বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
122 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (229 পয়েন্ট)
মহানবী(স) দেখতে যেমন ছিলেন এবং বৈশিষ্ট্য:

ইবনে সাদ ও ইবনে আসাকিরের রেওয়াতে হযরত আলী(রা:) বলেন:মহানবী(স) আমাকে ইয়েমেন প্রেরন করেন।একদিন আমি জনতার উদ্দেশ্যে যখন খোতবা দিচ্ছিলাম,তখন এক ইহুদী আলেম হাতে কিতাব নিয়ে দন্ডায়মান ছিল।সে কিতাব দেখে যাচ্ছিল।সে আমাকে বললো:আবুল কাসেম(সা:) এর গুনাবলী বর্ননা করুন।আমি বর্ননা করলাম যে,তিনি না বেশি লম্বা,না বেটে।তার চুল না সম্পূর্ন কোকড়া,না সম্পূর্ন সোজা।তবে হালকা কুঞ্চিত ও কাল।মাথা বড়।রং লালিমা মিশ্রিত সাদা।গ্রন্থি বড় বড়।হাতের তালু ও পা মাংসল।বুকের চুলের হালকা রেখা আছে।পলক লম্বা।ভুরু মিলিত এবং ললাট প্রশস্ত।উভয় কাধের মাঝখানে দূরত্ব আছে।যখন হাটেন মনে হয় যেন নিচে অবতরন করছেন।আমি তার মত তার আগেও দেখিনি এবং পরেও দেখিনি।

ইহুদী আলেম বললঃতার চোখে লাল ডোরা আছে।দাড়ি সুন্দর।মুখ সুন্দর।তিনি যখন মনোযোগ দেন,তখন পূর্ন শরীর নিয়ে মনোযোগী হন।আর যখন ঘুরেন,পূর্ন শরীরে ঘুরেন।আমি বললামঃএকথা আমি আগেই বলেছি যে,তিনি যখন হাটেন,তখন মনে হয় যেন নিচে অবতরন করছেন।ইহুদী আলেম বললঃএ গুনটি আমি আমার বাপদাদার কিতাবে পেয়েছি।কিতাবে আরো আছে যে,তিনি আল্লাহর হেরেমে,শান্তির আবাস্থলে এবং আপন গৃহ থেকে নব্যুয়ত লাভ করবেন।এরপর সেই হেরেমের দিকে হিজরত করবেন,যাকে তিনি নিজে হেরেম সাব্যস্ত করবেন,তারা আমর ইবনে আমেরের বংশধর হবেন।তারা খুর্জুর বাগানের মালিক হবেন।তাদেরপূর্বে এই ভূভাগ ইহুদীদের কতলরত থাকবে।হযরত আলী(রা:) বললেন:আসলেই তাই।ইহুদী আলেম বললো:তা হলে আমি সাক্ষ্য দেইযে,তিনি নবী এবং সমগ্র মানবজাতির জন্যে আল্লাহর রাসূল।

গ্রন্থঃখাসায়েসুল কোবরা

লেখকঃআল্লামা জালালুদ্দীন সিয়্যুতি(র)।
করেছেন (8,838 পয়েন্ট)
আপনি কি প্রশ্ন করেছেন না উত্তর দিয়েছেন?
করেছেন (229 পয়েন্ট)
আমি জানতেও চেয়েছি,আমি  যা জানি তাও জানিয়েছি।কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ।

1 উত্তর

+1 টি পছন্দ
করেছেন (125 পয়েন্ট)
রাসুল (স.) চরিত্রের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম ছিলেন, দেখতেও ছিলেন অতুলনীয় । এ সম্পর্কিত কিছু হাদিস - 

১. 

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ الْبَصْرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبْعَةً، لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ، حَسَنَ الْجِسْمِ، وَكَانَ شَعْرُهُ لَيْسَ بِجَعْدٍ وَلَا سَبْطٍ أَسْمَرَ اللَّوْنِ، إِذَا مَشَى يَتَكَفَّأُ»

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) মধ্যমাকৃতির ছিলেন। বেশি লম্বা কিংবা বেশি খাটোও ছিলেন না। তাঁর দেহ ছিল খুব আকর্ষণীয়। আর তাঁর চুল বেশি কোকড়ানো কিংবা একেবারে সোজাও ছিল না। তিনি ছিলেন গৌরবর্ণের। পথ চলতে তিনি সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে চলতেন। (মুসনাদে অাবু ইয়ালা ৩৮৩২, শরহুস সুন্নাহ ৩৬৪০) 

২. 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ: سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ يَقُولُ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا مَرْبُوعًا بَعِيدَ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ، عَظِيمَ الْجُمَّةِ إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْهِ الْيُسْرَى، عَلَيْهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ، مَا رَأَيْتُ شَيْئًا قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهُ»

বারা ইবনে আযিব (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) মধ্যমাকৃতির ছিলেন। তার দুই কাঁধের মধ্যবর্তী অংশ ছিল তুলনামূলক প্রশস্ত। তার ঘন চুলগুলো কানের লতি পর্যন্ত লম্বা ছিল। তার দেহে লাল লুঙ্গি ও লাল চাদর শোভা পেত। আমি তার তুলনায় সুদর্শন কাউকে কখনো দেখিনি।” (বুখারি ৩৫৫১)

৩. 

