বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
54 জন দেখেছেন
"ঈমান ও আক্বীদা" বিভাগে করেছেন (229 পয়েন্ট)

ধর্ম ও বর্ন নির্বিশেষে দুনিয়ায় শান্তি এবং সম্পৃতি প্রতিষ্ঠায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমাদের শেষনবী(স) চির জাগ্রত,চির স্মরনীয় হয়ে থাকবেন সে ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।দয়ায়,ক্ষমায়,দানে,কর্মে,উদারতায়,মহত্বে,জ্ঞানে,ধর্মে প্রিয়নবী(স) সর্বকালের মানুষের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ।

হযরত মুহাম্মদ(স) পৃথিবীর সর্বপ্রথম মহামানব যিনি তৎকালিন হতভাগ্য দাসদাসীদের প্রতি অনুপম সহানুভুতি ও মহানুভবতা প্রদর্শনপূর্বক দাসপ্রথা উচ্ছেদের কার্যকর ভুমিকা পালন করেন।দাসপ্রথা উঠিয়ে দেওয়া একদিনে সম্ভব ছিলনা।কারন তৎক্ষনাৎ দাসপ্রথা উঠিয়ে দিলে কাফেরদের অধীনে দাসদাসীরা অত্যাচারিতই থেকে যেত।দাসপ্রথা বিলুপ্ত হতোনা।দাসমুক্তির লক্ষে তিনি বহুকাল থেকে চলে আসা সমাজে  দাসমুক্তির পরিবেশ গড়ে তোলেন।মানুষের মন মেজাজ তৈরী করেন।বঞ্চিত মানুষের জন্য অন্তরে মানবিক প্রেরনার জোয়ার সৃষ্টি করেন।দাসপ্রথাকে তৎকালীন  সময়ের নিকৃষ্ট হালাল রুপে নিহ্নিত করেন(বর্তমান সময়ে দাসপ্রথা নেই বিধায় ইজমা ও কিয়াস মতে উক্ত হাদিসগুলোর কার্যকারিতা নেই)।দাসমুক্তিকে ইবাদাত রুপে চিহ্নিত করেন।তেমনি হযরত আবু বকর(রা) দাসমুক্তির উদ্দেশ্যে অনেক দামে বিলাল(রা) কে কিনে মুক্ত করে দিয়েছিলেন।

তৎকালিন সময়ে পশ্চিমা বিশ্বসহ বিশ্বের বেশিরভাগ জায়গায় দাসদাসীদের পারিশ্রমিক দেওয়াতো দুরে থাক, সামান্য ভুলে অমানবিক নির্যাতন করা হতো।তাদের নির্যাতন করাকে বিনোদন হিসেবে ধরা হতো।কিন্তু মহানবী(স) বলেন,"তাদের ঘাম শূকানোর আগে তাদের মজুরি পরিশোধ করতে হবে।তোমরা যা খাবে,যা পরবে ,তাদেরো তা খেতে ও পরতে দিবে।তোমরা অধিনস্তদের প্রতি সদয় হও।"দাসী সন্তান জন্মদিলে তাকে স্রীর মর্যাদা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাদের সন্তানসন্ততি সম্পত্তির অধিকারী হবে।দাসদাসীদের অধিকার রক্ষার্থে যেই হাদিসগুলো ছিল,ইজমা ও কিয়াস মতে দাস প্রথা বিলুপ্তির সাথে হাদীসগুলোও কার্যকারিতা হারিয়েছে।দাসদাসীদের প্রতি সামষ্টিকভাবে মানবিক আচরনের মাধ্যমে মহানবী(স) তাদের মনুষ্যপর্যায়ে  উন্নীত করেন,পরিবারের সদস্যরুপে বিবেচনা করতে বলেন।মহানবী(স) এর উদ্ভাবিত ও প্রবর্তিত এই পদ্ধতি দাসপ্রথা উচ্ছেদে কাঙ্খিত ফল বয়ে আনে।

মহানবী(স) এর প্রবর্তিত ধর্মীয় শিক্ষা হচ্ছে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যান।মহানবী(স) মানুষের দেয়া দুঃখ কষ্ট বুক পেতে নিয়েছেন।তিনি ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী।সমাজদেহ থেকে অন্যায় অত্যাচারের মুলোৎপাটন করেছিলেন তিনি।ইসলাম শান্তি,কল্যান ও মানবতার ধর্ম।এটাই প্রিয় নবীজি(স) এর জীবনাদর্শ।

