বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
327 জন দেখেছেন
07 ডিসেম্বর 2018 "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (1,569 পয়েন্ট)
07 ডিসেম্বর 2018 পূনঃরায় খোলা করেছেন
আগে প্রশ্নটি ভালো করে পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো
আমিও জানি যে আত্নহত্যা পাপ এবং এটাই বিশ্বাস করি।কিন্তু কি কারণে হলো সেটা জানতে চাই।
আমরা জানি যে আমাদের জন্ম-মৃত্যু সবই আল্লাহর হাতে।তিনি আমাদের যেভাবে মৃত্যু চাইবেন আমাদের ঠিক সেভাবেই হবে।তিনি আগে থেকেই সবকিছু লিখে রাখেন।সে অনুযায়ী আমাদের মৃত্যু হয়।তাহলে আত্নহত্যা করলে পাপ হয় কেন?আল্লাহ যদি সবকিছুই আগে থেকে লিখে রাখেন তাহলে হয়তো এই আত্নহত্যা করার ঘটনাও লিখে রেখেছিলেন।তাহলে তা পাপ কি করে হলো?তাহলে কি আল্লাহ তাকে নিজের ইচ্ছায় পাপী করলো?(নাঊযুবিল্লাহ নাঊযুবিল্লাহ,আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুক) আমরা সবাই জানি যে আল্লাহ তা কোনো দিনই করবেন না। তাহলে কি করে এটা সম্ভব?
বিঃদঃ কেউ এটা ভাববেন না যে আমি ইসলামে বিশ্বাস করি না।আমি আমার ধর্মকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।তাই এই প্রশ্নটি হয়তো আমার বিশেষ কোনো বিষয়ের অজ্ঞতার কারণে হতে পারে।তাই আশা করি যে সবাই নিজের ধারণা অনুযায়ী সুস্পষ্ট উত্তর দিবেন।

7 উত্তর

+3 টি পছন্দ
07 ডিসেম্বর 2018 উত্তর প্রদান করেছেন (4,613 পয়েন্ট)
07 ডিসেম্বর 2018 নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর

ইসলাম ধর্মীয় মতামতে আত্মহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলে। কুরআন এর ভাষায়, "নিজেকে খুন করো না বা ধ্বংস করো না" বলে এটা নিষেধ করেছে।


 

হাদিস স্বতন্ত্রভাবে বলেছে আত্মহত্যা করা বেআইনি এবং মহা পাপ। এ সম্পর্কে হাদীসে উল্লেখ আছে, "আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) বর্শা বিদ্ধ হতে থাকবে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৬৫)। উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম, যে ব্যক্তি যেভাবে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে তাকে সেইভাবেই থাকতে হবে। এমনকি,যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে, তার জানাযা নামাজ রাসূল (সঃ) আদায় করেন নি।


→আপনার প্রশ্ন হল, আল্লাহ তায়ালা আত্মহত্যা করার ঘটনা লিখে রেখেছিলেন কি না? উত্তরঃ না। এখন আপনি যদি খারাপ অশ্লীল কাজে মনোনিবেশ করেন, তাহলে সেটার জন্য আপনার নফস্ দায়ী। কেননা, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন,


"তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে বা যা তুমি লাভ কর, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ যথেষ্ট। (সুরা আন-নিসা, আয়াত নং ৭৯)।

 

তাই পরিশেষে বলা যায় যে, আত্মহত্যা যেহেতু অকল্যাণ বস্তুবিশেষ, তাই এটা নিজের ওপর নির্ভর করে, আল্লাহর ওপর নয়।

কেননা, আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর রহমত দিয়ে। বান্দার কোনো ক্ষতি বা অকল্যাণ হোক, তিনি তা চান না।
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (1,569 পয়েন্ট)
আলহাদুলিল্লাহ্ উত্তরটি পড়ে খুব ভালো লাগলো।
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (4,613 পয়েন্ট)
এরকম প্রশ্ন করার জন্য আপনার সমাদর প্রকাশ করছি। কেননা, এ বিষয়গুলো নিয়ে আজ-কাল সমাজে অনেক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। 
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (1,569 পয়েন্ট)
একটা খাঁটি কথা বলেছেন @হিজবুল্লাহ ভাই।এরকম আরো কয়েকটি প্রশ্ন আমার মনে খুব ঘুরপাক খাচ্ছে।সময় হলে প্রশ্নগুলো করে নিব।
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (4,613 পয়েন্ট)
হ্যাঁ। আপনার প্রশ্নের যথার্থ উত্তর অর্পণ করতে চেষ্টা করবো। 
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (1,833 পয়েন্ট)
জন্ম, মৃত্যু, রিয্ক ও ধণসম্পদ এ চারটি পূর্ব নির্ধারিত নয় কি?
+4 টি পছন্দ
07 ডিসেম্বর 2018 উত্তর প্রদান করেছেন (4,777 পয়েন্ট)
07 ডিসেম্বর 2018 সম্পাদিত করেছেন


