371 জন দেখেছেন
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন (2,489 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (2,489 পয়েন্ট)

বাংলাদেশের মানুষের (বিশেষত পুরুষ) মাঝে একটা বাতিক দেখা যায় আর তা হলো ধূমপান। শুধু বদভ্যাস বা আসক্তি নয়, এটাকে বাতিকই বলা যায় কারন জিনিসটা ক্ষতিকর জেনেও অনেকে এর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। অনেকের মনে আবার এই ধারনাটাও আছে যে ধূমপান করার ফলে তাদেরকে “স্মার্ট” দেখায়। আচ্ছা, ধূমপান করে শরীরের বারোটা বাজানোর মাধ্যমে যদি স্মার্ট হতে হয় তবে সেই স্মার্টনেসের কোনও মূল্য আছে? আমরা সবাই ব্যাপারটা জানি, কিন্তু তারপরেও ধূমপায়ীদের সংখ্যা কমতে তো দেখা যাচ্ছে না! ধূমপান ছেড়ে দিলে যে স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে সেটা তো আমরা জানি।আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ধূমপায়ীদের চাইতে অধূমপায়ীরা গড়ে ১৪ বছর বেশি বাঁচেন। কিন্তু ঠিক কি প্রক্রিয়ায় এই উপকারটা হয়? আসুন দেখে নেই ধূমপান না করে থাকলে কি উপকার হতে পারে। কে জানে, এই উপকারের তালিকা দেখলে হয়ত আপনি এখনই ধূমপান ছেড়ে দেবেন!

 

২০ মিনিট পরঃ   একটা সিগারেট খাবার পর বিশ মিনিট পার হলেই আপনার শরীরের অবস্থা ভালো হতে থাকে। হৃদয়ের ওপর ধূমপানের প্রভাব ভয়ঙ্কর। সিগারেট খাবার বিশ মিনিট পরে হৃদস্পন্দন স্থিতিশীল হতে শুরু করে।

 

ধূমপান না করে ২ ঘণ্টাঃ   ধূমপান না করে ২ ঘণ্টা পার করলে হৃদস্পন্দনের গতি এবং রক্তের চাপ উভয়েই স্বাভাবিক হয়ে আসে। শরীরে রক্ত চলাচল ভালো হতে শুরু করে। ফলে আপনার হাত-পায়ের আঙ্গুলের ডগা রক্ত চলাচলের ফলে উষ্ণ হয়ে ওঠে।

 

ধূমপান ছেড়ে দেবার ১২ ঘণ্টা পরেঃ   ধূমপানের ফলে শরীরে খুব ক্ষতিকর একটা গ্যাস জমে যায়, আর তা হল কার্বন মনোক্সাইড। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এই গ্যাস। ধূমপান ছাড়া ১২ ঘণ্টা থাকতে পারলে শরীরে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ কমে আসতে থাকে এবং রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

 

ধূমপান ছাড়া ২৪ ঘণ্টা (পুরো একদিন)ঃ   অন্যদের তুলনায় ধূমপায়ীদের হার্ট আট্যাকের ঝুঁকি থাকে ৭০ শতাংশ বেশি। কিন্তু জানেন কি, মাত্র এক দিন ধূমপান ছাড়া কাটালেই আপনার হার্ট আট্যাকের ঝুকির মাত্রা কমে আসতে শুরু করবে?

 

ধূমপান ছাড়া ২ দিনঃ  ধূমপানের আরও একটা লুকানো অপকারিতা আছে যা অনেকেই বুঝতে পারেন না। সেটা হলো, স্বাদ এবং গন্ধ বুঝতে পারার ক্ষমতা কমে যাওয়া। খাবারের স্বাদ, ফুলের গন্ধ নেবার ক্ষমতা তাদের ভোঁতা হয়ে যায়। ধূমপান ছাড়া দুই দিন অতিবাহিত করার ফলে স্নায়ুর কার্যকারিতার পুনরায় আগের মতো ভালো হতে শুরু করে, ফলে এসব ইন্দ্রিয় আবারো সক্রিয় হতে শুরু করে। ধূমপায়ীরা আবারো খাবারের ভালো স্বাদ এবং সুগন্ধ পেতে শুরু করেন।

 

ধূমপান ছাড়া ৩ দিনঃ  এই কয়েকদিন আপনার শরীরের অবস্থার উন্নতিই হয়েছে, এবার খারাপ লাগতে পারে। কারন ধূমপানের ফলে শরীর নিকোটিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়। ৩ দিনের মাথায় শরীরে থাকা নিকোটিন দূর হয়ে যায় ফলে এর অভাবে শরীরে দেখা যায় উইথড্রয়াল সিনড্রোম। মাথাব্যাথা, বমি ভাব, পেশীতে টান লাগা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

