বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
315 জন দেখেছেন
"হাদিস" বিভাগে করেছেন (14 পয়েন্ট)
আমি ভর্তি হওয়ার জন্য আমার মায়ের  থেকে ১৬ হাজার টাকা নিয়েছি পরে আমি সেখান থেকে ৪ হাজার টাকা মিথ্যা কথা বলে সরিয়ে নিয়ে গেছি এই ক্ষেত্রে কি আমার টাকা টা হারাম হবে?????

4 উত্তর

+5 টি পছন্দ
করেছেন (4,777 পয়েন্ট)

আপনার মায়ের সাথে আপনার উক্ত কর্মকাণ্ডে দুটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে। এক. মিথ্যা বলা। দুই. প্রতারণা করা। আর স্বাভাবিক অবস্থায় যার কোনটিই ইসলামে বৈধ নয়। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا.

হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। -সূরা আহযাব: আয়াত নং ৭০

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেছেন, ...আর যে মিথ্যা তারা বলে তার বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।-সুরা বাকারা, আয়াত : ১০।

হাদীস শরীফের ভাষ্যানুযায়ী মিথ্যা বলা মুনাফিকী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি, যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে...। সহীহ বুখারী: হাদীস-২৬৮২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৫৯। হাদীসটির আরবী পাঠ নিম্নরূপ-

عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال: آية المنافق ثلاث إذا حدث كذب وإذا وعد أخلف وإذا ائتمن خان.

অন্য একটি হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাকো, কারণ মিথ্যা ঈমানের পরিপন্থী।-আলমুসান্নাফ, ইবনে আবি শায়বা, হাদিস-২৬১১৫।

আরো একটি হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনের মধ্যে স্বভাবগত বিভিন্ন দোষত্রুটি থাকতে পারে। তবে সে মিথ্যুক ও প্রতারক হতে পারে না। -আলমুসান্নাফ, ইবনে আবি শায়বা, হাদিস-৩০৯৭৫।

অন্যদিকে প্রতারণা সম্পর্কে রাসূল সা. ইরশাদ করেন, যে আমাদের ধোঁকা দেয়; সে আমাদের দলভুক্ত নয়। - সহীহ মুসলিম: হাদীস- ১০১; সুনানে ইবনে মাযা: হাদীস-২২২৪।

হাদীসটির আরবী পাঠ নিম্নরূপ-

عن أبي هريرة: أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال...ومن غشنا فليس منا.

উল্লেখ, ইসলামে মিথ্যা বলা ও ধোঁকা দেওয়া যে অনুমদিত ক্ষেত্রগুলো রয়েছে তার কোনটিই আপনার মাঝে পাওয়া যায়নি। হাদীসে এসেছে- উম্মে কুলসুম রাযিআল্লাহু আনহা বলেন, তাঁকে মানুষের কথাবার্তায় মিথ্যা বলার অনুমতি দিতে শুনিনি, তিন ক্ষেত্র ছাড়া: [১] যুদ্ধকালে [২] লোকদের ঝগড়া মিটাবার ক্ষেত্রে ও [৩] স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের [খুশি করার নিমিত্তে] কথোপকথনে। -সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬০৫

অন্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যুদ্ধ হলো প্রতারণা (কৌশল)। -আল মাতালিবুল আলিআ: হাদীস-২০৮৯।

করেছেন (428 পয়েন্ট)
গ্রহনযোগ্যমুলক উত্তর দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ# আপনার আগে যিনি উত্তর দিয়েছেন,সেটা একটু ফলো করুন
করেছেন (4,777 পয়েন্ট)
এর অর্থ কি আপনি আমাকে একথা বলতে বলছেন যে, মায়ের কাছ থেকে মিথ্যা বলে টাকা নেওয়া বৈধ?
করেছেন (428 পয়েন্ট)
না আমি একথা বলছিনা।। আমি বলছি উনি বৈধ বলছে কেন?
করেছেন (4,777 পয়েন্ট)
সেটা আপনি তাকে জিজ্ঞেস করেন।
+2 টি পছন্দ
করেছেন (7,661 পয়েন্ট)
মানুষের জন্য যা কিছু অপকার বা ক্ষতি কারক ঐ সমস্ত কর্ম বা বস্তকে আল্লাহ পাক হারাম করেছেন। মিথ্যা বলাও তার অন্তর্ভূক্ত।

তবে কোন ব্যক্তি নিরূপায় হয়ে হারাম কাজ করলে তা পাপ হিসেবে গণ্য হয় না। ঠিক সেরকম মায়ের কাছ থেকে মিথ্যা কথা বলে টাকা নিলেও তা হারাম হিসাবে গন্য হবেনা।

তবে নিরুপায় না হয়ে মিথ্যা বলে টাকা নিলে তা হারাম হিসাবে বিবেচিত হবে। কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে যে সব বিষয়কে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, ইসলামি শরীয়াতের পরিভাষায় তা হারাম বা অবৈধ। অন্য কথায়, হারাম অর্থ অবৈধ, ক্ষতিকারক, অকল্যাণকর কর্ম ও বস্তুসমূহ যা মানুষের জন্য অপকারের বা ক্ষতির কারণ। ঐ সমস্ত কর্ম বা বস্তকে আল্লাহ পাক হারাম করেছেন। যেমন: সকল পাপ কর্ম তার মধ্যে মিথ্যা অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামি শরিয়তে মিথ্যা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা পরিহার করা ও সত্য বলার বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক করেছেন। একটি হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন, তোমরা সত্যকে অবলম্বন করো। কারণ সত্যবাদিতা ভালো কাজে উপনীত করে। আর ভালো কাজ উপনীত করে জান্নাতে।

হে ইমানদারগন! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সহযোগী হও। (সুরা তাওবাঃ ১১৯)
করেছেন (428 পয়েন্ট)
তবে কোন ব্যক্তি নিরূপায় হয়ে হারাম কাজ করলে তা পাপ হিসেবে গণ্য হয় না।# এই কথাটির দলিল কি
করেছেন (761 পয়েন্ট)
হারাম না হ‌ওয়ার দালিলিক জা‌ওয়াব দিন।
করেছেন (7,661 পয়েন্ট)
অতঃপর কেউ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হলে তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (মায়েদাঃ ৩)
0 টি পছন্দ
করেছেন (1,612 পয়েন্ট)
হ্যাঁ অবশ্যই হারাম হবে।কারণ টাকাটা বৈধ ভাবে নেওয়া হয় নি।
0 টি পছন্দ
করেছেন (759 পয়েন্ট)
হ্যাঁ, মিথ্যা বলে নেওয়া টাকাকে নিঃসন্দেহে হারাম বলা যায়।
যেহেতু মিথ্যা বলা পাপ; তাই মিথ্যা বলে নেওয়া টাকা বৈধ নয়। তাই এই টাকা কথনো হালাল হতে পারেনা।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

2 টি উত্তর
17 অক্টোবর 2015 "হাদিস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল

313,971 টি প্রশ্ন

403,494 টি উত্তর

124,038 টি মন্তব্য

173,841 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...