37 জন দেখেছেন
"খাদ্য ও পানীয়" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (-1 পয়েন্ট)
বিভাগ পূনঃনির্ধারিত করেছেন

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (100 পয়েন্ট)

ঢাকার আড্ডায় - ঢাকার ইফতার:
আরবি রমযান মাস মুসলমানদের জন্য ইবাদত ও সংযমের মাস । এ মাস মুসলমানদের সংযম শিক্ষা দেয় । তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন । মুসলমানেরা এ মাসে রোজা-ইবাদত করে ঠিকই কিন্তু খাওয়া-দাওয়ায় সংযম করে এ কথাটি এই অঞ্চলের মুসলমানদের বেলায় ঠিক খাঁটে না । ঢাকার বাহারি ইফতারের খ্যাতি বেশ প্রাচীন । ঢাকার ইফতারের কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে চকবাজার । ঢাকাতে বহু অভিজাত খাবার দোকান গড়ে উঠলেও ইফতারের রকমারি খাবার প্রস্তুতে আজো চকবাজারকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি কেউ । রোজার মাসকে ঘিরে ঢাকায় যে ইফতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সে বিষয়টিই ছিল ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত ঢাকার আড্ডার বিষয়বস্তু । ঢাকার আড্ডায় ঢাকার ইফতার প্রসঙ্গে আনিস আহমেদ বলেন, হেকিম হাবিবুর রহমানের ‘ঢাকা পাচাশ বরস পেহেলে’ বইটি এ বিষয়ে অনেক মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করলেও তিনি অভিজাত পরিবারের হওয়ায় তাদের ইফতারের রেসিপি অনেকটাই ছিল দিল্লি বা পার্শি ঘরানার । মিষ্টি, শরবত ও বিভিন্ন প্রকার ভাজা-পোড়ার খাদ্য তালিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন ইফতারির রেসিপিতে মুড়ি ভর্তা ছিল এবং এখনো আছে । এটা হচ্ছে ঢাকাইয়াদের একান্ত নিজস্ব সৃষ্টি । মুড়ি ভর্তা তৈরির অন্যতম উপাদান ঘুগনি । এই খাদ্য উপাদানটি পশ্চিম ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক প্রচলন দেখা যায় । এটি তারা তরকারি হিসেবে ব্যবহার করলেও ঢাকায় এর সংমিশ্রণ হয়েছে মুড়ির সাথে । এটি পশ্চিম ভারতীয় ও ঢাকার সংস্কৃতির সমন্বয়ের একটি দিক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন । এছাড়া সুতি কাবাব, ছোলা, গোল ফুলুরি, পেয়াজু, লেবুর খোসার কুচি , পেয়াজ, পুদিনা পাতা , কাঁচা মরিচ, সরিষার তেল ও অন্যান্য জিনিসের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় মুড়ি মাখা । ছড়াকার আসলাম সানি কৈশোর ও যৌবনে রমজান মাসে গভীর রাতে কাসিদা দলের সদস্য হিসেবে সুরে সুরে রোজাদারদের জাগ্রত করার স্মৃতিকথা উল্লেখ করেন এবং কাসিদা গেয়ে শোনান । তিনি আরো বলেন আগের দিনে আমরা যখন কাসিদা গেয়ে বিভিন্ন বাড়িতে যেতাম তখন তারা জরদা ও পেস্তাবাদাম মিশ্রিত দুধ ও মালাই এর শরবত খেতে দিত । শাহাদাৎ হোসেন নিপু ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে বলেন ইফতারের বহু ধরণের খাদ্য তালিকার মধ্যে শরবতই ছিল বিভিন্ন রকমের । তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- ইসুফগুল, তোকমা, পেস্তাবাদাম, বেল, তরমুজ, চেনাইয়ের শরবত । মানবজমিনের সাংবাদিক কাজল ঘোষ কলেন- ইফতারি এখন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয় এটা এখন বাঙালীর সার্বজনীন অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে । সকলের আলোচনায় ঢাকার ইফতার যে একটি নিজস্ব ঘরানায় সৃষ্টি হয়েছে সে কথাটি সুস্পষ্ট হয়েছে । বাঙালিরা বিশ্বের যে প্রান্তেই ইফতারি করুক না কেন ইফতারি বলতে তারা পুরান ঢাকার ইফতারিকেই বোঝে । সময়ের বিবর্তনে বহি:বিশ্বের বহু খাবার ইফতারের তালিকায় ঢুকে পড়লেও ইফতারের আদি পর্বগুলো বাদ পড়ছে না । ঢাকাস্থ প্রায় সকল ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের লোকেরাই রোজার মাসে ইফতারির আয়োজন করে । ইফতারি খাবার বিষয়টি ঢাকার একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে ।
তথ্যসূত্র: ত্রৈমাসিক ঢাকা, ঢাকা কেন্দ্রের মুখপত্র

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
08 ফেব্রুয়ারি "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Brave (0 পয়েন্ট)
1 উত্তর
10 ফেব্রুয়ারি "খাদ্য ও পানীয়" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Brave (0 পয়েন্ট)
1 উত্তর

234,985 টি প্রশ্ন

302,859 টি উত্তর

85,382 টি মন্তব্য

118,676 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...