বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
292 জন দেখেছেন
"নবী-রাসূল" বিভাগে করেছেন (229 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন
মহানবী(স)এর স্রীগনের পরিচয় এবং বিবাহের কারন সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।
করেছেন (229 পয়েন্ট)
মহানবী(স) এর পচিশ বছর হতে ষাটবছর পর্যন্ত বয়স সময়কে বিবাহিত জীবন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।মোট তেষট্টি বছরের মধ্যে আটাশ বছর ছিল বিবাহহীন জীবন।প্রতিটি বিবাহ তিনি পূর্বপত্নীদের অনুমতি সাপেক্ষে করেছেন।

প্রথম বিবাহ:হযরত খাদিজা(রা:) বিনতে খোয়ালিদ ছিলেন আরবের  শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়ী মহিলা।জীবনে তিনবার বৈধব্যের যাতনা ভোগ করেন।হিজরী পূর্ব বাইশ সনে খাদিজার আগ্রহাতিশয্যে  এবং মহানবী(স) এর চাচা আবু তালিবের অনুমোদনক্রমে তাহিরা ও আল আমীনের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।বিবাহের সময় মহানবী(স) এর বয়সছিল পচিশবছর,খাদিজার বয়সছিল চল্লিশ বছর।এই বিবাহের ফলে ইসলামের শুরুতে বিভিন্ন প্রতিকুল অবস্থার সাথে মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও শক্তি সরবারহের পথ নিশ্চিত হয়েছিল।

দ্বিতীয় বিবাহঃহযরত সাওদা(রা:)  বিনতে জামাআ ছিলেন ইসলিম গ্রহনের ফলে আত্বীয়স্বজন ও পিতৃকুল পরিত্যাক্তা এক অনাথা বিধবা।হিজরী পূর্ব তৃতীয়সালে খাদিজার ইন্তেকালের কারনে একান্ত পারিবারিক প্রয়োজনে মহানবী(স) সাওদাকে বিবাহ করেন।এ সময় মহানবী(স) এর বয়সছিল পঞ্চাশ বছর এবং সাওদার বয়সছিল ষাটবছর ,মতান্তরে বাষট্টি,আটষট্টি বা সত্তর বছর।

তৃতীয় বিবাহঃহযরত আয়েশা (রাঃ) বিনতে আবু বকর ছিদ্দিক ছিলেন পিতার আদরিনী কুমারী কন্যা।প্রধান ও প্রিয়তম সাহাবির ঐকান্ত অনুরোধ ও মানবীয় সামাজিক কারনে হিজরী পূর্ব তৃতীয়সালে মহানবী(স) আয়েশাকে বিবাহ করেন।এই বিবাহের সময় মহানবী(স) এর বয়সছিল পঞ্চাশ এবং আয়েশার বয়স ছিল ছয় মতান্তরে সাত।এবং স্বামী গৃহে প্রবশ করেন নয়বছর মতান্তরে চৌদ্দবছর বয়সে।

চতুর্থ বিবাহ:হযরত হাফসা(রা:)  বিনতে ওমর ছিলেন হযরত ওমর(রা:) এর বিধবা কন্যা।তার রুক্ষ মেজাজের কারনে কেউ তাকে বিবাহ করতে রাজী হয়নি।দ্বিতীয় প্রিয়তম সাহাবিকে আত্বীয়তা সূত্রে আবদ্ধ করার লক্ষ্যে এবং একান্ত মানবীয় সামাজিক কারনে, প্রিয়  সাহাবির দুশ্চিন্তা দুরীকরনে হাফসাকে উম্মুল মুমিনীনে সম্মানিত করেন।এ বিবাহের ফলে ইসলামের অভিযান আরো সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।এই বিবাহের সময় মহানবী(স) এর বয়সছিল ছাপ্পান্ন বছর,হাফসার বয়স ছিল পয়ত্রিশবছর।

