40 জন দেখেছেন
"সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (6,528 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (6,528 পয়েন্ট)
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

    The lamb thy riot dooms to bleed today,

    Had he thy reason, would he skip and play?

    Pleas'd to the last, he crops the flow'ry food,

    And licks the hand just rais'd to shed his blood.

    Oh blindness to the future! kindly giv'n,

    That each may fill the circle mark'd by Heav'n:

 

কবি আলেকজান্ডার পোপের এই চিত্রকল্পটি যখন প্রথম পড়েছিলাম তখনও আমি ইসলাম বোঝা শুরু করিনি। কিন্তু ব্যাপারটা আসলেই খুব মনে ধরেছিল। একটা ভেড়া যদি জানত আজ তার জীবনের শেষ দিন, সে কি লাফিয়ে লাফিয়ে খেলা করতে পারত? সেকি তার এতদিনের পালক কিন্তু ভবিষ্যত হন্তারকের হাত থেকে খাবার খেতে পারত? আসলে আল্লাহ অনেক দয়া করে ভাগ্যকে আমাদের সামনে অজানা রেখেছেন নয়ত আমরা একটি দিনও চলতে পারতামনা।

 

জ্ঞান প্রকাশ্যের আকাঙ্খা যাদের মধ্যে প্রবল তাদের বিতর্কের একটা প্রিয় বিষয় হচ্ছে ভাগ্য। অবশ্য শুধু পন্ডিত নয়, ভাগ্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করে সাধারণ মুসলিমরাও বিপদে পড়ে যায় প্রায়ই। ভাগ্য অদৃশ্য জগতের ব্যাপার। অতীতকে আমরা দেখি কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে তা কেউ জানে না। হস্ত-বিশারদ নামের কিছু বদ্ধ উন্মাদ ভবিষ্যত জানার দাবী করে কিন্তু এদের একটা কথা মেলে তো দশটা মেলে না। আরে ভবিষ্যত জানলে তো লটারীর টিকিট বা সস্তা শেয়ার কিনে বড়লোক হওয়া উচিত, মানুষের হাত ধরে ধাপ্পাবাজী কেন করা? মানুষ আসলে ভবিষ্যত জানে না, ভবিষ্যতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে আছে, আর কারো কাছে নেই। ইসলামে ভাগ্য সম্পর্কে শিক্ষাটা খুব স্পষ্ট যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অর্জন করা দরকারী, এতটাই জরুরী যে একে ঈমানের স্তম্ভ বলা হয়েছে। প্রায়োগিক জীবনে এ শিক্ষার সুফল - এতে জীবন সহজ হয়, খুব কষ্টের মুহুর্তগুলোকেও ইসলামের পরশপাথর দিয়ে বদলে দেয়া যায়।

 

আরবিতে ভাগ্যকে ক্বদর বলা হয়। মুসলিম হিসেবে এর ভালো ও খারাপ ফলাফলে বিশ্বাস ঈমানের অঙ্গ। ক্বদরের চারটি স্তর আছে -

 

১. জ্ঞান: আল্লাহর জ্ঞান অসীম। তিনি সৃষ্টি করার আগে থেকেই সব কিছু জানেন। পৃথিবী শুরু থেকে ধ্বংস অবধি কি হবে আর কি হবে না, কিভাবে হবে, কেন হবে সব তিনি জানেন।

 

২. কিতাব: আল্লাহ কিয়ামাত পর্যন্ত যা ঘটবে তার সব কিছু ‘লাওহে মাহফুয’ নামের একটি কিতাবে লিখে রেখেছেন।

 

৩. ইচ্ছে: আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তাই হয়। কোন কিছুই তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে হয় না। আবার তিনি যা ইচ্ছে করেন না তা হয় না।

 

৪. সৃষ্টি: আল্লাহ আমাদের যেমন সৃষ্টি করেছেন তেমন আমাদের সব কাজ, সব কথাও তিনিই সৃষ্টি করেছেন।১

 

আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করার পাশাপাশি সে জীবনে কী করবে, কত দিন বাঁচবে, কী খাবে, কোথায় জন্মাবে, কোথায় মারা যাবে ইত্যাদি সব কিছু ঠিক করে রেখেছেন। আল্লাহ যা ঠিক করে রেখেছেন তার বাইরে কিছুই হবে না। আল্লাহ যা চান সেটা হবেই, কেউ সেটা ঠেকাতে পারবে না। আর আল্লাহ যা চান না সেটা কোনভাবেই হবে না, সমস্ত পৃথিবীর মানুষ একসাথে চেষ্টা করলেও সেটা হবে না।২

