143 জন দেখেছেন
"সালাত" বিভাগে করেছেন (2,886 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

উপযুক্ত হাদিস ও কুর'আন দ্বারা প্রমাণ কর যে " রাসুল (স.) নাভির নিচে হাত বেধেছে"। 

অথবা, প্রমাণ কর যে "রাসুল।(স.) বুকের উপর হাত বেধেছে"।


বিঃদ্রঃ উপযুক্ত দলিল ছাড়া উত্তর গ্রহণযোগ্য হবে না। ভিন্ন কোনো মতবাদী উত্তরদাতা থাকলে পরস্পর ক্ষেপে না যেতে অনুরোধ করছি। কোনো লিংক দিবেন না।

করেছেন (658 পয়েন্ট)

আপনি এই লিংকে গিয়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেখতে পারেন।

করেছেন (2,886 পয়েন্ট)
সম্পাদনা করেছি, কোনো লিংক দেওয়া যাবে না।
করেছেন (658 পয়েন্ট)
সেজন্যই তো মন্তব্য করেছি যাতে করে আপনি  বিষয়টি জানতে পারেন।

2 উত্তর

2 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (2,744 পয়েন্ট)
প্রথমে বলি, 

নামাজে হাত বাধা সুন্নত। 

দ্বিতীয়ত,

নামাজে নাভির নিচে হাত বাধা সুন্নত। 

যেহুত আমাদের উপমহাদেশে অনুপাতে আমরা হানাফি মাজহাবের(মত/মাসয়ালার) অনুসারী তাই এর উপর 

আমল করা ওয়াজিব। 

কারণ আল্লাহ পাক কুরআনুল কারীমে বলেছেন " তোমরা আল্লাহ পাক এর নির্দেশ মান্য করো, রসূলের নির্দেশ মান্য করো ও তোমাদের মধ্য যারা উলিল আমর তদের মান্য করো"। 

বলার অপেক্ষা রাখেনা ইসলামের স্বর্ণযুগে তাবেয়ী হযরত নুমান বিন সাবিত আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি সাহাবী দের থেকে সরাসরি নামাজ শিক্ষা নিয়েছেন।  উনার জন্ম ৭০-৮০ হিজরিতে তখন উনি ১৫-১৮ জন সাহাবীদের সাক্ষাত পেয়েছিলেন। এছাড়াও উনি একজন মুজতাহিদ ছিলেন ও উনার  কুরআন শরীফ ও হাদিস শরীফ সম্পূর্ন মুখস্থ ছিল। কুরআন শরীফ ও হাদিস শরীফে এমন কিছু বিষয় ছিলো যা সাধারণের জন্য বোঝা দুষ্কর ছিলো তিনি তার ফিক্কহ বোর্ড গঠন করে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন যাকে আমরা বলি মাজহাব। এটা উনার ব্যক্তিগত কোনো মত বা পথ নয় বরং কুরআন-সুন্নাহ এর মধ্যে কঠিন ভাষাগত ও যুক্তিগত বিষয়ের পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা। 

আসুন দেখে নেই নাভীর নিচে হাত বাধার হাদিসঃ-

 ১ নং দলীলঃ

ﻋﻦ ﻭﺍئل ﺑﻦ ﺣﺠﺮ ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﻃﻮﻳﻞ : ﺛﻢ ﻭﺿﻊ ﻳﺪﻩ ﺍﻟﻴﻤﻨﻲ ﻋﻠﻲ ﻇﻬﺮ ﻛﻔﻪ ﺍﻟﻴﺴﺮﻱ ﻭﺍﻟﺮﺳﻎ ﻭﺍﻟﺴﺎﻋﺪ

“ওয়াইল ইবনে হাজর থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসে শেষে তিনি বলেন, অতঃপর রসুল (স) ডান হাত কে বাম হাতের কবজি এবং বাহুর উপর রেখেছেন। ইমাম আবু দাউদ হাদিসটি উল্লেখ করে নিরবতা পালন করেছেন”। এর দ্বারােএটা প্রমাণ করে য়ে, হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ রঃ এর নিকট ছহীহ (আবু দাউদ ১ম খন্ড ১০৫পৃ, ছহীহ , ইবনে খুযাইমা হাদিস নং ৪৮০

