104 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (4,190 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (4,190 পয়েন্ট)
তিনি (আল্লাহ سبحانه وتعالى) তাঁর অনুগত বান্দাহ্গণকে প্রতিদান ও অবাধ্যদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন। তিনি সর্বশক্তিমান। তাই তিনিই (আল্লাহ جل وعلا) ‘ইবাদতের একমাত্র যোগ্য, অধিকারী, হক্বদার,এবং সত্য ও সত্যিকার মা‘বুদ। আল্লাহ سبحانه وتعالى ব্যতীত ‘ইবাদতের যোগ্য ও সত্য উপাস্য আর কেউ নয়। আল্লাহ্ سبحانه وتعالى জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই ‘ইবাদত করার জন্যে এবং তাদেরকে তিনি এই নির্দেশই প্রদান করেছেন। ক্বোরআনে কারীমে আল্লাহ্ سبحانه وتعالى ইরশাদ করেছেনঃ- وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون ما أريد متهم من رزق وما أريد أن يطعمون. إن الله هو الرزاق ذو القوة المتين অর্থাৎ:-আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ‘ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের নিকট হতে কোন জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে,তারা আমার আহার্য (খাদ্য) যোগাবে। আল্লাহই (سبحانه وتعالى) তো রিয্ক্বদাতা সর্বশক্তিমান সুদৃঢ়। (ছূরা আয্‌যারিয়া-ত,৬-৫৭) অন্য আয়াতে আল্লাহ্سبحانه وتعالى ইরশাদ করেছেনঃ- ياأيها الناس اعبدوا ربكم الذى خلقكم والذين من قبلكم لعلكم تتقون. الذى جعل لكم الأرض فراشا والسماء بناء وأنزل من السماء مأء فأخرج به من الثمرات رزقا لكم فلا تجعلوا لله أندادا وأنتم تعلمون. (سورة البقرة-٢١-٢٢) অর্থাৎ:-হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ‘ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তাতে আশা করা যায় তোমরা আল্লাহভিরুতা অর্জন করতে পারবে। যিনি (যে পবিত্র ও মহান সত্তা; আল্লাহ) তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা ও আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তদ্বারা তোমাদের জন্য জীবিকা স্বরূপ ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন। অতএব, তোমরা কাউকে আল্লাহ্‌র (سبحانه وتعالى) সমকক্ষ নির্ধারণ করো না। বস্তুত এসব তোমরা জানো। (ছূরা আল বাক্বারাহ,২১-২২) ‘‘আল্লাহই একমাত্র সত্য ও সত্যিকার মা‘বুদ এবং ‘ইবাদতের প্রকৃত যোগ্য ও হক্বদার। আল্লাহ سبحانه وتعالى ব্যতীত ‘ইবাদতের যোগ্য ও সত্য উপাস্য আর কেউ নয়”। এই সত্যকে সুস্পষ্ট করে দেয়ার জন্যে, এর প্রতি তথা তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ প্রতিষ্ঠার প্রতি উদাত্ত আহবান জানানোর এবং এর পরিপন্থি বিষয় থেকে সর্তক ও সাবধান করে দেয়ার জন্যে আল্লাহ্ যুগে যুগে বহু নবী-রাছূল পাঠিয়েছেন এবং কিতাব সমূহ নাযিল করেছেন। আল্লাহ্ سبحانه وتعالى ইরশাদ করেছেনঃ- ولقد بعثنا فى كل أمة رسولا أن اعبدوا لله واجتنبوا الطاغوت. ( سورة النحل-٣٦) অর্থা:-নিশ্চয় আমি প্রত্যেক জাতির প্রতি রাছূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহ্‌র ‘ইবাদত করো এবং তাগুতদের থেকে দূরে থাক। (ছূরা আন্‌ নাহ্‌ল- ৩৬) আল্লাহ্ سبحانه وتعالى আরো ইরশাদ করেছেনঃ- وما أرسلنا من قبلك من رسول إلا نوحى إليه أنه لا إله إلا أنا فاعبدون. (سورة الأنبياء-٢٥) অর্থা:-আপনার পূর্বে আমি যে রাছূলই প্রেরণ করেছি তাঁর প্রতি এ প্রত্যাদেশই (অহী) প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত আর কোন