682 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (6,525 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (6,525 পয়েন্ট)
হাজারটা কারণ দেখাতে পারি যে, কেন আপনি এই সুবর্ণ সুযোগ মিস করবেননা । কি সেই সুযোগ? আছে আছে...এমনি এক সুযোগ জুল-হাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে। হাজ্জ শুধু যে হাজিদের জন্য নয় , আমাদের জন্য এক অফুরন্ত রহমত বয়ে আনে, তা আমাদের অনেকেরই অজানা। যে কোন  ভাল কাজের পুরস্কার এই দশ দিনে সবচেয়ে বেশি প্রতিদান দেয়া হয় , বছরের যে কোন দিন থেকে । হ্যাঁ এমনকি রামাদান থেকেও। আল্লাহর খাস রহমত যে, তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য এমন কিছু মওসুম নির্ধারণ করে দিয়েছেন যাতে নেক আমল করে তারা তাদের আমলসমূহ বর্ধিত করে নিবে, এ সমস্ত মওসুমের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি মওসুম হলোঃ

 

জ্বিলহজ্জের প্রথম দশ দিন

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"এ দশ দিনে অনুষ্ঠিত যে কোন নেক কাজের চেয়ে উৎকৃষ্ট আর কোন দিনে কোন নেক কাজ হতে পারে না"। সাহাবায়ে কিরাম প্রশ্ন করলেনঃ  এমনকি জিহাদও এর মত নয়?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ  "জিহাদও এর সমপর্যায়ের নয়, অবশ্য যদি কেউ এমনভাবে জিহাদে বের হয় যাতে নিজের জান মাল সব কিছুই ব্যয় করেছে, তারপর আর কিছু নিয়ে ফিরে আসেনি" (তাহলে এমন ব্যক্তির মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে)। [বুখারীঃ হাদীস নং- ৯৬৯, আবু দাঊদঃ ২৪৩, তিরমিযীঃ ৭৫৭,৭৫৮, ইবনে মাজাহঃ ১৭২৭, ১৭২৮, দারেমীঃ ১৭৭৩, ১৭৭৪]।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মহান দিন হলো কুরবানীর দিন, তারপর (মীনায়) অবস্থানের দিন" [আবু দাউদঃ ১৭৬৫]

 

 

এখানে কুরবানীর দিন হলো দশ তারিখ, আর অবস্থানের দিন হলোঃ আইয়ামে তাশরীকের দিন তথা এগার, বার, এবং তেরই জ্বিলহজ্জ।

আল্লামা ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ

এ দশদিনের এত ফযীলতের কারণ আমার কাছে যা স্পষ্ট হচ্ছে তা হলোঃ এ দিনগুলোতে যাবতীয় বড় বড় ইবাদাতসমূহ একত্রিত হয়ে থাকে, যেমনঃ সালাত, রোজা, সাদকাহ তথা দান খয়রাত, এবং হজ্জ। এ দিনগুলো ছাড়া অন্য সময়ে এত ইবাদাত একত্র হয়না। [ফাতহুলবারী ২/৫৩৪]

 

 

 আলেমগণ বলেনঃ যাবতীয় দিনের মধ্যে জ্বিলহজ্জের প্রথম দশদিন সবচেয়ে উত্তম দিন, আর যাবতীয় রাত্রিসমূহের মধ্যে রমজানের শেষ দশ রাত্রি উত্তম রাত্রি।

তাই বুঝতেই পারছেন , এই দশ দিন কত মহিমান্বিত! আপনি কি করবেন ? এখানে আপনার জন্য কিছু suggestion রইল ঃ

১।  আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

 "এ দশ দিনে অনুষ্ঠিত যে কোন নেক কাজ অন্যান্য সময়ে কৃত অন্য কোন নেক কাজের চেয়ে আল্লাহর কাছে অনেক বেশী মর্যাদাসম্পন্ন, এবং বেশী প্রিয়। সুতরাং তোমরা এ দিনগুলোতে বেশী করে

    তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ),
    তাকবীর (আল্লাহু আকবার),
    তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ কর"।[ইমাম আহমাদ তার মুসনাদেঃ ২/৭৫,১৩১]।
    তাসবিহ (সুবহানআল্লাহ)  

এই যিকির গুলো আমরা এই দশ দিনে মাসজিদে, ঘরে, বাইরে সবখানে (যেসব জায়গায় পরা অনুমোদিত) জোরে জোরে পড়ব । মেয়েরা আস্তে আস্তে পড়ব ।

ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ

 

"ইবনে উমর এবং আবুহুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা জ্বিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন তাকবীর দিতে দিতে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হতেন, আর লোকেরা তাদের তাকবীর শুনে তাকবীর দিতেন"। [সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল 'ঈদাইন, বাবঃ ফাদ্বলুল 'আমালি ফী আইয়ামিত তাশরীক্ব]

তিনি আরো বলেনঃ "

