52 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (6,525 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (6,525 পয়েন্ট)
প্রত্যেক মুসলমান নিশ্চয়ই একথা জানে যে, আল্লাহ তা’য়ালা মুসলমানকে পছন্দ করেন এবং কাফেরকে অপছন্দ করেন৷ মুসলমানের গোনাহ্ ক্ষমা করা হবে কাফেরের অপরাধের কোন ক্ষমা নেই৷ মুসলমান জান্নাতে যাবে এবং কাফের জাহান্নামে৷ কিন্তু মুসলমান এবং কাফেরের মধ্যে এতখানি পার্থক্য কেন হলো, সেই সম্বন্ধে একটু গভীরভাবে চিন্তা করা আবশ্যক৷ কাফের ব্যক্তিরা যেমন হযরত আদম (আলাইহি সালাম)-এর সন্তান, মুসলমানরাও তেমনি তাঁর সন্তান৷ মুসলমানদের মত তাদেরও হাত-পা, চোখ-কান সবই আছে৷ তাদের জন্ম এবং মৃত্যু মুসলমানদের মতই হয়৷ যে আল্লাহ মুসলমানদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকেও তিনিই সৃষ্টি করেছেন৷ তাহলে মুসলমান কেন জান্নাতে যাবে আর তারা কেন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে? একথাটি বিশেষভাবে চিন্তা করে দেখা আবশ্যক৷

 

মুসলমানদের এক একজনের নাম রাখা হয়েছে আবদুলাহ,আবদুল হামিদ বা তদনুরূপ অন্য কোন নাম, অতএব তারা মুসলমান৷ আর কিছু লোকের নাম রাখা হয়েছে দীলিপ, জগদীশ, জন প্রভৃতি, কাজেই তারা কাফের; কিংবা মুসলমানগণ খতনা করায়, আর তারা তা করায় না৷ মুসলমান গরুর গোশত খায়, তারা তা খায় না_ শুধু এটুকু কথার জন্যই মানুষে মানুষে এতবড় পার্থক্য হতে পারে কি?

 

আল্লাহ তায়ালাই যখন সমস্ত মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং সকলকেই তিনি লালন-পালন করেন তিনি এতবড় অন্যায় কখনও করতে পারেন না৷ কাজেই তিনি এ রকম সামান্য বিষয়ের কারণে তাঁর সৃষ্ট এক শ্রেণীর মানুষকে অকারণে দোযখে নিক্ষেপ করবেন তা কিছুতেই হতে পারে না৷

 

বস্তুত উভয়ের মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য কেবলমাত্র কুফরি ও ইসলামের

 

ইসলামের অর্থ-আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করা এবং কুফরীর অর্থ আল্লাহকে অস্বীকার করা, অমান্য করা ও আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হওয়া৷ মুসলমান ও কাফের উভয়ই মানুষ, উভয়ই আল্লাহ তা’য়ালার সৃষ্ট জীব, তাঁরই আজ্ঞাবহ দাস৷ কিন্তু তাদের একজন অন্যজন অপেক্ষা এজন্য শ্রেষ্ঠ যে, একজন নিজের প্রকৃত মনিবকে চিনতে পারে, তার সাথে কাউকে শরীক করে না, তাঁর আদেশ পালন করে এবং তাঁর অবাধ্য হওয়ার দুঃখময় পরিণামকে ভয় করে৷ কিন্তু অন্যজন নিজ মনিবকে চিনে না এবং তাঁর আদেশ পালন করে না, এজন্যই সে অধঃপাতে চলে যায়৷ এ কারণেই মুসলমানদের প্রতি আল্লাহ তা’য়ালা সন্তুষ্ট এবং কাফেরের প্রতি অসন্তুষ্ট, মুসলমানকে জান্নাতে দেয়ার ওয়াদা করেছেন এবং কাফেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার ভয় দেখিয়েছেন৷ “যেসব লোক ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে, নিঃসন্দেহে তারাই সৃষ্টির সেরা৷ তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত৷ তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল৷ আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট৷ এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় করে৷” (সূরা বাইয়্যেনাঃ ৭-৮)

 