 

আল্লাহ মানুষ ও জ্বীনকে এমন কিছু দিয়েছেন যা অন্য কাউকে দেননি, সেটা হল ইচ্ছেশক্তি।

 

অতএব যার ইচ্ছা, সে এটা থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক।৩

 

আল্লাহ ইচ্ছেশক্তি দেয়ার সাথে সাথে দু’ধরণের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন – সৎ ও মন্দ। আল্লাহ মানুষকে আদেশ করেছেন সে যেন ভাল পথে চলে আর খারাপ পথে না চলে। কিন্তু মানুষ কোন পথে চলবে সেটা আল্লাহ মানুষের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি মানুষকে দুই পথেই চলার ক্ষমতা দিয়েছেন, ভালো কাজ করার শক্তি দিয়েছেন তেমনি খারাপ কাজ করারও শক্তি দিয়েছেন। কিন্ত তিনি মানুষকে তার পছন্দ-অপছন্দের কথা জানিয়ে দিয়েছেন - যে ভালো পথ বেছে নেবে, ভালো কাজ করবে তাকে আল্লাহ পুরষ্কার দেবেন। আর যে খারাপ কাজ করবে, খারাপ পথে চলবে তাকে তিনি সেজন্য শাস্তি দেবেন। আল্লাহ যদিও পছন্দ করেন না যে মানুষ খারাপ কাজ করুক, তবুও যেহেতু তিনি মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছেশক্তি দিয়েছেন তাই তিনি সেই অপছন্দনীয় কাজটি করার সামর্থ্য এবং প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছেন। আল্লাহ জানেন মানুষ কী করবে, কিন্তু মানুষ নিজের ইচ্ছেতেই সেটা করবে।

 

একটা ছাত্র একেবারেই পড়াশোনা করে না। তার শিক্ষক তার পড়াশোনার অবস্থা দেখে বললেন যে, এই ছেলে পরীক্ষায় খারাপ করবে। ফল বের হবার পর দেখা গেল সত্যি সত্যি সে পরীক্ষায় ফেল করেছে। তাহলে পরীক্ষায় খারাপ করার জন্য কি সেই শিক্ষক দায়ী না সেই ছাত্র দায়ী? অবশ্যই সে ছাত্র দায়ী। ঠিক সেরকম আল্লাহ জানেন যে কে ভাল কাজ করবে আর কে খারাপ কাজ করবে। কিন্তু যেহেতু তার জ্ঞান কাউকে বাধ্য করেননি তাই যে যার নিজের কাজের জন্য দায়ী থাকবে।

 

একজন মানুষ কামারের কাছ থেকে একটা বটি কিনে আনল। এই বটি দিয়ে সে একদিন রাগের বশে তার স্ত্রীকে আঘাত করে মেরে ফেলল। এই ঘটনায় বটি তৈরীর কারণে কি কামারকে অভিযুক্ত করা যাবে? ছুরি-বটি ছাড়া রান্নাঘর চলেনা – তার বেশীরভাগ ব্যবহারই উপকারী। কিন্তু এটা দিয়ে যদি কেউ মানুষ মারে তাহলে বুঝতে হবে দোষটা উপকরণের নয়, ব্যবহারকারীর। ঠিক তেমন আল্লাহ আমাদের বুদ্ধি-বিবেক, অঙ্গ-প্র্ত্যঙ্গ তৈরী করে দিলেন, খাবারের মাধ্যমে শক্তি দিলেন এবং কোন একটা প্রেক্ষাপটে এনে উপস্থিত করলেন। তিনি আমাদের কাজের স্রষ্টা হলেও আমরা কি করব সেটা আমরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

