152 জন দেখেছেন
"প্রেম-ভালোবাসা" বিভাগে করেছেন (9 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

4 উত্তর

2 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (1,174 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

যখন মানুষ প্রচন্ড রেগে যায়, তখন মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। মানুষ তখন ভালো-মন্দ বিবেচনা করতে পারে না। মস্তিষ্ক ক্ষনিকের জন‍্য সঠিক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। মস্তিষ্কের তখন সাময়িক বিকৃতি ঘটে। অনেকটা পাগলের মতো আচরণ করা যাকে বলে। তাই প্রচন্ড রেগে গেলে মানুষ, রাগের মাথায় আপন মানুষকে খুন করতেও দ্বিধা করে না। কিন্তু যখন রাগ দূর হয়ে যায় কিংবা প্রশমিত হয়, তখন সে তার ভুলটি বুঝতে পারে। তাই প্রথমত আমাদেরকে রাগ বা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি আপনি মনে করেন, আপনি ঠান্ডা মাথায় বুঝে-শুনে, সুস্থ মস্তিষ্কে স্ত্রীকে থেমে থেমে তথা তিন তালাকের মধ‍্যে পরপর খানিকটা বিরতি নিয়ে তালাক দিয়েছেন, তাহলে তালাক হয়ে যাবে। আর যদি না থেমে একটানা স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে থাকেন তথা তিন বাক‍্যে তিন তালাক প্রকাশ না করে এক বাক‍্যে তিন তালাক প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে তালাক হবে না। বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারী বা পাগল তালাক দিলে তালাক হয় না। আর ঐ সময়টাতে আপনি ঐ অবস্থায় ছিলেন, তাই তালাক হবে না। আর এটা আপনি মন থেকেও দেননি, প্রচন্ড রাগের মাথায় দিয়ে ফেলেছেন। যেহেতু আপনি ঐ শব্দগুলো উচ্চারণ করেছেন, সেহেতু আপনার ও আপনার স্ত্রীর উচিত বিষয়টা প্রচার না করে গোপন রেখে আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে তওবা করে প্রতিনিয়ত ক্ষমা চাওয়া এবং প্রায়শ্চিত‍্য স্বরূপ আল্লাহর ভয়ে কমপক্ষে তিন মাস যৌনমিলন করা থেকে বিরত থাকা। মনে রাখবেন, গোপনে কিছু গুনাহ হলে, গোপনে আল্লাহর কাছে তওবা করে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ্ গোপনেই মাফ করে দিতে পারেন। তাই গোপনে কোনো গুনাহ হলে, কাউকে না জানিয়ে গোপনেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়া উচিত। কিন্তু কোনো গোপন গুনাহ যখন মানুষের কাছে প্রকাশ হয়ে যায়, তখন আল্লাহ্ আর গোপনে ক্ষমা করেন না। তখন প্রকাশ‍্য সকলের জন‍্য একই শাস্তি বর্তায়। আপনি যেভাবে তালাক দিয়েছেন, ব‍্যাপারটা আপনার ও আপনার স্ত্রীর মধ‍্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কাউকে কিছু না বলে দুজনে মিলে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চান। অন‍্যথায় সমাজ জানলে, তালাক এমনিতেই কার্যকর করা লাগবে। কারণ, তখন সেটা আর গোপন বিষয় থাকলো না, প্রকাশ‍্য ব‍্যাপার হয়ে গেলো।

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (3,793 পয়েন্ট)

এই তথ্যটি মনযোগের সহিত পড়ুন।

তারপর একজন দ্বীনে আলেমের পরামর্শ নিন যে এমতাবস্থায় আপনার করনীয় কি হতে পারে।
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (175 পয়েন্ট)

হক আলেমদের পরামর্শ নিন।

কেননা , এটা খুব serious একটা বিষয়
আমার মত সাধারণ মানুষের মন্তব্যে একটি ভুলের কারনে
আপনি হয়তো আরো বিপদে পরতে পারেন।
তাই আমার মতে,  হক্কানি আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (94 পয়েন্ট)

আসলে তালাক তো দেওয়াই হয় রাগ হয়ে। কয়জন আছে, শান্তভাবে তালাক দেয়! মূলতঃ রাগের অবস্থায় তালাক দিলেও তালাক হয়ে যায়, এমনকি হাস্যরস বা ঠাট্টাচ্ছলে তালাক দিলেও তা পতিত হয়ে যায়।

সম্মানিত দীনি ভাই, একসাথে তিন তালাক দেওয়া কিংবা বিভিন্ন সময় তালাক দিতে দিতে তিন পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া একটি জঘণ্য অপরাধ ও ঘৃণিত কাজ। আল্লাহ তাআলা এর শাস্তি হিসেবে এই বিধান দিয়েছেন যে, তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পুনরায় একসাথে বসবাস করতে চাইলে স্ত্রীর ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর অন্যত্র তার বিয়ে হওয়া এবং সে স্বামীর সাথে তার মিলন হওয়া অপরিহার্য। এরপর কোনো কারণে সে তালাকপ্রাপ্তা হলে কিংবা স্বামীর মৃত্যু হলে ইদ্দত পালনের পর এরা দু’জন পরস্পর সম্মত হলে নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।

