বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
210 জন দেখেছেন
"ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে করেছেন (12 পয়েন্ট)
বন্ধ করেছেন
এটির ডুপ্লিকেট হওয়াতে বন্ধ করা হয়েছে : ঈদ ই মিলাদুন্নবি পালন সম্পর্কে প্রশ্ন?

2 উত্তর

+2 টি পছন্দ
করেছেন (10,638 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন
মীলাদ শব্দটি আরবী। যার অর্থ হল জন্ম। সুতরাং মীলাদুন্নবী মানে হল নবীর জন্ম।

একজন সাধারণ মুসলমানও বুঝবেন জন্মদিন উদযাপনের কোন বিষয় নয়। এটি কেবলি আলোচনার বিষয় হতে পারে। এটি পালনীয় বিষয় হলে রাসূল (সাঃ) নিজেই তা পালন করে দেখাতেন। সাহাবাগণ যারা সবচেয়ে বেশি আশেকে রাসূল ছিলেন। নবীজী (সাঃ) এর প্রতি মুহাব্বাতের চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে যারা অকাতরে জীবন বিলিয়েছেন। সন্তান এতিম করেছেন। স্ত্রী বিধবা করেছেন। পরিবার, সমাজ, অর্থ, বিত্তবৈভব সবই বিসর্জন করেছেন নবীজী (সাঃ) এর মোহাব্বতে। কিন্তু সেসব সাহাবাগণ কেন নবীজী (সাঃ) এর জন্মদিন পালন করেননি? কেন, আবু বকর (রাঃ), ওমর (রাঃ) উসমান (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) এরমত খুলাফায়ে রাশেদীনের জামানায় এ ঈদ উদযাপিত হয়নি? এসব কি প্রমাণ করে? এটি উদযাপনের বিষয়? যদি এটি সওয়াবের বিষয় হতো, তাহলে সাহাবায়ে কেরামগণ কেন এটি পালন করেননি? কেন তাবেয়ীগণ পালন করেননি? কেন তাবে তাবেয়ীগণ পালন করেননি? কেন এ ঈদের কথা কুরআন, হাদীস এবং ফিক্বহের কিতাবে লিখা হয়নি? যা পরিস্কার প্রমাণ করে এটি একটি পরিস্কার বিদআত।
সাবির ইসলাম অত্যন্ত ধর্মীয় জ্ঞান পিপাসু এক জ্ঞানান্বেষী। জ্ঞান অন্বেষণ চেতনায় জাগ্রতময়। আপন জ্ঞানকে আরো সমুন্নত করার ইচ্ছা নিয়েই তথ্য প্রযুক্তির জগতে যুক্ত হয়েছেন নিজে জানতে এবং অন্যকে জানাতে। লক্ষ কোটি মানুষের নীরব আলাপনের তীর্থ ক্ষেত্রে যুক্ত আছেন একজন সমন্বয়ক হিসেবে।
করেছেন (17 পয়েন্ট)
এভাবে মানুষকে পথভ্রষ্ট করবেননা।সরাসরি কুরআনে একে একটি সাওয়াবের কাজ হিসাবে চিন্হিত করা হয়েছে।আপনার যদি সত্য জানতে ইচ্ছা করে বিস্তারিত মাসিক তরজুমানের রবিউল আওয়াল সংখ্যা দেখতে পারেন।নবির প্রেমই হক বা সত্য।ওহাবিরা যদি সামান্য দুনুয়াবি সাটিফিকেট পেয়ে শোকরানা মাহফিল করতে পারে। তবে সৃষ্টির সব্র্শ্রেষ্ট নিয়ামত নবি মুহাম্মদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর আগমনে জুলুছ কেন করতে পারবেনা।বরং তা আরো সাওয়াবের নবি প্রমিকদের জন্য।21 আগষ্ট ষোলশহর জুলুছের দাওয়াত।অবশ্যই সবাই আসবেন নবীর জুলুছে। সবাইকে নবি দুশমনদের থেকে আল্লাহ বাছার তৌফিক দিন।আামিন।
করেছেন (124 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

জুনাইদ ভাই, নিশ্চয়ই অামরা স্বীকার করি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) অাল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে অামাদের জন্য  অনেক বড় নিয়ামত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ভালোবাসা, তার অনুকরণ  ও অনুসরণ করা ইমানের দাবি। তাঁর অনুসরণ না করে, তার প্রতি মুহাব্বাত না রেখে কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারে না। অাল্লাহ জাল্লা জালালুহু বলেন, 

