বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
123 জন দেখেছেন
"বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি" বিভাগে করেছেন (430 পয়েন্ট)

সন্ত্রাস,সন্ত্রাসী,সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসবাদী শব্দগুলোর অর্থ কী??এবং পার্থক্যটা কী??

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (332 পয়েন্ট)
সবগুলোর মধে পার্থক্য তুলে ধরা হলো: সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসবাদ এক আর সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদী এক এদের পার্থক্য: সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী বলতে কি বুঝায়? সন্ত্রাসী বা terrorist শব্দের অর্থ- A person who uses terrorism in the pursuit of political aims (যে ব্যাক্তি কোন উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে সন্ত্রাস করে)। যে সন্ত্রাস করে সেই সন্ত্রাসী। সন্ত্রাস বা terrorism বলতে কি বুঝায়? The unofficial or unauthorized use of violence and intimidation in the pursuit of political aims. সন্ত্রাসবাদ (Terrorism) হল সন্ত্রাসের পদ্ধতিগত ব্যবহার যা প্রায়শই ধ্বংসাত্মক এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ঘটানো হয়। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্ত্রাসবাদের কোন বেধে দেওয়া সীমারেখা অথবা সঙ্গায়ন নেই। প্রচলিত সঙ্গানুযায়ী যে সকল বিধ্বংসী কার্যকলাপ জনমনে ভীতির উদ্বেগ ঘটায়, ধর্মীয়, রাজনৈতিক অথবা নীতিগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কৃত রুচিবিরুদ্ধ কাজ, ইচ্ছাপূর্বক সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার বিষয় উপেক্ষা অথবা হুমকি প্রদান করা। আইন বহির্ভূত কার্যকলাপ এবং যুদ্ধকেও সন্ত্রাসবাদের অন্তর্ভূক্ত করা যায়। (উইকিপিডিয়া) সোজা কথায়- সন্ত্রাসী সেই যে ত্রাস বা আতঙ্কের সৃষ্টি করে। যেমন একজন ডাকাত একজন পুলিশকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, তার মনে ত্রাস এর সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ পুলিশ ডাকাতের জন্য সন্ত্রাসী। এভাবেই চোর-ডাকাত, ধর্ষণকারী, বদমাশ তথা সমাজ বিরোধী সকল দুষ্কৃতকারীর জন্য একজন মুসলিম সন্ত্রাসী। যখনই সমাজ বিরোধী কোনো বদমাশ একজন মুসলিমকে দেখবে সে যেন আতঙ্কিত, সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, ‘সন্ত্রাসী’ শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয় এমন এক লোকের জন্য যে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। কাজেই একজন সত্যিকারের মুসলিম সন্ত্রাসী হবে অপরাধীদের জন্য, নিরীহ সাধারণ জগণের নয়। বস্তুত একজন মুসলিমকে হয়ে উঠতে হবে নিরীহ জনসাধারনের সামনে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক। এই সন্ত্রাসবাদ হতে পারে দেশের ভিতর, হতে পারে আন্তর্জাতিকভাবে। দেশের ভিতর একজন ডাকাত বা খুনী যদি কাউকে খুন করে তাহলে আশেপাশের লোক ভীত হয়ে যায়, ত্রাস সৃষ্টি হয়। এটাকে দেশীয় সন্ত্রাসবাদ বলতে পারি। আন্তর্জাতিকভাবে যেমন আমেরিকা ইরাক আক্রমণ করল এতে ইরাকের সব মানুষ ভীত হয়ে গেছে। পাশাপাশি অনেক মুসলিম রাষ্ট্রও ভয়ে চুপ হয়ে গেছে। এই ধরণের সন্ত্রাসবাদকে আমরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বলতে পারি। এই দুই ধরণের সন্ত্রাসবাদ বা অন্য সকল ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড যা সাধারণ মানুষের মনে ভয়ের সৃষ্টি করে, যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হয়, এমন কোন কর্মকান্ড ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামে এগুলো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। আসলে সন্ত্রাসী বিষয়টাই আপেক্ষিক- ইংরেজদের গোলামী থেকে ভারত যখন স্বাধীনতা অর্জন করল তখন ভারত স্বাধীন করার জন্য অসংখ্য মানুষ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করেছেন । ব্রিটিশ সরকার তাদেরকে ‘সন্ত্রাসী’ লেবেল দিয়েছিল। সেই একই ব্যক্তিত্বদের ভারতীয়রা সম্মানিত করেছে দেশপ্রেমিক বা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। এভাবেই দুটি ভিন্ন ভিন্ন নাম দেয়া হয় একই লোকদেরকে একই কর্মকান্ডের জন্য। এক শ্রেণী যেখানে তাকে বলেছে ‘সন্ত্রাসী’, সেখানে অন্য শ্রেণী তাকে বলেছে ‘দেশ প্রেমিক’। তাহলে কিভাবে বিচার করবেন? দেখতে হবে আপনি কোন পক্ষ সমর্থন করেন? ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের পাকিস্তানীরা সন্ত্রাসী বলত। আর আমরা তাদের বলি মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তাদের সবাইকে সবচেয়ে বেশী সম্মানিত করা হয়েছে। আমরা তাদের সবচেয়ে বেশী সম্মান দেই। একই যুদ্ধ বা আন্দোলন এর জন্য একই মানুষকে দুইটা ভিন্ন নাম দেয়া হয়েছে। তাই বিষয়টা আপেক্ষিক এবং দেখতে হবে আপনি কোন পক্ষ সমর্থন করেন? এটা সাধারনত হয়, যার বেশী ক্ষমতা সেই বিপক্ষকে সন্ত্রাসী বানায় বেশীদিন ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। পৃথিবীর অনেক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এই ধরণের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। নেলসন ম্যান্ডেলাকে হয়ত সবাই চিনেন। তাকে সন্ত্রাসী বলা হত যখন তিনি বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন করতেন। তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। ১৯৮০ সালে যে বিদ্রোহ বা যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল তাতে প্রচুর বেসামরিক লোক মারা গিয়েছিল। ম্যান্ডেলা পরে স্বীকার করেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে গিয়ে এএনসি অনেক সময় মানবাধিকার লংঘন করেছে। সেই ম্যান্ডেলাকে ২০০ এর বেশী পুরষ্কার দেয়া হয়, আবার ১৯৯৩ সালে শান্তিতে তাকে নোবেল পুরষ্কারও দেয়া হয়েছে। আবার দেশের প্রেসিডেন্টও বানানো হয়েছে। একই মানুষ একই কাজ দুইটা ভিন্ন উপাধি। শুধু সময়ের পার্থক্য। কখনও সেই ব্যক্তি সন্ত্রাসী আবার কখনও সেই একই ব্যক্তি শান্তিকামী মানুষ। এটা থেকে আমরা বুঝতে পারি, যখন যার যুগ, যখন যার ক্ষমতা থাকে তখন সে তার বিপক্ষকে সন্ত্রাসী বানিয়ে দিতে পারে এবং বিষয়টা সম্পূর্ণ আপেক্ষিক।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
10 নভেম্বর "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন প্যারালাল ইউনিভার্স (707 পয়েন্ট)
1 উত্তর
09 সেপ্টেম্বর 2018 "জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন জাবির ৭৭৭ (15 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর
05 সেপ্টেম্বর 2018 "কম্পিউটার" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md imran hussain (11 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
06 জুন 2018 "প্রেম-ভালোবাসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Aongya mogh (21 পয়েন্ট)

360,044 টি প্রশ্ন

455,235 টি উত্তর

142,540 টি মন্তব্য

190,344 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...