বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
68 জন দেখেছেন
"সাধারণ" বিভাগে করেছেন (384 পয়েন্ট)
বন্ধ করেছেন
কিভাবে আমার বাবা মাকে খুশি করতে পারবো
এই চিরকূট সহকারে বন্ধ করা হয়েছে : যথেষ্ট উত্তর দেওয়া হয়েছে।

4 উত্তর

+3 টি পছন্দ
করেছেন (4,777 পয়েন্ট)

মাতা-পিতাকে খুশি করতে আপনি যা করতে পারেন।-

মাতা পিতার সাথে ভালো আচরণ করা

তোমার পালনকর্তা আদেশ করছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারো এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর। [সূরা বণী ইসরাঈল : ২৩]

ইবনে মাসঊদ রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন- আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বললেন, সময় মত নামায পড়া। তিনি বললেন, তারপর কোনটি? বললেন, পিতা-মাতার আনুগত্য করা। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। [সহীহ বুখারি : হা. ৫৫১৩]

মাতা পিতার সাথে সদ্ভাবে সহাবস্থান করা

সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবি হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একব্যক্তি রাসূল সা. এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলো, আমার উত্তম ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কে ? তিনি বললেন, তোমার মা। তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। তারপর কে? তিনি বললেন: তোমার মা, তিনি আবারো জিজ্ঞেস করলেন : তারপর কে? রাসূলুল্লাহ বললেন: তোমার পিতা। [সহীহ বুখারি : হা.৫৫১৪]

মাতা পিতার অবাধ্য না হওয়া

হযরত আবু বকর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন- আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? (তিনবার বলেছেন) আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ! বলুন। তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরিক করা এবং মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া। রাসূল সা. এতক্ষণ হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। এবার তিনি সোজা হয়ে বসে বললেন, সাবধান !  এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। তিনি বার বার কথাটি বলে যাচ্ছিলেন, ফলে আমারা মনে মনে বললাম, যদি তিনি থামতেন! [সহীহ বুখারি : হা.৫৫১৯]

তাদের আনুগত্য করা

তাদের আদেশ-নিষেধ মানা। কিন্তু তা নিন্মোক্ত শর্তসাপেক্ষে :

ক) আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার নির্দেশ না দেয়া।

খ) আদেশ মান্য করার ওপর সন্তানের সামর্থ্য এবং শক্তি থাকা।

তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলা

আল্লাহ বলেন-তাদের মধ্য কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উফ শব্দটিও  বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিওনা বরং তাদের সঙ্গে শিষ্টচার  পূর্ণ কথা বল । [ সূরা ইসরা :২৩]

পিতা-মাতার সাথে নম্র ব্যবহার এবং সংযত আচরণ করা

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবী করীম সা. ইরশাদ করেন, মানুষ যখন মারা যায় তিনটি আমল ছাড়া সমস্ত আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। চলমান দান, অথবা উপকারী ইলম, অথবা সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে।  [সহীহ মুসলিম : হা. ৩০৮৪, সহীহ বুখারি : হা.১৬৩১]

আল্লাহ বলেন- বল, رب ارحمهما كما ربياني صغيرا হে পালনকর্তা! তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম কর যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন। [সূরা ইসরা : ২৪]

মাতা পিতা অভিশপ্ত হওয়ার কারণ না হওয়া

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে অন্য কারো পিতাকে গালি দিল , আর  ঐ ব্যক্তি তার পিতাকে গালি দিল । সে অন্য কারো মাতাকে গালি দিল আর ঐ ব্যক্তি তার  মাকে গালি দিল।  [সহীহ বুখারি : ৫৫১৬]

পিতা মাতার আত্মীয় স্বজনের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখা

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. হতে বর্ণিত, নবী করীম সা. ইরশাদ করেছেন, সবচেয়ে বড় সৎকর্ম হল সন্তান তার পিতার বন্ধুর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে। [রিয়াজুস সালেহীন : ১/৩৪১]

0 টি পছন্দ
করেছেন (1,313 পয়েন্ট)
আপনি পিতা মাতাকে খুশি রাখতেঃ-

১. প্রাপ্য সম্মান দিন।

২.সদাচারণ করুন।

৩.তাদের সাথে সর্বদা সত্য বলুনঃ সত্য বলাটা পৃথিবীর কঠিনতম কাজগুলোর মধ্যে একটি। সবাই সত্য বলতে পারেনা। আপনি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। প্রতিজ্ঞা করুন কখনো বাবা-মাকে মিথ্যা বলবেন না। যদি নিজের বাবা-মাকেই মুখ ফুটে সত্য কথা বলতে না পারেন তো কাকে বলবেন?

৪.তাদের প্রশংসা করুন।

৫. তাদের সকল কথার মূল্যায়ন করুনঃসময়ই বাবা-মায়ের কথা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কেননা বাবা-মা আমাদের ভালো চায়। তারা আপনার যতটা ভালো কামনা করে, পৃথিবীর অন্যকেউ সেইটা করে না। আর যদি আপনার মনে হয় কেউ করে তাহলে আমি বলন আপনি সম্পূর্ণ ভুল। বাবা-মা যা বলে আপনার ভালোর কথা চিন্তা করেই বলে। আর যদি আপনার মনে হয় তারা ভুল করছেন, তাহলে রেগে যাবেন না। 

