বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
2,800 জন দেখেছেন
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন (14 পয়েন্ট)
আমার মুখ এবং পা ফোলে মাঝেমধ্যে|কিন্তু কয়েকবার ডাক্তার দেখিয়েছি এবং বলেছে কিডনীর কোনো সমস্যা নেই|কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পর কয়েকদিন ভালো থাকে এবং এরপর আস্তে আস্তে আবার পা ফোলে এবং মুখেও ফোলা ফোলা ভাব থাকে|সবাই বলে আমি নাকি মোটা হচ্ছি|প্রশ্রাবে জ্বালাপোড়া নেই,তবে দিনের বিভিন্ন সময় প্রশ্রাব একবার হলুদ এবং ভাত খেয়ে পানি খাওয়ার ঘন্টা-দেড়েক পর সাদা প্রশ্রাব হয়|ইদানীং হাঁটতে চাইলে হাঁটতে পারিনা দ্রুত,কে জেন ধাক্তা/ধাক্তা/ধাক্কা দেয়,ফলে পড়ে যেতে চায়|এর কারণ কি এবং সমাধান কি?প্লিজ খুব টেনশনে আছি|

2 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (1,492 পয়েন্ট)

হাত পা ফোলার কারণ গুলো জেনে নেই 

১। হার্ট ফেইলিউর হলে পা ফুলতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু যে পা ফোলে তা নয়। শ্বাসকষ্ট, বুক ধঁড়ফঁড় এবং বুক ব্যাথাও থাকে।

২। কিডনির অসুখে পা ফোলে। তবে প্রথমে মুখ ফোলে এবং শেষের দিকে পা ফোলে।

৩। অনেক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসলে কিংবা দাঁড়িয়ে থাকলে পা ফুলতে পারে।

৪। লিভার ফেইলিউরে পা ফোলে। তবে অন্যান্য উপসর্গও থাকে।

৬। উচ্চ রক্তচাপে ব্যবহৃত এমন কিছু ওষুধ গ্রহণ করলে পা ফুলে যেতে পারে। এমলোডিপিন বহুল প্রচলিত একটি উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ। এটি গ্রহণ করলে পা ফোলে।

৭। গর্ভাবস্থায় অনেকেরই পা ফোলে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

৮। পেটে বড় টিউমার হলে পা ফুলতে পারে। টিউমার রক্তনালীর উপর চাপ তৈরি করে। ফলে পা থেকে রক্ত হৃদপিণ্ডে অাসতে পারে না এবং পা ফুলে যায়।

৯। ভেরিকোস ভেন হলে পা ফুলে যায়।

১০। হাইপোথাইরয়ডিজমে পা ফোলে। তবে এক্ষেত্রে চাপ দিলে চামড়া বসে না। অভিজ্ঞ চিকিৎসক এটি সহজেই ধরতে পারেন।

১১। মারাত্মক রক্তাল্পতা বা অপুষ্টিতে পা ফোলে। থায়ামিন ভিটামিনের অভাবে বেরি বেরি হয়। তখন পা ফোলে।

১২। পরজীবীর আক্রমণে সৃষ্ট ফাইলেরিয়া রোগ হলে পা ফুলতে পারে।

১৩। গর্ভাবস্থায় এক্লাম্পসিয়া ও প্রিএক্লাম্পসিয়া হলে পা ফুলে যায়। এমন হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। না হলে সেটা প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে।

১৪। ডিপ ভেন থ্রম্বসসি হলে একদিকের পা ফোলে। দুদিকে নয়।

এছাড়া সামান্য আঘাত কিংবা পায়ের চামড়ায় সংক্রমণেও কিন্তু পা ফুলে যেতে পারে।


চিকিৎসা :: পা ফুলে গেলে একজন ভাল চিকিৎসকের নিকট যাওয়া উচিৎ। কারণ খুব সামান্য কারণে যেমন পা ফোলে আবার ডিপ ভেন থ্রম্বসিসের কারণেও কিন্তু পা ফোলে। বিমানে দীর্ঘক্ষণ ভ্রমণ করলে এবং বহুদন শয্যাশায়ী থাকলে বা বড় অপারেশনের পরে এক পা ফুলে গেলে ডিপ ভেন থ্রম্বোসিসের কথা মাথায় রাখা উচিৎ। এ রোগ পুষে রাখলে পায়ের শিরায় জমে থাকা রক্তের পিণ্ড ফুসফুসে চলে গিয়ে পালমোনারি এম্বলিজম তৈরি করে। এর ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

0 টি পছন্দ
করেছেন (21,437 পয়েন্ট)