২ নং দলীলঃ

ﻋﻦ ﻭﺍئل ﺑﻦ ﺣﺠﺮ ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﻃﻮﻳﻞ : ﺛﻢ ﻭﺿﻊ ﻳﺪﻩ ﺍﻟﻴﻤﻨﻲ ﻋﻠﻲ ﻳﺪﻩ ﺍﻟﻴﺴﺮﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻗﺮﻳﺒﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺮﺳﻎ

অনুবাদঃ ওয়াইল ইবনে হাজর থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসে শেষে তিনি বলেন অতঃপর রসুল (স) নামাযে ডান হাত কে বাম হাতের কবজির কাছে রেখেছেন।(তালখিসুল হাবির ১ম খন্ড ২২৪ পৃ হাদিস নং ৩৩২, এলাউস সুনান ২য় খন্ড ১৯০পৃ)

৩ নং দলীলঃ

ﻋﻦ ﻗﺒﻴﺼﺔ ﺑﻦ ﻫﻠﺐ ﻋﻦ ﺍﺑﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻮﻣﻨﺎ ﻓﻴﺎﺧﺬ ﺷﻤﺎﻟﻪ ﺑﻴﻤﻴﻨﻪ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺰﻱ ﻭﻗﺎﻝ ﺣﺴﻦ ﻭﺍﻟﻌﻤﻞ ﻋﻠﻲ ﻫﺬﺍ ﻋﻨﺪ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻣﻦ ﺍﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺍﻟﺘﺎﺑﻌﻴﻦ ﻭﻣﻦ ﺑﻌﺪﻫﻢ ﻳﺮﻭﻥ ﺍﻥ ﻳﻀﻊ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻳﻤﻴﻨﻪ ﻋﻠﻲ ﺷﻤﺎﻟﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺭﺍﻱ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺍﻥ ﻳﻀﻌﻬﻤﺎ ﻓﻮﻕ ﺍﻟﺴﺮﺓ ﻭﺭﺍﻱ ﺑـﻌﻀﻬﻢ ﺍﻥ

ﻳﻀﻌﻬﻤﺎ ﺗﺤﺖ ﺍﻟﺴﺮﺓ ﻭﻛﻞ ﺫﻟﻚ ﻭﺍﺳﻊ ﻋﻨﺪﻫﻢ

অনুবাদঃ কুসাইবা ইবনে হালাব (র) থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে রসুল (স) আমাদের নামাযের ইমামতি করতেন এবং ডান হাত দ্বারা বাম হাত কে আকড়ে ধরতেন। ইমাম তিরমিযি বলেন যে এই হাদিসটি হাসান এর পর্যায়ে। সাহাবায়ে কেরাম ইহার উপর আমল করতেন এবং ডান হাত কে বাম হাতের উপর রাখা কে সুন্নাত মনে করতেন। তবে কেহ নাভীর উপর রাখা কে সুন্নাত মনে করেন এবং কেহ নাভীর নিচে রাখা কে সুন্নাত মনে করেন। তবে উভয় পদ্বতির উপর আমল করা যায়েয হবে। (তিরমিযি শরীফ ১ম খন্ড ৩৪পৃ)

৪ নং দলীলঃ

ﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﻭﺍئل ‏(ﺭﺽ ‏) ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻮ ﻫﺮﻳﺮﺓ ‏(ﺭﺽ ‏) ﺍﺧﺬ ﺍﻻﻛﻒ ﻋﻠﻲ ﺍﻻﻛﻒ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺗﺤﺖ ﺍﻟﺴﺮﺓ

“আবু ওয়াইল (র) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে আবু হুরায়রা (র) বলেছেন যে নামাযে নাভীর নচে কব্জির উপর হাত রাখা সুন্নাত।

(আবু দাউদ ১ম খন্ড ২৭৫পৃ)

