7,862 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (6,503 পয়েন্ট)

6 উত্তর

+2 টি পছন্দ
করেছেন (221 পয়েন্ট)
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেছেন,
ﻭَﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ ‏[ ٧٨ : ٨
আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি, {সূরা নাবা-৮}
সুতরাং বুঝা গেল জীবনসঙ্গী কে হবে? তা আল্লাহ তাআলা জানেন। কিন্তু বান্দা জানে না। তাই বান্দা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে ভাল পাত্রি/পাত্র দেখে বিবাহ করতে। এটি তাকদীরের বিষয়। এ বিষয়ে আলোচনা করতে রাসূল সাঃ নিষেধ করেছেন।
করেছেন (9 পয়েন্ট)

কিন্তুু পরে যদি Divorce হয়ে যায় তাহলে এটা  ও কি আল্লাহ লিখে রাখে? আবার পরে যদি আবারো কাউ বিয়ে করে ওটা ও কি আল্লাহ জোরা লিখে রাখে?

করেছেন (2 পয়েন্ট)
ﻭَﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ ‏[ ٧٨ : ٨ আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি, {সূরা নাবা-৮} ....
+1 টি পছন্দ
করেছেন (54 পয়েন্ট)

হ্যাঁ, আল্লাহ পূর্বেই নির্ধারিত করে রেখেছেন,

তবে এটা ভুলে গেলে হবে না যে আল্লাহ আমাদের

স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছেন। মানুষের কর্মের

উপর ভিত্তি করে আল্লাহ ভাগ্য নির্ধারিত করেন।

কোনো অপকর্ম করলে আল্লাহ করিয়েছেন এটা

ভাবাও বোকামি। আমাদের জীবন একটা

পরীক্ষা, তিনি আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন।

আল্লাহ চাইলে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে করতে

পারতেন মুমিন এবং দুর করতে পারতেন সব

অপকর্ম, কিন্তু এটা করলে তো আর পরীক্ষা

থাকলো না, এ কারণেই আল্লাহ আমাদের

স্বাধীনতা দিয়েছেন। 

আপনার প্রশ্নের উত্তর এক কথায়: হ্যাঁ, আল্লাহ

পূর্ব থেকেই কার সাথে বিয়ে হবে তা নির্ধারিত,

তবে নিঃসন্দেহে আল্লাহ বান্দার কর্মের উপর

ভিত্তি করে ভাগ্য নির্ধারিত করেন।

তাছাড়া, যে কোনো বিষয়ে পূর্ব থেকে নির্ধারিত

হয়ে থাকলেও বান্দার প্রার্থনা, কর্মকান্ড বিবেচনা

করে ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

তিনি সর্বশক্তিমান ও মহান। 

+1 টি পছন্দ
করেছেন (6,007 পয়েন্ট)
একজন মানুষের কখন! কোথায়!! কার সাথে বিয়ে হবে এটা আল্লাহ পূর্বেই নির্ধারিত করে রেখেছেন।

যদি তোমাদের নিকট উহূদ পাহাড় পরিমাণ বা উহূদ পাহাড়ের মত সোনা থাকতো এবং তুমি তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতে থাকো, তবে তোমার সেই দান কবূল করা হবে না, যাবৎ না তুমি তাকদীরের উপর ঈমান আনো। অতএব তুমি জেনে রেখো! যা কিছু তোমার উপর আপতিত হয়েছে, তা তোমার উপর আপতিত হতে কখনো ভুল হতো না এবং যা তোমার উপর আপতিত হওয়ার ছিল না তা ভুলেও কখনো তোমার উপর আপতিত হবে না।

অতএব তুমি জেনে রাখো! তোমার উপর যা কিছু আপতিত হওয়ার আছে তা তোমার উপর আপতিত হয়েছে, তা কখনো ভুলেও এড়িয়ে যেত না এবং যা তোমার উপর আপতিত হওয়ার ছিল না, তা তোমার উপর ভুলেও কখনো আপতিত হত না।

তাকদীর ভাগ্যলিপির বর্ণনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে সমর্থিতঃ তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি কার্যক্রম এভাবে অগ্রসর হয় যে, তার মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত শুক্ররূপে জমা রাখা হয়, তারপর অনুরূপ সময়ে তা জমাট রক্ত পিন্ডের রূপ ধারণ করে, তারপর অনুরূপ সময়ে তা গোশত পিন্ডের রূপ ধারণ করে, তারপর আল্লাহ তাআলা তার নিকট একজন ফেরেশতা পাঠান। তাকে চারটি বিষয় লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। অতএব তিনি বলেন, তার কার্যকলাপ, তার আয়ুষ্কাল, তার রিযিক এবং সে দুর্ভাগা না ভাগ্যবান তা লিখে দাও। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ!