যে কারণে একজন আত্মহত্যাকারীকে শাস্তি দেওয়া হবে।–

<আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন এবং আত্মহত্যার পরিণামে কঠোর শাস্তির বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করব; এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯-৩০)

 # মহান আল্লাহ তাআলার দেওয়া এই যে, নিয়ামত ‘প্রাণ’; তা মহান সৃষ্টিকর্তার প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে নিজের চাহিদা মাফিক ব্যয় করা।

তাছাড়া পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, নিয়ামতের অপচয় মহাপাপ এবং সেজন্য মহান আল্লাহ কঠিন শাস্তি দিবেন। আর প্রাণ এটি মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ নিয়ামত।তাই অপরাধের স্তর অনুযায়ী শাস্তি।কারণ আয়াতে বলা আছে- আমার শাস্তি খুবই কঠিন।

 # শয়তানের অনুসরণ করা। আর শয়তানের অনুসরণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়।




+2 টি পছন্দ
07 ডিসেম্বর 2018 উত্তর প্রদান করেছেন (3,792 পয়েন্ট)

ইসলামি দৃষ্টিকোণে আত্মহত্যা একটি জঘন্যতম মহাপাপ। আল্লাহ মানুষকে মরণশীল করে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে একমাত্র আল্লাহই জন্ম দেন এবং একমাত্র তিনিই মৃত্যু ঘটান। কিন্তু আত্মহত্যার ক্ষেত্রে বান্দা স্বাভাবিক মৃত্যুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুকে নিজের হাতে নিয়ে নিজেই নিজকে হত্যা করে ফেলে। এ কারণে এটি একটি গর্হিত কাজ। কবিরা গুনাহ। আল্লাহ মহান এমন কাজকে মোটেই পছন্দ করেন না। এ কারণে যদিও শরিয়তে নির্দেশনায় আত্মহত্যাকারীর জানাযা হয় তবু রাসূল [সা.] নিজে কখনো আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়াননি। সাহাবিদের দ্বারা তা পড়ানো হয়।

আল্লাহ যদি সবকিছুই আগে থেকে লিখে রাখেন তাহলে হয়তো এই আত্মহত্যা করার ঘটনাও লিখে রেখেছিলেন।তাহলে তা পাপ কি করে হলো?তাহলে কি আল্লাহ তাকে নিজের ইচ্ছায় পাপী করলো?

এ প্রশ্নের উত্তর জানতে নিচের আলোচনাটি লক্ষ্য করুন-


পৃথিবীর সব অপরাধ কি আল্লাহর হুকুমেই হয়?

হুকুম মানে নির্দেশ। আল্লাহ তা’আলা কখনোই অপরাধ বা খারাপ কাজের নির্দেশ দেন না। আল্লাহ বলেন—

“... আল্লাহ মন্দ কাজের আদেশ দেন না।তোমরা এমন কথা আল্লাহর প্রতি কেন আরোপ করযা তোমরা জানো না? ”

আল্লাহ তা’আলা সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা। পাপ কিংবা পূণ্য – মানুষের সকল কর্মও আল্লাহর সৃষ্টি। পৃথিবীতে যা ঘটে এবং মানুষ যা করে – এগুলোর সবগুলোই আল্লাহর অনুমতিক্রমে বা ইচ্ছায় হয়।

আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছা ২ প্রকারের। যথাঃ

১। কাউনিয়্যাহ

২। শারইয়্যাহ

কাউনিয়্যাহঃ

এ ধরণের ইচ্ছা দ্বারা আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছাকৃত জিনিসটি সম্পন্ন হয়। তবে জিনিসটি আল্লাহ তা’আলার কাছে পছন্দনীয় হওয়া জরুরী নয়। আর এটা দ্বারাই ‘মাশিয়াত’ বা ইচ্ছা বোঝানো হয়। যেমনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

“...আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেনতাহলে তারা পরস্পর লড়াই করতো না। কিন্তু আল্লাহ তাই করেনযা তিনি ইচ্ছা করেন।

শারইয়্যাহঃ

এ ধরণের ইচ্ছা দ্বারা আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছাকৃত জিনিসটি সম্পন্ন হওয়া অপরিহার্য নয়। তবে এ ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত জিনিস বা বিষয়টি তাঁর পছন্দনীয়। যেমনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

আর আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিতে চান।... 

