বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
282 জন দেখেছেন
"ফাতাওয়া-আরকানুল-ইসলাম" বিভাগে করেছেন (13 পয়েন্ট)

কোরআানে ও হাদিসের আলোকে গান-বাজনা হারাম

তার লিখিত রেফারেন্স চাই

একজন পীরপন্থির প্রশ্নের জবাব দেবার জন্য 

2 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (3,186 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর
ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে গান-বাজনা করা ও শোনা হারাম ও কবীরা গোনাহের অন্তর্ভূক্ত। তা যে কোন গানই হোক না কেন। যেমনঃ নবী তত্ত্ব, মুর্শীদি, জারী, কাওয়ালী, পল্লীগীতি, ভাওয়ালী, ভক্তিমূলক ইত্যাদি যে কোন প্রকার গানই হোক না কেন। তবে, বাজনা বা বাদ্য-যন্ত্র ব্যতীত আল্লাহ তায়ালার গুনাবলী বিষয়ে হামদ, না’ত, কাসীদা, গজল ইত্যাদি পাঠ করা ও শোনা জায়েয রয়েছে। গান-বাজনা হারাম হওয়া সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত হচ্ছেঃ আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ "আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, আর তারা ঐগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে।" ***সূরা লুকমানঃ আয়াতঃ ৩১:৬। এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ‘লাহওয়াল হাদীছ’ অবলম্বন করে, সে দোজখের কঠিন শাস্তি প্রাপ্ত হবে, কাজেই তা হারাম। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ‘লাহওয়াল হাদীছ’ কি? উক্ত আয়াত-এ বর্ণিত ‘লাহওয়াল হাদীছ’-এর ব্যাখ্যায় তাফসীরে ইবনে কাছীরঃ ৮ম খণ্ড, ৩/৪ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছেঃ ‘লাহওয়াল হাদীছ’-এর অর্থ- সঙ্গীত বা গান-বাজনা। বেশীর ভাগ তাফসীরকারকগণ ‍লাহওয়াল হাদিস বলতে গানকে বুঝিয়েছেন। ইবনে মাসউদ (রাদিঃ) বলেছেনঃ উহা গান। ইমাম হাসান বছরী (রহিঃ) বলেছেনঃ উহা গান ও বাদ্য শানে নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে সম্বোধন করে বলেছেনঃ "তোমার কন্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো প্ররোচিত করো।" ***সূরা বনি ইসরাঈলঃ আয়াতঃ ১৭:৬৪। এ আয়াত-এর ব্যাখ্যায় তাফসীর ইবনে জারীর-এর ১৫/৭৬ পৃষ্ঠায় আল্লামা ইবনে জারীর তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন যেঃ “হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত আয়াত সম্বন্ধে বলেন, শয়তানের শব্দ অর্থ হচ্ছে ক্রীড়া ও সঙ্গীত বা গান-বাজনা। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, শয়তানের শব্দের অর্থ যে কোন আহ্বানকারী আল্লাহ পাক উনার বিরুদ্ধাচরণের দিকে আহ্বান করে। এ মতগুলোর মধ্যে সমধিক ছহীহ এই যে, যে কোন শব্দে শয়তানের দিকে, এর কার্য্যরে ও আদেশ পালনের দিকে আহ্বান করা হয় এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বন্দিগির আহ্বানের বিপরীত হয়, তা শয়তানের শব্দের অন্তর্ভুক্ত হবে। এতে বুঝা যায় যে, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করেছেন, অর্থাৎ সঙ্গীতও এর অন্তর্গত। হযরত ইবনে জারীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই ব্যাপক অর্থ সমর্থন করেছেন।" গান-বাজনা হারাম হওয়া সম্পর্কিত অপর আয়াত হচ্ছে সূরা আন-নাজম-এর ৬১নং আয়াত। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেনঃ “তোমরা ক্রীড়া- কৌতুক করছো বা তোমরা কি এ কথার (কুরআন শরীফ-এর) উপর আশ্চর্য্যান্বিত হচ্ছো ও হাস্য করছো এবং ক্রন্দন করছো না, অথচ তোমরা সঙ্গীত বা গান- বাজনা করছো?” ***সূরা আন-নাজমঃ আয়াতঃ ৫৩:৬১। এ আয়াত নাযিল হওয়ার কারণ সম্পর্কে তাফসীর ইবনে জারীর, ২৭ খণ্ড, ৪৩/৪৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যেঃ “হযরত কাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে, তিনি হযরত ইবনে আব্বাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে রেওয়ায়েত করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম ﺳﺎﻣﺪﻭﻥ ‘সামিদুন’ (সামুদ ধাতু হতে উৎপন্ন হয়েছে)। এর অর্থ সঙ্গীত বা গান-বাজনা, যখন কাফিরেরা কুরআন শরীফ শ্রবণ করত, সঙ্গীত বা গান-বাজনা করত ও ক্রীড়া কৌতুকে লিপ্ত হত, এটা ইয়ামেনবাসীদের ভাষা।” উক্ত আয়াত-এর ব্যাখ্যায় তাফসীরে দুররে মানছুর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৩১/১৩২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যেঃ “হযরত আব্দুর রজ্জাক’ ফারইয়াবি, আবূ উবাইদ, আব্দ ইবনে হুমাইদ, ইবনে আবিদ্দুনইয়া, বাজ্জাজ, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনজির, ইবনে আবী হাতেম এবং বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম ﻭَﺃَﻧﺘُﻢْ ﺳَﺎﻣِﺪُﻭﻥَ এর (ব্যাখ্যায়) হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে রেওয়ায়েত করেন, তিনি বলেন, ইয়ামেনবাসীদের ভাষায় (সামুদ শব্দের) অর্থ- সঙ্গীত। যখন কাফিরেরা কুরআন শরীফ শ্রবণ করতো, সঙ্গীত ও ক্রীড়া-কৌতুক করতো।”অতএব, এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সঙ্গীত বা গান- বাজনা হচ্ছে কাফিরদের খাছ আমল। যা ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম।"
0 টি পছন্দ
করেছেন (21,532 পয়েন্ট)

রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, গানবাজনা মানুষের অন্তরে মুনাফেকী উৎপাদন করে যেমন পানি শস্য উৎপাদন করে থাকে । (মিশকাত ২/৪১১) অন্য এক হাদিসে এসেছেঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে । -ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩; তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২ বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত নাফে’ রাহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার চলার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বাঁশির আওয়াজ শুনলেন । সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল দিলেন । কিছু দূর গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে নাফে’! এখনো কি আওয়াজ শুনছ ? আমি বললাম হ্যাঁ । অতঃপর আমি যখন বললাম, এখন আর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না তখন তিনি কান থেকে আঙ্গুল সরালেন এবং বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলার পথে বাঁশির আওয়াজ শুনে এমনই করেছিলেন । -মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৪৫৩৫; সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪৯২৪ বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. থেকেও এমন একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে ।-ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৯০১ একদিন হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট বাজনাদার নুপুর পরে কোনো বালিকা আসলে আয়েশা রা. বললেন, খবরদার, তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না । অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না ।-সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ হাদীস : ৫২৩৭; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘণ্টি বাজা ঘুঙুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র ।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ২১১৪ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন , আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পাল্টিয়ে তা পান করবে এবং বাদ্যযন্ত্র সহকারে গান করবে । আল্লাহ তাআলা তাদের ভুগর্ভে বিলীন করে দিবেন এবং কতকের আকৃতি বিকৃত করে বানর ও শুকরে পরিনত করে দিবেন । [ সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০২০ , সহীহ ইবনে হিব্বান : ৬৭৫৮ , আততিরমিযি বর্ণিত হাদীস নং-২২১২, জামিহ আল কাবির বুখারী কৃত , সুনানে বায়হাকী , মুসান্নাফে ইবনে শায়বা , আল মুজাম তাবরানী কৃত , বগভী, আদ দানি , আল সিলসিলাহ আস-সহীহাহ- ২২০৩, দাম আল মালাহী; ইবনে আবি দুনিয়া সহ আরো অনেক হাদীস গ্রন্থে বর্নিত হয়েছে] রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেন: আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে বৈধতা দেবে । (আল বুখারী বর্ণিত, দেখুন আল ফাতহ, ১০/৫১) । রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার উম্মতের মধ্য হতে একদল লোক এমন হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র পরিধান, মদ পান এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ইত্যাদি হালাল মনে করবে

((وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ)) অর্থঃ “এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে (আল্লাহর পথ) নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে । এদের জন্যে রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি”।

 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর
15 ডিসেম্বর 2018 "ফাতাওয়া-আরকানুল-ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন ভালবাসার প্রদীপ (22 পয়েন্ট)
1 উত্তর
31 ডিসেম্বর 2018 "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন কামরুল কায়েস (64 পয়েন্ট)
3 টি উত্তর
09 এপ্রিল 2018 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন MD Lutfur Rahman (11 পয়েন্ট)

306,782 টি প্রশ্ন

395,668 টি উত্তর

120,826 টি মন্তব্য

169,993 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...