পঞ্চম বিবাহ:হযরত জয়নব বিনতে খুজাইমা(রা) ছিলেন বদরযুদ্ধে শহীদ ওবায়দুল্লাহ আছাদীর বিধবা পত্নী, ইসলাম গ্রহনের ফলে আত্বীয়স্বজনকর্তৃক বিতাড়িতা পরিত্যাক্তা ও অসহয়া।একান্ত মানবিক এবং নৈতিক কারনে বিধবা ,দুস্থা,অনাথাকে আশ্রয় দেওয়ার লক্ষ্যে মহানবী(স) তাকে হিজরী তৃতীয়সালে বিবাহ করে উম্মুল মুমিনীন  সম্মানে ভূষিত করেন।এই বিবাহের সময় মহানবী(স) এর বয়স ছিল ছাপ্পান্ন বছর,জয়নবের বয়সছিল উত্রিশ বা ত্রিশ বছর।

ষষ্ঠ বিবাহ:হযরত উম্মে সালমা(রা:) বিনতে আবু উমাইয়া ছিলেন শহীদ আবদুল্লাহ বিন আছাদীর অনাথা বিধবা পত্নী।অনাথাকে আশ্রয়দান ও একান্ত মানবীয় নৈতিক কারনে মহানবী(স) তাকে হিজরী চতুর্থসালে স্বীয় পত্নীতে বরন করে নেন।এই বিবাহের সময় মহানবী(স) এর বয়সছিল সাতান্ন বছর।উম্মে ছালামার বয়স ছিল সাতাশ বছর।

সপ্তম বিবাহ:হযরত জয়নাব বিনতে জাহাশ(রা) ছিলেন মহানবী(স) এর পালক পূত্র যায়েদের তালাকপ্রাপ্তা স্রী।আল্লাহপাকের প্রত্যক্ষ নির্দেশে আরবে প্রচলিত কতিপয় কুসস্কার দুরীকরনার্থে মহানবী(স) তাকে হিজরী পঞ্চমসালে বিবাহ করেন।এই বিবাহের সময় মহানবী(স) এর বয়সছিল আটান্ন বছর এবং জয়নাবের বয়সছিল পয়ত্রিশ বছর।

অষ্টম বিবাহ:হযরত জোয়ায়রিয়া বিনতে হারিস(রা:) ছিলেন যুদ্ধবন্দিনী,বিধবা, এবং সাবিত বিন কায়েসের মুক্তিপ্রাপ্তা দাসী।ইসলামের জানী দুশমন বনি মুস্তালিক সম্প্রদায়ের সাথে সৌহার্দ স্থাপন ও রাজনৈতিক তথা কুটনৈতিক কারনে মহানবী(স) তাকে হিজরী পঞ্চমসালে স্রীর মর্যাদায় সম্মানিত করেন।ফলে ইসলামের দুশমন যোদ্ধাগোত্র বনি মোস্তালিক মহানবী(স) এর বশ্যতা স্বীকার করে প্রানপনে ইসলামের শক্তিবর্ধনে সহায়তা করে।এই বিবাহের সময় মহানবী(স) এর বয়সছিল উনষাট বছর।এবং জোয়ায়রিয়ার বয়সছিল বিশবছর।

নবম বিয়ে:হযরত উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান(রা) ছিলেন বিশিষ্ট সাহাবি, ওবায়দুল্লাহর বিধবা স্রী।আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশীর অনুরোধে হিজরী সপ্তম সালে একান্ত রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক কারনে মহানবী(স) তাকে বিবাহ করেন।এই বিবাহের ফলে শত্রু আবু সুফিয়ানের ইসলাম গ্রহনের পথ সুগম হয় এবং বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে বৈদেশিক ও কুটনৈতিক  সুসম্পর্ক স্থাপনের পথ উন্মুক্ত হয় এবং বহির্বিশ্বে ইসলামের সৌন্দর্য,জনপ্রিয়তা  ও সার্বজনীনতার দুয়ার খুলে যায়।এই বিবাহের সময় উম্মে হাবীবার বয়সছিল চল্লিশ বছর,এবং মহানবী(স) এর বয়স ষাটবছর ছিল।।এই বিবাহের ফলে মক্কা বিজয়ের পথ সহজতর হয়।

দশম বিবাহ:হযরত মায়মুনা বিনতে হারিস(রা) ছিলেন প্রথমবারের তালাক,দ্বিতীয় বারের বিধবা ও অসহায়া।মহানবী(স) মক্কা বিজয়েরপথ সুগম করার লক্ষে বিখ্যাত সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ ফুফু বা খালা মায়মুনাকে বিবাহ করেন।এই বিয়ের ফলেই খালিদ বিন ওয়ালিদের গোত্র পবিত্র ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছিলেন।এবং মক্কা বিজয়ের পথ সুগম করে তুলেছিলেন।এই বিবাহের সময় মায়মুনার বয়সছিল চল্লিশবছর।মহানবী (স) এর বয়সছিল ষাটবছর।

