বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
155 জন দেখেছেন
"ঈমান" বিভাগে করেছেন (2,125 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (2,125 পয়েন্ট)
উক্ত প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পূর্বে আল্লাহর সৃষ্টির সাধারণ নিয়ম এবং আল্লাহর শরীয়ত সম্পর্কে আলোচনা করতে চাই। আল্লাহর সৃষ্টির নিয়মটি বিধৃত হয়েছে আল্লাহর নিম্মোক্ত বাণীসমূহে

)وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ(                                                                            

“তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।” (সূরা তাহরীমঃ ২) আল্লাহর বাণী,

)إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا(                                                             

“নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ এবং প্রজ্ঞাময়।” (সূরা নিসাঃ ২৪) এছাড়া আরো অসংখ্য দলীল-প্রমাণ রয়েছে। এগুলো প্রমাণ করে যে, আল্লাহ যা সৃষ্টি করেন এবং যার আদেশ প্রদান করেন তাতে তিনি মহা কৌশলী। তিনি যাই সৃষ্টি করেন না কেন, তার পিছনে রয়েছে এক বিরাট উদ্দেশ্য। তিনি আমাদের জন্য যে শরীয়ত দিয়েছেন, তার ভিতরেও রয়েছে এক বিরাট হিকমত। চাই কোন বস্ত ওয়াজিব করার ভিতরে হোক কিংবা হারাম করার ভিতরে হোক। অথবা বৈধ করার মাঝেই হোক না কেন। এই হিকমত আমরা কখনো জানতে পারি আবার কখনো জানতে পারিনা। আল্লাহ প্রদত্ব জ্ঞানের মাধ্যমে কখনো কিছু লোকে জানে আবার অনেকে জানেই না। তাই আমরা বলব যে, আল্লাহ তাআ’লা জিন এবং মানুষকে এক বিরাট উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। তা হল একমাত্র আল্লাহর এবাদত করা। আল্লাহ বলেনঃ

) وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ(                                                    

“আমি জিন এবং মানুষকে আমার এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।” (সূরা যারিয়াতঃ ৫৬) আল্লাহ আরো বলেনঃ

)أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ(                                  

“তোমরা কি ধারণা করেছ যে, আমি তোমাদেরকে এমনিই সৃষ্টি করেছি? আর তোমরা আমার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে না?” (সূরা মুমিনূনঃ ১১৫) আল্লাহ আরো বলেনঃ

)أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدًى(                                                         

“মানুষ কি ধারণা করে যে, তাদেরকে এমনিতেই ছেড়ে দেয়া হবে?” (সূরা কিয়ামাহঃ ৩৬) এছাড়া আরো অনেক আয়াত প্রমাণ করে যে, জিন্তইনসানের সৃষ্টিতে আল্লাহ তাআ’লার এক মহান উদ্দেশ্য রয়েছে। তা হল আল্লাহর এবাদত করা। ভালবাসা ও সম্মানের সাথে আল্লাহর আদেশ সমূহ বাস্তবায়ন করা এবং নিষেধ সমূহ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর জন্য নিবেদিত হওয়ার নাম এবাদত। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ

]وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ[

“তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে আল্লাহর এবাদত করবে।” (সূরা বাইয়িনাহঃ ৫) এই হল মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর এবাদত করতে অহংকার করবে, সে ব্যক্তি এই হিকমত প্রত্যাখ্যানকারী হিসাবে গণ্য হবে। যার জন্য আল্লাহ তাআ’লা মানুষ সৃষ্টি করেছেন। সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা না করলে কি হবে তাদের কর্মসমূহ প্রমাণ বহন করে যে, আল্লাহ যেন তাদেরকে অযথা সৃষ্টি করেছেন।


বিষয়/প্রশ্নঃ                (১৯)
গ্রন্থের নামঃ              ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
বিভাগের নামঃ          ঈমান
লেখকের নামঃ          শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
অনুবাদ করেছেনঃ     আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

2 টি উত্তর
10 জুলাই 2018 "বাংলাদেশ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Aminul Islam zamil (12 পয়েন্ট)
1 উত্তর
1 উত্তর
07 জুলাই "ঈমান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মোঃতোফাজ্জল ইসলাম (653 পয়েন্ট)

359,247 টি প্রশ্ন

454,397 টি উত্তর

142,289 টি মন্তব্য

190,103 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...