112 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (4,190 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (4,190 পয়েন্ট)
নাজায়েজ। (ক) পুস্পস্তবক অর্পণঃ যারা শহীদ হয়েছেন, ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মা আল্লাহর কাছে পুষ্পপল্লবেঘেরা ঘন সবুজ শ্যামল বৃক্ষলতায় পরিপূর্ণ সুরভিত জান্নাতে বিচরণ করছে। শহীদ এবংঈমানসহ মৃত্যুবরণকারী সকল মুসলিমের আত্মাই তাদের যোগ্যতা ও আমলের তারতম্য অনুসারেপাখিরূপে জান্নাতে রয়েছে বলে বিশুদ্ধ হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “শহীদগণের রূহ আল্লাহর সান্নিধ্যেসবুজ পাখিদের মধ্যে থাকবে এবং জান্নাতের বাগ-বাগিচা ও নহরসমূহে ভ্রমণ করবে”। (সহীহ মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরওবলেন, “মুমিনের আত্মা একটি পাখিহিসেবে জান্নাতের বৃক্ষরাজিতে বিচরণ করতে থাকবে। আল্লাহ যেদিন তাকে পুনুরুত্থিতকরবেন সেদিন তার দেহে আত্মাটি ফিরিয়ে দেয়া পর্যন্ত এভাবেই থাকবে”। (আহমাদ, হাসান)

অপর একটি বর্ণনায়, “শহীদ্গণের আত্মার প্রতি আল্লাহদৃষ্টি দিবেন এবং বলবেন তোমরা কি কিছু কামনা করছ? তাঁরা বলবেন, আমরা আর কি কামনা করব ! আমরা তোযেখানে ইচ্ছা সেখানে বিচরণ করছি”।(মুসলিম)

শহীদগণ যেখানে আল্লাহর কাছেই কিছু কামনা করছে না, সেখানে কি তারা আমাদের এসব মূল্যহীন পুষ্পস্তবকের জন্যেঅপেক্ষা করছে?

শহীদ ও মৃত ব্যক্তিদের জন্যে অন্তরে বাস্তব দরদ থাকলে, তাদের ত্যাগ তীতিক্ষার বিনময়ে কিছু দেওয়ার মনোবৃত্তিথাকলে সে পথটি খুঁজতে হবে, যে পথে কিছু করলে তারা পরকালেউপকৃত হবেন। সে পথটি হল আল্লাহর অনুমোদিত পথ। শহীদ ও মৃতদের জন্যে তাদের নিয়ত করেতাদের উদ্দেশ্যে কেউ যদি দান খয়রাত করেন, তাদের উদ্দেশ্যে, তাদের পক্ষহয়ে জনকল্যাণমূলক কাজ করেন তাহলে এর বিনিময়ে তারা শত কোটি পুষ্প অফুরন্ত নেয়ামত, ফুলে ফলে ভরা উদ্যানের মালিক হতে পারেন আল্লাহর কাছে।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তিএকবার সুবহানাল্লাহ বলল তার জন্য একটি খেজুর গাছ লাগানো হবে জান্নাতে”। (তিরমিযি) অপর বর্ণনায় রয়েছে, “সে গাছটিরছায়ায় একশত বছর দ্রুতগামী ঘোড়া দৌড়ালেও তার ছায়া শেষ করা যাবে না”। বুঝা গেল, পৃথিবীতে বসে সৎ কর্মের মাধ্যমে উর্ধজগতে নিজের জন্যকিংবা কোন মৃতের জন্যে উদ্যান তৈরি করা যায়। পৃথিবীতে বসে এমন কাজটি করতে হবে যাঊর্ধজগতের বাসিন্দাদের নিকট পৌঁছায়। তার পদ্ধতি আমরা উল্লেখ করেছি। আর এটাই হলতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের আমলগুলো তোমাদের মৃতনিকটাত্মীয় ও তোমাদের সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে তাদের কবরে পেশ করা হয়। আমলগুলো ভালহলে তারা আনন্দিত হয় আর অন্য কিছু হলে তারা বলে হে আল্লাহ তাদেরকে তোমার আনুগত্যেরআমল করার এলহাম কর”।(আবু দাউদ, তাবারানী,আহমাদ)

