বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
721 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (15,856 পয়েন্ট)
করেছেন (51 পয়েন্ট)
আসসালামু আলাইকুম ভাই :আপনার উত্তর টা আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে। আপনার এই উত্তর থেকে আমিও কিছু জেনে নিলাম। খুব ভালো লিখেছেন দাদা খুব ভালো । আচ্ছা দাদা আমি আর একটা জিনিস জানতে চায়, যদি আপনি অনুমতি দেন তো!! আসলে আমি এক্কেবারে বিশ্ময়ে নতুন তো তাই.! ভুল ভ্রান্তি ক্ষমার চোখেয় দেখবেন. প্লিজ.!!!!!

2 উত্তর

+5 টি পছন্দ
করেছেন (15,856 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর

ডাঃ জাকির নায়েকঃ কিছু লোক আছে যারা আরবী বর্ণমালাগুলোর
নির্দিষ্ট মান দিয়ে যোগফল বের করে। তারপর
ঐ মান দিয়ে তারা কোনো আয়াত
বা দোয়া বা কোনো নাম নির্দেশ করার
চেষ্টা করে। উদাহরণ দিয়ে বলা যায় “বিসমিল্লাহির
রাহমানির রাহিম”-এর ‘বা’, ‘আলিফ’, ‘সিন’ এ
বর্ণমালাগুলোর মান বসিয়ে তার বের করেছেন
৭৮৬ আবার ৯২ দিয়ে বুঝান মুহাম্মাদ (সা)
এভাবে আরো অনেক কিছু। কিন্তু এমন ব্যবহার
কোরআন বা সহীহ হাদীসের কোথাও পাওয়া যায় না। কিছু লোক তর্ক করে যে, আমরা যখন
আরবি বর্ণমালা না পাই, তখন দাওয়াতপত্র
ভিজিটিং কার্ড
ইত্যাদি ছাপাতে সংখ্যাগুলো লিখি। কিন্তু
আমার কথা হলো,
আপনি আরবী শব্দটি ইংরেজিতে বানান করে লিখেন। আর যদি মনে করেন সবাই
বুঝবেনা তাহলে অনুবাদ লিখতে পারেন। যেমন
“পরম করুনাময় দাতা ও দয়ালু আল্লাহ্র নামে”.
এত সহজ উপায় থাকতে এমন কঠিন ও
বিদঘুটে পদ্ধতির প্রয়োজন কি? আসলে বিভিন্ন সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন
ধারনা আমাদের সমাজে দেখা যায়। যেমন
পশ্চিমা সমাজে ১৩
সংখ্যাটিকে অপয়া ভাবা হয়।
তারা বলে ‘আনলাকি থার্টিন’. আবার
তারা ৬৬৬ দ্বারা বুঝায় শয়তান। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে চোর, বাটপার,
ফটকাবাজদের ৪২০বলা হয়। এর অবশ্য কারণ
আছে, ভারতীয় উপমহাদেশের সবদেশেই
যদি কোন চোর বাটপার ধরা হয়
তাহলে তাকে যে ধারায় শাস্তি দেয়া হয়
সেটি পেনাল কোডের ৪২০ নং ধারায় বর্ণীত। তাই যদিও কারণ আছে তবুও অনেকে না বুঝেই
বলে। যারা বলেন যে বিভিন্ন বর্ণের অবস্থানগত
মান যোগ করে ঐ শব্দের প্রতিনিধিত্বকার
ী সংখ্যা বের করেছেন, তাদের আমি সমর্থন
করি না।
কারন, একই মান দিতে পারে এমন
সংখ্যা দুটি শব্দের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। যার একটি ভালো অন্যটি খারাপ।
সে ক্ষেত্রে আপনি কোনটি গ্রহন করেবেন? উদাহরণ দেই, যদি বলি ইংরেজি বর্ণ B এর
মান ১ এবং A এর মান৭ আর ধরুন D এর মান ৪/
এখন যোগ করলে আমরা পাই ১২/ অর্থাৎ BAD
(খারাপ)এর সংখ্যাগত মান পেলাম ১২/ এখন G
এর মান ২, O এর মান ৩, D এর মান ৪
ধরলে GOOD এর মান কত?দেখুন ২+৩+৩+৪=১২. অর্থাৎ (GOOD)ভালো এর
সংখ্যাগত মান পেলাম ১২ । এখন আমি ১২ কে ভালো বা মন্দ
কোনটা নির্দেশক বলব?
যদি প্রথমটি মেনে বলি ১২ একটি মন্দ
নির্দেশক তখন পরে আবার দেখলাম
সংখ্যাটি যে মান
ধরে নেয়া হয়েছে তা ভালকেও নির্দেশ করে। তাই যারা ‘বিসমিল্লাহ্’ কে ৭৮৬
দ্বারা প্রকাশ করেন তাদেরকে বলি, এমন
অনেক শব্দ পাবেন যেগুলোর বর্ণের মান যোগ
করলে ৭৮৬ পাওয়া যাবে। সেশব্দ
বা বাক্যগুলোর কিছু হতে পারে ভালো আবার
কিছু হতে পারে খারাপ নির্দেশক। তাই কোনো মুসলমানকেই সমর্থন করিনা যখন
সে ৭৮৬ দ্বারা বিসমিল্লাহ প্রকাশ করে।
আশাকরি সবাই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

