218 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (32 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (32 পয়েন্ট)
তাবীজ লটকানো, রিং, তাগা পরিধান করা, হাতে লোহা বা রাবারের আংটা লাগানো, সুতা, পুঁতির মালা বা অনুরূপ বস্তু ব্যবহারের হুকুম কি? উত্তরঃ উপরোক্ত জিনিষগুলো ব্যবহার করা হারাম। নিন্মে রেফারেন্স সহ দলীল সমূহ পেশ করা হল: 1) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ (من علق شيئا وكل إليه) “যে ব্যক্তি কোন জিনিষ লটকাবে, তাকে ঐ জিনিষের দিকেই সোপর্দ করে দেয়া হবে”।[১] 2) কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন লোক পাঠিয়ে বলে দিলেন যেঃأَنْ لاَ يَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلاَدَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلاَدَةٌ إِلاَّ قُطِعَتْ “কোন উটের গলায় ধনুকের রশি বা গাছের ছাল দিয়ে তৈরী হার ঝুলানো থাকলে অথবা যে কোন মালা থাকলে সেটি যেন অবশ্যই কেটে ফেলা হয়।”[2] 3) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ) “ঝাড়-ফুঁক করা, তাবীজ লটকানো এবংস্বামী বা স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা সৃষ্টির জন্যে যাদুমন্ত্রের আশ্রয় নেয়া শির্ক”।[3] 4) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য এক হাদীছে বলেনঃ (مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فلا أتم الله له ومن علق ودعة فلا ودع الله له) “যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো, আল্লাহ্ যেন তার উদ্দেশ্য পূর্ণ না করেন। আর যে ব্যক্তি রুগমক্তির জন্যে শামুক বা ঝিনুকের মালা লটকালো, আল্লাহ্ যেন তাকে শিফা না দেন”।[৪] 5) তিনি অন্য এক হাদীছে বলেনঃ (مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ) “যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো সে শির্ক করল”।[৫] 6) নবী (সাঃ) এক ব্যক্তির হাতে পিতলের একটি আংটা দেখে বললেনঃ এটি কী? সে বললঃ এটি দুর্বলতা দূর করার জন্যে পরিধান করেছি। তিনি বললেনঃ (انْزِعْهَا فَإِنَّهَا لَا تَزِيدُكَ إِلَّا وَهْنًا فَإِنَّكَ لَوْ مِتَّ وَهِيَ عَلَيْكَ مَا أَفْلَحْتَ أَبَدًا)“তুমি এটি খুলে ফেল। কারণ এটি তোমার দুর্বলতা আরো বাড়িয়ে দিবে। আর তুমি যদি এটি পরিহিত অবস্থায় মৃত্যু বরণ কর, তাহলে তুমি কখনই সফলতা অর্জন করতে পারবে না”।[৬] 7) হুজায়ফা (রাঃ) দেখলেন এক ব্যক্তির হাতে একটি সুতা বাঁধা আছে। তিনি তা কেটে ফেললেন এবং কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করলেনঃ وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إلاَّ وَهُمْ مُشْرِكُونَ “তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে”। (সূরা ইউসুফঃ ১০৬) ৮) সাঈদ বিন জুবায়ের (রাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মানুষের শরীর থেকে একটি তাবীজ কেটে ফেলল, সে একটি গোলাম আযাদ করার ছাওয়াব পেল। সাঈদ বিন জুবায়েরের এই কথাটি নবী (সাঃ) হতে বর্ণিত মারফু হাদীছের পর্যায়র্ভূক্ত। [১] -তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিব্ব। শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী (রঃ) হাসান বলেছেন। ( দখুনঃ সহীহুত্ তিরমিযী হা নং- ২০৭২ ) [২] – বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিব্ব। [৩] – আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিব্ব। শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী হাদীছ সহীহ বলেছেন। দেখুনঃ সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (৬/১১৬১)। এখানে যে ঝাড়ফুঁক করাকে শির্ক বলা হয়েছে, তা দ্বারা শির্কী কালামের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক উদ্দেশ্য। তবে ঝাড়ফুঁক যদি আল্লাহর কালাম, আল্লাহর সিফাত বা সহীহ হাদীছে বর্ণিত কোন বাক্যের মাধ্যমে হয়, তাতে কোন অসুবিধা নেই। [৪] – হাকেম, (৪/২১৯। ইমাম আলবানী (রঃ) হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। দেখুনঃ সিলসিলায়ে যঈফা, (৩/৪২৭) [৫] – মুসনাদে আহমাদ, (৪/১৫৬) ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, দেখুন সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (১/৮০৯) [৬] – মুসনাদে আহমাদ, দেখুনঃ আহমাদ শাকেরের তাহকীক, (১৭/৪৩৫) তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (4,797 পয়েন্ট)