আর এই রিযিক শুধু খাবার এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

আল্লাহ বলেনঃ পবিত্র তিনি, যিনি জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন উদ্ভিদ, মানুষ এবং তারা যাদেরকে জানে না তাদের প্রত্যেককে। (সূরা ইয়াসীনঃ ৩৬)

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি জোড়ায়-জোড়ায়, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। (সূরা যারিআতঃ ৪৯)

সুতরাং একথাও প্রমাণ করে সৃষ্টিজগতের সবই জোড়া জোড়া। বেজোড় কেবলমাত্র একজন তিনি হলেন আল্লাহ তাআলা।
করেছেন (4,356 পয়েন্ট)

তাহলে আমরা কেন আমাদের পছন্দের মানুষ খুঁজতে থাকি ? আমাদের জন্য তো মহান আল্লাহ তায়ালা পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন তাইনা??  তাহলে ভালো খুঁজে কি লাভ , আমাদের জন্য যাকে নির্ধারণ করা হয়েছে তাকেই তো পাবো আমরা । 

আবার যখন কোনো বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এক স্বামী বাদ দিয়ে আরেক জনের সাথে বিবাহ হয় তখন সেটাও কি আল্লাহ তায়ালা লিখে রেখেছেন? 
যদি তাই হয় তবে কেন একজনের জন্য দুটি জুটির ব্যবস্থা করেছেন আল্লাহ তায়ালা? 
আসলে এই প্রশ্নগুলো প্রায়ই আমার মনে ঘুরপাক খায় । কেবল জানার জন্যই মন্তব্য করছি । আল্লাহ ক্ষমা করুক । আশাকরি সদুত্তর পাবো ।
করেছেন (6,007 পয়েন্ট)
আল্লাহ তাআলা রিজিকদাতা। তিনি-ই রিজিক দেন এবং এই রিজিক জন্মের পূর্বেই লিপিবদ্ধ করেছেন। এখন যদি ঘড়ে বসে থেকেই বলা হয় আল্লাহ তাআলাই রিজিকদাতা তিনি-ই আমাকে খাওয়াবেন। আপনার সামনে খাবার আছে যদি না তুলে খান আল্লাহ কখনো-ই তা খাওয়াবেন না। তিনি হয় কোন মাধ্যমে খাওয়াবেন না তুলে খেতে হবে।

আল্লাহ তাআলা তো রিজিক পূর্বেই লিপিবদ্ধ করেছেন আমাদের জন্য তো সেটা বরাদ্দ আমরা কি তা বসে থেকেই পাব? না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন তোমরা নামাজের পর জমিনে ছড়িয়ে পড় জীবিকা অন্বেষনের জন্য।

জনাব! আপনি বলেছেন তাহলে আমরা কেন আমাদের পছন্দের মানুষ খুঁজতে থাকি? আমি আগেই বলেছি আল্লাহ তাআলা রিজিক পূর্বেই লিপিবদ্ধ করেছেন তার পরেও বলেছেন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়। আর এগুলি কোন মাধ্যমেই পাওয়া যাবে।

আবার যখন কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এক স্বামী বাদ দিয়ে আরেক জনের সাথে বিবাহ হয় তখন সেটাও কি আল্লাহ তায়ালা লিখে রেখেছেন? হ্যা।

আসলে এই প্রশ্নগুলো প্রায়ই শুধু আপনার নয় সবার মনেই ঘুরপাক খায়। হাদিসে এসেছেঃ

ইবনুুদ দাইলামী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মনে এই তাকদীর সম্পর্কে কিছুটা সন্দেহ দানা বাঁধে। তাই আমি এই ভেবে শংকিত হই যে, তা আমার দ্বীন ও অন্যান্য কার্যক্রম নষ্ট করে দেয় কিনা। তাই আমি উবাই ইবনু কাব (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আবূল মুনযির! আমার মনে এই তাকদীর সম্পর্কে কিছুটা সন্দেহ দানা বেঁধেছে, তাই আমি এই ভেবে শংকিত হই যে, তা আমার দ্বীন ও অন্যান্য কার্যক্রমকে নষ্ট করে দেয় কিনা। অতএব এ সম্পর্কে আমাকে কিছু বলুন। আশা করি আল্লাহ তার দ্বারা আমার উপকার করবেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা ঊর্ধলোকের ও ইহলকের সকলকে শাস্তি দিতে চাইলে তিনি অবশ্যই তাদের শাস্তি দিতে পারেন। তথাপি তিনি তাদের প্রতি জুলুমকারী নন। আর তিনি তাদেরকে দয়া করতে চাইলে তাঁর দয়া তাদের জন্য তাদের কাজকর্মের চেয়ে কল্যাণময়।

যদি তোমাদের নিকট উহূদ পাহাড় পরিমাণ বা উহূদ পাহাড়ের মত সোনা থাকতো এবং তুমি তা আল্লাহ্‌র রাস্তায় খরচ করতে থাকো, তবে তোমার সেই দান কবূল করা হবে না, যাবৎ না তুমি তাকদীরের উপর ঈমান আনো। অতএব তুমি জেনে রেখো! যা কিছু তোমার উপর আপতিত হয়েছে, তা তোমার উপর আপতিত হতে কখনো ভুল হতো না এবং যা তোমার উপর আপতিত হওয়ার ছিল না তা ভুলেও কখনো তোমার উপর আপতিত হবে না।