একাদশ বিবাহ:হযরত ছুফিয়া বিনতে হাই বিন আখতাব(রা) ছিলেন প্রথমবারে তালাকপ্রাপ্তা,দ্বিতীয় বারের বিধবা ও যুদ্ধবন্দিনী।ইহুদী সম্প্রদায় বনী নাজির ও বনী কুয়াজার সাথে সৌহার্দ স্থাপন এবং একান্ত রাজনৈতিক এবং কুটনৈতিক কারনে এবং দুশমন গোত্রকে বশ্যতা স্বীকার করানোর লক্ষ্যে হিজরী সপ্তম সালে মহানবী(স) তাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন।এই বিবাহের সময় মহানবী(স) এর বয়সছিল ষাটবছর।এবং ছুফিয়ার বয়সছিল সতের বছর।

দ্বাদশ বিবাহ:হযরত মারিয়ায়ে কিবতিয়া(রা:) ছিলেন মিশর সম্রাট মিকাও কিচের প্রেরিত রাজকীয় উপঢৌকন।বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে রাজনৈতিক সুসম্পর্ক স্থাপন এবং বহির্বিশ্বে ইসলামের সার্বজনীনতা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মহানবী(স) হিজরী সপ্তমসনে তাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন।সৌজন্যমূলক উপহার সে প্রকৃতই মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় তা এই বিয়ের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।এই বিবাহের সময় মহানবী(স) এর বয়সছিল ষাট।মারিয়ায়ে কিবতিয়ার বয়স সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এখানে কিছু উগ্রবাদী নাস্তিক ও খ্রীস্টান লেখকদের মিথ্যা অপবাদ সম্পর্কে অনিচ্ছা সত্তেও কিছু কথা বলা দরকার।এখানে লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে ,মানুষের জীবনে যৌনকাম প্রবৃত্তির উটতি বয়স হলো সম্ভবত আটারো থেকে চল্লিশ বছর  পর্যন্ত।এই সময় যৌন তাড়নার মাত্রা কম বেশি হতে পারে।কিন্তু চল্লিশবছর পরথেকে দেখা যায় ভাটির টান।এই সময়ে যৌন আকাঙ্খার মাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে।এটাই প্রকৃতির নিয়ম , এটাই স্বাভাবিক এবং বিজ্ঞান সমর্থিত।মহানবী(স) দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত কেবলমাত্র একটি ঘরসংসার করেছেন যেই স্রীর বয়স চল্লিশ থেকে পয়ষট্টি বছর। মহানবী(স) এর পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত কোন কামরিপুর তাড়নার কোন লক্ষনই প্রকাশ পেলনা।পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর  বয়সের  জীবনের পড়ন্ত বেলায় কামলিপ্সা মাথাছাড়া দিয়ে উঠলো,তিনি নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেলেন।এমন উদ্ভট অবৈজ্ঞানিক অযৌক্তিক চিন্তা ও বাতিল কল্পনা বিকৃত মস্তিষ্ক ছাড়া কেউ করতে পারেনা। তাছাড়া মহানবী(স) এর স্রীগনের মধ্যে শুধুমাত্র মা আয়েশা(রা) ছিলেন কুমারী,আর প্রায় সবাই ছিলেন বিধবা এবং বয়স্কা,তাদের থেকে কি যৌনকামনা আসা করা যেতে পারে।হতভাগাদের মিথ্যা অপবাদ বিকৃত প্রতিহিংসার বহিপ্রকাশ বৈ আর কিছুই নয়।

মহানবী(স) ছিলেন সারা জাহানের জলন্ত আদর্শ।একজন যুবক স্বামী কেমন করে একজন বৃদ্ধা স্রীকে নিয়ে প্রীতিপূর্ন মধুর দাম্পত্য জীবন করতে পারে,তার উজ্জলতম আদর্শ তিনি বিবি খাদিজার সাথে বিবাহিত জীবনে স্থাপন করে গেছেন।