মুমিনদের নিকট রাসুল তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক প্রিয়। (সূরা অাহযাব) 
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে অামাকে তার মাতাপিতা, সন্তান সন্ততি এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক  ভালোবাসবে। (সহীহুল বুখারি) 
একদিন উমর ইবনু খাত্তাব (রা.) বললেন, হে অাল্লাহর রাসুল, অাপনি অামার কাছে অামার নিজ জীবন ব্যতীত দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হলো না উমার, সেই সত্তার শপথ যার হাতে অামার প্রাণ, অবশ্যই অামাকে তোমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে হবে। উমর (রা.) বললেন, অাল্লাহর কসম! এখন অাপনি অামার কাছে অামার জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়। 
উল্লেখিত অায়াত ও হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম)  কে ভালোবাসা ইমানের অঙ্গ। রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) কে না ভালোবেসে কেউ পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতেই পারে না। এখন প্রশ্ন হলো, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম)  কে কীভাবে ভালোবাসব? উত্তর হলো, রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেন, যে অামার সুন্নতকে জীবিত রাখবে, সে অামাকে ভালোবাসবে। অা  যে অামাকে ভালোবাসবে সেই অামার সাথে জান্নাতে থাকবে। অন্য হাদিসে অাছে, যে অামার সাহাবাদেরকে ভালোবাসবে সে অামার মহববতের জন্যই এরূপ করবে। অার যে তাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করবে সে অামার সাথে শত্রুতার দরুনই এমন করবে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ অামার যুগ,   তারপর অব্যবহিত পরের যুগ, তারপর সে যুগের পরে লোকেরা যে যুগে অবস্থান করবে সে যুগ। প্রসিদ্ধ মতানুসারে, খইরল কুরুন এর সময়কাল ২২০ হিজরী পর্যন্ত। (অাউনুল মাবুদ শরহে সুনানে অাবি দাউদ) বোঝা যাচ্ছে, রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম)  ভালোবাসতে হবে যেভাবে অাল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, যে পদ্ধতি স্বয়ং রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) শিখিয়েছেন। যেভাবে সাহাবায়ে কিরাম (রিদ্বওয়ানাল্লাহু তায়ালা অালাইহিম অাজমাইন) তাকে (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালোবেসেছেন সেভাবেই ভালোবাসতে হবে। সুতরাং, রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ভালোবাসার দাবি করে এমন কোনো প্রথা চালু করা যা খইরুল কুরূনের যুগে ছিল না, তা অবশ্যই বিদঅাত বলে গণ্য হবে। অার প্রত্যেক বিদঅাতই গোমরাহী। সুনানে নাসাঈতে অাছে, প্রত্যেক গোমরাহীর স্থান জাহান্নামে। প্রচলিত মিলাদ কিয়াম ও জশনে জুলুসও এর ব্যতিক্রম নয়। 
অাপনারা পবিত্র কুরঅানুল থেকে সাধারণ যেসব অায়াতে তাইয়্যেবা উল্লেখ করে থাকেন, 
১. সূরা আল-ইমরান (৩)  আয়াত ১৬৪

لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ

নিশ্চয়ই আল্লাহ মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তিনি তাদের নিজেদেরই মধ্য হতে রাসূল প্রেরণ করেছেন, যে তাদের নিকট তাঁর নিদর্শনাবলী পাঠ করে ও তাদেরকে পবিত্র করে এবং তাদেরকে গ্রন্থ ও বিজ্ঞান শিক্ষা দান করে এবং নিশ্চয়ই তারা এর পূর্বে প্রকাশ্য ভ্রান্তির মধ্যে ছিল। 
২. সূরা আল-আম্বিয়া  (২১) আয়াত ১০৭

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ

আমিতো তোমাকে বিশ্ব জগতের প্রতি শুধু রাহমাত রূপেই প্রেরণ করেছি।
৩.   সূরা ইউনুস আয়াত ৫৮

قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ


তুমি বলে দাওঃ আল্লাহর এই দান ও রাহমাতের প্রতি সকলেরই আনন্দিত হওয়া উচিত; তা ওটা (পার্থিব সম্পদ) হতে বহু গুণে উত্তম যা তারা সঞ্চয় করছে।
বোঝা গেল যে, রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) যেহেতু অাল্লাহর পক্ষ থেকে বড় রহমত ও দান তাই তার ব্যাপারে অানন্দ প্রকাশ করতে হবে। অামাদের অাশেকে রাসুল (!) ভাইয়েরা এমন কিছু ঘটনা দিয়ে দলিল দিতে চান,  যেখানে সাহাবায়ে কিরাম (রিদ্বওয়ানাল্লাহু অালাইহিম অাজমাইন) রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে অালোচনা করছিলেন এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) একে উত্তম ও প্রশংসনীয় বলেছেন। কিন্তু, রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবনাদর্শ অালোচনা অার জশনে জুলুস পালন করা এক নয়। প্রথমটি বরকতময় মাহফিল। অামরা মনে করি, রাসুল(সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবনালোচনা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ। রাসুলের (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্ম, শিশুকাল, যৌবনকাল, নবুয়ত প্রাপ্তি, দাওয়াত, অাত্নত্যাগ, হিজরত, যুদ্ধ, মৃত্যু, তাঁর চাল-চলন, অাচার -অাচরণ, চরিত্র, গুণাবলি, কথাকর্ম, ইবাদত বন্দেগী, যিকির অাযকার, অাদর্শ নিয়ে অালোচনা করা বরকতময় এবং তা হিদায়াতের মাধ্যমও বটে। অামরা এ ধরনের মাহফিলকে কোনো নিদির্ষ্ট দিনে বা মাসে অাবদ্ধ করার পক্ষে নই। বরং অামরা মনে করি সারা বছরই এধনের মাহফিল হওয়া উচিত, যেখানে রাসুলের (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সিরাত নিয়ে অালোচনা হয়। কিন্তু, একেবারে ১২  ই রবিউল অাউয়াল রাসুলের (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ভালোবাসার দাবি করে, তার মিলাদ নিয়ে অালোচনার নামে জাল হাদিস, বানোয়াট কাসিদা, তাওয়ালূদ পড়া এগুলো অামরা সমর্থন করতে পারি না। কারণ সাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন,  তাবে তাবেঈন থেকে এধরনের অামল প্রমাণিত নেই। রাহে সুন্নত গ্রন্থে অাছে, রাসুল (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর পবিত্র জীবনী অালোচনা অার জশনে জুলুসের মাধ্যমে অাসর জমানো এক নয়। প্রথমটি মুস্তাহাব, দ্বিতীয়টি গর্হিত বিদঅাত। (রাহে সুন্নাত ১৬১)  জশনে জুলুস উদযাপনকারীরা একে ইদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম) নাম দিয়ে পালন
করে। ইসলামে ইদ দুটো। কুরঅানে বা হাদিসে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল অাযহা ছাড়া অন্য কোনো দিনকে ঈদ বলা হয়নি। ইয়াওমুল জুমঅা কে যে সাপ্তাহিক  ঈদের দিন বলা হয়েছে তা অাভিধানিক অর্থে অর্থাৎ অানন্দের দিন হিসাবে। পারিভাষিক অর্থে নয়। 
ইসলামি শরিয়তে ঈদকে ঈদুল ফিতর  ও ঈদুল অাযহার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। (মিরকাত শরহে মিশকাত  ৩/২৪৩) 
অতএব, শরিয়তে কেউ তৃতীয় কোনো ঈদ যোগ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। 
0 টি পছন্দ
করেছেন (429 পয়েন্ট)
