বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
71 জন দেখেছেন
"ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে করেছেন (112 পয়েন্ট)
আমি কোরআন মুখস্ত করতে চাই। এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? আমি কিভাবে সহজে কোরআন মুখস্ত করতে পারি?

3 উত্তর

+3 টি পছন্দ
করেছেন (4,777 পয়েন্ট)

এটা দীর্ঘদিন কুরআন মুখস্থ রাখার একটি চমৎকার উপায় !!!

মুখস্থ করে মনের গভীরে গেঁথে রাখার পদ্ধতি:

১. প্রতিটি লাইন দশবার করে দেখে পড়া। তারপর নিজে নিজে তা পুনরাবৃত্তি করা।

এভাবে পড়া হয়ে গেলে পরের লাইনে/আয়াতে অগ্রসর হন। যদি কোন শব্দ মনে রাখতে সমস্যা হয় তাহলে সেটির আগের ও পরের শব্দসহ ৫ বার পড়ুন (আগের শব্দ + কঠিন শব্দ + পরের শব্দ)। তারপর পুরো লাইনটি আবার মনে মনে পড়ুন।

২. তারপর পরের লাইন দশবার পড়া।

দুইবার পড়ে নিজে নিজে পুনরাবৃত্তি করবেন নাএকদম না !!! সেটা ভুল হবে !!!

আপনি যদি একবার পড়েই মুখস্থ করে ফেলেন তবুও বার বার ততক্ষন দেখে পড়বেন যতক্ষণ না আপনার মনে শব্দগুলো লাইনের ভিতরে গেঁথে যায়।

এখন এই দুইটি লাইন একসাথে তিনবার দেখে পড়ুন, তারপর মনে মনে পড়ুন। তারপর তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এভাবে পৃষ্ঠার শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

এটাকে বলা হয় স্বল্প মেয়াদী মুখস্থ। কয়েক সপ্তাহ পরেই এটা ভুলে যেতে পারেন।

কিভাবে এই পৃষ্ঠাটি দীর্ঘমেয়াদের জন্য মুখস্থ করতে পারবেন??

আপনার মুখস্থ করা পৃষ্ঠাটি খুলুন, দেখে দেখে ২০ বার পড়ুন। ভাল হয় যদি লাইন গুলোর উপর আঙ্গুল রেখে পড়েন।

এটি আপানর মাথায় গেঁথে যাবে ইনশাআল্লাহ। আর এটি আপনি ভুলবেন না। আল্লাহকে শুকরিয়া। কেন?

কারণ আপনি যদি পৃষ্ঠাটি ২০ বার দেখে দেখে পড়েন, আপনার চোখ সেই পৃষ্ঠার ছবি তুলে রাখবে, আর তা আপনার মাথায় গেঁথে যাবে। আল্লাহ যদি চান আপনি তা আর কখনও ভুলে যাবেন না। 

মহান আল্লাহ আপনার ইলমে বরকত দান করুন। এবং মুখস্ত শক্তি বাড়িয়ে দিন। আমীন।

 


+1 টি পছন্দ
করেছেন (8,184 পয়েন্ট)
এজন্য আপনাকে নুরানী হাফেজী কোরআন পড়তে হবে।

এরপর প্রতিটি লাইন আগে দেখে দেখে পড়বেন।

এভাবে পড়া হয়ে গেলে পরের লাইনের আয়াতে অগ্রসর হন। যদি কোন শব্দ মনে রাখতে সমস্যা হয় তাহলে সেটির আগের ও পরের শব্দ মনে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

ধ্যানের স্তরে মুখস্ত করা। এক্ষেত্রে ঝুকে ঝুকে পড়তে পারেন।

তাহাজ্জুদ এর ওয়াক্তে কুরআন পড়া।
+1 টি পছন্দ
করেছেন (2,460 পয়েন্ট)
কুরআন মুখস্ত করার অসাধারণ কয়েকটি উপায়:-

১. ইখলাস বা আন্তরিকতাঃ নিয়তে বিশুদ্ধতা আনা এবং উদ্দেশ্য সংশোধন করা কুরআন মুখস্থ করার প্রথম শর্ত। এটা অনেকটা এ রকম যে, আমি কুরআন মুখস্থ করব একমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্য। আখিরাতে জান্নাত লাভের মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের জন্য। এছাড়া সেই সকল পুরস্কারও অর্জন করা, যা কুরআন তিলাওয়াতকারী ও মুখস্থকারীদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন- “অতএব, আপনি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর ইবাদত করুন। জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ ইবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত।” (সূরা আল-যুমারঃ ২-৩) অন্যত্র “বলুন আমি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি।” (সূরা আল- যুমারঃ ১১) আর যারা শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য কুরআন তিলাওয়াত ও মুখস্থ করে তারা তো কোন পুরস্কারই লাভ করবে না, বরং তাদেরকে এ ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, শুধুমাত্র দুনিয়ায় লাভের জন্য কুর’আন মুখস্থ করা একটি পাপের কাজ।

