329 জন দেখেছেন
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (49 পয়েন্ট)
আমরা জানি যে, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের বেশী চুল পড়ে। কিন্তু চুল পড়ে কেন? এবং চুল পড়ার স্বাভাবিক মাত্রা কত টুকু?

4 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (81 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর
চুল পড়ার স্বাভাবিক মাত্রা দৈনিক ১০০ টি।একটা চুল গড়ে ২/৬ বছর পর্যন্ত বাঁচে, এবং যখন এই চুল টি মরে যায় তখন সেই জায়গায় আবার নতুন চুল গজায় নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে। এই চক্রকে আবার তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। (১) অ্যানাজেন, (২) ক্যাটাজেন ও (৩) টেলোজেন। চুল বৃদ্ধির মূল কাজটি হয় অ্যানাজেন পর্যায়ে থেকে যা সাধারণত ২-৬ বছর পর্যন্ত হতে থাকে। চুলের ব্রিদ্দি ১.২৫ সেন্টিমিটার প্রতি মাসে অথবা ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত এক বছরে বাড়ে , কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে চুলের এই বৃদ্ধির হার কমতে থাকবে (বার্ধক্যতার সময় অনেকের একেবারে না ও থাকতে পারে)। প্রতিটি চুল টেলোজেন পর্যায়ের পর পড়ে যায় এবং এই পড়ার হার হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টি প্রতিদিন। আমাদের মাথার শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ চুল অ্যানাজেন পর্যায়ে থাকে। প্রায় ১০ থেকে ১৫% চুল টেলোজেন পর্যায়ে থাকে (ক্যাটাজন খুবই স্বল্পকালীন সময় সাধারণত ২ সপ্তাহ) এবং এর পরেই শুরু হয় টেলাজেন পক্রিয়া যা ২/৪ মাস পর্যন্ত হয়। টেলোজেন পর্যায়ের পর একটি চুলের গোড়ায় নতুন চুলের আবির্ভাব ঘটে এবং পুরাতন চুলটি পড়ে যায়। এভাবে নতুন চুলটি অ্যানাজেন পর্যায়ে জন্ম নিয়ে জীবন চক্র শুরু করে। যদি সে সময় যে কোন কারনে টেলোজেন পর্যায় দীর্ঘতর হয় তা হলে চুল বেশি পড়বে। এ ছাড়া চুলের ফসিকল শুকিয়ে গেলে নতুন চুল নাও গজাতে পারে তখন ই মাথায় টাকের সৃষ্টি হয়। তখন চুল পড়ার জন্য চুলের গোড়ার বা ফলিকলে একটি এনজাইম তৈরি হয়, যার নাম ফাইভ আলফা রিডাকটেজ। এই এনজাইম রক্তে অতিবাহিত হরমোন টেস্টস্টেরনকে ডাই হাইপ্রোটেস্টস্টেরনে পরিণত করে। যার আরেক নাম ডিএইচটি ( DHT )। ডিএইচটি চুলের গোড়ায় আক্রমণ চালায় এবং চুল দুর্বল করে ঝরে পড়তে সাহায্য করে। পুরম্নষদের চুল সাধারণত সামনের দিকে পড়ে এবং টাকে পরিণত হয়। আর মহিলাদের পুরো মাথার চুলই এককভাবে পড়ে এবং পাতলা হয়ে যায়। মহিলাদের শরীরে অ্যারোমাটেজ নামে এক প্রকার এনজাইম তৈরি হয় যা ডিএইচটিকে ইস্ট্রোজেনে পরিণত করে। ** অতিরিক্ত চুল পড়া রোধের উপায়ঃ """""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" ১. প্রতিদিন হালকাভাবে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করতে পারেন। তাতে আপনার মাথা পরিষ্কার থাকবে। ২. শুধু শরীর সুস্থ্য রাখার জন্যে নয়, চুল পড়া বন্ধের জন্যেও বেশি বেশি ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এক্ষেত্রে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘ই’ আছে এমন খাদ্য বেশি সুফল বয়ে আনবে। ৩. এছাড়া খাবার তালিকায় আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ বেশি করে খেতে হবে। ৪. নিয়মিত প্রয়োজনীয় তেল দিয়ে মাথা ম্যাসেজ করতে পারেন। তিলের তেল এক্ষেত্রে অনেক উপকারী। ৫. পেয়াজ, রসুন ও আদার রস দিয়ে মাথা ম্যাসেজ করলেও উপকার পাবেন। ৬. তাছাড়া ভেজা চুল আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন। ভেজা চুল আঁচড়ালে বেশি পমিাণে চুল পড়ে। ৭. চুলের গোড়া শক্ত করতে বেশি পরিমাণে পানি খাওয়া উচিৎ। পানি শুধু চুলের জন্য নয় স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্যেও অত্যাবশ্যকীয় । ৮. সবুজ চা অর্থাৎ চায়ের সবুজ পাতা প্রতিদিন আপনার মাথায় ঘষলে চুল পড়া বন্ধ হবে। ৯. ভিজা চুল টাওয়েল বা শক্ত কাপড় দিয়ে কখনো মুছবেন না। ১০. মদ চুলের প্রধান শত্রু। সব সময় মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। ১১. ধূমপান শুধু স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর। সঠিক রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে। ধূমপানের কারণে অত্যাধিক পরিমাণে চুল পড়ে। ১২. মানসিকভাবে আপনি কখনো চাপে থাকবেন না। মানসিক চাপ কমানোর জন্যে মেডিটেশন ও যোগব্যায়াম করতে পারেন। ১৩. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। এজন্য সাঁতার কাটতে পারেন অথবা হাঁটাহাটি করতে পারেন। ব্যায়াম করলে হরমোনাল ব্যালান্স ঠিক থাকে। ১৪. অনেককে দেখা যায়, চুল শুকানোর জন্যে বা চুলে স্টাইল করার জন্যে অনেকেই চুলে হিট দিয়ে থাকে। এ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। ১৫. চুল যাতে ঘেমে ভিজে না যায় বা ঘেমে গেলেও যাতে বেশি সময় না থাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। ১৬. যদি বেশি পরিমাণে চুল পড়তে থাকে তাহলে অবশ্যই সব সময় মাথা আলগা রাখবেন। বেশি ঢেকে রাখার চেষ্টা করবেন না। ১৭. সবসময় শরীরের যত্ন নিন। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের সাথে চুলের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। শরীর দূর্বলতা বা দীর্ঘ সময়ের জন্যে জ্বরে ভুগলে তার প্রভাব চুলের ওপর পড়তে পারে। ১৮. অনেক সময় দেখা যায়, কোন রোগের কারণে ঔষধ খেলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়ে যায়। এজন্য ঔষধ নেয়ার সময় অবশ্যই চিকিৎকের কাছে পরামর্শ নিতে হবে। ১৯. বর্তমান সময়ে অনেকে চুলে কালার (রং) করে থাকে। এটিও চুল পড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০. সর্বশেষ পরামর্শ হচ্ছে নিয়মিত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। অার চুল একজন মানুষের সৌন্দর্যের প্রতীক।
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (21,506 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