মা‘বুদ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ‘ইবাদত করো। (ছূরা আল আম্বিয়া-২৫) অন্য আয়াতে আল্লাহ্ سبحانه وتعالى ইরশাদ করেছেনঃ- وقضى ربك ألا تعبدوا إلا إياه. (سورة الإسراء-٢٣) অর্থাৎ:-তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তোমরা একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারও ‘ইবাদত করো না। (ছূরা আল ইছরা-২৩) আয়াতে উল্লেখিত ‘ইবাদতের ‘‘প্রকৃত অর্থ হলোঃ- যাবতীয় ‘ইবাদত খাঁটিভাবে একমাত্র আল্লাহ্‌র (سبحانه وتعالى) জন্য নিবেদন করা এবং আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে বা কোন কিছুকে শরীক (অংশীদার) না করা। ক্বোরআনে কারীমের বেশিরভাগ আয়াত এই মহান মৌলিক নীতি (তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ বা ‘ইবাদতে আল্লাহ্‌র একত্ব প্রতিষ্ঠা করা) সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত ও অবিচ্ছেদ্য আরেকটি বিষয় হলো-আল্লাহ্ سبحانه وتعالى তাঁর বান্দাহগণের উপর যে সব বিষয় ও কাজ পালন করা ফর্‌য বা আবশ্যকীয় করে দিয়েছেন, সেগুলোকে ফর্‌য তথা অবশ্য করণীয় বলে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা। যেমন, ইছলামের পাঁচটি ভিত্তি বা রুক্‌ন যথা:-(১)এই ঘোষণা ও স্বাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন মা‘বূদ নেই এবং মোহম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহ্‌র রাছূল। (২)সালাত ক্বায়েম করা। (৩)যাকাত প্রদান করা (৪)রামাযান মাসে রোযা পালন করা এবং (৫)বায়তুল্লাহ্ শরীফে পৌছার সামর্থ থাকলে হজ্জব্রত পালন করা। উপরোক্ত রুক্‌নগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান রুক্‌ন হলো-“এই ঘোষণা ও সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন মা‘বুদ নেই এবং মোহম্মাদ আল্লাহ্‌র রাছূল”। এছাড়াও ক্বোরআন ও ছুন্নাহ দ্বারা আরো যেসব বিষয় ফর্‌য-ওয়াজিব বলে প্রমাণিত, সেগুলোকে ফর্‌য-ওয়াজিব বলে বিশ্বাস ও পালন করা। আল্লাহ্‌র (سبحانه وتعالى) প্রতি ঈমানের অন্তর্ভূক্ত আরেকটি অপরিহার্য বিষয় হলো-এই বিশ্বাস পোষণ করা যে,একমাত্র আল্লাহ سبحانه وتعالى মানবজাতিকে এবং জগতের সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনিই সমগ্র জগতের একক সৃষ্টিকর্তা ও নির্দেশ প্রদানকারী। একমাত্র তিনিই তাদের জীবন ও মৃত্যূ দানকারী, জীবিকা প্রদানকারী, সমগ্র জগদ্বাসীর প্রতি অনুগ্রহন ও অনুকম্পা প্রদর্শনকারী, সমগ্র জগতের একক পালনকর্তা এবং সমগ্র জগতের একক মালিক,পরিচালক ও ব্যবস্থাপক। তিনি নিজ ইচ্ছানুযায়ী স্বীয় জ্ঞান ও ক্বোদরত দ্বারা সমগ্র জগত পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী। তিনি জগতের প্রতিটি বস্তুর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণরূপে জ্ঞাত। তিনি ব্যতীত আর কোন সৃষ্টিকর্তা নেই, নেই কোন রাব বা প্রতিপালক, নেই কোন ইলাহ্ (উপাস্য)। তিনিই তাঁর বান্দাহ্‌দের সার্বিক সংশোধনের জন্যে, তাদেরকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মঙ্গল ও কল্যাণের প্রতি আহবান জানানোর জন্যে নবী-রাছূলগণকে (عليه السلام) প্রেরণ করেছেন এবং আছমানী কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। এ সব বিষয়ে আল্লাহ্‌র কোন শরীক বা অংশীদার নেই। মোট কথা আল্লাহকে (سبحانه وتعالى) তাঁর রুবূবিয়্যাতে অর্থাৎ তাঁর যাবতীয় কর্তৃত্ব ও কর্মে এক, অদ্বিতীয় ও অংশীদারমুক্ত বলে বিশ্বাস করা। ক্বোরআনে কারীমে