194 জন দেখেছেন
"সালাত" বিভাগে করেছেন (1,096 পয়েন্ট)

3 উত্তর

1 টি পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (1,096 পয়েন্ট)
তারাবীহ্‌ নামায রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সুন্নাত। বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাযানের এক রাতে (তারাবীহ) নামায আদায় করলেন। লোকেরাও তাঁর সাথে ছালাত আদায় করল। পরবর্তী রাতেও ছালাত আদায় করলেন। এরাতে মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী হল। অতঃপর তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাতেও তারা সমবেত হলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর বের হলেন না। প্রভাত হলে তিনি বললেন,

]قَالَ قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ وَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلَّا أَنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ[

“তোমরা যা করেছো আমি দেখেছি। কিন্তু তোমাদের কাছে আসতে আমাকে কোন কিছুই বাধা দেয়নি। তবে আমি আশংকা করেছি যে, এ নামায তোমাদের উপর ফরয করে দেয়া হবে।” আর এটি ছিল রামাযান মাসের ঘটনা।

তারাবীহ্‌-এর রাকআত সংখ্যাঃ ১১ রাকাআত। বুখারী মুসলিমে আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। মাহে রামাযানে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামায সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,

]مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً[

“তিনি রামাযান মাসে এবং অন্য সময় এগার রাকাতের বেশী নামায পড়তেন না।”

তারাবীহ্‌ ছালাত যদি ১৩ (তের) রাকাআত আদায় করে, কোন অসুবিধা নেই। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নামায ছিল ১৩ রাকাত।” অর্থাৎ রাতের নামায। বুখারী।

ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে ১১ এগার রাকাতেরই প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমনটি মুআত্বা মালেকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে।

যদি এর চাইতে বেশী সংখ্যক রাকাআত আদায় করে তাতেও কোন অসুবিধা নেই। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, صَلَاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى  “রাতের নামায দু’ দু’ রাকাত করে।” এখানে তিনি কোন সংখ্যা নির্ধারণ করে দেননি।

সালাফে সালেহীন থেকে এ নামাযের বিভিন্ন ধরণের রাকাতের বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু শুধুমাত্র নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত সংখ্যার উপর আমল করা উত্তম। আর তা হচ্ছে এগার বা তের রাকাআত।

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর খলীফাদের (রাঃ) থেকে কোন হাদীছ বা বর্ণনা প্রমাণিত হয়নি যে, তাঁদের কেউ ২৩ রাকাত তারাবীহ্‌ আদায় করেছেন। বরং ওমর (রাঃ) থেকে এগার রাকাতের কথাই প্রমাণিত হয়েছে। কেননা তিনি উবাই বিন কা’ব এবং তামীম আদ্দারী (রাঃ)কে ১১ রাকাতের দ্বারা লোকদেরকে নিয়ে ক্বিয়ামুল্লায়াল করার আদেশ করেছিলেন। ওমরের (রাঃ) মত ব্যক্তিত্বের জন্য এটাই শোভনীয় যে, তাঁর জীবন চরিত ও ইবাদত বন্দেগী হবে ঠিক তেমনই, যেমনটি ছিল নবীকুল শিরমনী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবন চরিত ও ইবাদত বন্দেগী।

আমাদের জানা নেই যে, ছাহাবীদের (রাঃ) মধ্যে কেউ তেইশ রাকাত তারাবীহ্‌ নামায পড়েছিলেন। বরং বাস্তব অবস্থা এর বিপরীত। পূর্বে আয়েশা (রাঃ) এর বাণী উল্লেখ করা হয়েছেঃ “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাযান বা অন্য সময় এগার রাকাতের বেশী রাতের নামায আদায় করতেন না।”

নিঃসন্দেহে ছাহাবায়ে কেরামের (রাঃ) এজমা বা ঐকমত্য হচ্ছে একটি হুজ্জত বা বড় দলীল। বিশেষ করে তাদের মধ্যে রয়েছেন খোলাফায়ে রাশেদা। যাঁদের অনুসরণ করতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা তাঁরা হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।