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ [ص: 31] : «مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ  فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ، لَهُ شَعْرٌ يَضْرِبُ مَنْكِبَيْهِ، بَعِيدُ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ، لَمْ يَكُنْ بِالْقَصِيرِ وَلَا بِالطَّوِيلِ»

বারা ইবনে আযিব (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুলবিশিষ্ট লাল চাদর ও লাল লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর চেয়ে সুদর্শন কাউকে দেখিনি। তাঁর কেশগুচ্ছ ছিল কাঁধ বরাবর। তাঁর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান অন্যদের তুলনায় কিছুটা প্রশস্ত ছিল তিনি অধিক খাটো বা অধিক দীর্ঘাকৃতির ছিলেন না।" (মুসলিম ৬২১১)

বিশেষ দ্রষ্টব্য : পূর্ববর্তী হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর মাথার চুল কানের লতি পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। আর এ হাদীসে বলা হয়েছে, কাঁধ পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। উভয় বক্তব্যই ঠিক। কেননা, চুল সব সময় এক অবস্থায় থাকে না। কখনো কম হয়, কখনো বেশি হয়। আবার ইচ্ছাকৃতভাবেও বড় ছোট রাখা হয়। চুলের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার ব্যাখ্যা এভাবে করা যায় যে, তিনি সর্বোচ্চ কাধ পর্যন্ত লম্বা করেছেন, যাকে জিম্মা’ বলা হয়। আর সর্বাধিক ছোট করার পরিমান ছিল কানের লতি, যাকে 'ওয়াফরা' বলে। আর এর মাঝামাঝি অবস্থানকে লিম্মা’ বলা হয়।

৪.

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: «لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ، شَثْنُ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ، ضَخْمُ الرَّأْسِ، ضَخْمُ الْكَرَادِيسِ، طَوِيلُ الْمَسْرُبَةِ، إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ تَكَفُّؤًا كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ، لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ مِثْلَهُ [ص: 32] ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» .

আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সঃ) বেশি দীর্ঘ কিংবা বেশি খাটো ছিলেন না। তার হস্তদ্বয় ও পদদ্বয়ের তালু এবং আঙ্গুলসমূহ ছিল মাংসল। তাঁর মাথা ছিল কিছুটা বড় এবং হাত-পায়ের জোড়াগুলো ছিল মোটা। বুক হতে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা প্রলম্বিত ছিল। যখন পথ চলতেন মনে হতো যেন কোন উঁচু স্থান হতে নিচে অবতরণ করছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তার পূর্বে কিংবা পরে আমি তার মতো (অনুপম আকর্ষণীয়) আর কাউকে দেখিনি। (মুসনাদে অাহমাদ ৭৪৬) 

৫. 

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ يَقُولُ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَلِيعَ الْفَمِ، أَشْكَلَ الْعَيْنِ، مَنْهُوسَ الْعَقِبِ» [ص: 39] . قَالَ شُعْبَةُ:  قُلْتُ لِسِمَاكٍ: مَا ضَلِيعُ الْفَمِ؟ قَالَ: عَظِيمُ الْفَمِ، قُلْتُ: مَا أَشْكَلُ الْعَيْنِ؟ قَالَ: طَوِيلُ شِقِّ الْعَيْنِ، قُلْتُ: مَا مَنْهُوسُ الْعَقِبِ؟ قَالَ: قَلِيلُ لَحْمِ الْعَقِبِ

জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর মুখ প্রশস্ত ছিল। চোখের শুভ্রতার মাঝে কিছুটা লালিমা ছিল। পায়ের গোড়ালি স্বল্প মাংসল ছিল। শু'বা (রহঃ) বলেন, আমি সিমাক (রহঃ)-কে বললাম, (যলীউল ফাম) কী? তিনি বললেন, বড় মুখগহ্বর বিশিষ্ট। আমি আবার বললাম, (আশকালুল ‘আইন) কী? তিনি বললেন, ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট। আমি বললাম, এ (মানুহূসুল ‘আক্কিব) কী? তিনি বললেন, সরু গোড়ালি বিশিষ্ট। (মুসলিম ৬২১৬) 

৬. 

حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْمَصَاحِفِيُّ سُلَيْمَانُ بْنُ سَلْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ أَبِي الْأَخْضَرِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبْيَضَ كَأَنَّمَا صِيغَ مِنْ فِضَّةٍ، رَجِلَ الشَّعْرِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও শুভ্রতায় ছিলেন রৌপ্যের ন্যায় এবং তার চুলগুলো ছিল কিছুটা কোকড়ানো। (জামে সগীর ৮৭৪৮)

ব্যাখ্যা : আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত এ অধ্যায়ের সর্বপ্রথম হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর গায়ের রং নিরেট সাদা ছিল না। তাই এ হাদীসে তাকে রূপার সাথে তুলনা করা হয়েছে। তিনি লাল মিশ্রিত সাদা ছিলেন এবং উজ্জ্বল সুন্দর ছিলেন।

বিস্তারিত জানতে শামায়েলে তিরমিজি বইটি পড়ুন।
করেছেন (229 পয়েন্ট)
কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
27 জুন 2018 "নবী-রাসূল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন তোরণ (229 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর

330,282 টি প্রশ্ন

421,033 টি উত্তর

130,750 টি মন্তব্য

180,669 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...