বুঝা গেল, শহীদ ও মৃতদেরকে তারাই আনন্দিত ও উপকৃত করে যারা তাদের জন্যে দুয়া ওদান খয়রাত করে। পুস্পস্তবক অর্পণকারীদের এই কর্মে তারা কবরে দুঃখ অনুভব করেন।আমাদের দেশে যা করা হয় এতে মনে হয় শহীদগণ শহীদ হয়ে যেন অপরাধ করে গেছেন। তাদেরনামে এমন সব কর্মকাণ্ড করা হয় যা তাদের ত্যাগ তীতিক্ষার প্রতি উপহাসের শামিল। ইট, সিমেন্ট,রড দিয়ে কিছু একটা বানিয়ে সেখানে কিছু ফুল রেখে আসলে তা কি শহীদগণপেলেন নাকি ঐ ইট, সিমেন্ট, রডগুলোকেই দেয়া হল সেই ফুলের সওগাত?
কাদের থেকেশিখেছি এই পুস্পস্তবক অর্পণ?

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনীত দীনেপুস্পস্তবক অর্পণের কোন বিধান নেই। মৃতদের জন্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ খ্রিস্টান জাতির সংস্কৃতি। হিন্দু ধর্মেও মূর্তিকে পুস্পস্তবক অর্পণকরা হয়। শুধু পুস্পস্তবক অর্পণ নয় মিষ্টি, সন্দেশ, দুধ কলার স্তবকও অর্পণ করা হয় দেবভোগ হিসেবে। আল কুর’আনে ইবরাহীমআলাইহি সালামের ঘটনা বর্ণণা প্রসংগে বলা হয়েছে- “অতঃপর সেতাদের দেবালয়ে, গিয়েঢুকল এবং বললঃ তোমরা খাচ্ছ না কেন?তোমাদেরকি হল যে, কথা বলছনা?” (সূরা সাফফাত ৯১-৯২)

মূলত পুস্পস্তবক অর্পণমূর্তিপূজার অংশ, এটি একটিইবাদত যা মূর্তিকে দেয়া হয়।
কাজেই মুসলিমদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহনের কোনসুযোগ নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন ব্যক্তি সংস্কৃতিতে যেসম্প্রদায়ের অনুসরণ করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়”। (আবু দাউস, সনদ উত্তম)

(খ) এক মিনিট নীরবতা পালনঃ এটা হারাম।
কায়েস ইবনু আবী হাযেম বলেন, “আবু বকররাদিয়াল্লাহু আনহু (হজের মওসুমে) যায়নাব নামক আহমাস গোত্রীয় এক মহিলার নিকট গেলেন।তিনি দেখলেন, সে কথা বলে না। তিনি বললেন, সে কথা বলে না কেন? লোকেরা বলল- তার হজটি এমন যাতে সে নীরবতা পালন করছে।আবু বকর তাকে বললেন,তুমি কথা বল। তোমার এ নীরবতাপালন অবৈধ। এটি জাহেলিয়াতের (শিরক ও অজ্ঞতা) যুগের কাজ। অতঃপর সে মহিলাটি কথা বলল।(বুখারী)

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরাআল্লাহর জন্যে নীরবতা পালন কর”।

অপর এক হাদীসেহক ও সত্য থেকে নীরবতা পালনকারীকে বোবা শয়তান বলা হয়েছে। মৃতদের জন্যে দুয়া করা একটি হক ও সত্যদ্বীনি বিধান। তা না করে যারা নীরব থাকে তারা উক্ত হাদীস অনুযায়ী বোবা শয়তান। আল্লাহ তো বোবা হতে কাউকে নির্দেশ দেননি। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে মুখ খুলে দু’আ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, “এবং তুমি বল! হে পালনকর্তা ! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন পালন করেছেন”। (বনি ইসরাইল ২৪)

মূলঃ তাওহীদ জিজ্ঞাসা জবাব (১)
কাজী মুহাম্মাদ ইবরাহীম
প্রধান মুহাদ্দিস, জামিয়া কাসেমিয়া নরসিংদী
টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
18 এপ্রিল 2014 "বাংলা দ্বিতীয় পত্র" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন বিপুল রায় (12,869 পয়েন্ট)
1 উত্তর
26 ডিসেম্বর 2018 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Mijanur123 (108 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর

288,658 টি প্রশ্ন

374,043 টি উত্তর

113,136 টি মন্তব্য

157,263 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...