জেনে রাখুন! তারাবীহ্‌ নামাযের রাকাত সংখ্যায় বিভিন্নতা বিষয়টি এমন, যাতে ইজতেহাদ বা গবেষণার অবকাশ রয়েছে। বিষয়টি পারস্পরিক মতবিরোধ বা মুসলমানদের মধ্যে ফাটলের কারণ হওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যখন কিনা এতে সালাফে ছালেহীন থেকেই মতবিরোধ পাওয়া যায়। এ মাসআলায় এমন কোন দলীল পাওয়া যায় না যে, এতে ইজতেহাদ বা গবেষণার কোন সুযোগ নেই। কোন একটি ইজতেহাদী বিষয়ে বিরোধীতাকারীকে জনৈক বিদ্বান বলেছিলেন, আমার বিরোধীতা করে আপনি আমার মতটিই প্রকাশ করেছেন। কেননা ইজতেহাদী বিষয়ে প্রত্যেকে সেটারই অনুসরণ করবে যা সে সত্য মনে করে। আমরা সবার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে তাঁর পসন্দনীয় ও সন'ষ্টি মুলক কাজ কামনা করছি।




বিষয়/প্রশ্নঃ                (২৭৯)
গ্রন্থের নামঃ              ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
বিভাগের নামঃ          ঈমান
লেখকের নামঃ          শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
অনুবাদ করেছেনঃ     আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (142 পয়েন্ট)
তারাবি নামায ২০ রাকাত : তারাবি নামায ২০ রাকাতের পক্ষে যুক্তি হচ্ছে, প্রখ্যাত সাহাবায়ে কেরামগণ (রা:) তারাবি নামায ২০ রাকাতের পক্ষে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁরা হলেন, খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা:) । তাফসিরে ইবনে কাসির প্রণেতা উল্লেখ করেছেন – রাসূল (সা:) এর চাচা √ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:), √ হযরত আবু যর গিফারী, √ হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা:), √ হযরত হাসান (রা:), √ হযরত ইয়াজিদ ইবনে রুমান (রা:), √ হযরত ইবনে আবিল হাসনা (রা:), √ হযরত আবদুল আজিজ ইবনে রুফাহ (রা:) প্রমূখ সাহাবায়ে কেরামগণ (রা:)-ও তারাবি নামায ২০ রাকাতের পক্ষে বর্ণনা করেছেন । মোল্লা আলী ক্বারী (রা:) তাঁর পূর্বের ইমামগণ হতে সংগৃহীত একটি হাদিস মিরকাত শরহে মিশকাতের ২য় খণ্ডের ১৩৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। হাদিসটি হচ্ছে “রাসূল (সা:)-এর এরশাদ হচ্ছে, সাহাবায়ে কেরামের (রা:) ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত শরয়ী বিধান নিঃশর্তভাবে অনুসরণ করা উম্মতের জন্য আবশ্যক”। সুতরাং এরূপ ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করা ইমান নষ্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট। রাসূল (সা:) ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করতেন, এ সম্পর্কিত হাদিসসমূহ হচ্ছে √ আল সুনানুল কুবরা বায়হাকীর ২য় খণ্ডের ৬৯৮ পৃষ্ঠার ৪২৮৬ নং হাদিস, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, রাসূল (সা:) রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবি ও বিতির নামাজ আদায় করতেন। √ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ-এর ২য় খণ্ডের ১৬৩ পৃষ্ঠায় ৭৬৮০ নং হাদিসে হযরত শুতাইর ইবনে শাকাল (রা:) এবং হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:), তারীখু জুয়জান হামযাহ সাহমী (রা:) গ্রন্থের ১৩১৭ পৃষ্ঠায় ৫৫৭ নং হাদিসটিতেও একই রকম বর্ণনা রয়েছে। এ ছাড়া হযরত আবু যার গিফারী (রা:) হতে বর্ণিত সুনান তিরমিজির ৩য় খণ্ডের ১৬১ ও ১৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত ৮০৬ নং হাদিসটিতে তিনি উল্লেখ করেন। তারাবির নামাজে রাসূল (সা:) কিয়ামুল লাইলও করতেন বলে উল্লেখ করেছেন। খোলাফায়ে রাশেদা হযরত উমর ফারুক (রা:), হযরত উসমান (রা:), হযরত আলী (রা:), ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করতেন। আর এ সম্পর্কিত হাদিসসমূহ হলো: √ ছিয়া-ছিত্তাহ হাদিস গ্রন্থসমূহের অন্যতম আবু দাউদ শরীফ-এর ২য় খণ্ডের ১৪২৯নং পৃষ্ঠায় হযরত হাসান (রা:) বলেন, হযরত উমর খাত্তাব (রা:) সকলকে হযরত উবাই ইবনে কাআব (রা:) এর পেছনে একত্র করলেন, তখন ইবনে কাআব (রা:) তাদের ইমামতি করে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করলেন। √ সুনানু বাইহাকীর ২য় খণ্ডের ৬৯৯ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত ৪২৮৯ নং হাদিসে হযরত সায়ীব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) বলেন, হযরত উসমান ইবনে আফকান (রা:) এর খিলাফতের সময়ে নামাজিরা দাঁড়ানোর কষ্টে লাঠিতে ভর দিতেন তবুও ২০ রাকাত তারাবির নামাজ কম পড়তেন না। √ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাইর ২য় খণ্ডের ১৬৩ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত ৭৬৮১ নং হাদিসে হযরত ইবনে আবিল হাসনা (রা:) বলেন, হযরত আলী (রা:) এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন রমজানে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ পড়তে। এ প্রসঙ্গে আরো হাদীস: ২- জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৮০৬। ৩- মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৭৬৮০, ৭৬৮১, ৭৬৮২, ৭৬৮৩, ৭৬৮৪, ৭৬৮৫। ৪- সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী, হাদীস নং ৪২৯০, ৪২৯১, ৪২৯২। ৫- মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৭৭৩৩। ৬- আল-মু’জামুল কাবীর লিত- তাবারানী, হাদীস নং ১২১০২। ৭- আল-মু’জামুল আওসাত লিত-তাবারানী, হাদীস নং ৭৯৮। ৮- কিতাবুল উম্ম ১/১৬৭। এ ছাড়াও আরো অসংখ্য দলীল রয়েছে। সংক্ষেপে অল্প কিছু সংখ্যক দলীল উল্লেখ করা হলো। [বি: দ্র: হাদীস নাম্বার ও রেফারেন্সের ক্ষেত্রে “মাকতাবায়ে শামিলা” অনুসরণ করা হয়েছে।]
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (223 পয়েন্ট)

