123 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (6,530 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (6,530 পয়েন্ট)
ইসলামের বিধান সর্বকালের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। কুরআন ও হাদীসে বিশেষ বিশেষ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। বিশেষ করে যে বিষয়গুলো কুরআন নাযিলের সমসাময়িক যুগে বর্তমান ছিল তার সমাধান দিয়েছে বা ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে তার সমাধান দেয়া হয়েছে বা যেগুলো পরবর্তীতে হবে তার সমাধানের জন্য কিছু কিছু সূত্র দিয়ে দিয়েছে যার মাধ্যমে সর্বদা যে কোন বিষয়ের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া খুবই সহজ হয়। সুত্র দ্বারা বিচার করলে সর্বদা কোন কিছুর লেটেস্ট সমাধান পাওয়া যায়। ফলে, প্রাচীন যুগের জন্য এটা প্রযোজ্য ছিল এখন আর নেই এটা বলার কোন উপায় থাকে না।

 

প্রথম পদ্ধতিঃ এক মহিলার গর্ভ থেকে কোষ নিয়ে অপর মহিলার গর্ভে সন্তান উৎপাদন বৈধ হবে না ।

দলীলঃ

১। ইসলামী শরীয়ত সম্মত পন্থায় বিভিন্ন শর্ত ও যথাযথ নিয়ম সাপেক্ষে বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর সংসার করার মাধ্যমে সন্তান হওয়া উচিত। আল্লাহ বলেনঃ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً

অর্থাৎ, হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র প্রাণ থেকে। আর তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া। আর তাদের দু'জনের মাধ্যমে অনেক পুরুষ ও নারীর প্রসার ঘটিয়েছেন। (সুরা নিসাঃ ১)

* وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً

অর্থাৎ, আমি আপনার পূর্বে অনেক রাসুল পাঠিয়েছি আর তাদের জন্য জোড়া ও বংশ সৃষ্টি করেছি। (সুরা রা'দঃ ৩৮)

* وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَنِينَ وَحَفَدَةً অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদের জন্যে তোমাদেরই শ্রেণী থেকে জোড়া পয়দা করেছেন। এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদেরকে পূত্র ও পৌত্রাদি দান করেছেন। (সুরা নাহলঃ ৭২)

 

ক্লোনিং পদ্ধতিটা বৈবাহিক সম্পর্কের আওতায় হয় না। উপরোক্ত (১ নং পদ্ধতিতে) দুই মহিলার কেহই অপরের স্বামী হতে পারে না। আর দুই মহিলার ভিতরকার বিবাহ ও দৈহিক সম্পর্ক অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

২। দুই মহিলার মধ্যকার দৈহিক সম্পর্ক আরবীতে যাকে বলে "সিহাক" হারাম। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মতে তা হারাম। আবু দাউদ শরীফে এর নিষিদ্ধতা সম্বন্ধে একটি হাদীস এসেছে। এছাড়াও "ইশারাতুন নাস" তথা কুরআন হাদীসের ইংগিত দ্বারা এটার নিষিদ্ধতা প্রমাণিত হয়েছে।

৩। সব মানুষের চাই সে পুরুষ হোক বা মহিলা কিছু চাহিদা আছে তন্মধ্যে জৈবিক চাহিদা অন্যতম যে চাহিদা মেটানো তার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়। সেটা বিবাহের মাধ্যমে হালাল পন্থায় বা বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ পন্থায় হতে পারে। এ জন্য আমরা দেখি ইসলাম বৈরাগ্যতাকে হারাম করেছে। আল্লাহ তায়ালা উন্নত ও সুন্দর পন্থায় বিবাহের মাধ্যমে এ চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা রেখেছেন। মহিলা প্রাকৃতিক সিস্টেম ছাড়া ক্লোনিং এর মাধ্যমে সন্তান নিলে তার উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাটি পুরণ হল না। তার স্বামী থাকলে বৈবাহিক বন্ধনের মাধ্যমে সন্তান হত। এটা সমাজে বিবাহের পথ রুদ্ধ করে দিতে পারে। যদি এটা এভাবে চলতে দেয়া হয় তাহলে সমাজে তা রেওয়াযে পরিণত হয়ে যেতে পারে। যা সমাজের পারিবারিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে। তাই, সে পথটা বন্ধ করে দিতে হবে। ইসলামী শরীয়তের একটা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা কায়েদা হচ্ছে- "যদি কোন কাজ অন্য কোন খারাপের দিকে টেনে নিয়ে যায় তাহলে তাও বৈধ হবে না"। এ সূত্র অনুযায়ী ক্লোনিং সিস্টেম ও বৈধ নয়।