১। তাবিজ লটকানো ২। রিং পরিধান করা ৩। কোমরে তাগা বা রাখি পরধান করা ৪। হাতে লোহা বা রাবারের আংটা ব্যবহার করা ৫। হাতে বা গলায় সুতা পরা- এসবই নিষেধ। ইসলামীয় শরীয়ার সাথে এসবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে তাগা পরিধানের ব্যাপারটি একটু বলি। অনেকে তাবিজ-কবচ না করলেও কোমরে তাগা ঠিকই ব্যবহার করেন। ইমাম মুয়াজ্জিন থেকে শুরু করে মুফতী মুহাদ্দীসগণও এ জিনিসটি ব্যবহার করে থাকেন। দেশের রাষ্ট্রীয় কর্ণধার থেকে শুরু করে নামী দামী ব্যক্তিবর্গও এটা ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু তাগা ব্যবহারের উৎপত্তিটা কোথা থেকে হয়েছে সে সম্পর্কে আমরা জানি না। এটা কেন ব্যবহার করা হয়? কেউ যদি বলে এমনি এমনিই ব্যবহার করি তাহলে তার কথা ভুল। কারণ কেউ বাজার থেকে কালো সুতা কিনে এনে এমনি এমনিই কোমরে ব্যবহার করবে না। বরং এটাকে মানুষ কল্যাণের বিশ্বাস নিয়েই ব্যবহার করে থাকে। এ কল্যাণটা কোথা থেকে এলো? কালো এ জিনিসটাকে হিন্দুরা বলে রাখি বা মঙ্গলসূত্র। সংসদ বাংলা অভিধানে রাখি শব্দের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিপদ হইতে রক্ষাকামনায় প্রিয়জনের মণিবন্ধে যে মঙ্গলসূত্র বাঁধিয়া দেওয়া। রাখিবন্ধন- শ্রাবণ-পূর্ণিমায় প্রিয়জনের হাতে রাখি বাঁধিয়া দেওয়া হয়। পৃ.৫২২।  এবার দেখুন কোমরে হাতে এ মঙ্গলসূত্র বন্ধনের উৎসমূলটা কোথায়। অজ্ঞাতসারে আমরা কিভাবে ঈমান বিধ্বংসী কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছি। সুতরাং রাখি বন্ধন এটা মুসলিমদের কোনো কালচার নয়। বিজাতীয় এ ধর্মীয় সংস্কৃতির আশু অপনোদন জরুরী।

closeWe

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

2 টি উত্তর
22 জানুয়ারি 2014 "ঈমান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rafia Begum (1,096 পয়েন্ট)

252,590 টি প্রশ্ন

328,706 টি উত্তর

94,317 টি মন্তব্য

131,058 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
closeWe
  1. জামিয়ার রাহমান M

    1526 পয়েন্টস

  2. Md. Faridur Reza

    1182 পয়েন্টস

  3. মোঃ হীরা খান

    1153 পয়েন্টস

  4. রঞ্জন কুমার

    1021 পয়েন্টস

  5. allahorgolam

    982 পয়েন্টস

* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...