49 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (6,525 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (6,525 পয়েন্ট)
"এই  একবিংশ শতাব্দীতে শিরোচ্ছেদের মতো বর্বর, মধ্যযুগীয়  আইন কিভাবে ???!!!! "

 

"আল্লাহ্‌র আইন ??!! হেহ! সৌদি সরকার নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের চামচামি করে !! ওরা আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠা করার কে ??!!"

 

 

উপরের  দুটো  লাইন, গত বছরের শেষ দিকে ব্লগ, ফেসবুকে বিভিন্ন "মুক্তমনা" নামের "ইসলামোফোবরা" ছড়িয়ে দিয়েছিল, অনেকেই না জেনে এই কথা গুলো বিশ্বাস ও করে ফেলেছিল, তারা আবার নিজের মতো ব্লগ  ,নোট ও লেখা শুরু করেছিল। কারণ অবশ্যই ৮ বাঙ্গালির শিরোচ্ছেদ...।

 

এই নোটে শিরোচ্ছেদের মতো "বর্বর" (!) আইনের কারণ সম্পর্কে বলব। তবে আগে বলে নিই আমি সৌদি সরকারের পক্ষে বলছি না, ইসলামের পক্ষে বলছি। একটা কথা আগে বলে নিই , সৌদি রাজপ্রধান পুরোপুরি ইসলাম  

মানেন না, ভালো কথা । তাই বলে তাঁর সব ভালো কাজ কে আপনি "অগ্রহণযোগ্য " বলতে পারবেন না। এই যেমন কাবার পুনর্নির্মাণ করেছিল মক্কার মুশরিকরা, এখন তাদের মুশরিক হওয়ার কারণে কেউ তো কাবাকে "অগ্রহণযোগ্য " বলে নি!!!একই ভাবে সৌদি রাজপ্রধান ইসলামিক শরীয়া  এর যতটুকু অংশ তাঁর দেশে প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর অপকর্মের জন্য আমরা তাঁর ভালো কাজ কে "অগ্রহণযোগ্য" বলতে পারি না।

 

যাক তবে শুরু করা যাক , কিসাস বর্ণনায় ক্বুরআনের ২ টা আয়াত দিলাম ,

 

"হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি

কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।" (২:১৭৮)"আমি এ গ্রন্থে তাদের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং যখম সমূহের বিনিময়ে সমান যখম। অতঃপর যে ক্ষমা করে, সে গোনাহ থেকে পাক হয়ে যায়। যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই জালেম।" (৫:৪৫) ব্যাপারটা এরকম না যে বিচার  শাস্তি দেওয়া হবে । অবশ্যই অভিযোগকারীকে প্রমাণ

 

দেখাতে হবে এবং সেখানে বিচার হবে । তারপর  অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীকে শাস্তি দেওয়া হবে । ৮ বাঙ্গালীর  ঘটনাই তার প্রমাণ। তাদের ধরা হয়েছিল  ২০০৭ সালের ১লা জানুয়ারি। আর শাস্তি কার্যকর হয়  ২০১১ সালের শেষ দিকে। কারন প্রায় ৫ বছর তাদের বিচার হয়েছে এবং তারা নিজদেরকে নির্দোষ  প্রমাণ করতে পারেন নি । অবশ্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও তাদের সাহায্য করেছিল কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।

 

আগে থেকে বলি এখানে কোন ধরণের  ইসলামিক  আইন (ফাতোয়া) দেওয়া হচ্ছে না , শুধুমাত্র কিসাসের  কারণ বলছি ।

 

কারণ ঃ   

 

কিসাসের আইনের কারণ টা খুবই সহজ । আর ে কারণ টা আসলে সবার ই জানা। আমি শুধু প্রমাণটা দিতে চাই। কারণ একটাই, যাতে সকল মানুষ  সতর্ক হয়ে ার খুন  না করে। যদি কোন লোক তাঁর সামনে কোন  প্রমাণিত খুনী কে  শিরোছছেদ হতে দেখে তাহলে এটাই স্বাভাবিক যে ও খুন করার আগে হাজার বার ভাববে। এটাই স্বাভাবিক। এখন  আপনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের  আইন প্রজবেক্ষন করে দেখেন তাহলে দেখবেন  যুক্তরাষ্ট্রে একজন খুনির   সর্বচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড  । একমাত্র না । উইকি পিডিয়া অনুযায়ী Civilian দের ক্ষেত্রে  ভাবে সেখানে  "Death Penalty"  হতে পারে যদি তা "Second degree murder by an inmate, even escaped, serving a life sentence" অথবা  "First degree murder" হয় । (http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_punishments_for_murder_in_the_United_States)

 

এবার আমাদের দেশে  দেখেন কি আইন ঃ সর্ব োচ্চ শাস্তি হল মৃত্যু , নাহলে সারাজীবন জেল ।

 

এখন যদি আপনি এই তিন দেশের খুনের পরিসংখ্যান দেখেন তাহলে দেখবেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি  দশলাখ মানুষের মধ্যে ৫ জনের  ও বেশি লোক খুন হয়। (৫.২২)বাংলাদেশে প্রতি  দশলাখ মানুষের মধ্যে ২ জনের বেশি লোক মারা যায়। (২.৪৫)আর সৌদি আরবে ??? ১ জনের ও কম !!!!!!  (.৮৬)  উৎস ঃ http://data.un.org/Data.aspx?d=UNODC&f=tableCode%3A1 এটি জাতিসংঘ দ্বারা পরিচালিত সাইট)এই উপাত্ত গুলো  ২০০৭ সালের নেওয়া । উল্লেখ্য সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা প্রায় সমান । যা বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ ।আবার এফবিআই অনুযায়ী ২০০৮ সালে প্রায় ১৪৮০০ জন লোক খুন হয় , অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৩৫ জন !!!(উৎসঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Crime_in_the_United_States ) এখন বলেন  কোন আইনটা বেশি কার্যকরী ?????

অবশ্যই কিসাসের আইনটা।এখন হয়তোবা কেউ কেউ বলতে পারেন যে," কিসাস তো শুধু একজনের জন্য একজন । পুরো ৮ বাঙ্গালীকে মারার কারণ কি ???"কথাটা ঠিক না।

উমার (আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন) এক ছেলের হত্যার ব্যাপারে বলেছিলেন  "যদি সানা'আ(বর্তমান ইয়েমেনের রাজধানী) এর সকল বাসিন্দা  যদি মিলে তাকেহত্যা করে তাহলে আমি তাদর সকলকে হত্যা করবো। "

(উৎসঃ তাফসীর ইবনে কাসির)

 

সবশেষে আবারো বলছি কোন আইনটা খুনের অপরাধ কমানোতে বেশি সহায়ক ???

মোঃ আরিফুল ইসলাম বিস্ময় ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা। খানিকটা অস্তিত্বের তাগিদে আর দেশের জন্য বাংলা ভাষায় কিছু করার উদ্যোগেই ২০১৩ সালে তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে বিস্ময় ডট কম। পেশাগত ভাবে প্রোগ্রামার।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
21 মার্চ 2017 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন happy melon (4 পয়েন্ট)

228,785 টি প্রশ্ন

293,063 টি উত্তর

80,927 টি মন্তব্য

114,607 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
  1. মোঃ খোকন মিয়া

    636 পয়েন্টস

  2. আল আমিন ভাই

    613 পয়েন্টস

  3. মো: বোরহান হোসেন

    597 পয়েন্টস

  4. Samiul islam Sagor

    595 পয়েন্টস

  5. Sabirul Islam

    574 পয়েন্টস

* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...