উদাহরণঃ

আবু বকর(রা.) এর ঈমান আনা – এই ঘটনাটি একই সাথে আল্লাহর কাউনিয়্যাহ ও শারইয়্যাহ ইচ্ছার উদাহরণ। এটি কাউনিয়্যাহ ইচ্ছা এই জন্য যেঃ এটি সংঘটিত হয়েছিল। শারইয়্যাহ ইচ্ছা এই জন্য যেঃ এটি আল্লাহর পছন্দনীয় ছিল।

আবার ফিরআউনের কুফরী – এটি শুধুমাত্র আল্লাহর কাউনিয়্যাহ ইচ্ছার উদাহরণ। এটি কাউনিয়্যাহ ইচ্ছা এই কারণে যেঃ এটি সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু এটি শারইয়্যাহ ইচ্ছা নয় কেননা এর পেছনে আল্লাহর কোন অনুমোদন বা সন্তুষ্টি ছিল না। আল্লাহ মুসা(আ.)কে তার নিকট ঈমানের দাওয়াত দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন।

আল্লাহ মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন যাকাত আদায় করার, তিনি মানুষকে চুরি করতে নিষেধ করেছেন। এ নির্দেশগুলো পালন করা আল্লাহর নিকট পছন্দনীয়। মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দেওয়া হয়েছে যা দ্বারা সে এ আদেশগুলো মানতেও পারে আবার ভঙ্গও করতে পারে। মানুষ যদি নিজ ইচ্ছাশক্তি দ্বারা যাকাত আদায় না করে কিংবা চুরি করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাকে জোর করে যাকাত আদায় করতে বাধ্য করেন না কিংবা চুরি করা আটকে দেন না। যদিও আল্লাহর এ ক্ষমতা আছে। মানুষ যদি যাকাত আদায় না করে কিংবা যদি চুরি করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তা হতে দেন। কিন্তু এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি নেই।

যেহেতু মানুষের সকল কর্ম আল্লাহর সৃষ্টি কাজেই পূণ্যের সাথে সাথে পাপও আল্লাহর ইচ্ছাক্রমে হয়। তবে তা কেবলমাত্র এ অর্থে যে আল্লাহ এগুলোকে(পাপ) নির্ধারিত করেছেন; এ অর্থে নয় যে আল্লাহ এগুলো অনুমোদন করেন বা আদেশ দেন। পৃথিবীতে যত খারাপ কাজ বা অপরাধ সংঘটিত হয়, এগুলোর উপর আল্লাহ তা’আলার কোনো সন্তুষ্টি নেই। আল্লাহ এগুলো ঘৃণা করেন, অপছন্দ করেন এবং এগুলো থেকে বিরত হবার আদেশ দেন৷

পৃথিবীতে যত অপরাধ সংঘটিত হয়, এগুলোর উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি না থাকা সত্ত্বেও কেন আল্লাহ এগুলো সংঘটিত হতে দেন এর উত্তরে বলা যেতে পারে – কুফর যদি না থাকত, তাহলে মু’মিন ও কাফির আলাদা করা যেত না বরং সবাই মু’মিন হত।

একইভাবে, পাপ যদি না থাকতো, তাহলে পূণ্য বলে কিছু থাকতো না, সৎকর্ম ও মহত্ত্বেরও কোনো মানে থাকতো না। যদি অশুভ শক্তি না থাকতো, তাহলে শুভ ও কল্যাণকর জিনিসের কোনো মূল্য থাকতো না। অন্ধকার আছে বলেই আলোর গুরুত্ব আছে৷

পৃথিবীতে নিষ্ঠুরতা বা নৃশংসতা না থাকলে মানবতারও কোনো আলাদা অস্তিত্ব বা অর্থ থাকতো না। কাজেই পৃথিবীতে অন্যায়, পাপ ইত্যাদির অস্তিত্ত্বও আল্লাহর সৃষ্টির অসামান্য হিকমতের পরিচায়ক৷

আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন তাকদির আগে থেকে নির্ধারিত হলে মানুষের বিচার হবে কেন?