৬. সংসারের প্রয়োজনে তাদের সাহায্য করুন।

৭. অপরিচিত এবং আত্মীয়দের সামনে তাদের লজ্জায় ফেলবেন নাঃআমরা নিজের অজান্তেই এসব কাজগুলো করে ফেলি। বাবা-মার কথায় ভুল ধরা কিংবা তাদের কোন ভুলের জন্যে তাদেরকে সবার সামনে লজ্জায় ফেলে দেয়া অনেক গর্হিত কাজ। আপনি পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করেছেন। আর এজন্যে আপনার বাবা আপনাকে আপনার স্যারের সামনে বকা-ঝকা করছে, বুঝাচ্ছে। হঠাত আপনি বললেন, “বাবা তুমি তো তোমার সময়ে এই পরীক্ষায় ফেল করেছিলে”। এটা খুবই খারাপ কাজ হবে। এটা একটা উদাহরণ ছিলো মাত্র। এমনই অনেকভাবে বাবা-মাকে মানুষের সামনে আমরা লজ্জায় ফেলে দেই। এমনটা করা যাবেনা, কথা বলার সময় সতর্ক থাকা উচিৎ। 

৮. তাদের সময় দিনঃআমরা আমাদের প্রায়শই আমাদের কাজের জন্যে বাবা-মাকে সময় দিতে পারি না। আস্তে আস্তে তাদের।সাথে আমাদের সম্পর্কটা হালকা হয়ে পরে। যার ফলে তারা একাকিত্বে ভোগেন। যার ফলশ্রুতি তাদের মন খারাপ থাকে সব সময়। এবং তাদের মনে আপনাকে নিয়ে আক্ষেপ তৈরী হয়। তাই নিজেদের হাজারো কাজের ভীড়েও বাবা মার জন্যে সময় বের করতে হবে। তারা যেন নিজেদেরকে কখনো নিগৃহীত মনে না করেন। তাদের সাথে মন খুলে কথা বলুন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন।
0 টি পছন্দ
করেছেন (2,207 পয়েন্ট)
আপনি আপনার বাবা মায়ের সেবা করে তাদের মনকে জয় করতে পারলেই তারা খুশি হবেন। সুখে, দুঃখে, আপদে, বিপদে তাদের পাশে থাকবেন। তাহলেই আপনার বাবা মা আপনার মতো যোগ্য সন্তান পেয়ে খুশি হবেন।
0 টি পছন্দ
করেছেন (429 পয়েন্ট)
। প্রাপ্য সম্মান দিন জীবনে মা-বাবার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কারণে অকারণে, বিভিন্ন সময়ে আমরা তাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি। তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতেও আমরা কার্পন্ন করেছি। অথচ অফিসের বসকে দেখলেও আমরা ১০ বার সালাম ঠুকি। নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য আমাদের মধ্যে সম্মন দেয়ার জোয়ার উঠে। কিন্তু বাবা-মা এর ক্ষেত্রে কখনই এরকম হয়ে উঠে না। অথচ তারাই আমাদের সম্মানের সর্বচ্চো অধিকারী। আমাদের সর্বচ্চো সম্মানটুকু তাদেরই প্রাপ্য। তাই বাবা মাকে সম্মান দিন। তাহলে তাদের মন খুশিতে ভরে উঠবে। ২। সদাচারণ করুন বাবা-মায়ের সাথে সদাচারন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমাদের প্রত্যেকেরই তাদের সাথে ভালো আচরন করা দরকার। কিন্তু চরম দুঃখের ব্যাপার এই যে, বাবা মাকে গালি দেওয়া কিংবা তাদের তুই তুকারি করে কথা বলা অনেকটাই এ যুগের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের বিবেক আজ কতটা নিচে নেমে গেছে। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সাথেই কিনা আমরা খারাপ আচরণ করি! যারা না থাকলে আমরা পৃথিবী নামক সুন্দর গ্রহের দর্শনই পেতাম না। তাদের সাথে খারাপ আচরণ করলে, খারাপ ব্যাবহার করলে তারা মনে অনেক কষ্ট পায়। বাবা মায়ের মনে কষ্ট দেওয়া অবশ্যই সন্তানের কাম্য নয়। তাই অনুগ্রহ করে বাবা মায়ের সাথে খারাপ ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন। তাদের সাথে সব সময় ভালো ব্যাবহার করুন। মার্জিত ভাষায় নিচু স্বরে কথা বলুন। সর্বদা সত্য বলুন সত্য বলাটা পৃথিবীর কঠিনতম কাজগুলোর মধ্যে একটি। সবাই সত্য বলতে পারেনা। আপনি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। প্রতিজ্ঞা করুন কখনো বাবা-মাকে মিথ্যা বলবেন না। যদি নিজের বাবা-মাকেই মুখ ফুটে সত্য কথা বলতেওনা পারেন তো কাকে বলবেন? কারাএতোই প্রিয় যাদের কাছে সত্য কথা শেয়ার করা যায় কিন্তু বাবা-মার কাছে যায়না? যাদেরকে আপনি এতো প্রিয় ভাবছেন কিছুদিন তাদেরকে এড়িয়ে চলে দেখুনতো। কয়েকদিন তাদের ফোন ধরবেন না, মেসেজের রিপ্লাই দিবেন না। সবরকম যোগাযোগ বন্ধ। কিছুদিন সে নিজে থেকে খোজ নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু একসময় হাল ছেড়ে দিবে। কিন্তু বাবা-মা ! কক্ষনো না ! তারা প্রতিদিন প্রতিটা মুহুর্ত আপনাকে নিয়ে ভাবে। তাদের এই ভালোবাসার মূল্যায়ন করুন। তাদের সাথে সবসময় সত্যি কথা বলুন। ভুলবশত যদি কোন খারাপ কাজ করেই ফেলেন তাহলে বলে ফেলুন সত্যটাই। সত্য বলার ফলে তাদের আপনার উপর বিশ্বাস স্থাপন হবে। এবং সেই সাথে তারা হাসি খুশি ও থাকবে।

323,340 টি প্রশ্ন

413,962 টি উত্তর

128,275 টি মন্তব্য

178,040 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...