পা মুখ ফোলাফোলা নেপথ্যে অনেক কারনঃ

যাওয়া বা পায়ে পানি আসা একটি খুবই মারাত্মক রোগের লক্ষন। শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অঙ্গের যেমন হূদযন্ত্র, লিভার, কিডনী, খাদ্যনালীর কাজের ব্যঘাত ঘটলে পায়ে ও গায়ে পানি আসে। নিম্নে গায়ে ও পায়ে পানি আসার কয়েকটি কারন আলোচনা করা হলোঃ

হূদযন্ত্রের কার্যকারিতা কমে গেলেঃ

হূদযন্ত্রের কার্যকারিতা কমে গেলে, উচ্চ রক্ত চাপ, হার্টের রক্ত চলাচলের ব্যাঘাত, হূদযন্ত্রের ভাল্বের সমস্যা হলে হার্টের মাংসপেশীর কার্যকারিতা কমে আসে ফলে পায়ে, পেটে, বুকে পানি আসে। এসব রোগীর বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্ত চাপ, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ক্লান্তবোধ, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ থাকে।

লিভারের সমস্যাঃ

লিভারের সমস্যা ও লিভার সিরোসিস হলে প্রথমে পেটে ও পরে পায়ে ও বুকে পানি জমে যায়। হেপাটাইটিস ভাইরাস বি ও সি, অতিরিক্ত মধ্যপান, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে লিভারের সিরোসিস হয়। এসব রোগীর খাবারে অরুচি, হলুদ প্রশ্রাব, রক্ত বমি ইত্যাদি লক্ষণ থাকে।

কিডনির সমস্যাঃ

কিডনীর সমস্যা, নেফ্রোটিক সিনড্রোম, নেফ্রাইটিস, ও কিডনি বিকল, হলে প্রথমে মুখে, পরে পায়ে ও বুকে পানি আসে। এসব রোগীর বেশী বেশী প্রশ্রাব, বমি বমি লাগা, খাবারে অরুচি, প্রশ্রাব ফেনা ফেনা, প্র্রশ্রাবের রং ঘন সরিষার তেলের মত, কম প্রশ্রাব হওয়া সইত্যাদি লক্ষণ থাকে।

রক্তে আমিষের পরিমাণ হ্রাসঃ

রক্তে আমিষের মাত্রা কমে গেলে পরিমিত খাবার না খেলে, হজম না হলে, খাদ্য নালী থেকে আমিষ বের হয়ে গেলে, কিডনি দিয়ে আমিষ বেরিয়ে গেলে, আমিষ শরীরে তৈরী না হলে, রক্তে আমিষের মাত্রা কমে যায়। রক্তে আমিষ কমে গেলে পায়ে, পেটে ও বুকে পানি আসে।

থাইরয়েড সমস্যাঃ

থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা শরীরে কমে গেলে পায়ে পানি আসে। এই রোগে রোগীর গলগন্ড, শীত শীত লাগা, মোটা হয়ে যাওয়া, মাসিকের রক্ত বেশী যাওয়া, কোষ্টকাঠ্যিন্য হওয়া ইত্যাদি লক্ষণগুলো থাকে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ

ওষুধের সেবনের কারণে পা ফুলে যাওয়া, ব্যথার ওষুধ যেমন- ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপরোক্সেন, আইবুপ্রোফেন, ইটোরিকক্সিব খেলে পায়ে পানি আসে। এছাড়া উচ্চ রক্ত চাপের ওষুধ ক্যালাসিয়াম চ্যানেল ব্লকার যেমন নিফেডিপিন, অ্যামলোডিপিন এসব ওষুধ খেলে পায়ে পানি আসতে পারে।

পায়ে পানি আসলে করনীয়ঃ

পায়ে পানি আসলে রোগীকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। রোগীর ইতিহাস, শারীরিক পর্যবেক্ষণ ও কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা যেমন CBC, Urine R/E, বুকের এক্স-রে, ইসিজি, হরমোন, পেটের আলট্রাসনোগ্রাম, হার্টের ইকো-কার্ডিওগ্রাম ইত্যাদি করে পানি আসার কারণ নির্ণয় করা যায়।

√√কারণ বের করে তার প্রতিকার করতে হবে

 তবেই পা ফুলা সেরে যাবে।

সঠিক কারন টা আপনার নির্নয় হয়নি, তাই

উপকার পাননি। সঠিক কারনটি নির্নয়

করতে আপনার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের

শরনাপন্ন হতে হবে।

টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
05 অক্টোবর 2016 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন শ্মশানবৈরাগ্য দরবেশ (9 পয়েন্ট)

294,515 টি প্রশ্ন

381,189 টি উত্তর

115,242 টি মন্তব্য

161,794 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...