 

ধূমপান ছেড়ে দেবার তিন সপ্তাহ পরেঃ  ধূমপানের ফলে যে ক্ষতি হয়েছিল আপনার শরীরে তা থেকে কোষগুলো ধীরে ধীরে সেরে উঠতে শুরু করে। ব্যায়াম করার সময় আগের মতো ক্লান্ত লাগবে না আপনার। রক্ত চলাচল এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বেড়ে যাবে। আর এ সময়ে উইথড্রয়াল সিনড্রোমগুলোও চলে যায়।

 

ধূমপান ছেড়ে দেবার ১-৯ মাসঃ  ধূমপানের ফলে আপনার বেচারা ফুসফুস যে ভয়ঙ্কর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল তা থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করবে। ধূমপায়ীদের বেশিরভাগ সময়ে কাশি এবং কফ হবার যে সমস্যা তা কমে যাবে।

 

ধূমপান থেকে দূরে এক বছরঃ  শরীরের সার্বিক অবস্থার উন্নতি হবার সাথে সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যাবে ৫০ শতাংশ।
 

ধূমপান ছাড়া পাঁচ বছরঃ  যে মানুষটি কখনোই ধূমপান করেনি, তার মতই ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী হবেন আপনি। এ সময়ে স্ট্রোকের আশঙ্কাও কমে যায়।

 

ধূমপান ছাড়ার ১০ বছর পরঃ  এ পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যান্সার হবার ঝুঁকি কমে যাবে ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া মুখ, গলা, ইসোফ্যাগাস, মুত্রথলি, কিডনি এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হবার ঝুঁকিও কমে যায়।

 

১৫ বছর পরঃ  ধূমপানের ফলে হৃদপিণ্ডের যে সব রোগ বা জটিলতার সৃষ্টি হয় সেসবের ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থাকবেন আপনি।
 

বাংলাদেশের মানুষের (বিশেষত পুরুষ) মাঝে একটা বাতিক দেখা যায় আর তা হলো ধূমপান। শুধু বদভ্যাস বা আসক্তি নয়, এটাকে বাতিকই বলা যায় কারন জিনিসটা ক্ষতিকর জেনেও অনেকে এর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। অনেকের মনে আবার এই ধারনাটাও আছে যে ধূমপান করার ফলে তাদেরকে “স্মার্ট” দেখায়। আচ্ছা, ধূমপান করে শরীরের বারোটা বাজানোর মাধ্যমে যদি স্মার্ট হতে হয় তবে সেই স্মার্টনেসের কোনও মূল্য আছে? আমরা সবাই ব্যাপারটা জানি, কিন্তু তারপরেও ধূমপায়ীদের সংখ্যা কমতে তো দেখা যাচ্ছে না! ধূমপান ছেড়ে দিলে যে স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে সেটা তো আমরা জানি।আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ধূমপায়ীদের চাইতে অধূমপায়ীরা গড়ে ১৪ বছর বেশি বাঁচেন। কিন্তু ঠিক কি প্রক্রিয়ায় এই উপকারটা হয়? আসুন দেখে নেই ধূমপান না করে থাকলে কি উপকার হতে পারে। কে জানে, এই উপকারের তালিকা দেখলে হয়ত আপনি এখনই ধূমপান ছেড়ে দেবেন!

image

২০ মিনিট পর

হ্যাঁ, একটা সিগারেট খাবার পর বিশ মিনিট পার হলেই আপনার শরীরের অবস্থা ভালো হতে থাকে। হৃদয়ের ওপর ধূমপানের প্রভাব ভয়ঙ্কর। সিগারেট খাবার বিশ মিনিট পরে হৃদস্পন্দন স্থিতিশীল হতে শুরু করে।

ধূমপান না করে ২ ঘণ্টা

ধূমপান না করে ২ ঘণ্টা পার করলে হৃদস্পন্দনের গতি এবং রক্তের চাপ উভয়েই স্বাভাবিক হয়ে আসে। শরীরে রক্ত চলাচল ভালো হতে শুরু করে। ফলে আপনার হাত-পায়ের আঙ্গুলের ডগা রক্ত চলাচলের ফলে উষ্ণ হয়ে ওঠে।

ধূমপান ছেড়ে দেবার ১২ ঘণ্টা পরে

ধূমপানের ফলে শরীরে খুব ক্ষতিকর একটা গ্যাস জমে যায়, আর তা হল কার্বন মনোক্সাইড। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এই গ্যাস। ধূমপান ছাড়া ১২ ঘণ্টা থাকতে পারলে শরীরে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ কমে আসতে থাকে এবং রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

ধূমপান ছাড়া ২৪ ঘণ্টা (পুরো একদিন)