image

আপনিতে হিসেবে হামদর্দের আমলা তেল

টি ব্যবহার করতে পারেন



ইয়াকুব আলী নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় ইচ্ছা বাস্তবায়িত করার পাথেয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন বিস্ময়কে। চিকিৎসাবিদ্যায় নিজের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সমাধান করে চলেছেন মানুষের নানাবিধ সমস্যার। সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আজীবন বিষ্ময়ে থেকে মানুষের উপকার করার সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিস্ময় ডট কমের সাথে আছেন সমন্বয়ক হিসেবে।
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (137 পয়েন্ট)
চুল পড়া বন্ধ করতে ওষুধ হিসেবে । Vitamin E-cap এই ওষুধটি খেতে পারেন ডেইলি একটি করে খেতে হবে ১/২মাস পযন্ত ।
মন্তব্য করা হয়েছে করেছেন (49 পয়েন্ট)
ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (164 পয়েন্ট)

প্রতিদিন ৯০/১০০ টি চুল পড়া স্বাভাবিক।

টেনশন, , নিদ্রাহিনতা এইসব কারনে অতিরিক্ত

চুল পড়ে। 

আপনি অল ক্লিয়ার সেম্পু ব্যবহার করে

 -ইমামি ৭ ওয়েল -ব্যবহার করেন।

তাহলে উপকার পাবেন। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
10 মে 2016 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন পুড়া কপাল (49 পয়েন্ট)

197,435 টি প্রশ্ন

252,292 টি উত্তর

60,582 টি মন্তব্য

92,149 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...