মুসলমানকে কাফের হতে পৃথক করা যায় মাত্র দু‘টি জিনিসের ভিত্তিতেঃ প্রথম, ইলম বা জ্ঞান; দ্বিতীয়, আমল বা কাজ৷ অর্থাৎ প্রত্যেক মুসলমানকে প্রথমেই জানতে হবে যে, তার প্রকৃত মালিক কে? কি তাঁর আদেশ ও নিষেধ? কিসে তিনি সন্তুষ্ট হন আর কিসে তিনি অসন্তুষ্ট হন এসব বিস্তৃতভাবে জেনে নেয়ার পর মালিকের মর্জিমত চলবে, তার মন যদি মালিকের ইচ্ছার বিপরীত কোন বস্তুর কামনা করে তবে সে নিজের মনের কথা না শুনে মালিকের কথা শুনবে৷ কোন কাজ যদি নিজের কাছে ভাল মনে হয়, কিন্তু মালিক সেই কাজটিকে ভাল না বলেন, তবে তাকে মন্দই মনে করবে৷ আবার কোন কাজ যদি নিজের মনে খুব মন্দ বলে ধারণা হয়, কিন্তু মালিক তাকে ভাল মনে করেন এবং কোন কাজ যদি নিজের পক্ষে ক্ষতিকর বলে মনে হয় অথচ মালিক যদি তা করার হুকুম দেন, তবে তার জান ও মালের যতই ক্ষতি হোক না কেন, তা সে অবশ্যই করবে৷ আবার কোন কাজকে যদি নিজের জন্য লাভজনক মনে করে, আর মালিক তা করতে নিষেধ করেন তবে তাতে দুনিয়ার সমস্ত ধন-সম্পত্তি লাভ করতে পারলেও তা সে কখনই করবে না৷

 

ঠিক এ ইলম ও এরূপ আমলের জন্যই মুসলমান আল্লাহ তা‘য়ালার প্রিয় বান্দাহ৷ তার ওপর আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হয় এবং আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে সম্মান দান করবেন৷ উল্লেখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে কাফের কিছুই জানে না এবং জ্ঞান না থাকার দরুনই তার কার্যকলাপ ও তদ্রুপ হয় না৷ এ জন্য সে, আল্লাহ তাআলা সম্বন্ধে একেবারে অজ্ঞ এবং তাঁর অবাধ্য বান্দাহ৷ ফলত সে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ হতে বঞ্চিত হবে৷

 

যে ব্যক্তি নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দেয়,অথচ কাফেরদের মতই জাহেল বা অজ্ঞ এবং আল্লাহ তা’য়ালার অবাধ্য, এমতাবস্থায় কেবল নাম, পোশাক ও খানা-পিনার পার্থক্যের কারণে সে কাফের অপেক্ষা কোনভাবেই শ্রেষ্ঠ হতে পারে না, আর কোন কারণেই সে ইহকাল ও পরকালে আল্লাহ তা’য়ালার রহমতের হকদার হতে পারে না৷ এরশাদ হচ্ছেঃ “ইহাদিগকে জিজ্ঞাস কর, যে জানে ও যে জানে না ইহারা উভয় কি কখনো সমান হতে পারে? বুদ্ধি সম্পন্ন লোকেরাই তো নসীহত কবুল করিয়া থাকে৷” (যুমারঃ ৯)

 

“প্রকৃত কথা এই যে, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল ইলম সম্পন্ন লোকেরাই তাঁহাকে ভয় করে৷” (ফাতিরঃ ২৮) ইলম (জ্ঞান) হচ্ছে বান্দার প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ৷ তিনি যে বান্দার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তাকে ইলম বা জ্ঞান দান করেন৷ এটা সেই জ্ঞান যা ওহী হিসাবে মহান আল্লাহ নাযিল করেছিলেন রাসূল (সাঃ) এর প্রতি কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান এবং এর থেকে উদ্ভুত শাখা প্রশাখাসমূহ৷ ওহীর এই জ্ঞান এতই মর্যাদাপূর্ণ যে একে ইলম শরীফ হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে৷ “আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমাত নাযিল করেছেন এবং তোমাকে এমন জ্ঞান জানিয়ে দিয়েছেন যা তোমার জানা ছিল না৷ বস্তুতঃ তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ বিরাট৷“(আন নিসাঃ ১১৩)

