224 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (4,250 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (4,250 পয়েন্ট)
হারেস বিন্ হেশাম (রাঃ) একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার ওহী কিভাবে আসে ? উত্তরে বললেন,’কোন কোন সময় এমন হয় যে, তা ঘন্টাধ্বনির ন্যায় আসে। এ প্রকারের অহী আমার নিকট বড়ই কষ্ট দায়ক মনে হয়। উক্ত কষ্টজনিত শ্রান্তি লাঘব হওয়ার পর আমি তা হৃদয়ঙ্গম করি। আবার কোন কোন সময় ফেরেশতা মানুষের আকৃতিতে আমার কাছে আল্লাহর বাণী পৌছে থাকেন,আমি তাৎক্ষণিক তা হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হই।’ হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন ,”অতি প্রচন্ড শীতের সময়ও অহী নাযিলকালে আমি হুজুর (সাঃ)-কে দেখেছি, তিনি এমন ঘর্মাক্ত হয়ে পড়তেন যে, তাঁর ললাট মোবারক থেকে ঘাম বের হতো।” (সুত্র-ছহীহ বোখারী শরীফ) প্রথম অহী নবী করীম (সাঃ) এর উপর। হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,সর্বপ্রথম রাসুল (সাঃ)- এর নিকট অহী আগমনের সূচনা হয় ঘুমের মধ্যে স্বপ্নাকারে।স্বপ্নে তিনি যা দেখতেন তা-ই দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যেত। কিছুকাল এ অবস্থা চলার পর আপনা থেকেই তাঁর অন্তরে লোকালয় হতে সংস্রবহীন নির্জনে থাকার প্রেরনা উদীত হয়।তিনি মক্কা নগরী হতে ৩ মাইল দূরে হেরা নামক পর্বত গুহায় নির্জনে (ইবাদতের উদ্দ্যেশে)বাস করতে লাগলেন।তিনি পানাহারের জন্য বাড়ী এসে সামান্য কিছু নিয়ে যেতেন এবং তথায় একাধীক্রমে অনেক রাত ইবাদত বন্দেগীতে নিয়োজিত থাকতেন।কিছু দিন পর পর বিবি খাদীজার সাথে সাক্ষাতের জন্য বাড়ী আসতেন।পুনরায় কিছু পানাহার সামগ্রী নিয়ে একাধারে ইবাদত বন্দগীতে রত হওয়ার জন্যহেরা গুহায় চলে যেতেন।এভাবে হেরা গুহায় আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকাকালে হঠাৎ একদিন তাঁর নিকট সত্য আত্মপ্রকাশ করে।অর্থাৎ মহান আল্লাহর পক্ষ হতে ফেরেশতা জিব্রাইল (আঃ) অহী নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে বললেন “ইকরা” (হে নবী) “আপনি পড়ুন।” উত্তরে তিনি বলিলেন, আমি তো পড়তে জানি না। হুযুর(সাঃ) বলেন,এতচ্ছ্রবণে জিব্রাইল (আঃ) আমাকে ধরে এমন জোরে আলিঙ্গন করলেন যাতে আমার কষ্ট অনুভব হল।তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিড়ে পুনরায় বললেন “ইকরা” “আপনি পড়ুন!” উত্তরে আমি বললাম,আমি তো পড়তে জানি না। এতচ্ছ্রবণে উক্ত ফেরেশতা পুনরায় আমাকে আলিঙ্গন করলেন। এবারও আমার কষ্ট অনুভব হতে লাগল।তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, “আপনি পড়ুন” ।উত্তরে আমি পূর্বের ন্যায় বললাম,’আমি তো কখনো পড়া অভ্যাস করিনি’।এতচ্ছ্রবণে হযরত জিব্রাইল (আঃ) তৃতীয় বার আমাকে আলিঙ্গন করে ছেড়ে দিয়ে বললেন- (বাংলা উচ্চারন) : “ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজী খালাক। খালাকাল ইনসানা মিন আলাক্ব।ইকরা ওয়া রাব্বুকাল আকরাম”। (সূরা আলাক, আয়াত ১-৪) । অর্থ-’পড়ুন আপনার প্রভুর নামে,যিনি আপনার সৃষ্টিকর্তা,যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্তপিণ্ড হতে।পড়ুন আপনার প্রভু অতি মহান।’ এ ঘটনার পর রাসুল (সাঃ) উক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করতে করতে বাড়ী ফিরলেন।ভয়ে তাঁর হৃদয় থর থর করে কাপতে লাগল।