প্রমাণ–

وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك

হযরত নাফে রহ. বলেন,যখন হযরত ইবনে উমর রাযি. এর কাছে ‘এক সাথে তিন তালাক দিলে ‎তিন তালাক পতিত হওয়া না হওয়া’ (রুজু‘করা যাবে কিনা) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো,‎ তখন তিনি বলেন-“যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকো তাহলে ‘রুজু’ [তথা স্ত্রীকে বিবাহ করা ছাড়াই ফিরিয়ে আনা] করতে পার। ‎কারণ, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে এরকম অবস্থায় ‘রুজু’ করার আদেশ দিয়েছিলেন। ‎যদি তিন তালাক দিয়ে দাও তাহলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে, সে তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত। (সহীহ বুখারী-২/৭৯২, ২/৮০৩)

হযরত হারুন ইবনে আনতারা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেছেন, আমি একদিন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. এর নিকট বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে এক লোক এসে বলল, সে তার স্ত্রীকে এক বারেই একশো তালাক দিয়েছে। সে জানতে চাইল, এতে কি এক তালাক গণ্য হবে নাকি তিন তালাক গণ্য হবে? আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, তিন তালাক কার্যকর হয়ে তোমার স্ত্রী তোমার থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর বাকি সাতানব্বই তালাকের গুনাহ তোমার উপর বর্তাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা আসার নং ১৮১০১)

উপরোক্ত হাদীস ও আসার থেকে বিষয়টি সুপ্রমাণিত যে. এক সাথে তিন তালাক দিলে (যেমন আপনার উক্ত আত্মীয় দিয়েছেন) তিন তালাকই হবে । এক তালাক নয়।

এজন্যই বিখ্যাত ফকীহ ও মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনুল হুমাম রহ. (মৃত.৬৮১হি.) আলোচ্য মাসআলাটি যে সাহাবাযুগ থেকেই অবিসংবাদিত তা উল্লেখ করার পর লিখেছেন- (তরজমা) “আর এ জন্যই যদি কোন (শরয়ী) আদালতের বিচারক এই সিদ্ধান্ত দেয় যে, এক সাথে তিন তালাক দিলে এক তালাক হয়, তাহলে তার ফায়সালা গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা বিষয়টিতে নতুন ইজতিহাদ ও সিদ্ধান্তের কোন সুযোগ নেই। সুতরাং নতুন কোন সিদ্ধান্ত দেয়া হলে তা শরীয়তসম্মত ‘মতপার্থক্য’ নয়; শরীয়ত গর্হিত ‘বিচ্ছিন্নতা’ হিসাবেই গণ্য হবে।”

আর তিন তালাক হয়ে গেলে বিধান কী- এসম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। (সূরা বাকারা-২৩০)

এ মর্মে হাদীস শরিফে এসেছে,

আম্মাজান আয়েশা রা. থেকে বরণিত, রাফায়ার স্ত্রী বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার স্বামী রাফায়া আমাকে এক সাথে তিন তালাক দিয়েছে? এরপর আমি আব্দুর রাহমানের সাথে বিবাহ করেছি। এখন রাফায়ার কাছে যেতে পারবো কিনা? নবীজী বললেন, আবদুর রহমান তোমার সাথে সহবাস করলে এরপর রাফায়ার নিকট যেতে পারবে। (সহীহ বুখারী ৫২৬১)

সম্মানিত দীনি ভাই, সুতরাং আপনার উক্ত আত্মীয়ের জন্য আবশ্যক হল, এখনি স্বামী স্ত্রী আলাদা হয়ে যাওয়া। যেহেতু তিন তালাকের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং এখন একসাথে থাকা জিনার গোনাহ হচ্ছে।

এখন নিয়ম মাফিক  স্ত্রীর যদি অন্যত্র বিয়ে হয়, তারপর কোন  কারণে দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তারপর ইদ্দত শেষে উক্ত মহিলাকে আপনার উক্ত আত্মীয় দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে পারবেন। এছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।

উল্লেখ্য, পরিস্কার শব্দে “তালাক” বললে সেখানে নিয়তের কোনো প্রয়োজন নেই। নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়ে যায়। তালাকের পরিস্কার শব্দ ছাড়া অন্য শব্দে তালাক দিলে নিয়তের প্রয়োজন হয়। তালাক শব্দ দিয়ে তালাক দিলে নিয়তের প্রয়োজন নেই।

সুত্রঃhttp://quranerjyoti.com

টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

3 টি উত্তর
3 টি উত্তর
06 জুলাই 2018 "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল

283,809 টি প্রশ্ন

368,375 টি উত্তর

111,091 টি মন্তব্য

153,221 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...