 
 

 

 

এটাই হচ্ছে সেই জ্ঞান যাহা মৃত হৃদয়কে জীবন্ত ও আলোকিত করে এবং বিপন্ন মানবতাকে অন্ধকারের গভীর থেকে আলোতে নিয়ে আসে

 

“যে ব্যক্তি প্রথমে মৃত ছিল, পরে আমরা তাহাকে জীবন দান করিলাম এবং তাহাকে সেই রৌশনী দান করলাম যাহার আলোক-ধারায় সে লোকদের মধ্যে জীবন-যাপন করে, সে কি সেই ব্যক্তির মত হইতে পারে, যে ব্যক্তি অন্ধকারের মধ্যে পড়িয়া রহিয়াছে এবং তাহা হইতে কোনক্রমেই বাহির হয়না? কাফেরদের জন্য এই রকমই তাহাদের আমলকে চাকচিক্যময় বানাইয়া দেওয়া হইয়াছে৷” (সূরা আন‘আমঃ ১২২)

 

যাদেরকে কুরআনে বলা হয়েছে সবচেয়ে ভাল এবং সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী তারা হচ্ছে সেইসব লোক যারা ইল্ম অর্জন করে,সে অ নুযায়ী আমল করে ও অন্যদের কাছে তা পৌছিয়ে দেয় (আহলুল ইলম)৷ কিন্তু দলীল রয়েছে যে,যারাই ইলম অনুযায়ী আমল করে না তারা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত৷“হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা কেন সেই কথা বল যাহা কার্যতঃ কর না? আল্লাহর নিকট ইহা অত্যন্ত ক্রোধ উদ্রেককারী ব্যাপার যে, তোমরা বলিবে এমন কথা যাহা কর না” (আস-সাফঃ ২-৩)

 

 

ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) তাঁর ‘মাজমুআ আল-ফাতওয়াতে’ বলেন যে যারাই ইলম অর্জন করে তাঁরা হচ্ছেন আম্বিয়া কেরামের উত্তরাধিকারী ও রাসূল (সাঃ) এর খলিফা৷ তাঁরা সেই মাটির মত যেখানে পানি জমা হয় ও সবুজ ঘাস জন্মে৷ আল্লাহ ঈমানদারগণকে সেই জ্ঞান দান করেন যা তারা জানত না, এরশাদ হচ্ছে “যেমন (এই দিক দিয়া তোমরা কল্যাণ লাভ করিয়াছ যে,) আমি তোমাদের প্রতি স্বয়ং তোমাদেরই মধ্য হইতে একজন রসূল পাঠাইয়াছি, যে তোমাদিগকে আমার আয়াত পড়িয়া শুনায়; তোমাদের জীবন পরিশুদ্ধ ও উৎকর্ষিত করিয়া তোমাদিগকে কিতাব ও হিকমতের শিক্ষা দেয় এবং যেসব কথা তোমাদের অজ্ঞাত, তাহা তোমাদিগকে জানাইয়া দেয়৷“ (বাকারাহঃ -১৫১)

বাকি অংশ http://blog.sinhatalk.com/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%93-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE/

মোঃ আরিফুল ইসলাম বিস্ময় ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা। খানিকটা অস্তিত্বের তাগিদে আর দেশের জন্য বাংলা ভাষায় কিছু করার উদ্যোগেই ২০১৩ সালে তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে বিস্ময় ডট কম। পেশাগত ভাবে প্রোগ্রামার।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
31 অগাস্ট 2014 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Ferdausi (5,333 পয়েন্ট)
1 উত্তর
01 অক্টোবর 2013 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আরিফুল (6,525 পয়েন্ট)
1 উত্তর
22 জানুয়ারি 2014 "ঈমান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rafia Begum (1,096 পয়েন্ট)

228,815 টি প্রশ্ন

293,121 টি উত্তর

80,949 টি মন্তব্য

114,630 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
  1. মোঃ খোকন মিয়া

    636 পয়েন্টস

  2. আল আমিন ভাই

    613 পয়েন্টস

  3. Samiul islam Sagor

    604 পয়েন্টস

  4. মো: বোরহান হোসেন

    597 পয়েন্টস

  5. Sabirul Islam

    583 পয়েন্টস

* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...