07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (1,569 পয়েন্ট)
পড়ে ভালো লাগলো।কিন্তু এখানে দুইটি বাক্য লেখা আছেকাফির না থাকলে মুমিন দের আলাদা করা যেত না আরেকটা হলো পাপ না থাকলে পূণ্যকে আলাদা করা যেত না।
তাহলে কি আল্লাহ কি চান যে দুনিয়াতে এই কাফির বা পাপ বলে কিছু থাকুক।
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (3,792 পয়েন্ট)
মূলত আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত৷ এটা বোঝার জন্য প্রয়োজন কোন বিজ্ঞ মুফতীর সাথে সরাসরি আলোচনা৷ তথাপি আপনি উত্তরের নিচে দেয়া লিংকটাতে দেখতে পারেন৷ আশা করি সমাধান পেয়ে যাবেন৷
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (1,569 পয়েন্ট)
অসংখ্য ধন্যবাদ @মাহমুদুল ভাই।
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (3,792 পয়েন্ট)
আপনাকেও ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার আগ্রহের জন্য৷
+1 টি পছন্দ
07 ডিসেম্বর 2018 উত্তর প্রদান করেছেন (7,364 পয়েন্ট)
আল্লাহ মানুষকে মরণশীল করে সৃষ্টি করেছেন আর তিনিই মৃত্যু ঘটান। কিন্তু আত্মহত্যার ক্ষেত্রে বান্দা স্বাভাবিক মৃত্যুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুকে নিজের হাতে নিয়ে নিজেই নিজকে হত্যা করে ফেলে। এ কারণে এটি একটি গর্হিত কাজ।

আত্মহত্যা মহাপাপ। এ কাজ থেকে বিরত থাকতে মহান আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নির্দেশ দান করেছেন এবং এর পরিনামের কথা ভাববার জন্য কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির বর্ণনা দিয়ে মহা পবিত্র আল কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। মহান আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন, আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। এবং যে কেউ জুলুম করে, অন্যায়ভাবে উহা 'আত্মহত্যা' করবে, অবশ্য আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো, আল্লাহর পক্ষে উহা সহজসাধ্য। (সূরা- নিসা-২৯-৩০)