আল্লাহ্سبحانه وتعالى ইরশাদ করেছেনঃ- . (سورة الزمر-٦٢) الله خالق كل شئ وهو على كل شئ وكيل অর্থাৎ:- আল্লাহ্ই প্রতিটি বস্তুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই সকল বস্তুর কর্মবিধায়ক। (ছূরা আয্‌যুমার-৬২) আল্লাহ্ جل وعلا আরো ইরশাদ করেছেনঃ- إن ربكم الله الذى خلق السموات والأرض فى سته أيام ثم استوى على العرش يغشى اليل النهار يطلبه حثيثا والشمس والقمر والنجوم مسخرات بأمره ألا له الخلق والأمر تبارك الله رب العلمين. (سورة الأعراف- ٥٤) অর্থাৎ- নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হলেন আল্লাহ্,যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন,অতঃপর তিনি ‘আরশের উপর আসীন হয়েছেন। তিনি রাতকে দিনের উপর সমাচ্ছন্ন করে দেন, যাতে রাত দ্রুত গতিতে দিনের অনুসরণ করে চলে। আর তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও তারাকারাজি। সবই তার নির্দেশে পরিচালিত। জেনে রেখো,সৃষ্টি আর হুক্‌ম প্রদানের মালিক তিনিই। চির মঙ্গলময় মহান আল্লাহ্, তিনিই সর্বজগতের পালনকর্তা। (ছূরা আল আ‘রাফ-৫৪) আল্লাহ্‌র (سبحانه وتعالى) প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত ও অপরিহার্য আরেকটি বিষয় হলো, ক্বোরআনে কারীমে এবং রাছূল صلى الله عليه وسلم এর হাদীছে বর্ণিত আল্লাহ্‌র (سبحانه وتعالى) সর্বসুন্দর নামসমূহ ও তাঁর সুমহান গুণরাজির প্রতি কোনপ্রকার বিকৃতি, অস্বীকৃতি, আকার, গঠন, উপমা বা সাদৃশ্য আরোপ না করে কিংবা কোন সমতূল্য অথবা সমকক্ষ নির্ধারণ না করে ক্বোরআন ও ছুন্নাহ্‌তে এগুলো যেভাবে বর্ণিত রয়েছে, বাহ্যিক মহান অর্থসহ হুবহু সেগুলোর উপর বিশ্বাস পোষণ করা। আর এটাই হলো তাওহীদুল আছমা ওয়াস্ সিফাত। আল্লাহ্ سبحانه وتعالى ইরশাদ করেছেনঃ- ليس كمثله شئ وهو السميع البصير. ( سورة الشورى-١١) অর্থাৎ:-কোন কিছুই তাঁর মতো (সদৃশ) নয়। তিনি সর্বশ্রোতা,সর্বদ্রষ্টা। (ছূরা আশ্‌শুরা-১১) অন্য আয়াতে আল্লাহسبحانه وتعالى ইরশাদ করেছেনঃ- فلا تضربوا لله الأمثال إن الله يعلم وأنتم لا تعلمون (سورة النحل-٧٤) অর্থাৎ:-সুতরাং তোমরা আল্লাহ্‌র কোন উপমা স্থির করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ জানেন এবং তোমরা জানো না। (ছূরা আন্‌ নাহল-৭৪)
টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
আমার কাছে আমার ম্যাম এত ভালো লাগতো যে আল্লাহ্ তায়ালাই ভালো জানতেন। আমার ম্যাম সরকারি কলেজের শিক্ষিকা। তিনি একটা বাসায় থাকেন যেটা কলেজের পাশেই অবস্থিত। আমি ম্যামকে অফিসের কাজে সব সময় সতর্কতার সাথে সাহায্য করতাম। ম্যামও আমায় খুব স্নেহ করতেন। কেনাকাটা করার সময় ম্যাম আমাকে নিয়ে যেতেন, ফাস্টফুড খাওয়ার সময় আমাকে নিয়ে যেতেন। ম্যাম আর আমি সব সময় খুব দুষ্টামিরসহিত ভালোই দিন কাটাচ্ছিলাম। আস্তে আস্তে দেখি আশেপাশের লোকজন আমাকে নানান কথা বলে যে, আমার সাথে ম্যাম এর কিসের সম্পর্ক? আসলে এটা কেউ বিশ্বাস করেনা যে,আমার সাথে ম্যাম এর দুষ্টামিসূলভ সম্পর্কটা ছাত্র-শিক্ষিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এক মূহুর্তে আমি ম্যাম এর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেই।?
19 জুলাই 2016 "প্রেম-ভালোবাসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোঃ ইকবাল হোসেন (0 পয়েন্ট)

288,089 টি প্রশ্ন

373,377 টি উত্তর

112,900 টি মন্তব্য

156,754 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...