তারাবীহ শব্দটি বহুবচন, তার একবচন হচ্ছে তারাবীহা যার

অর্থ হচ্ছে প্রতি চার রাকাত পর আরাম করা মুলক নামাজ।

এবার অর্থগত দিক দিয়ে দেখুন তারাবীহ ৪ পুরন ৩=১২

বুঝা গেলো কমপক্ষে তারাবীহের নামায ১২ রাকআত।

বুখারী শরীফে আছে রাসুল সা. তিনদিন তারাবীহের নামায আদায় করে মসজিদে জামাতে আদায় করেন নি।

কিন্তু উক্ত হাদিসে রাকআতের বর্ণনা নেই।

অন্যত্র হাদিসে এই আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত রাসুল সা. ১১ 

রাকআত পড়েছেন।কিন্তু তাতে আছে তিনি রমজান ও

অন্য মাসে ১১ থেকে বর্ধিত করতেন না। বুঝা গেলো এই হাদিস

তাহাজ্জুদ ৮+৩ বিতর =১১ সম্পর্কে।

এককথায়,সিহাহ সিত্তাহের কিতাবে রাসুল সা. থেকে তারাবীহের

রাকআত সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা নেই।

তাই সাহাবাদের আমল দেখতে হবে।

তো উমর রা. সহ তৎকালীন সমস্ত সাহাবাগণ ২০ রাকআত পড়েছেন।

অতএব বুঝা গেলো রাসুল সা.ও বিশ রাকআত পড়েছেন।

নতুবা সমস্ত সাহাবী এবং হযরত আয়েশা রা. এর বিরুদ্ধাচরণ

করতেন এবং ২০ রাকআত নামাজ পড়তেন না।

টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
25 জানুয়ারি 2014 "সালাত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rafia Begum (1,096 পয়েন্ট)
1 উত্তর

283,861 টি প্রশ্ন

368,440 টি উত্তর

111,109 টি মন্তব্য

153,257 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...