হাদিসে এসেছে যে ব্যাক্তি যে বস্তুদ্বারা আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে সে বস্তু দ্বারা তাকে শাস্তি দেয়া হবে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্নহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যাক্তি বিষপান করে আত্নহত্যা করবে তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে। যে ব্যাক্তি লোহার আঘাতে আত্নহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (1,569 পয়েন্ট)
নিশ্চই আল্লাহ সবকিছু আগে থেকেই জানেন ও আগে থেকেই লিখে রাখেন।আর তকদিরে বিশ্বাস করা আমাদের জন্য ফরজ।তাই আল্লাহ কি আগে থেকেই জানতেন না যে সে আত্নহত্যা করবে?তিনি কি এটা তার তকদিরে লিখে রাখেন নি?
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (7,364 পয়েন্ট)
মানুষের জন্মের পূর্বে আল্লাহ চারটি বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন। তার কার্যকলাপ, তার আয়ুকাল, তার রিযিক এবং সে দুর্ভাগা না ভাগ্যবান। আল্লাহ এই সবকিছু আগে থেকেই লিখে রেখেছিলেন। কিন্ত ভাল মন্দ কাজ করার অধিকার আপনাকে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ স্বহস্তে নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না এবং কল্যাণকর কাজ করে যাও। এক্ষেত্রে নিজেই নিজেকে হত্যা করে তাকদীরকে দায়ী করা যাবেনা।
07 ডিসেম্বর 2018 মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (1,569 পয়েন্ট)
ধন্যবাদ @Sabirul Islam ভাইয়া।
+1 টি পছন্দ
07 ডিসেম্বর 2018 উত্তর প্রদান করেছেন (131 পয়েন্ট)
ইসলামের দৃষ্টিতে আত্নহত্যা ঘৃণিত কাজ। আত্মহত্যা হলো নিজে নিজেকে হত্যা করা। আল্লাহর দেওয়া প্রাণ ও আয়ুষ্কাল একটি বড় নিয়ামত এবং আখেরাতের জন্য নেক কাজ করার সীমিত অবকাশ। একে যারা স্বহস্তে খতম করে, তাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ আরোপিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী। আত্দহত্যা মহাপাপ ও কবিরা গুনাহ। আত্দহত্যাকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আমাদের দেশে ক্রমান্বয়ে আত্নহত্যার পরিমাণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা আত্দহত্যার দিকে বেশি ঝুঁকেছে। আত্মহত্যা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের সম্পদ পরস্পর অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কর না। ব্যবসায় পরস্পরের সন্তোষের মাধ্যমে হওয়া আবশ্যক। আর তোমরা নিজেদের হত্যা কর না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর দয়ালু। যে ব্যক্তি বাড়াবাড়ি ও জুলুমের মাধ্যমে এ কাজ করবে, তাকে আমি আগুনে পোড়াব। এ কাজ আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ (সূরাহ নিসা : ২৯৩০)। এ ব্যাপারে সহিহ বুখারিতে বর্ণনা করা হয়েছে, এক ব্যক্তি আহত হয়েছিল। সে আত্মহত্যা করলে আল্লাহতায়ালা বলেন, আমার বান্দা বড় তাড়াহুড়া করল। সে নিজেই নিজেকে হত্যা করল। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। (সহিহ বুখারি) অন্য এক হাদিসে বর্ণিত, হজরত সাবেত ইবনে দাহহাক নবী করিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো লোহার অস্ত্র দ্বারা আত্দহত্যা করে তাকে সে অস্ত্র দিয়েই দোযখের মধ্যে শাস্তি দেওয়া হবে। (মুসলিম ১ম খণ্ড) অন্য রেওয়াতে আছে- হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, যে ফাঁসি লাগিয়ে বা গলা টিপে আত্মহত্যা করে, জাহান্নামে সে নিজেই নিজেকে অনুরূপভাবে শাস্তি দেবে। আর যে বর্শা বিঁধিয়ে আত্মহত্যা করে। জাহান্নামে সে নিজেই নিজেকে বর্শা বিঁধিয়ে শাস্তি দেবে। (সহিহ বুখারি)। অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে, আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে অবস্থান করে ওই বিষ পান করতে থাকবে এবং সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে নিক্ষেপ করে আত্নহত্যা করবে, সে ব্যক্তি সর্বদা পাহাড় থেকে জাহান্নামের আগুনে পতিত হতে থাকবে, এভাবে সে ব্যক্তি সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। পক্ষান্তরে আত্নহত্যা মানে নিজেকে হত্যা করা তাই নয় কি? তাহলে কাউকে হত্যা করা যদি পাপ হয় তাহলে নিজেকে হত্যা করা কেনো আল্লাহর ইচ্ছায় হবে? আল্লাহ প্রতিটি জীবের বন্ঠন আগে থেকেই ঠিক করে রাখেন এটি ঠিক কিন্তু আপনি তো আর কাউকে বা নিজেকে হত্যা করার রাইট রাখেন না। এই রাইট একমাত্র আল্লাহ তায়ালার।আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
0 টি পছন্দ
07 ডিসেম্বর 2018 উত্তর প্রদান করেছেন (1,198 পয়েন্ট)
জীবন রক্ষা করা ফরজ আর জীবন নিজের কাছে রাখা আল্লাহর পবিত্র আমানত।আত্মহত্যায় আমানতের খিয়ানত এবং ফরজ তরক করা হয়।তাই এটা মারাত্মক পাপ।
0 টি পছন্দ
07 ডিসেম্বর 2018 উত্তর প্রদান করেছেন (430 পয়েন্ট)
দুনিয়ারতে সব কিছু করার শক্তি আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছেন৷ কেউ ভাল কাজ করলে তিনি জান্নাতে দিবেন আর খারাপ কাজ করলে তিনি জাহান্নামে দিবেন৷ তিনি বলেছেন এখন কথা হল যে, নিজের হাতে নিজেই আত্মহত্যা করে তাহলে তারই দোষ৷ আর আত্মহত্যা করা থেকে আল্লাহ নিষেধ করেছেন৷ যারা আত্মহত্যা করে তারা চিরকাল জাহান্নামে যাবে৷ আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নিজের মরা নিজে মরো না, আমি দয়ালু।
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
19 জানুয়ারি 2017 "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Polash Roy (126 পয়েন্ট)
3 টি উত্তর
05 জানুয়ারি 2017 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোঃ রাসেল আহমদ (20 পয়েন্ট)

305,338 টি প্রশ্ন

394,111 টি উত্তর

120,051 টি মন্তব্য

169,257 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...