 একজন বৃদ্ধ স্বামী কেমন করে একজন কিশোরি বধু নিয়ে এবং যুবতী স্রীদেরকে নিয়ে, এমনকি বৃদ্ধা স্রীদের নিয়ে পারিবারিক প্রেমপ্রীতি,ভালবাসা,সহনশীলতা,সমতা,সংযম,ন্যায়নিষ্টা,আত্বনির্ভরশীলতার ভিত্তিতে প্রগাঢ় ভালবাসাপুষ্ট দাম্পত্য জীবন ও সংসার, ধর্ম পালন করতে পারেন,এর উৎকৃষ্ট চিত্রই হলো মহানবী(স) এর দাম্পত্য জীবন।

আল্লাহ বলেন"আমার রাসূলের(স) জন্য যা নির্ধারিত,তা তোমাদের জন্য নয়।"

তাই মুসলমানরা স্বামর্থবান এবং স্রীদের সমতাবিধান করার শর্তে অসহায় দুরস্ত মেয়ে হওয়ার সাপেক্ষে একসাথে সর্বোচ্চ চার স্রী রাখতে পারেন।স্বামর্থবান না হলে অথবা  স্রীদের মধ্যে সমতা বিধানে অস্বমর্থ হলে একটি বিয়ে করতে তাগিদ দেওয়া  হয়েছে।

গ্রন্থঃবিশ্ব নবীর দাম্পত্য জীবন।

লেখকঃআলহাজ্জ মাওলানা এ,কে,এম ফজলুর রহমান মুন্সী।(এম,এম;ডি ,এফ;বি,এ অনার্স;এম এ)

পরিচালক, ইসলামিক রিসার্স ফাউন্ডেশন(1986)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (4,853 পয়েন্ট)

নবীপত্নীদের পরিচিতি ও বৈবাহিক অবস্থার বিবরণ

খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ

তিনি ছিলেন মক্কার একজন ধনাঢ্য ও সম্ভ্রান্ত মহিলা। তার বয়স যখন ৪০, তখন ২৫ বৎসর বয়সী মুহাম্মদের সঙ্গে তার বিবাহ হয়েছিল। মুহাম্মদের সকল সন্তান তার গর্ভে জন্ম লাভ করে। তার জীবদ্দশায় মুহাম্মদ আর কোন বিয়ে করেন নি। তাঁকে মক্কার জান্নাতুল মুয়াল্লা নামীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

সাওদা বিনতে যামআ

হিজরতের পূর্বেই (আনুমানিক ৬২০ খ্রিস্টাব্দে) খাদিজা এর মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পরেই মুহাম্মাদ এর সাথে তার বিবাহ হয় ।

আয়িশা বিনতে আবু বকর

ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকরের কন্যা আয়িশা। তাকে উম্মুল মুমেনিন বলা হয়ে থাকে। ইসলামী শরিয়তের বৃহদংশ তার মাধ্যমে স্বীকৃত। তার গৃহেই হযরত মুহাম্মদের ওফাত হয়। তাকে জান্নাতুল বাক্বীতে দাফন করা হয়েছে।

হাফসা বিনতে উমর

তিনি ইসলামের ২য় খলিফা উমর এর কন্যা। হাফসার প্রথম স্বামীর (খুনাইস ইবনে হুজাইফা) মৃত্যু হলে উমর খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে প্রথমে আবু বকর এবং পরে উসমান কে বিবাহের প্রস্তাব দেন; কিন্তু তারা কেউ-ই রাজী হন না। পরে হিজরী ২য় বা ৩য় সালে মুহাম্মদ তাকে বিবাহ করেন। কথিত আছে, তিনি অত্যন্ত ইবাদত গুজার ছিলেন। রাতে অধিকাংশ সময় আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত করতেন এবং বেশির ভাগ দিন রোজা রাখতেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি ৪১ অথবা ৪৫ হিজরিতে পরলোকগমন করেন।

যয়নাব বিনতে খুযাইমা

মুহাম্মাদ উনাকে হিজরতের একত্রিশ মাস পরে ৩য় হিজরীর রমজান মাসে বিবাহ করেন । মাত্র আটমাস তার বিবাহাধীনে থেকে বিয়ের পরবর্তী বৎসরেই ৪র্থ হিজরীর রবিউস সানি মাসে তার মৃত্যু হয়। শুধুমাত্র তিনি এবং খাদিজা এই দুজনই মুহাম্মাদ এর জীবদ্দশায় মারা যান। বিভিন্ন বর্ণনামতে, তিনি অত্যন্ত দানশীলা মহিলা ছিলেন। ইসলাম-পূর্ব যুগেও একারনে তাকে উন্মুল মাসাকীন (গরিবের মা) বলে ডাকা হতো।