তুমি যদি এর বিপরীত বিশ্বাস নিয়ে মারা যাও, তাহলে তুমি জাহান্নামে যাবে। আমি মনে করি, তুমি আমার ভাই আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) এর নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। (ইবনুুদ দাইলামী বলেন), অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ -এর নিকট এসে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও উবাই (রাঃ) এর অনুরূপ বললেন। তিনি আরো বললেন, তুমি হুযাইফাহ (রাঃ) এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলে তোমার ক্ষতি নেই। অতঃপর আমি হুযাইফাহ (রাঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও তাদের দুজনের অনুরূপ বলেন। তিনি আরও বলেন, তুমি যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) এর নিকট গিয়ে তাকেও জিজ্ঞেস করো। অতএব আমি যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) এর নিকট এসে তাকে জিজ্ঞেস করলাম।

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা ঊর্ধলোক ও ইহলকের সকল অধিবাসীকে শাস্তি দিতে চাইলে অবশ্যই তাদের শাস্তি দিতে পারবেন এবং তিনি তাদের প্রতি জুলুমকারী নন। আর তিনি তাদের প্রতি দয়া করতে চাইলে তাঁর দয়া তাদের সমস্ত সৎ কাজের চাইতেও তাদের জন্য অধিক কল্যাণকর। তোমার নিকট উহূদ পাহাড় পরিমাণ সোনা থাকলেও এবং তুমি তা আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করলেও তিনি তা কবূল করবেন না, যাবৎ না তুমি সম্পূর্ণরূপে তাকদীরের উপর ঈমান আনো। অতএব তুমি জেনে রাখো! তোমার উপর যা কিছু আপতিত হওয়ার আছে তা তোমার উপর আপতিত হয়েছে, তা কখনো ভুলেও এড়িয়ে যেত না এবং যা তোমার উপর আপতিত হওয়ার ছিল না, তা তোমার উপর ভুলেও কখনো আপতিত হত না। তুমি যদি এর বিপরীত বিশ্বাস নিয়ে মারা যাও তাহলে তুমি জাহান্নামে যাবে। (ইবনে মাজাহ, নম্বরঃ ৭৭)

তাকদীর বা ভাগ্য এ মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটবে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তার পূর্বজ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী সেসব কিছু সৃষ্টিকূল সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টিকূলের তাকদীর লিখে রেখেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: তুমি কি জান না যে,নভোমণ্ডলে ও ভুমন্ডলে যা কিছু আছে আল্লাহ সবকিছু জানেন। নিশ্চয় এসব কিতাবে লিখিত আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর কাছে সহজ।

আল্লাহ তাআলা প্রথম সৃষ্টি করেছেন কলম। সৃষ্টির পর কলমকে বললেন: লিখ। কলম বলল: ইয়া রব্ব! কী লিখব? তিনি বললেন: কেয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক জিনিসের তাকদীর লিখ।

জনাব! কোন কিছুই আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে ঘটে না। হোক না সেটা আল্লাহর কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা মাখলুকের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট। ইবনু জুশুম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! কার্যকলাপ কী তাই যা পূর্বেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং তদনুযায়ী তাকদীর নির্ধারিত হয়েছে, না ভবিষ্যতে যা করা হবে তা? তিনি বলেনঃ বরং তাই যা পূর্বে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে এবং তদনুযায়ী তাকদীর নির্দিষ্ট হয়েছে। যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য তা সহজসাধ্য করা হয়েছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোন স্ত্রীলোক যেন নিজের স্বার্থ ও সুবিধার জন্য তার ভগ্নির তালাক কামনা না করে, নিজে তার সাথে বিবাহবদ্ধ হওয়ারা জন্য। কেননা, তার জন্য তা-ই যা তার তাকদীরে আছে।

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জুশাম (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের দ্বীন স্পষ্টভাবে বর্ণনা করুন, যেন আমরা এই মাত্র সৃষ্ট হয়েছি। আজকের আমল কি ঐ বিষয়ের সম্পৃক্ত যার সম্পর্কে কলমের লিখন শুকিয়ে গেছে এবং তাকদীর কার্যকরী হয়ে গেছে? নাকি আমরা ভবিষ্যতে যার সম্মুখীন হব? তিনি বললেন, না; বরং ঐ বিষয়ের সম্পৃক্ত যার সম্পর্কে লেখনী শুকিয়ে গিয়েছে এবং তাকদীর কার্যকরী হয়ে গেছে। সূরাকা বললেন, তাহলে আমল করার প্রয়োজন কি? যুহায়র বলেন, এরপর আবূ যুবায়র (রাঃ) কিছু কথা বললেন, যা আমি বুঝতে পারিনি। তখন আমি (লোকদের) জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি বলেছেন। তখন তিনি বলেছেন, তোমরা আমল করতে থাক; প্রত্যেকের জন্য (সেই পথ) সুগম করা হয়েছে।