আল্লামা শাওকানী বলেন , নামাযে হাত বাধা সম্পর্কে আবু ওয়াইল এর উক্ত হাদিসের চেয়ে আর কোন সহীহ হাদিস নেই। (এলাউস সুনান ২য় খন্ড

১৯৫পৃ)

: ৫ নং দলিলঃ

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, ‘তিনটি বিষয় (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) নবী-স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত: ইফতারে বিলম্ব না করা, সাহরী শেষ সময়ে খাওয়া এবং নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর নাভীর নিচে রাখা।’

ﺛﻼﺙ ﻣﻦ ﺃﺧﻼﻕ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ : ﺗﻌﺠﻴﻞ ﺍﻷﻓﻈﺎﺭ، ﻭﺗﺄﺧﻴﺮ ﺍﻟﺴﺤﻮﺭ، ﻭﻭﺿﻊ ﺍﻟﻴﺪ ﺍﻟﻴﻤﻨﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻴﺴﺮﻯ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺗﺤﺖ ﺍﻟﺴﺮﺓ.

-আলমুহাল্লা ৩/৩০; আলজাওহারুন ৩নাকী ২/৩১

সারসংক্ষেপ : নামাযে হাত বাঁধা সুন্নাত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক সাহাবী তা বর্ণনা করেছেন। এই সুন্নাহর ব্যবহারিক রূপ খাইরুল কুরূনে কী ছিল তা সাহাবা-তাবেয়ীনের আমল ও ফতোয়া এবং সে যুগ থেকে চলে আসা ‘আমলে মুতাওয়ারাহ’ দ্বারা প্রমাণিত, যা ইবাদত-বন্দেগীর সঠিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী সূত্র। এ সূত্রে নামাযে হাত বাঁধার দু’টি নিয়ম পাওয়া যায় নাভীর নিচে হাত বাঁধা ও নাভীর উপর (বুকের নীচে) হাত বাঁধা। দু’টো নিয়মই আহলে ইলম সাহাবা- তাবেয়ীনের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল, যা ইমাম তিরমিযী রাহ. জামে তিরমিযীতে বর্ণনা করেছেন। তবে রেওয়ায়েতের বিচারে নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়মটি অগ্রগণ্য। ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ রাহ. তা পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন।

খাইরুল কুরূন ও পরবর্তী যুগের হাদীস-ফিকহের বড় বড় ইমাম এই নিয়ম গ্রহণ করেছেন যাদের মধ্যে ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। (এলাউস সুনান ২য় খন্ড ১৯৫পৃ)

উপরন্তু বেশ কিছু মরফূ হাদীসেও নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়ম বর্ণিত হয়েছে।

সুতরাং এটি নামাযে হাত বাঁধার মাসনূন তরীকা। এ সম্পর্কে দ্বিধা ও সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।

তাই এই কথা কিছুতেই বলা যাবে না যে, নাভির নিচে হাত বাঁধা সুন্নাত পরিপন্থি। বরং উল্লিখিত হাদীস দ্বারা এ কথা প্রমাণীত হয় যে , নাভির নিচে হাত বাঁধা সুন্নাত।
1 টি পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (5,663 পয়েন্ট)

হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন,

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে ডান হাত বাম

হাতের উপর রেখে নাভির নীচে রাখতে দেখেছি। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা। হাদীস নং ৩৯৫৯ এর সনদ সহীহ।image

টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
17 জানুয়ারি "সালাত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন आब्दुर राकिब (6 পয়েন্ট)
1 উত্তর
16 ফেব্রুয়ারি "সালাত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Akhi Islam (8 পয়েন্ট)
1 উত্তর
15 ডিসেম্বর 2018 "সালাত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sabirul Islam (5,663 পয়েন্ট)
1 উত্তর
15 ডিসেম্বর 2018 "সালাত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sabirul Islam (5,663 পয়েন্ট)

282,884 টি প্রশ্ন

367,177 টি উত্তর

110,548 টি মন্তব্য

152,557 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...