থেকে বড় হয়, তাহলে ধরা যাক, X – Y = A এর অর্থ – দৃশ্যমান পরা শক্তির পরিমান যদি অপরা শক্তির চেয়ে বেশী হয়, তাহলে কিছু পরিমান পরা শক্তি অবশিষ্ট থাকবে। বাকী সম পরিমান পরা ও অপরা শক্তি পরস্পরকে ধ্বংস করে আবার শূন্যে মিলিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, পরা শক্তিকে আমরা প্রচলিত অর্থে শক্তি বা এনার্জি বলি আর অপরা শক্তিকে বলি এন্টি এনার্জি। 
  • একই ভাবে পরা শক্তি থেকে রূপান্তরিত পদার্থকে বলা হয় পদার্থ বা ম্যাটার এবং এন্টি এনার্জি থেকে রূপান্তরিত পদার্থকে বলে অপরা পদার্থ বা এন্টি ম্যাটার।আর বলা বাহুল্য, নির্দিষ্ট পরিমান ম্যাটার যদি সম পরিমান এন্টি ম্যাটারের সংস্পর্শে আসে , সাথে সাথেই তারা পরস্পরকে ধ্বংস করে মূহুর্তের মধ্যে নেই হয়ে যাবে। আইনস্টাইনের সূত্র অনুযায়ী,পরিস্থিতি সাপেক্ষে শক্তি ভরে ও ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে। সেই সূত্র অনুযায়ী, এই অবশিষ্ট A শক্তিই পরবর্তীতে পদার্থ ও ভরে পরিনত হয়ে এই মহাবিশ্বের যাবতীয় কণিকা সৃষ্টি করেছে। ঠিক এভাবেই বিখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বিশ্ব সৃষ্টির জন্য এত পদার্থ কণিকা কোথা থেকে এল তার ব্যখ্যা করেছেন।তার আরও বক্তব্য হলো- এখানে , X > Y বা Y > X , যাই হোক না কেন , তাতে কিছু যায় আসে না। যে অবশিষ্ট শক্তি ছিল তা সে পরা বা অপরা যাই হোক না কেন তা থেকে বর্তমানে মহাবিশ্বের যে কণিকাসমূহ বা পদার্থ সৃষ্টি হয়েছে , তাকেই আমরা বর্তমানে পরা শক্তি বা পরা কণিকা বা পদার্থ হিসাবে ধরে নিচ্ছি এবং এর বিপরীতকে বলি অপরা শক্তি বা অপরা কণিকা বা এন্টি ম্যাটার। এ কারনেই সারা বিশ্বের কোথাও অপরা শক্তি বা অপরা কণিকা বা এন্টি ম্যাটার পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই

সংগৃহিত -zero 2 infinity

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

307,037 টি প্রশ্ন

395,950 টি উত্তর

120,980 টি মন্তব্য

170,131 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...