উম্মে সালামা হিন্দ বিনতে আবী উমাইয়্যা

৪র্থ হিজরিতে তার প্রথম স্বামী আবু সালামা এক যুদ্ধে শদীদ হন। অত:পর, শাওয়াল মাসে মুহাম্মাদ তাকে বিবাহ করেন। তিনি মুহাম্মাদের স্ত্রীদের মধ্যে সব শেষে (মতান্তরে ৫৯ বা ৬২ হিজরিতে) মৃত্যুবরণ করেন।

রায়হানা বিনত যায়েদ

রায়হানা বিনত যায়েদ ছিলেন বানু নাদির গোত্রের একজন ইহুদী নারী যিনি মুসলমানদের নিকট "উম্মুল মুমেনীন" (ইসলামের নবী মুহাম্মাদের স্ত্রী) হিসাবে সম্মাণিত।

যয়নাব বিনতে জাহশ

তিনি মুহাম্মাদ এর ফুফাত বোন ছিলেন। তার প্রথম বিবাহ তিনি নিজ পালক পুত্র জায়েদ ইবনে হারিছা এর সাথে করান। পরবর্তিতে দাম্পত্যে বোঝাপড়া না হওয়ায় যায়েদ তাকে ৫ম হিজরিতে তালাক দেন। অত:পর যিলক্বদ মাসে আল্লাহ তাআলা তার বিবাহ সুরা আহযাব এর এক আয়াতের মাধ্যমে মুহাম্মাদ এর সাথে ঘোষনা করেন। তিনি অত্যন্ত দানশীলা ছিলেন বলে খ্যতিমান ছিলেন। ২০ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিছ ইবনে আবি যারার

জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিছ ছিলেন বনু মুস্তালিক গোত্রের সঙ্গে দাঙ্গার ফলে আটক হওয়া যুদ্ধবন্দী, যিনি উক্ত গোত্রের সর্দারের কন্যা ছিলেন। তার স্বামী, মুস্তফা বিন সাফওয়ান, উক্ত দাঙ্গায় নিহত হন। নিয়মানুযায়ী জুয়াইরিয়া প্রাথমিকভাবে সাহাবী সাবিত বিন কায়েস বিন আল শাম্মাসের গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) ভাগে পড়েন। বন্দী অবস্থাতেই, জুয়াইরিয়া মুহাম্মাদ এর কাছে গিয়ে অনুরোধ করেন যে, গোত্রপ্রধানের কন্যা হিসেবে তাকে যেন মুক্তি দেয়া হয়, মুহাম্মাদ এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ইত্যবসরে, তার বাবা তাকে মুক্ত করতে মুহাম্মাদের কাছে মুক্তিপণ দেয়ার প্রস্তাব করলেন, কিন্তু মুহাম্মাদ উক্ত প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করলেন। এরপর মুহাম্মাদ জুয়াইরিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং জুয়াইরিয়াও রাজি হলেন।[২] যখন সবাই জানতে পারল যে বনু মুস্তালিকের সাথে ইসলামের নবীর বৈবাহিক আত্মীয়তা তৈরি হয়েছে, তখন মুসলিমগণ উক্ত গোত্রের যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি দিতে শুরু করলেন।[৩] এভাবে, জুয়াইরিয়ার সাথে মুহাম্মাদের বিয়ে ইতোপূর্বে তার দ্বারা বন্দী হওয়া প্রায় শত পরিবারের মুক্তির কারণ হয়ে উঠলো।[৪]

রামালাহ বিনতে আবী-সুফিয়ান

তিনি উম্মে হাবিবা নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের কন্যা ছিলেন এবং পিতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি মুসলিম হন। আবিসিনিয়ায় হিজরতকারীদের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। হিজরতের পর তার স্বামী খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন, অপরদিকে তিনি ইসলামে অনড় থেকে যান। হিজরতে থাকাকালীন সময়ে তার স্বামীর মৃত্যু হলে মুহাম্মাদ তাকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। মুসলিমদের সাথে কুরাইশদের যুদ্ধ নিরসনকামী হুদায়বিয়ার চুক্তির পরপরই মুহাম্মাদ সমসাময়িক ইসলামের প্রতিপক্ষ ও কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের এই কন্যাকে বিবাহ করেন, যাতে করে মুসলিমদের সাথে কুরাইশদের তৎকালীন শত্রুতা আরও কমে আসে।