তিনি সহধর্মিনী খাদীজা বিনতে খুয়াইলেদ-এর কাছে এসে বললেন “আমাকে কম্বল জড়িয়ে দাও ! আমাকে কম্বল জড়িয়ে দাও।” (ছহীহ বোখারী শরীফ)। কিছুক্ষন পর তাঁর এ ভাব কেটে গেলে তিনি বিবি খাদিজাকে সব বৃত্তান্ত খুলে বলেন।তিনি বুঝতে পারলেন তাঁর উপর বিরাট দায়িত্ত্ব অর্পিত হতে যাচ্ছে।তাই তিনি খাদিজাকে বললেন,আল্লাহর শপথ ! আমি মনে মনে ভয় করছি। এ বিরাট দায়িত্ত্ব আমি আমি আদায় করতে পারবো কি-না ? তখন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্না খাদিজা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, আল্লাহর কসম! কিছুতেই নয়,মহান আল্লাহ আপনাকে কখনো অপদস্থ করবেন না।আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করবেন। কেননা মানবতার চরম উৎকর্ষের মূল সবগুণই আপনার মধ্যে বিদ্যমান আছে। যেমন-* আপনি আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করেন,আত্মীয়তার হক আদায় করেন। *এতিম,বিধবা,অন্ধ,খঞ্জ তথা অক্ষমদের খাওয়া পরা ও থাকার বন্দোবস্ত করে থাকেন। *বেকারদের কর্মসংস্থান করেন। *অতিথি সৎকার করে থাকেন,প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুস্থ জনগণের সাহায্যে জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত থাকেন।সুতরাং এ অবস্থায় আপনার ভয়ের কোন কারন নেই।এরুপ সান্তনা দেওয়ার পর খাদিজা (রাঃ) হুযুর (সাঃ)-কে সাথে করে বংশের মুরব্বী স্বীয় চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নওফেল বিন আসাদ বিন আব্দুল এজ্জার নিকট গেলেন। যিনি জাহেলিয়াত যুগে নাসরানী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় কিতাব লেখতেন,সুতরাং সুরইয়ানী ভাষার ইণ্জিল কিতাব হতে তিনি ইবরানী ভাষায় আল্লাহর ইচ্ছায়সামর্থানুযায়ী অনেক কিছু লিখেছেন (এক কথায় তিনি আসমানী কিতাবে পারদর্শী ছিলেন)। তিনি সে সময় খুব বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হওয়ায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদিজা (রাঃ) তাঁকে বললেন,হে চাচাতো ভাই ! আপনি আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। তখন ওয়ারাকা বিন নওফেল হুযুর (সাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন,হে ভাতিজা ! আপনি কি দেখতে পেয়েছেন বলুন? রাসূলুল্লাহ (সাঃ)তাঁকে সব ঘটনা খুলে বললেন,যা তিনি দেখতে পেয়েছিলেন। ঘটনা শুনার পর ওয়ারাকা বিন নওফেল হুযুর (সাঃ)-কে বললেন,”ইনি তো সেই মঙ্গলময় বার্তাবাহক জিব্রাঈল ফেরেশতা। যাকে আল্লাহ হযরত মূসা (আঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন।আফসোস ! আপনার নবুওয়তের প্রচারকালে যদি আমি শক্তিশালী যুবক হতাম,যদি আমি সেদিন জীবিত থাকতাম যেদিন আপনার সম্প্রদায় আপনাকে দেশান্তরিত করে ছাড়বে। এ কথা শুনে হুযুর (সাঃ) আশ্চার্যান্বিত হয়ে বললেন,আমার দেশবাসী কি আমাকে বিতারিত করবে ? উত্তরে ওয়ারাকা বললেন,হ্যাঁ ! আপনি যে সত্য ধর্ম নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, আপনার ন্যায় যাঁরা পূর্বে এরূপ সত্য ধর্ম নিয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন,জগদ্বাসী তাঁদের সাথে শত্রুতা না করে ছাড়েনি। আমি আপনার সাথে কথা দিলাম,যদি আমি সে দিন জীবিত থাকি,তা হলে অবশ্যই প্রাণপণে আপনার সাহায্য করব।” এ ঘটনার অল্প কিছু দিন পরই ‘ওয়ারাকা ‘ পরলোকগমন করেন। এর পর প্রায় তিন বছর যাবত