২. উচ্চারণ ও তিলাওয়াত শুদ্ধ করাঃ আন্তরিকতার পর কুরআন মুখস্থ করার প্রথম এবং অত্যাবশ্যকীয় ধাপ হল শুদ্ধ উচ্চারণ। একজন ভালো তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত শোনা ব্যতীত এটা সম্ভব নয়। এ কারণে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যিনি আরবদের মধ্যে বাগ্মীতায় শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনিও জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) এর সাথে মুখে মুখে শিক্ষালাভ করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বছরে একবার জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)- কে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনাতেন এবং যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন সেই বছর শুনিয়েছিলেন দু’বার। একইভাবে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও সাহাবাদের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শিক্ষা দিয়েছেন মুখে মুখে। আর সাহাবাদের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পর যারা এসেছেন তারা সাহাবাদের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাছ থেকে এবং পরবর্তী প্রজন্মরাও শিখেছেন একইভাবে। তাই একজন ভালো তিলাওয়াতকারীর কাছ থেকে শিক্ষালাভ করা বাধ্যতামূলক। একইভাবে কারো আরবী ভাষা ও এর মূলনীতির উপর দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র নিজের উপর নির্ভর করে কুরআন মুখস্থ করা ঠিক নয়। কারণ, কুরআনে এমন অনেক আয়াত আছে যেগুলো আরবি ভাষার সাধারণ যে নিয়মসমূহ রয়েছে তার চেয়ে বিপরীতধর্মী।

৩. মুখস্থ করার জন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ নির্ধারণ করাঃ প্রতিদিন মুখস্থ করার জন্য কুরআনের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ নির্ধারণ করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, নির্দিষ্ট সংখ্যক আয়াত কিংবা এক বা দুই পাতা। এমনকি এক পারার (সম্পূর্ণ কুর’আনের ১/৩০ ভাগ) এক অষ্টমাংশও হতে পারে। তাই তিলাওয়াত শুদ্ধ ও মুখস্থ করার অংশ নির্ধারণ করার পরই কাজ শুরু করা উচিত। মুখস্থ করার সময় উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রথমত সুন্নাহর অনুসরণ করা হবে। দ্বিতীয়ত মুখস্থ হবে দৃঢ় ও স্থায়ী। উচ্চস্বরে তিলাওয়াত শ্রুতিমধুর এবং মুখস্থ করার ক্ষেত্রেও সাহায্যকারী। অধিকন্তু জিহ্বা প্রতিবার একটি নির্দিষ্ট স্বরে ফিরে আসে এবং তা পরিচিত হয়ে উঠে। যার ফলে, স্বরের তারতম্য থেকে সহজেই ভুলত্রুটি শনাক্ত করা যায়। এসবের মূল কারণ, সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করা নবীজিরই নির্দেশ। আর এ নির্দেশ অমান্য করা অসম্ভব।

৪. একটি নির্দিষ্ট অংশ নিখুঁতভাবে মুখস্থ না করে অন্য অংশ শুরু না করাঃ একটি নির্দিষ্ট অংশ নিখুঁতভাবে মুখস্থ না করে অন্য অংশ শুরু করা কখনই ঠিক নয়। আর এটা করার কারণ, যা আপনি মুখস্থ করেছে তা যেন আপনার অন্তরে পুরোপুরি গেঁথে যায়। এ ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করতে পারে আপনার দৈনন্দিন জীবনের কার্যকলাপ। আপনি যা শিখছেন তার চর্চা করতে পারেন সালাত আদায়ের সময় কিংবা সালাতের জন্য অপেক্ষা করার মুহূর্তে। আর এভাবে আপনার মুখস্থ করার কাজটি হয়ে উঠবে আরও সহজ। যদি কোন অংশ শুরু করার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব না হয় তবে অবশ্যই উচিত হবে যতটুকু সময় প্রয়োজন, ততটুকু সময় নিয়েই সম্পন্ন করা।

৫. মুখস্থ করার সময় কুরআনের একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ (কপি) ব্যবহার করাঃ যে সব উপকরণ একজন শিক্ষার্থীকে কুরআন মুখস্থ করার ব্যাপারে সাহায্য করে। তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল, কুরআনের একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ ব্যবহার করা। যা কখনই পরিবর্তন করা ঠিক নয়। এর কারণ, শোনা ও পড়ার পাশাপাশি দেখাও কুরআন মুখস্থ করার ব্যাপারে সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ ব্যবহার করে পড়ার ফলে তার লেখার ধরণ, আয়াতের গঠন এবং অবস্থান শিক্ষার্থীর অন্তরে একটি কাল্পনিক ছাপের সৃষ্টি করে। একজন শিক্ষার্থী যদি মুখস্থ করার সময় ভিন্ন ভিন্ন মুসহাফ ব্যবহার করে তবে সেগুলোতে লেখার ধরন, আয়াতের সংখ্যা ও অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন হয়। এতে মুখস্থ করার কাজটি কঠিন হয়ে পড়ে। আর এ কারণে একজন শিক্ষার্থীর উচিত একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ ব্যবহার করা এবং সেটি কখনই পরিবর্তন না করা।

মোটকথা ,, কুরআন শরীফ মুখস্ত করতে হলে পবিত্র মনে চেস্টা করতে হবে

করেছেন (112 পয়েন্ট)
শুকরান, জাযাকাল্লাহ।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
07 জুলাই "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন erfan0013 (55 পয়েন্ট)

321,929 টি প্রশ্ন

412,271 টি উত্তর

127,655 টি মন্তব্য

177,406 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...