৪। এ সিস্টেমে জন্ম নিবে কন্যা সন্তান, যার কোন পিতা নেই। এ শিশু এমনভাবে বেড়ে উঠবে যার কোন পিতা নেই । এটা তার জন্য মনোকষ্টের কারণ হবে। ইসলাম যেকোন ধরণের কষ্ট ও অনিষ্টতাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের সমাজে আমরা অহরহ দেখে থাকি যে, যারা এতিম অবস্থায় দুনিয়ায় আসে বা যাদের ছোট বয়সে পিতামাতা মারা যায় তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মনে মনে অত্যন্ত কষ্ট পেয়ে থাকে। তেমনিভাবে যাদেরকে মানুষ কুড়িয়ে পায় তাদেরও একই অবস্থা। শিশুরা যে সমস্ত কারণে মনোকষ্ট পায় তন্মধ্যে রয়েছে মানসিক ও শারিরীক কষ্ট। মানসিক কষ্টের মধ্যে রয়েছে যেমন পিতামাতার মধ্যকার শুধুমাত্র কোন একজনের সাথে থাকা হোক তাদের একজন মারা যাওয়ার কারণে বা তালাক দেয়ার কারণে ইত্যাদি।

ক্লোনিং সিস্টেমে জন্ম নেয়া শিশুও তেমনি সমাজের অন্যান্য সাধারণ মেয়ের মত থাকতে পারে না। সে এমন ভাবে সমাজে বেড়ে ওঠে যার কোন পিতা,চাচা,দাদা কেউ নেই। এ ধরণের মেয়ের বিবাহের সময় কেউ এগিয়ে আসবে না। এমন যুবক কে আছে যে পিতা-চাচা বিহীন এমন মেয়েকে বিবাহ করতে এগিয়ে আসবে? এর বিবাহ হলে তার সন্তানদের নানা থাকবে না। এছাড়াও প্রচুর সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়।

৫।রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ অর্থাৎ, যা সন্দেহ সৃষ্টি করে তা ছেড়ে দিয়ে যা সন্দেহ সৃষ্টি করে না তার দিকে যাও।(বুখারী,তিরমীজী,আহমদ)

 

বিজ্ঞানীরা এভাবে সন্তান সুস্থ হয়ে জন্মাবে কিনা তা বলেন নি। এমনও হতে পারে যে, সন্তানের শারিরীক ত্রুটি নিয়ে জন্ম হবে। গৃহীত কোষের বয়সানুপাতে তার বয়স কম হতে পারে। কিংবা, সন্তানের অভ্যাস অস্বাভাবিক হতে পারে। তাই,এগুলো থেকে সর্বদা আমাদের দূরে থাকা উচিত। আমাদের উচিত নয় মানুষকে শুধুমাত্র গবেষণার সামগ্রী হিসেবে গ্রহণ করা।

৬। একটি সুত্র পাওয়া যায় এগুলো নিয়ে যে, "যার অধিকার আছে কোন মহিলার সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করার শুধুমাত্র তারই অধিকার আছে স্ত্রীর গর্ভকে ব্যস্ত রাখার"। আর কোন নারীর জন্য বৈধ নয় যে, সে অপর কোন নারীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক রাখবে।

 

দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ কোন মহিলার নিজের শরীর থেকে কোষ নিয়ে তারই গর্ভে প্রতিস্থাপন করে সন্তান উৎপাদনের সিস্টেমটা ও বৈধ হবে না।

 

দলীলঃ উপরের ২য় ও ৬ষ্ঠ নং ছাড়া বাকীগুলো এর দলীল হিসেবে পরিগণিত হবে।

 

তৃতীয় পদ্ধতিঃ স্বামী ব্যতিত অন্য পুরুষের শরীর থেকে কোষ নিয়ে মহিলার গর্ভে প্রতিস্থাপন করে সন্তান উৎপাদন এটাও বৈধ নয়। কেননা, এটা সরাসরি ব্যভিচার না হলেও ব্যভিচারের কাছাকাছি পর্যায়ের। এটা হলে সমাজে বংশের মিশ্রনের দ্বার খুলে দেয় ব্যভিচারের মত। কে কার সন্তান তা জানার কোন সুরত অবশিষ্ট থাকবে না। সন্তান হবে শুধুমাত্র বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে। এগুলো চিন্তা-গবেষণা করা ছাড়াই বুঝা যায়।

 

চতুর্থ পদ্ধতিঃ নিজের স্বামীর শরীর থেকে কোষ নিয়ে সন্তান উৎপাদন করার বৈধাবৈধের বিষয়টা চিন্তা-গবেষণার দাবী রাখে। কেননা, এখানে ব্যাপারটা ব্যভিচারের সাথে যুক্ত নয়।



 

 

তবে, কিছু কিছু ইসলামিক স্কলার এটাকে নিষেধ করে থাকেন। তাদের দলীল সমুহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

 

কিছু সংখ্যক জীব বিজ্ঞানীর মতে এ সিস্টেমে সন্তান হলে সে হবে উক্ত স্বামীর জমজ ভাই। কারণ, ৪৬ ক্রোমোজমের মধ্যকার ২৩ টি আসে স্বামী থেকে বাকী ২৩ টি স্ত্রী থেকে। কিন্তু, এ সিস্টেমে তা হচ্ছে না বরং স্বামীর শরীরের ৪৬ টি ক্রোমোজমই কপি হয়ে অনুলিপি হিসেবে এখানে এসেছে যা উক্ত স্বামীর পিতামাতা থেকে এসেছে। এখানে উল্লেখিত স্ত্রী লোকের (যার গর্ভে রাখা হবে) কোন ক্রোমোজম এখানে প্রভাব ফেলে নি। সুতরাং, শিশু উক্ত স্বামীর ছেলে হবে না বরং ভাই বিবেচিত হবে। সুতরাং, এ পদ্ধতিও বৈধ নয়। তবে, জমজ ভাই বিবেচিত হওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেছেন কেননা, তারা দুজনে এক গর্ভ থেকে আসে নি। সুতরাং, জমজ হবে কিভাবে?

 
 

 

ইসমাইল একেবি

http://www.sonarbangladesh.com/blog/ismailakb/2708

মোঃ আরিফুল ইসলাম বিস্ময় ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা। খানিকটা অস্তিত্বের তাগিদে আর দেশের জন্য বাংলা ভাষায় কিছু করার উদ্যোগেই ২০১৩ সালে তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে বিস্ময় ডট কম। পেশাগত ভাবে প্রোগ্রামার।
closeWe

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
27 জুন 2015 "অ্যান্ড্রয়েড" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Dazzling ShiShir (-967 পয়েন্ট)
1 উত্তর
3 টি উত্তর
06 সেপ্টেম্বর 2014 "তথ্য-প্রযুক্তি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন এমি (5 পয়েন্ট)
1 উত্তর
06 ফেব্রুয়ারি 2014 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন ami.tokai (1,405 পয়েন্ট)

257,639 টি প্রশ্ন

336,086 টি উত্তর

97,674 টি মন্তব্য

134,675 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
closeWe
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...