অহী বন্ধ ছিল। অহী বন্ধ থাকাকালীন অবস্থায় বর্ণনা প্রসঙ্গে জাবের বিন আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ) বলেন,রাসুল (সাঃ) এ প্রসঙ্গে ফরমান একদা আমি পথচলার সময় আসমানের দিক থেকে বিকট আওয়াজ শুনতে পেয়ে উপর দিকে নজর করে দেখতে পেলাম,যে ফেরেশতা হেরা পর্বত গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন,সেই ফেরেশতাই আসমান যমীনের মধ্যখানে একটি চেয়ারে উপবিষ্ট আছেন। তাঁর এ অবস্থা দেখে আমি ভীষন ভয় পেয়ে গেলাম। ভয়ার্ত অবস্থায় বাড়ী ফিরে এসেআমি বললাম,তোমরা আমাকে গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও, গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও। এ অবস্থায় আমার উপর পবিত্র কোরআনের সূরা মুদ্দাসসের ৫টি আয়াত অবতীর্ন হয়।যথা– উচ্চারণ :- ইয়া আইয়্যূহাল মুদ্দাসসির, কু’ম ফাআনযির , ওয়া রাব্বাকা ফাকাব্বির, ওয়া সিয়াবাকা ফাতোয়াহরী ওয়াররুজযা ফাহজুর। অর্থ- হে বসনাবৃত ! উঠুন, আপনি লোকদেরকে সতর্ক করে দিন। আপনার প্রভুর মহিমা প্রচার করুন। আপনার পরিচ্ছদ পবিত্র করুন এবং মলিনতা দুর করুন। (পারা-২৯, সুরা-৭৪, আয়াত-১-৫)। এর পর থেকে তাঁর উপর পর পর অহী অবতীর্ন হতে লাগল। (ছহীহ বোখারী শরীফ,পৃষ্ঠা ৮২-৮৪) । ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,প্রথম প্রথম যখন অহী অবর্তীন হত,তখন রাসুল(সাঃ) তা স্বরণ রাখার জন্য অনকে কষ্ট করতনে। জিব্রাঈল (আঃ) অহী পড় শুনাবার সময় হুযুর (সাঃ) ওষ্ঠদ্বয় নাড়াত শুরু করতনে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) এ হাদীস বর্ণনাকলে লোকদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, রাসুল(সাঃ) যেমনিভাবে ওষ্ঠদ্বয় নাড়াচাড়া করতেন,আমিও তোমাদেরকে তেমনিভাবে নাড়িয়ে দেখাচ্ছি।আর সাঈদ বিন জোবায়র (রঃ) বলেন,আমি আমার ওষ্ঠদ্বয় এমনিভাবে নাড়াচ্ছি যেরূপভাবে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) নাড়াতেন। অতঃপর মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের আয়াত অবর্তীণ করলেন- উচ্চারণ- “লা-তুহাররিক বিহী লিসানাকা লিতা’জালা বিহী। ইন্না আ’লাইনা জামআ’হ ওয়া কোরআনহু”। অর্থ-”আপনি তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার উদ্দেশে ওষ্ঠদ্বয় নাড়াবেন না, পবিত্র কোরআন আপনার অন্তরে সংরক্ষন এবং পাঠ করানো স্বয়ং আমারই দায়িত্ব।” সুতরাং যখন পবিত্র কোরআন আপনার হযরত জিব্রাঈল (আঃ) পাঠ করেন,তখন আপনি কেল ধৈর্য সহকারে নিশ্চুপ তা শ্রবণ করুন। তারপর তা বর্ণনা করাবার পাঠ করাবার দায়িত্ব আমার।এরপর থেকে যখনই হযরত জিব্রাঈল (আঃ) রাসুল(সাঃ)-এর নিকট অহী নিয়ে আসতেন, তিনি তা মনযোগ সহকারে শ্রবণ করতেন। তারপর হযরত জিব্রাঈল (আঃ) যখন চলে যেতেন তখন তিনি এমন ভাবে পাঠ করতেন,যেভাবে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) পাঠ করেছিলেন। (ছহীহ বোখারী, পৃষ্ঠা-৮৪)

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
07 অগাস্ট 2013 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আরিফুল (6,380 পয়েন্ট)
1 উত্তর
1 উত্তর
21 এপ্রিল 2014 "আন্তর্জাতিক" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আমি শামিম (949 পয়েন্ট)

270,852 টি প্রশ্ন

353,963 টি উত্তর

105,018 টি মন্তব্য

143,676 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...