মোঃ আরিফুল ইসলাম বিস্ময় ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা। খানিকটা অস্তিত্বের তাগিদে আর দেশের জন্য বাংলা ভাষায় কিছু করার উদ্যোগেই ২০১৩ সালে তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে বিস্ময় ডট কম। পেশাগত ভাবে প্রোগ্রামার।
করেছেন (4,853 পয়েন্ট)

আরিফ ভাই! উত্তরটি খুব ভাল লাগল। অনেকগুলো ধন্যবাদ গ্রহণ করুন। খুব ভাল থাকুন।

+1 টি পছন্দ
করেছেন (4,853 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

৭৮৬ সখ্যাটি মূলত বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এর মধ্যকার আরবী বর্ণগুলোর মানসংখ্যা বা গাণিতিক মানের মোট যোগফল। এ সংখ্যাটিকে পূর্ণ বিসমিল্লাহ এর সাংকেতিক চিনহ্ন বা সংখ্যা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আব্বাসী খিলাফত যুগে হিব্রু, সুরিয়ানী প্রভৃতি অনারবী ভাষার অনুকরণে আরবী বর্ণের গাণিতিক মানের উদ্ভব হয়। তবে ভারত উপমহাদেশে এ মান সংখ্যার ব্যাপক প্রচলন ঘটে। এবং এ উপমহাদেশেই পূর্ণ বিসমিল্লাহ লেখার পরিবর্তে এর মান সংখ্যা ৭৮৬ লেখার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যায়। সাহাবী, তাবিয়ী যুগে এ মান সংখ্যা নীতির প্রচলন ছিল না। আসলাফ বা ইমাম পর্যায়ের কোনো মনীষী ব্যক্তিত্ব থেকে এ ধরনের মান সংখ্যা ব্যবহারের রীতি পাওয়া যায় না। যদিও বিসমিল্লাহ কে যত্রতত্র অমর্যাদাকর ব্যবহার থেকে রক্ষার উদ্দেশে এ সাংকেতিক সংখ্যার উদ্ভব হয়েছে কিন্তু বিসমিল্লাহর এ জাতীয় ব্যবহার ইসলামী শরীয়তের রুচির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারণ এটি একটি কুরআনের পবিত্র আয়াত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনকে আরবী বর্ণ এবং আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন। কোনো গাণিতিক ভাষায় অবতীর্ণ করেন নি। তাই কুরআনের আয়াতকে কুরআনের ভাষায় লেখাই বাঞ্ছনীয়। অন্য কোনো বর্ণ বা সংখ্যায় লেখা আদৌ বিধিসম্মত নয়। অন্যদিকে পূর্ণ বিসমিল্লাহ এর বিকল্প হিসেবে ৭৮৬ লেখা হলে কিংবা পাঠ করা হলে পূর্ণ বিসমিল্লাহ বা আয়াত পাঠের কোনোই পুণ্য  অর্জিত হবে না। এবং তাতে পূর্ণ বিসমিল্লাহ পাঠের দায়িত্বও আদায় হবে না। এতে যদি কোনো পুণ্য বা দায়িত্ব মুক্তি হত তবে পবিত্র কুরআনের গাণিতিক মান বের করে তা পাঠ করেই পূর্ণ কুরআন পাঠের পুণ্য আহরণ করা যেত। এবং পবিত্র কুরআনের পরিবর্তে সে মান সংখ্যাকে ঘরে ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হতো। তাছাড়া যেমনিভাবে পূর্ণ বিসমিল্লাহর বর্ণের গাণিতিক মান ৭৮৬ হয় তেমনিভাবে অন্য একটি আরবী বাক্যের গাণিতিক মানও ৭৮৬ হতে পারে। এবং সে অন্য বাক্যটি বকা বা অশ্লীল বাক্যও হতে পারে। সে হিসেবে ৭৮৬ গাণিতিক মান দ্বারা নির্দিষ্টভাবে কেবল পূর্ণ বিসমিল্লাহই উদ্দেশ্য হয় না। সুতরাং বিসমিল্লাহকে বিসমিল্লাহর জায়গায় রেখেই এর মর্যাদা নিশ্চিত করা উচিত। এর দেহ সৌষ্ঠব বিকৃত করে এর অস্পষ্ট সাংকেতিক সংখ্যা ব্যবহার মূলত এর অবমূল্যায়নের বার্তাই বহন করে। অতএবর সার্বিক বিবেচনায় ৭৮৬ কে বিসমিল্লাহ বলে অভিহিত করা যায় না। সূরা ইউসুফ ২, সূরা হিজর ৯, রদ্দুল মুহতার ৫/১৮, আলমাউসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আলকুওয়াইতিয়্যাহ ১৪/১৯, ফাতহুল বারী ১০/২২৭

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

312,978 টি প্রশ্ন

402,561 টি উত্তর

123,659 টি মন্তব্য

173,349 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...