আসছে ১২ রবিউল আউয়াল। এ দিনকে নবীজির জন্মদিবস নির্ধারণ করে উপমহাদেশের বহু সংখ্যক মানুষ ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করে থাকেন। এ কাজ ধর্মের নামে চালালেও ধর্মে এমন কোন কাজ স্বীকৃত নয়। কেননা তা ধর্মের মাঝে নব আবিষ্কৃত বিষয়। ইসলামী পরিভাষায় একে বিদআত বলা হয় – যা অবশ্য পরিত্যায্য। এ ঈদ পালনকারীদের অনেক ভ্রান্ত দাবীর মাঝে একটি দাবী হল যে, এটা নবীজীর (স.) প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। আসলে কি তাই? নবীজীকে শ্রদ্ধা করার উপায় হচ্ছে তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যেমনটি আদেশ করেছেন, তেমনটি করা আর তিনি যা নিষেধ করেছেন তা পরিত্যাগ করা; বিদাত, কল্পকাহিনী এবং পাপাচারের মাধ্যমে তাঁকে সম্মান করতে বলা হয়নি। মিলাদুন্নবী উদযাপন এরকমই এক দূষণীয় কাজ, কারণ এটা একধরনের পাপাচার। নবীজীকে(স.) যারা সবচেয়ে বেশী শ্রদ্ধা করেছিলেন, তারা ছিলেন সাহাবীগণ। যেমনটি উরওয়াহ ইবনে মাসউদ কুরাঈশদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: “হে লোকসকল! আল্লাহর কসম আমি রাজরাজড়াদের দেখেছি। আমি সিজার, কায়সার এবং নেগাসের দরবারে গিয়েছি, কিন্তু আল্লাহর শপথ, আমি এমন কোন রাজা দেখিনি যার সাথীরা তাকে এতটা সম্মান করে, যতটা গভীরভাবে মুহাম্মাদকে(সঃ) তাঁর সাথীরা শ্রদ্ধা করে। আল্লাহর শপথ তাঁর কোন থুথুও মাটিতে পড়ত না, বরং তাঁর সাথীরা হাত দিয়ে ধরে নিতেন এবং তা তাদের চেহারা ও ত্বকে বুলিয়ে নিতেন। যদি তিনি তাদেরকে কোন আদেশ দেন, তবে তারা সেটা পালন করার জন্য দ্রুতগামী হয়। তাঁর ওযুর সময় তারা ওযুর পানি গ্রহণ করার জন্য প্রায় লড়াই করতে উদ্যত হয়। তিনি কথা বললে তাঁর উপস্থিতিতে তারা তাদের কন্ঠস্বরকে নীচু করে ফেলে। এবং তারা গভীর শ্রদ্ধাবোধের কারণে তাঁর দিকে সরাসরি তাকিয়েও থাকে না।” (বুখারী) তাঁর প্রতি এত শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও সাহাবারা কখনও মিলাদুন্নবীর দিনকে ঈদ হিসেবে পালন করেননি। যদি ইসলামে একে পালন করার উৎসাহ দেয়া হত, তবে তারা কিছুতেই একে অবহেলা করতেন না। বড় কথা হল, ১২ রবিউল আউয়াল যে নবীজির জন্মদিবস – এ কথা প্রমাণসিদ্ধ নয়। বরং এ বিষয়ে পূর্বসূরি ওলামায়ে কেরাম যথেষ্ট মতবিরোধ করেছেন। এখন কথা হল, এ দিবস যদি আসলেই পালনীয় কিছু হতো, তাহলে সাহাবায়ে কেরাম থেকে এর কোন না কোন বর্ণনা অবশ্যই পাওয়া যেতো। নিশ্চয়ই সাহাবায়ে কেরাম পরবর্তী যুগের মুসলমানদের চেয়ে নবীজিকে বেশি ভালবাসতেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, ﻭَﺇِﻳَّﺎﻛُﻢْ ﻭَﻣُﺤْﺪَﺛَﺎﺕِ ﺍﻷُﻣُﻮﺭِ ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﺿَﻼَﻟَﺔٌ ﻓَﻤَﻦْ ﺃَﺩْﺭَﻙَ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻓَﻌَﻠَﻴْﻪِ ﺑِﺴُﻨَّﺘِﻰ ﻭَﺳُﻨَّﺔِ ﺍﻟْﺨُﻠَﻔَﺎﺀِ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﺪِﻳﻦَ ﺍﻟْﻤَﻬْﺪِﻳِّﻴﻦَ ﻋَﻀُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﺑِﺎﻟﻨَّﻮَﺍﺟِﺬِ » “তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত পালন করবে। আর তা দৃঢ়তার সাথে ধারণ করবে। সাবধান! তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা থেকে বিরত থাকবে। কারণ প্রত্যেক নব প্রবর্তিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা”। (তিরমিযী, অনুচ্ছেদ: সুন্নত গ্রহণ, ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ) রাব্বুল আলামিন আমাদের বোঝার ও এমন বিদআতকে পরিত্যাগ করার তাওফিক দান করুন। আমীন। তথ্যসুত্রঃ পরিবর্তন ডট কম

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
10 নভেম্বর "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Siyam Hossen (5,402 পয়েন্ট)
1 উত্তর
21 নভেম্বর 2018 "নবী-রাসূল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন সেক ইজাজ (31 পয়েন্ট)
1 উত্তর
20 নভেম্বর 2018 "ইবাদত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Al Maamun (11 পয়েন্ট)
1 উত্তর

358,872 টি প্রশ্ন

453,950 টি উত্তর

142,179 টি মন্তব্য

189,993 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...