তাকদীরে কী আছে তা খুজে বের করার চেষ্টায় কোন আমল বা কাজ করা পরিত্যাগ করা যাবে না, বরং সর্বদা ভালো আমল করার প্রচেষ্টায় লেগে থাকতে হবে, আর তখনই তার জন্য সে ভালো আমলটি করা সহজ করে দেয়া হবে। একজন মুমিন এ কাজটই করে এবং করা উচিত। মুমিন কখনো তাকদীরের দোহাই দিয়ে নেক আমল করা থেকে বিরত থাকে না।
+1 টি পছন্দ
করেছেন (3,673 পয়েন্ট)
মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবস্তুটি আগে থেকেই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। কেননা, তিনি পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন, ‘তিনি তোমাদের (স্বামী-স্ত্রী) একে অন্যের সাথী হিসেবেই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া প্রবিষ্ট করে দিয়েছেন।’ (সূরা আর-রুম, আয়াত নং ২১)।

উক্ত আয়াত দ্বারা আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে শিক্ষা দিয়েছেন, 'যদি পুরুষ ও নারী আলাদা আলাদা বস্তু হতে সৃষ্টি হত, যেমনঃ যদি কোন নর-নারী জ্বিন অথবা চতুষ্পদ জন্তু থেকে সৃষ্টি হত, তাহলে তাদের উভয়ের একই বস্তু হতে সৃষ্টি হওয়াতে যে সুখ-শান্তি পাওয়া যায় তা কখনই পাওয়া সম্ভব হত না। বরং এক অপরকে অপছন্দ করত ও জন্তু-জানোয়ারের ন্যায় ব্যবহার করত। সুতরাং, মানুষের প্রতি আল্লাহর অশেষ দয়া যে, তিনি মানুষের জুড়ি ও সঙ্গিনী মানুষকেই বানিয়েছেন।

এ সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ণিত আছে, "আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা মাতৃগর্ভের জন্য একজন মালাইকা নির্ধারণ করেছেন। তিনি (পর্যায়ক্রমে) বলতে থাকেন, হে রব! এখন বীর্য-আকৃতিতে আছে। হে রব! এখন জমাট রক্তে পরিণত হয়েছে। হে রব! এখন মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ্‌ তা’আলা যখন তার সৃষ্টি পূর্ণ করতে চান, তখন জিজ্ঞেস করেনঃ পুরুষ, না স্ত্রী? সৌভাগ্যবান, না দুর্ভাগা? রিয্‌ক ও বয়স কত? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তার মাতৃগর্ভে থাকতেই সকল কিছু লিখে দেয়া হয়। (৩৩৩৩, ৬৫৯৫; মুসলিম ৪৬/১, হাঃ ২৬৪৬), (আ.প্র. ৩০৭, ই.ফা. ৩১২), (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩১৮)

তাই, উক্ত আয়াতের ও হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী বলা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা একজন মানুষের কখন, কোথায়, কার সাথে বিয়ে হবে, এটা পূর্বেই নির্ধারিত করে রেখেছেন।
করেছেন (4,356 পয়েন্ট)

তাহলে আমরা কেন আমাদের পছন্দের মানুষ খুঁজতে থাকি ? আমাদের জন্য তো মহান আল্লাহ তায়ালা পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন তাইনা??  তাহলে ভালো খুঁজে কি লাভ , আমাদের জন্য যাকে নির্ধারণ করা হয়েছে তাকেই তো পাবো আমরা । 

আবার যখন কোনো বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এক স্বামী বাদ দিয়ে আরেক জনের সাথে বিবাহ হয় তখন সেটাও কি আল্লাহ তায়ালা লিখে রেখেছেন? 
যদি তাই হয় তবে কেন একজনের জন্য দুটি জুটির ব্যবস্থা করেছেন আল্লাহ তায়ালা? 
আসলে এই প্রশ্নগুলো প্রায়ই আমার মনে ঘুরপাক খায় । কেবল জানার জন্যই মন্তব্য করছি । আল্লাহ ক্ষমা করুক । আশাকরি সদুত্তর পাবো ।
করেছেন (3,673 পয়েন্ট)

@উজ্জল আহম্মেদ ভাইয়া, প্রিয় মানুষকে খোঁজ করার ব্যাপারটা কেবল একটি ওছিলা হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা-ই ভালো জানেন। তিনি পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন,  "তুমি কি জানো না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, আল্লাহ তা জানেন? নিশ্চয় তা একটি কিতাবে রয়েছে। অবশ্যই এটা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।" (সুরা হজ্জ্ব ৭০)।  

→এছাড়াও, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে অন্য জায়গায় এরশাদ করেছেন, "আর আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং (যা ইচ্ছা) মনোনীত করেন।" (সুরা কাসাস ৬৮)।  তাই, এসব বিষয়ে আমরা সবাই অজ্ঞ।


আপনি বলেছেন, আবার যখন কোনো বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এক স্বামী বাদ দিয়ে আরেক জনের সাথে বিবাহ হয় তখন সেটাও কি আল্লাহ তায়ালা লিখে রেখেছেন? 