2 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (1,273 পয়েন্ট)
হ্যাঁ ভাই।ইসলামে কৃতদাসপ্রথা ছিল।কিন্তু বর্তমান সময়ে কৃতদাস প্রথা চালু নেই।
0 টি পছন্দ
করেছেন (4,853 পয়েন্ট)

বর্তমানে দাসপ্রথা ইসলাম নাজায়েয নয়। কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস কোনো ভিত্তিতেই বর্তমানে দাসপ্রথা নাজায়েয নয়। তবে ইসলাম দাসপ্রথার প্রবর্তক নয়। দাসপ্রথা বহুল প্রাচীন। যুগে যুগে প্রতিটি জাতির মাঝেই এ প্রথার উপস্থিতি ছিলো। ইহুদী খ্রিস্টান, হিন্দু ও রোমানদের মাঝেও দাসপ্রথা বিদ্যমান ছিলো। প্রাচীন ভারতে বৈদিক, আর্য ও বৌদ্ধ যুগেও দাসপ্রথার প্রমাণ পাওয়া যায়। ইসলামপূর্ব কালে ঋণদাস, আপরাধদাস ও যুদ্ধদাসসহ নানা রকম দাসপ্রথার প্রচলন ছিলো। ইসলাম এসে রাজনৈতিক নানা প্রয়োজনকে সামনে রেখে শুধু যুদ্ধদাসপ্রথাকে বহাল রেখে বাকি সব রকমের দাসপ্রথাকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। সাথে সাথে দাস মনিবের পূর্বতন অমানবিক নীতিকে বিলুপ্ত করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ফলে দেখা গেছে দাস হয়েও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মুসলিম মনীষীর আসনে সমাসীন হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। উপরন্তু যুদ্ধদাস রীতিটাও আবশ্যকীয় নয়। যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে ইসলামের কয়েকটি নীতি রয়েছে। ১। মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত করা ২। হত্যা করা ৩। কারাগারে বন্দি করা ৪। বন্দিবিনময় করা ৫। দাসে পরিণত করা। ইসলামী শরীয়তে অবস্থাভেদে উপরোক্ত যে কোনো একটি গ্রহণের অবকাশ রয়েছে। সুতরাং ইসলামে এখনো যুদ্ধদাসপ্রথার বিধান বলবত রয়েছে। সুতরাং এখনো যদি শরীয়াসম্মত পন্থায় ইসলামী জিহাদ সংঘটিত হয় এবং বিধর্মী নারী পুরুষ বন্দি হয় এবং আমীরুল মুমিনীনের নির্দেশক্রমে তাদেরকে দাস দাসী হিসেবে ঘোষণা করা হয় তাহলে তারা দাস দাসী হিসেবেই বিবেচিত হবে।

করেছেন (229 পয়েন্ট)
দাসপ্রথা এখন চলবে কিনা তার নিয়ে ইসলামিক চিন্তাবিদদের মাঝে চরম রকমের মতভেদ আছে ।যেই হাদীসগুলো দাসদাসীদের অধিকার রক্ষার্থে করা হয়েছিল,দাসদাসীর বিলুপ্তির সাথে সাথে বেশির ভাগ আলেমে দ্বীনের মতে দাসদাসী বিষয়ক হাদীসগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে।আবার ধর্মযুদ্ধ হলে যুদ্ধবন্দিনী মহিলা ভাগাভাগি হবে এই কথার কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।ইসলাম দাসপ্রথাকে উৎসাহিত করেনা,নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে বিলুপ্তি ঘটিয়েছে।আবার ইসলামী শাসন হলে যুদ্ধবন্দিনীর বিষয়ে যে নিকৃষ্ট বিষয় পৃথিবীতে নেই,সেই দাসপ্রথা ফিরিয়ে আনবে ইসলাম,এই কথাবলে ইসলাম বিদ্ধেশিদের উৎসাহিত করলেন মাত্র।
করেছেন (4,853 পয়েন্ট)
'দাসপ্রথা এখন চলবে কিনা তার নিয়ে ইসলামিক চিন্তাবিদদের মাঝে চরম রকমের মতভেদ আছে ।' এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য রেফারেন্সসহ কিছু আলোচনা উল্লেখ করলে ভালো হয়। ধন্যবাদ।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

3 টি উত্তর
18 ফেব্রুয়ারি 2017 "ঈমান ও আক্বীদা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন ইব্রাহীম আহমেদ খান (11 পয়েন্ট)
1 উত্তর
29 এপ্রিল "হাদিস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন সাঈফ আলী ইসলাম (29 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর

330,663 টি প্রশ্ন

421,398 টি উত্তর

130,868 টি মন্তব্য

180,846 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...