সফিয়্যা বিনতে হুওয়াই

সাফিয়া বিনতে হুয়াই ছিলেন বনু নাদির গোত্রের প্রধান হুয়াই ইবনে আখতাবের কন্যা। খন্দকের যুদ্ধে তার পিতা নিহত হন। তার প্রথম স্বামীর নাম সাল্লাম ইবনে মিশকাম। তার কাছ থেকে তালাকপ্রাপ্ত হয়ে তিনি বনু নাদিরের সেনাপতি কেনানা ইবনে রাবিকে বিয়ে করেন। খায়বার যুদ্ধে বনু নাদির গোত্র পরাজিত হলে কেনানাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং সাফিয়াকে যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মুহাম্মাদ তাকে তার মালিক দিহইয়ার কাছ থেকে মুক্ত করেন এবং তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সাফিয়া তার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। মারটিন লিংসের তথ্যমতে, মুহাম্মাদ তাকে দুটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, একটি হল বনু নাদিরে ফিরে যাওয়া আর অপরটি হল ইসলাম গ্রহণ করে মুহাম্মাদকে বিয়ে করা। সাফিয়া দ্বিতীয় প্রস্তাব গ্রহণ করে মুহাম্মাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

মাইমুনা বিনতে হারিছ ইবনে হাযন

তার আসল নাম ছিলো বাররা। মুহাম্মাদ তার নাম পরিবর্তন করে মায়মুনা রাখেন । হুদায়বিয়া চুক্তির সময়ে উক্ত মহিলা মুহাম্মাদকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং মুহাম্মাদ তা গ্রহণ করেন। চুক্তি শেষে তিনি মায়মুনাকে সাথে নিয়ে মদিনায় ফিরে যান।

মারিয়া আল-কিবতিয়া

মারিয়া আল-কিবতিয়া ছিলেন একজন মিশরীয় কপ্টিক খ্রিস্টান দাসী, যাকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিনস্ত মিশরীয় সম্রাট মুকাউকিস মুহাম্মাদের নিকট উপহার হিসাবে প্রদান করেন।[৫] মদিনায় ফেরার পথে মারিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ নামে মুহাম্মাদের একটি সন্তানের জন্ম দেন, যে কিনা শিশুকালেই মারা যায় এবং ইব্রাহিমকে জন্ম দেয়ার পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পরবর্তী পাঁচ বছর তিনি দাসত্ব থেকে মুক্ত ছিলেন।[৬] ইবনে কায়িম আল-যাওজিয়া সহ আরও বহু সূত্র দাবি করে যে, তিনি মুহাম্মাদের একজন উপপত্নী ছিলেন,[৭][৮] অর্থাৎ তিনি মুহাম্মাদের কৃতদাসী ছিলেন কিন্তু স্ত্রী নয়। এর কারণ ইসলামী আইন মুসলিম পুরুষদেরকে দেনমোহর প্রদানকৃত বিবাহিত নিজ স্ত্রী এবং নিজ অধিকৃত দাসীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক করার অনুমতি দেয়ায় তিনি দাসী হয়েও মুহাম্মাদের স্ত্রীগণের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্য ছিলেন। ইবনে ইসহাক রচিত মুহাম্মাদের জীবনী হতে সম্পাদিত ইবনে হিশামের সংকলনে তাকে মুহাম্মাদের স্ত্রীগণের তালিকায় উল্লেখ করা হয় নি।[৯]


https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%95_%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8#%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE

করেছেন (229 পয়েন্ট)
উইকিপিডিয়াতে ইসলামের ব্যপারে অনেকসময় সঠিকতথ্য পাওয়া যায়না।বেশিরভাগক্ষেত্রেই বিধর্মীলেখকদের উদৃতি দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
27 জুন 2018 "নবী-রাসূল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন তোরণ (229 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর

320,937 টি প্রশ্ন

410,992 টি উত্তর

127,188 টি মন্তব্য

176,949 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...