উত্তরঃ হ্যাঁ, এটাও আল্লাহ তায়ালা লিখে রেখেছেন। কেননা পবিত্র হাদীসে বর্ণিত আছে, "আবদুল্লাহ ইবনু আম্‌র ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: 'আল্লাহ তা‘আলা সকল মাখলুকের তাকদীর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে লিখেছেন।' (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৬৪১)। তাই পরিশেষে বলা যায় যে, তকদীর বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ তায়ালা-ই জ্ঞানী, আর এ বিষয়ে আমরা সবাই অজ্ঞ।        

করেছেন (4,356 পয়েন্ট)
হুম সেটা বুঝলাম ।

কিন্তু একজন মানুষের জুটি যদি পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করা থাকে তাহলে একজনের সাথে বিয়ে হয়ে ডিভোর্সের মাধ্যম যখন আরেকজনের সাথে বিয়ে হয় তখন তো এক নারীর দুই ব্যক্তির সাথে বিয়ে হলো । 

তাহলে কিভাবে সে নারী কেবল একজনের পুরুষের জন্য সৃষ্টি হলো ? 
করেছেন (3,673 পয়েন্ট)
হ্যাঁ, আপনি ভালো একটি কথা বলেছেন।  আপনি বলেছেন "একজন মানুষের জুটি যদি পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করা থাকে, তাহলে একজনের সাথে বিয়ে হয়ে ডিভোর্সের মাধ্যম যখন আরেকজনের সাথে বিয়ে হয় তখন তো এক নারীর দুই ব্যক্তির সাথে বিয়ে হলো । তাহলে কিভাবে সে নারী কেবল একজনের পুরুষের জন্য সৃষ্টি হলো ?" 

উত্তরঃ সেই নারীর যথাযথ উপায় হবে অন্য পুরুষের কাছে অবতরণ করা। কেননা, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন, "তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তা নির্ধারণ করেছেন যথাযথ অনুপাতে।" (সুরা ফুরকান, ২)।

আর আপনার কথার উপর নির্ভর করে আমি যদি বলি, "একজন মানুষকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন অপর একটি মানুষের জন্য। তাহলে, রাসুল (সঃ) এর জন্য কেন আল্লাহ তায়ালা ১১জনের অধিক স্ত্রী ভাগ্যলিপিতে লিখে রেখেছিলেন ? আপনি কি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন?  

আমাদের উচিৎ হবে তকদিরের বিষয়ে বেশি কথা না বলা। কেননা, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে এরশাদ করেছেন, "সত্য আসে তোমাদের রব-এর কাছ থেকে; কাজেই যার ইচ্ছে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছে কুফরী করুক। (সুরা কাহফ ২৯)। 

আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে সবাইকে বলেই দিয়েছেন যে, এ বিষয়ে তোমরা ইমান আনো আর নাইবা আনো। যদি এটিকে তোমরা বিশ্বাস করো, তাহলে তোমরা মুমিনের দলে আর যদি তোমরা এটির ওপর বিশ্বাস স্থাপন না করো, তাহলে তোমরা কাফেরের দলভুক্ত। আর সত্য আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাই, আপনার উল্লিখিত নারীর বিষয়বস্তুও আল্লাহর কাছ থেকে একটি রপ্ত মাত্র। বই আর কিছু নয়। 
+1 টি পছন্দ
করেছেন (3,782 পয়েন্ট)

হ্যাঁ, এগুলো সবই আল্লাহ তাআলা পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন৷ তবে মানুষের চেষ্টা সাধনার মাধ্যমে কিছুটা পরিবর্তন সম্ভব৷

বিশ্বজগতে আমরা যা কিছু দেখি, এবং যা কিছু চিন্তা করতে পারি, সবকিছুর দুটি দিক থাকে। একটি অংশ পূর্ব থেকে নির্ধারিত, এবং অন্য একটি অংশ পরিবর্তনশীল।

যেমন ধরুন, ফেইসবুকে আপনার যা ইচ্ছা তা পড়তে পারেন ও লিখতে পারেন। কিন্তু, ইচ্ছা করলেই মার্ক জুকারবার্গ ফেইসবুককে আপনি গুগল+ বানিয়ে ফেলতে পারবেন না। মার্ক জুকারবার্গ যে পদ্ধতিতে ফেইসবুক সাজিয়েছে, আপনাকে সে পদ্ধতি মেনে নিয়েই ফেইসবুক ব্যবহার করতে হবে।