মানুষ যেহেতু ভবিষ্যত জানে না, তাই তার কর্তব্য যখন আল্লাহ তাকে কোন পরিস্থিতিতে ফেলেন তখন কুর’আন এবং সুন্নাহের মোতাবেক আল্লাহর পছন্দ অনুযায়ী কাজ করা, আপন প্রবৃত্তিকে তোষণ না করা। যেমন, একটা বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আমি দেখলাম সুন্দরী বাছাই প্রতিযোগীতা চলছে। আবার ঘরের কোণে কুরআনুল কারীমের একটা অনুবাদও পেলাম। আল্লাহ মানুষকে দিয়ে টেলিভিশন তৈরি করিয়েছেন, এর অনুষ্ঠানগুলো তৈরি করিয়েছেন এবং এর চলার জন্য দরকারী শক্তি বিদ্যুতের উৎসও সৃষ্টি করেছেন। আবার কুর’আনের বাণী আল্লাহর নিজের, তিনি আলিমদের দিয়ে এর অনুবাদ করিয়ে নিয়েছেন, বিজ্ঞানীদের দিয়ে ছাপাখানা তৈরী করিয়ে নিয়েছেন। এখন আমি কী করব সেটাই আল্লাহ পরীক্ষা করে পুরষ্কার অথবা শাস্তি দেবেন। আমি যদি টিভিতে মেয়েদের নিলামে তোলার আয়োজন দেখি তাহলে শাস্তি পেতে হবে। যদি আমি ঐ সময় কুরআন পড়ে সময়টা পার করি তাহলে আল্লাহ আমাকে সেজন্য পুরষ্কার দেবেন।

 

কিছু প্রশ্ন ও ভুল ধারণা:

 

১. যদি আল্লাহ সবই জানেন তাহলে তিনি সবকিছু সৃষ্টি করতে গেলেন কেন?

 

জান্নাতে যাওয়া যাদের নিশ্চিত তাদের জান্নাতে দিলে তারা যে কিছু ভাল কাজ করে, কিছু ত্যাগের বিনিময়ে, প্রচেষ্টার বিনিময়ে জান্নাত পেয়েছে সেটা থাকত না। কিন্তু দুনিয়ার জীবন পার হয়ে যখন মানুষকে জান্নাতে দেয়া হবে, তার বুঝতে পারবে তারা কতটুকু কষ্ট করেছে আর তার বদলে কত বড় পুরষ্কার পেয়েছে। আর জাহান্নামীদের সরাসরি জাহান্নামে দিলে তারা আপত্তি তুলত, আল্লাহ অন্যায় বিচার করেছেন। দুনিয়াতে সময় কাটানোর ফলে তারা নিজেদের অন্যায়টা তারা বুঝতে পারবে। কেন সত্যের খোঁজ করেনি, সত্যটা পেয়েও মানেনি – এমর্মে আফসোস করতে থাকবে। আমরা জাহান্নামের শারীরিক শাস্তির বর্ণনা পড়ে ভয় পাই, কিন্তু সেখানে কি পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণা আছে তা কী ভেবে দেখেছি? ‘কেন ঐ খারাপ কাজটা করেছিলাম’ ‘কেন ঐ ভাল কাজটা করিনি’ – এই পরিতাপের মানসিক যন্ত্রণা এত ভয়াবহ যে মানুষ সারা জীবনে করা একটা ভুলের হিসেব না মেটাতে পারে আত্মহত্যা করে। কিন্তু সারাটা জীবন যখন মিথ্যা হয়ে যায়, সারাটা জীবন যখন পরিতাপের কারণ হয়ে যায় তখন অনুভূতিটা কি ভীষণ ভয়াবহ ভাবা যায়?

 

২. আল্লাহ খারাপ কাজ/কথা সৃষ্টি করলেন কেন? ভাল একজন সত্ত্বা কি খারাপ কিছু সৃষ্টি করতে পারে?

 বাকি অংশ দেখতে ক্লিক করুন
http://blog.sinhatalk.com/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%95%E0%A7%80-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-2/

মোঃ আরিফুল ইসলাম বিস্ময় ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা। খানিকটা অস্তিত্বের তাগিদে আর দেশের জন্য বাংলা ভাষায় কিছু করার উদ্যোগেই ২০১৩ সালে তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে বিস্ময় ডট কম। পেশাগত ভাবে প্রোগ্রামার।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

2 টি উত্তর
11 জানুয়ারি "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন জয় মাহমুদ (-3 পয়েন্ট)
1 উত্তর
06 অক্টোবর 2017 "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Shariful002 (3 পয়েন্ট)

240,536 টি প্রশ্ন

310,371 টি উত্তর

88,073 টি মন্তব্য

122,640 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
  1. Porimol ray

    1002 পয়েন্টস

  2. আকবর আলী

    756 পয়েন্টস

  3. আশরাফুজ্জামান আশিক

    618 পয়েন্টস

  4. সুন্দর ইসলাম

    538 পয়েন্টস

  5. Arnob Das shuvo

    447 পয়েন্টস

* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...