অন্যদের তুলনায় ধূমপায়ীদের হার্ট আট্যাকের ঝুঁকি থাকে ৭০ শতাংশ বেশি। কিন্তু জানেন কি, মাত্র এক দিন ধূমপান ছাড়া কাটালেই আপনার হার্ট আট্যাকের ঝুকির মাত্রা কমে আসতে শুরু করবে?

image

ধূমপান ছাড়া ২ দিন

ধূমপানের আরও একটা লুকানো অপকারিতা আছে যা অনেকেই বুঝতে পারেন না। সেটা হলো, স্বাদ এবং গন্ধ বুঝতে পারার ক্ষমতা কমে যাওয়া। খাবারের স্বাদ, ফুলের গন্ধ নেবার ক্ষমতা তাদের ভোঁতা হয়ে যায়। ধূমপান ছাড়া দুই দিন অতিবাহিত করার ফলে স্নায়ুর কার্যকারিতার পুনরায় আগের মতো ভালো হতে শুরু করে, ফলে এসব ইন্দ্রিয় আবারো সক্রিয় হতে শুরু করে। ধূমপায়ীরা আবারো খাবারের ভালো স্বাদ এবং সুগন্ধ পেতে শুরু করেন।

ধূমপান ছাড়া ৩ দিন

এই কয়েকদিন আপনার শরীরের অবস্থার উন্নতিই হয়েছে, এবার খারাপ লাগতে পারে। কারন ধূমপানের ফলে শরীর নিকোটিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়। ৩ দিনের মাথায় শরীরে থাকা নিকোটিন দূর হয়ে যায় ফলে এর অভাবে শরীরে দেখা যায় উইথড্রয়াল সিনড্রোম। মাথাব্যাথা, বমি ভাব, পেশীতে টান লাগা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

ধূমপান ছেড়ে দেবার তিন সপ্তাহ পরে

ধূমপানের ফলে যে ক্ষতি হয়েছিল আপনার শরীরে তা থেকে কোষগুলো ধীরে ধীরে সেরে উঠতে শুরু করে। ব্যায়াম করার সময় আগের মতো ক্লান্ত লাগবে না আপনার। রক্ত চলাচল এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বেড়ে যাবে। আর এ সময়ে উইথড্রয়াল সিনড্রোমগুলোও চলে যায়।

ধূমপান ছেড়ে দেবার ১-৯ মাস

ধূমপানের ফলে আপনার বেচারা ফুসফুস যে ভয়ঙ্কর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল তা থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করবে। ধূমপায়ীদের বেশিরভাগ সময়ে কাশি এবং কফ হবার যে সমস্যা তা কমে যাবে।

ধূমপান থেকে দূরে এক বছর

শরীরের সার্বিক অবস্থার উন্নতি হবার সাথে সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যাবে ৫০ শতাংশ।

<img alt="undefined" src="file:///C:/Users/MdArifulIslam/Desktop/%E0%A6%A7%E0%A7%82%E0%A6%AE%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A7%80%20%E0%A6%B9%E0%A7%9F%20%20_%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (0 পয়েন্ট)

২০ মিনিট পরঃ রক্তচাপ ও নাড়ী স্বাভাবিক হবে । রক্ত চলাচল ভালো হবে ।

৮ ঘন্টা পরঃ  রক্তে Nicotine ও Carbon Monoxide আগের চেয়ে কমে যাবে ।রক্ত চলাচল আরো ভালো হবে । আক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক হবে ।

১ দিন পরঃ Carbon Monoxide শরীরে আর থাকবে না ।ফুসফুসে জমে থাকা ময়লা আস্তে আস্তে কমে যাবে ।

২ দিন পরঃ Nicotine শরীরে আর থাকবে না । জিহ্বার স্বাদ ও গন্ধ ফাবেন ।

৩ দিন পরঃ শক্তি র্বদ্ধি পাবেন ও শ্বাস প্রশ্বাসে নালী পরিষ্কার হবে ও শ্বাস প্রশ্বাস সহজ হবে ।

২-১২ সপ্তাহ পরঃ ।রক্ত চলাচল স্বাভাবিক মানুষের মত  হবে ।

৩-৯ মাস পরঃ ফুসফুসের কাজ আরো ১০% স্বাভাবিক হবে ।

৫ বছর পরঃ হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি ৫০% কমে আসবে ।

টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
25 মার্চ 2015 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Ferdausi (5,273 পয়েন্ট)
1 উত্তর
15 জানুয়ারি 2015 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন রাসেলBD (10 পয়েন্ট)
3 টি উত্তর
11 সেপ্টেম্বর 2014 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন জাহাঙ্গীর (7 পয়েন্ট)

287,880 টি প্রশ্ন

373,184 টি উত্তর

112,807 টি মন্তব্য

156,594 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...