বিশ্বের সবকিছুর এমন দুটি দিক আছে। সবকিছুর ক্ষেত্রেই একটু স্বাধীনতা দেয়া আছে, আবার পূর্ব নির্ধারিত একটি ফর্মুলাও দেয়া রয়েছে।

আমাদের জীবনের একটি ইচ্ছা শক্তি আছে, আবার আমাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। আমাদের ইচ্ছা শক্তি অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারে, আবার অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারে না। মানুষ কি পরিবর্তন করতে পারবে, এবং কতটুকু পরিবর্তন করতে পারবে, এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়। এই নির্ধারিত হওয়ার বিষয়টাকে বিশ্বাস করার নাম-ই তাকদীর।

এবার মূল প্রশ্নে আসি– তাকদীর বা ভাগ্য কি পূর্ব নির্ধারিত না পরিবর্তনশীল?

এই প্রশ্নটির মাঝে একটি শব্দ হলো – ‘পূর্ব’। ‘পূর্ব’ শব্দের অর্থ অতীত। মানে, ভাগ্য কি অতীত থেকে নির্ধারিত থাকে?

‘অতীত’ শব্দটি সময়ের সাথে সম্পর্কিত। সময়কে মানুষ সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করে – অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। মানুষ সময়ের অধীন। সময়ের মাত্রা-জ্ঞান ব্যতীত মানুষ কোনো কিছু কল্পনা করতে পারে না। তাই, মানুষ প্রশ্ন করে, ভাগ্য কি ‘পূর্ব’ থেকে নির্ধারিত? কিন্তু, আল্লাহ সময়ের অধীন নয়, তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে। আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল বলে কিছু নেই। যেমন, আল্লাহ তায়ালা বলছেন –

وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا أَمْرُ السَّاعَةِ إِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো চোখের পলকের ন্যায়, অথবা তার চাইতেও দ্রুত। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর কাদীর বা শক্তিমান। [সূরা ১৬ /নাহল – ৭৭]

তাকদীর বোঝার জন্যে এই আয়াতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এই আয়াতে তাকদীর সম্পর্কে বেশ কিছু অনুসিদ্ধান্ত রয়েছে। যেমন,

অনুসিদ্ধান্ত – এক।
আল্লাহ তায়ালা আসমান ও জমিনে সবকিছুর গায়েব জানেন। এখানে গায়েব জানার অর্থ হলো, আল্লাহ তায়ালা ভবিষ্যতের বিষয়াবলীকে ঠিক সেভাবেই জানেন, যেভাবে তিনি অতীতের বিষয়াবলীকে জানেন। অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালার নিকট অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

অনুসিদ্ধান্ত – দুই।
আল্লাহ তায়ালা সময়ের অধীন নয়, তিনি সময়ের অনেক ঊর্ধ্বে। তাঁর কাছে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সব একই। ফলে, পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এই সময়টা মানুষের কাছে হাজার হাজার মিলিয়ন বছর হলেও আল্লাহর কাছে একটি চোখের পলকের চেয়েও কম সময়। অর্থাৎ, আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ এগুলো নেই।

বিষয়টা আরেকটু বিস্তারিত বলি।

দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতার মত ‘সময়’ও একটি মাত্রা। দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতা ব্যতীত যেমন কোনো মানুষকে কল্পনা করা যায় না, তেমনি সময় ব্যতীতও কোনো মানুষকে কল্পনা করা যায় না। মানুষ যখন পৃথিবীতে আকৃতি লাভ করে, তখন সে একটি সময়ে প্রবেশ করে; আবার যখন মৃত্যু বরণ করে, তখন এই সময় থেকে বের হয়ে যায়। তাই, মানুষ সময়ের অধীন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার জন্ম ও মৃত্যু নেই, শুরু বা শেষ নেই।[সূত্র আল কোর’আন, ৫৭:৩]। তাই আল্লাহ তায়ালা সময়ের অধীন নয়, বরং সময়-ই আল্লাহ তায়ালার অধীন। মানুষের বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ কাল আছে। কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কাল বলে কিছু নেই। মানুষ সময়ের বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে পারে না, কিন্তু আল্লাহর কাছে সব কালই বর্তমান কাল।

অনুসিদ্ধান্ত – তিন।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টিজগতের সবাইকে কিছু কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু সকল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের মালিক তিনি।

এ তিনটি অনুসিদ্ধান্তের পর আমরা বলতে পারি,

“আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের ভাগ্য ‘পূর্ব’ নির্ধারিত” –এ কথাটা কেবল মানুষের জন্যে প্রযোজ্য। আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, মানুষের জন্যে যা অতীত, আল্লাহর জন্যে তা ‘অতীত’ নয়; আবার, মানুষের জন্যে যা ভবিষ্যৎ, তাও আল্লাহর জন্যে ‘ভবিষ্যৎ’ নয়। আল্লাহর নিকট অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সবি এক। তিনি ভবিষ্যতকে অতীতের মতই জানেন। তিনি যখন মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, তখন অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ বলে কোনো কিছু থাকে না। কিন্তু মানুষেরা যেহেতু অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে থাকে, তাই মানুষকে বোঝানোর জন্যে রাসূল (স) বলেছেন যে, মানুষের ভাগ্য ‘অতীত’ বা ‘পূর্ব’ থেকেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে।