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মিনায় তার তাঁবুতে এমনভাবে তাকবীর বলতেন যে, মসজিদেও তা শুনা যেত, ফলে মসজিদে অবস্থানকারীগণও তার তাকবীর শুনে এমনভাবে তাকবীর দিতেন যে, সমস্ত মিনা তাকবীর ধ্বনীতে প্রকম্পিত হত"।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা মিনাতে এ দিনগুলিতে তাকবীর দিতেন, প্রত্যেক সালাতের পরে, শয্যা গ্রহণের সময়ে, তাঁবুতে অবস্থানকালীন সময়ে, বৈঠকখানায়, হাঁটা চলার সময়, সর্বাবস্থায়।

২. সালাতঃ  বেশী বেশী নফল সালাত আদায় করা, বিশেষ করে সালাতের জন্য আগে আগে হাযির হওয়া। এমনিতেই সালাত অতি উত্তম কাজ, তার উপর রয়েছে এ সময়ের ইবাদাত। মূলতঃ যে কোন ফযীলতের সময়ের ইবাদাত অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশী সওয়াবের কারণ।

৩। আরাফার দিনে রোযা পালন  : ৯ জিলহাজ্জ হাজ্জের দিনে রোযা রেখে (যারা হাজী নন)  আপনি আপনার পূর্বের ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে নিতে পারেন। কে হারাবে এমন সোনালি সুযোগ?

৪।বেশী বেশী করে সৎকাজ করাঃ  যেমন, সাদাকা প্রদান, জিহাদে অংশ গ্রহণ, কুরআন পাঠ, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের থেকে মানুষকে নিষেধ করা ( যেমন- টিভি দেখা থেকে দূরে থাকা, গান না শোনা ইত্যাদি) মা-বাবার সাথে ভাল ব্যবহার , পাড়া-প্রতিবেশির খোঁজ খবর  , আত্মীয়তার সম্পর্ক মজবুত করা কেননা, এই সমস্ত নেক কাজ বেশী বেশী সওয়াবের অধিকারী করে।

৫। সবচেয়ে important  যে কাজ তা হলঃ খাঁটি মনে আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং সকল পাপ কাজ ছেড়ে দেয়া। তাওবাহ মানেই হচ্ছে , আল্লাহর দিকে ফিরে আশা আর চিরতরে ওই সব কাজ ছেড়ে দেয়া ,যা গোপনে ও প্রকাশে করি, যা আল্লাহ অপছন্দ করেন । যেমনঃ সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেয়া , গীবত বাদ দেয়া , গান শোনা বাদ দেয়া ...ইত্যাদি ।

৬।  কুরবানী করাঃ আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজের হালাল মাল থেকে কোরবানীর পশু কিনে তা জবাই করা।যারা কুরবানি দিবেন তাদের জন্য সুননাত হল তারা চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকবেন এবং চামড়া থেকে চুল বা পশম টেনে তুলবেন না ।

৭। এগুলো ছাড়াও আপনি এ সময়টাতে সবসময়ে ওযুর সাথে থাকতে চেষ্টা করবেন । রাত জেগে  কীয়াম-আল-লাইল (তাহাজ্জুদ) পরবেন। সবসময় ভাল চিন্তা আর দোয়া করবেন নিজের জন্য , সোমালিয়ার অসহায় বাচ্চাদের জন্য , দেশের জন্য ......আর এই বোনের জন্য, আমি আপনাদের সকলের দোয়া প্রার্থী ।

এগুলো ছাড়াও আপনি আরো অনেক সুন্দর SCHEDULE তৈরি করতে পারেন , আপনার রুটিন অনুযায়ী । মনে রাখবেন, আপনার জীবনে দুইটাই সুযোগ আছেঃ

১। যা আপনি ALREADY MISS করেছেন

২। আর যে সুযোগ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে...

তাই , কোনভাবেই এই বরকতময় সময় হাতছাড়া করবেন না

আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম এ দিনগুলোতে বেশী বেশী সৎকাজ করে তাঁর প্রিয় বান্দা হবার তাওফীক দান করুন। আমীন

 

***

source: Lecture of Yasir Qadri

মোঃ আরিফুল ইসলাম বিস্ময় ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা। খানিকটা অস্তিত্বের তাগিদে আর দেশের জন্য বাংলা ভাষায় কিছু করার উদ্যোগেই ২০১৩ সালে তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে বিস্ময় ডট কম। পেশাগত ভাবে প্রোগ্রামার।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
25 নভেম্বর 2016 "কৃষি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Mahfiz kaif hemal (8 পয়েন্ট)
1 উত্তর
05 ডিসেম্বর 2015 "জলবায়ু ও পরিবেশ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Fahim hasan (12 পয়েন্ট)
1 উত্তর
1 উত্তর
09 ফেব্রুয়ারি 2015 "বাংলাদেশ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Arif Arman (10 পয়েন্ট)
1 উত্তর
07 এপ্রিল 2014 "কৃষিবিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন salehahmed (labib) (10,668 পয়েন্ট)

228,693 টি প্রশ্ন

292,890 টি উত্তর

80,880 টি মন্তব্য

114,553 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
  1. মোঃ খোকন মিয়া

    636 পয়েন্টস

  2. আল আমিন ভাই

    610 পয়েন্টস

  3. Samiul islam Sagor

    586 পয়েন্টস

  4. Sabirul Islam

    571 পয়েন্টস

  5. মো: বোরহান হোসেন

    556 পয়েন্টস

* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...