279 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (4,261 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (4,261 পয়েন্ট)
তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। সূরা আল হাদিদ - ৫৭: ৪ (মাদানী)

উপরের আয়াত থেকে দেখা যাচ্ছে আল্লা ছয়দিনে যাবতীয় সব কিছু সৃষ্টি করার পর তার আরশের ওপর সমাসীন হয়ে পড়ল। একবার জাকির নায়েককে দেখেছিলাম খুব দৃঢ় প্রত্যয়ে এ আয়াতের ব্যখ্যা দিতে গিয়ে বলল যে এই আরশে তথা সিংহাসনে আসীন হওয়া হলো উপমা অর্থে , এটা হবে আসলে আল্লাহ সব কিছু সৃষ্টি করে তার ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে আসীন হল। সুতরাং এখানে আরশ অর্থ কোন বাস্তব সিংহাসন বুঝাবে না। সে দেখলাম বিষয়টাকে আরও ব্যখ্যা দিয়ে বলল- কোন দেশের রাজার আগে যেমন অভিষেক হলে বলত যে রাজা সিংহাসনে আসীন হলো - এটা দ্বারা বুঝাতো যে রাজা তার ক্ষমতায় আরোহন করল। আর এ ব্যখ্যাই বোধ হয় সঠিক কারন পরে বলা হচ্ছে-তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক অর্থাৎ আল্লাহ সর্বত্রই বিরাজমান। কারন কোন এক সিংহাসনে উপবেশন করে আল্লাহর সবার অন্তরের মধ্যে বসে থাকাটা উদ্ভট শোনাবে। ধরে নেয়া যাক , জাকির নায়েকের যুক্তি সঠিক। এবার পরের আয়াত দেখা যাক,

আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী।সূরা কাফ-৫০: ১৬ (মাক্কি)

এখানে দেখা যাচ্ছে আল্লাহ আমাদের খুবই নিকটে অবস্থান করে। যাহোক সর্ব শক্তিমান আল্লাহ তার ক্ষমতায় আসীন হলেও যেহেতু তার সর্বত্র বিরাজ করার ক্ষমতা বিদ্যমান, তাই সে সকল মানুষের একেবারে অন্তরেই অবস্থান করতে পারে। সুতরাং , ধরে নেয়া যেতে পারে যে আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সর্বত্র বিরাজমান। অর্থাৎ আগের ৫৭:০৪ নং আয়াতের ব্যখ্যাকেই এই ৫০: ১৬ নং আয়াত সমর্থন করছে। এবার আরও একটু অগ্রসর হওয়া যাক-

তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, "নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!";সূরা হুদ-১১:০৭(মাক্কি)

এই আয়াতে দেখা যাচ্ছে আল্লাহর সেই আরশ পানির ওপর অবস্থিত ছিল। আর বলাবাহুল্য এ বর্ণনাটা কোন উপমার মত মোটেই বুঝায় না। এ বর্ণনায় পরিস্কার বুঝাচ্ছে যে কোন এক যায়গায় (যেটা সাত আসমানের ওপর হবে অবশ্যই) পানি ছিল যার ওপর আল্লাহর সিংহাসন বিদ্যমান ছিল। আর আল্লাহ সেই সিংহাসনে নিশ্চয়ই খুব আরাম করে বসেছিল। কারন ছয়দিন ধরে আসমান জমীন সৃষ্টি করে সে নিশ্চয়ই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। সুতরাং এটা থেকে পরিস্কার বুঝাচ্ছে যে পূর্বের ৫৭:০৪ নং আয়াতের ব্যখ্যায় জাকির নায়েক যেমন বলেছিলেন যে আরশে আসীন হওয়াকে ক্ষমতায় আরোহন বুঝাবে এবং এটা একটা উপমা হিসাবে ধরে নিতে হবে , ১১:০৭ নং আয়াত থেকে তা বোঝার আর কোন সুযোগ নেই এবং আরশ বলতে এখানে সত্যি সত্যি কোন এক ধরনের বাস্তব সিংহাসনই বুঝাচ্ছে। আর সে সিংহাসন কোথায় স্থাপিত ছিল সেটাই বুঝাচ্ছে এই আয়াতে। হতে পারে সে সিংহাসন সোনার বা মনি মুক্তায় বা অন্য কোন অতি মূল্যবান রত্নে তৈরী( কারন আল্লাহ তো আর যেন তেন জিনিসের তৈরী সিংহাসনে বসবে না)।


তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত কর্ম পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর কাছে পৌছবে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান। সূরা সাজদা -৩২: ৫


ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা’আলার দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। সূরা আল মারিজ -৭০:০৪   


    ৫৭:৪ وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক।


    গীতা থেকে -The one who sees the same eternal Supreme Lord dwelling as Spirit equally within all mortal beings truly sees. (13.27)



    বাইবেল থেকে- Act 17:27 So that they might make search for God, in order, if possible, to get knowledge of him and make discovery of him, though he is not far from every one of us:





আল্লাহ সবসময় আমাদের অতি নিকটে। কত নিকটে? তিনি বলেন-

    ৫০:১৬ আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী।


এবং যখন তিনি বলেন -

    ২:১৮৬আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।


৫৪:১৭ আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?
টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর
04 মার্চ "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আইনুল হক (8 পয়েন্ট)

289,192 টি প্রশ্ন

374,732 টি উত্তর

113,349 টি মন্তব্য

157,713 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...