এবার, কোর’আন থেকে উদাহরণ দেয়া যাক।

কোর’আনের উদাহরণ

নিচের দুটি আয়াত দেখুন। প্রথম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন যে, মানুষের উপর যে বিপদ আসে তা আগেই লিপিবদ্ধ করা থাকে। কিন্তু, দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন যে, মানুষের কৃতকর্মের কারণেই তার উপর বিপদ আসে।

مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍۢ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِى كِتَـٰبٍۢ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَآ ۚ إِنَّ ذَ‌ٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٌۭ

পৃথিবীতে এবং তোমাদের উপর যে বিপদ আসে, তা পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ করা আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ। [ সূরা ৫৭/হাদীদ – ২২]

وَمَآ أَصَـٰبَكُم مِّن مُّصِيبَةٍۢ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا۟ عَن كَثِيرٍۢ

তোমাদের উপর যে বিপদ আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। এবং তোমাদের অনেক গোনাহ তিনি ক্ষমা করে দেন। [ সূরা ৪২/শূরা – ৩০]

দেখে মনে হয়, আয়াত দুটি কি পরস্পর বিপরীত? উত্তর – না। একটু লক্ষ্য করলেই দেখব, মানুষ যখন কোনো কাজ করে, তখন সে কাজের একটি অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ থাকে। কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কাল একই।

তাই দেখুন, বিপদের ব্যাপারটা যখন আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্কিত হয়েছে, তখন তিনি বলেছেন – বিপদ আসার আগেই তা আল্লাহ নিকট লেখা থাকে, এবং এটি আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ একটি কাজ। কিন্তু, বিপদের ব্যাপারটা যখন মানুষের সাথে সম্পর্কিত হয়েছে, তখন আল্লাহ বলছেন – মানুষের কৃতকর্মের ফলেই বিপদ আসে। আল্লাহর ক্ষেত্রে সময় এবং মানুষের সময়, – দুটি বিষয়ের পার্থক্য মাথায় রাখলে আয়াত দুটির মাঝে কোনো বৈপরীত্য আর থাকে না।

এখন, মানুষ আল্লাহর নিয়ামত গ্রহণ করবে নাকি বর্জন করবে, এটা আল্লাহর পক্ষে আগ থেকেই জানা সম্ভব। কারণ, মানুষের যেমন অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কাল আছে, আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে এমন কোনো অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কাল নেই। মানুষের অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল আল্লাহর জন্যে একই। তাই, মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আগ থেকেই জানেন।

বিষয়টি আরো সহজভাবে বলার জন্যে সর্বশেষ একটি উদাহরণ দিচ্ছি।

ধরুন, তাজা ঘাসে পরিপূর্ণ একটি মাঠ। একজন রাখাল একটি গরুর গলায় রশি লাগিয়ে তাকে ঐ মাঠে ছেড়ে দিল। মাঠের নির্দিষ্ট অংশে ইচ্ছামত বিচরণ করার ক্ষমতা গরুটির আছে, যেখান থেকে ইচ্ছা সেখান থেকে খাবারের সুযোগও তার আছে। কিন্তু গরুর গলার রশি যতদূর যায়, তার বাইরে গিয়ে ঘাস খাওয়ার সুযোগ গরুটিকে দেয়া হয়নি। এখন, গরুটি ইচ্ছা করলে মাঠের নির্দিষ্ট অংশের তাজা ঘাসগুলো খেয়ে নিজের পেট পূর্ণ করতে পারে, অথবা কিছু না খেয়ে উপাস থাকতে পারে। রাখাল জোর করে ঐ গরুটিকে ঘাস খাইয়ে দিবে না।

এভাবে, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কিছু নেয়ামত আগ থেকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। আমরা যদি চেষ্টা করি, তাহলে আল্লাহর ঐ নিয়ামত অর্জন করতে পারব; আর চেষ্টা না করলে, ঐ নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হব।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। রাখাল যেহেতু মানুষ, তাই সে সময়ের দ্বারা অবদ্ধ। গরুটি ঘাস খাবে কি খাবে না, এটা রাখাল আগ থেকে জানে না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যেহেতু সময়ের ঊর্ধ্বে, তাই তিনি আগ থেকে জানেন, মানুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া নেয়ামত গ্রহণ করবে কি করবে না।

অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা সময়ের ঊর্ধ্বে, তাই তিনি মানুষের ভবিষ্যৎ জানেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা মানুষের ভবিষ্যৎ জানেন বলে, মানুষ যদি ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের আশা ত্যাগ করে, তাহলে মানুষ ভবিষ্যতকে হারিয়ে ফেলবে। এটাই আল্লাহ তায়ালার সুন্নত। এবং এটার নামই তাকদীর।

সুতরাং, তাকদীর বা ভাগ্য হলো এমন একটি বিষয় যা আল্লাহর সামগ্রিক ইচ্ছা এবং মানুষের সীমাবদ্ধ ইচ্ছার দ্বারা পরিবর্তনশীল। এখানে আল্লাহর ইচ্ছা সময়ের অধীন নয়, কিন্তু মানুষের সময়ের অধীন৷

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন৷

করেছেন (4,356 পয়েন্ট)

তাহলে আমরা কেন আমাদের পছন্দের মানুষ খুঁজতে থাকি ? আমাদের জন্য তো মহান আল্লাহ তায়ালা পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন তাইনা??  তাহলে ভালো খুঁজে কি লাভ , আমাদের জন্য যাকে নির্ধারণ করা হয়েছে তাকেই তো পাবো আমরা । 

আবার যখন কোনো বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এক স্বামী বাদ দিয়ে আরেক জনের সাথে বিবাহ হয় তখন সেটাও কি আল্লাহ তায়ালা লিখে রেখেছেন? 
যদি তাই হয় তবে কেন একজনের জন্য দুটি জুটির ব্যবস্থা করেছেন আল্লাহ তায়ালা? 
আসলে এই প্রশ্নগুলো প্রায়ই আমার মনে ঘুরপাক খায় । কেবল জানার জন্যই মন্তব্য করছি । আল্লাহ ক্ষমা করুক । আশাকরি সদুত্তর পাবো ।
+1 টি পছন্দ
করেছেন (58 পয়েন্ট)
একজন মহিলার যে জায়গায় বিয়ে হবে সেটা আল্লাহ তায়ালা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন! এবং যে জায়গায় ঐ মহিলার বিয়ে হবে আল্লাহ তায়ালা সেই জায়গার মাটি দিয়ে মহিলাদেরকে সৃষ্টি করেছেন!
করেছেন (4,356 পয়েন্ট)
তাহলে যখন একটি মহিলার দুই যায়গায় বিয়ে হয় তখন কি তাকে দুই যায়গার মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে?
করেছেন (58 পয়েন্ট)
না! মহিলাটি যেই স্বামীর গ্রামে বা বাড়িতে মারা যাবে! সেই যায়গার মাটি দিয়ে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে!
করেছেন (4,356 পয়েন্ট)
তাহলে বিবাহিত নারীর যখন ডিভোর্স হয় এবং পরবর্তীতে অন্য আরেকজনের সাথে বিয়ে হয় তখন বিষয়টিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন ।

অর্থাৎ আল্লাহ কি তার জুটি দুইজন ব্যক্তির সাথেই লিখে রেখেছেন?
করেছেন (4,882 পয়েন্ট)
এই উত্তরে ভুল মনে হচ্ছে। কারণ আমার জানামতে মানুষের যেখানে কবর হয়  সেখানের মাটি দিয়ে তাকে সৃষ্টি করা হয়। এখানে বিবাহ, স্বামীর বাড়ি এই ব্যাপারগুলো আসে না। কারণ অবিবাহিত অবস্থায়ও অনেকে মারা যান।
টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
প্রশ্ন ছিল ঃ "ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন"- কোরআনের এই বানী ঐরকম করে লেখা করআন অবমাননার শামীল -এই কথাটা কি শরিয়ত সম্মত? উত্তর দিয়েছনঃ এ ব্যাপারে কোনো ফতোয়া পাইনি, আল্লাহ্‌ ভালো জানেন, আমার মনে হয়না এতে কোনো সমস্যা আছে, কেননা সংক্ষিপ্ত রুপটি মূল আয়াতের অর্থ বিকৃত করেনা। আর খুব কমন হওয়ায় যে কেউ এটা দেখেই বুঝতে পারে। এটা যদি অবমাননাকর হতো তাহলে (স.), (র.), (রা.), MD ইত্যাদি সবই বর্জন করা হতো। কিন্তু স্বয়ং ইসলামি বইয়েও এরকম সংক্ষিপ্ত রুপের ব্যবহার দেখা যায়। এখন আমি প্রশ্নকারী প্রশ্ন হল কোরআনের বাণীর সাথে মানুষের নামের উদাহরণের দেয়ার কি যুক্তিকতা থাকতে পারে। তাই আমি এ ব্যাপারে একজন অভিজ্ঞ মুফতি মোহাদ্দেসের মাধ্যমে উত্ত্র জানতে চাই?
13 মার্চ 2016 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Syed Mostaq Uddin (3,171 পয়েন্ট)

289,302 টি প্রশ্ন

374,867 টি উত্তর

113,378 টি মন্তব্য

157,790 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...