14,056 জন দেখেছেন
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন (6,503 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (5,324 পয়েন্ট)
যেসব ধূমপায়ী দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকেন তাদের দেহে এমন এক ধরণের জিন রয়েছে যা তাদের দীর্ঘ জীবন পেতে সহায়তা করে। এসব জিন ধূমপানের ক্ষতি থেকে শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে। এই জিন ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছেন যে, ধূমপায়ীদের কারও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং কারও কারও না হওয়ার সঙ্গে বিশেষ জিনের সম্পর্ক রয়েছে। এসব জিন শরীরের কোষগুলিকে প্রতিবেশের বা ধূমপানের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং সেগুলোকে মেরামত করে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বার্ধক্য বিলম্বিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তামাকের ক্ষতির কারণে ধূমপায়ীদের অর্ধেকেরই মৃত্যু ঘটে। সংস্থাটি জানায়, তামাকের ব্যাপক ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের প্রতি বিশ্বের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হুমকি, যাতে বছরে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যত মানুষের মৃত্যু হয় তার শতকরা ৩০ ভাগই ঘটে ধূমপানের কারণে। উল্লেখ্য, পুরুষের মধ্যে ৮৭ শতাংশের মৃত্যু হয় ফুসফুসের ক্যান্সারে। অন্যদিকে নারীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের এই রোগে মৃত্যু ঘটে।

এর আগে এক গবেষণায় দেখা যায়, ধুমপানের কারণে মানুষ দ্রুত বাধ্যক্যে আক্রান্ত হয় এবং আগেভাগে মারা যায়। তবে সব ধূমপায়ী আগেভাগে মারা যায় না। কেউ কেউ দীর্ঘ জীবন লাভ করে। কেন এমনটা ঘটে সে বিষয়ে জানার জন্য গবেষকরা দীর্ঘায়ু লাভকারী ধূমপায়ীদের নিয়ে গবেষণা করেন। তারা দেখতে পান যে, দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকা ধুমপায়ীদের শরীরে বিশেষ ধরণের জিন রয়েছে যা তাদেরকে ধূমপানের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন রাসায়নিকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
0 টি পছন্দ
করেছেন (2,477 পয়েন্ট)
ধূমপান হচ্ছে তামাক জাতীয়
দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে
প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে
পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোয়া
শরীরে গ্রহণের প্রক্রিয়া। সাধারণ
যেকোনো দ্রব্যের পোড়ানো
ধোঁয়া শ্বাসের সাথে প্রবেশ
করলে তাকে ধূমপান বলা গেলেও
মূলত তামাকজাতীয় দ্রব্যাদির
পোড়া ধোঁয়া গ্রহণকেই ধূমপান
হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থা, বিভিন্ন
বৈজ্ঞানিকগণসহ মোটামুটি
সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত যে, ধূমপান
যক্ষ্মা , ফুসফুসের ক্যান্সার সহ নানা
রোগের অন্যতম প্রধান কারণ এবং
ধারক ও বাহক।
শব্দগত ব্যাখ্যা
'ধূমপান' শব্দটি 'ধূম' এবং 'পান'
শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত। ধূম হলো
'ধোঁয়া' বা বাষ্পের প্রতিশব্দ।
যেহেতু তামাকজাতীয় পদার্থের
ধোঁয়া গ্রহণ করা হয় বা পান করা হয়,
তাই একে 'ধোঁয়া পান' করা
হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, সে
হিসেবে ধূমপান শব্দটি গঠিত।
ধূমপানের প্রকারভেদ
সক্রিয় ধূমপান :ধূমপায়ী যে
অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি
বা চুরুট থেকে উদ্ভুত ধোঁয়াকে
ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি
ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয়
ধূম্পান বলে।
নিস্ক্রিয় ধূমপান :ধূমপানের সময়
ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের
পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং
অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে
নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে
নিস্ক্রিয় ধূমপান বলে।
অপকারিতা
গবেষণায় দেখা গেছে
সিগারেটের ধূমপানে
নিকোটিনসহ ৫৬টি বিষাক্ত
রাসায়নিক পদার্থ বিরাজমান।
[ তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ২০১০ খ্রিস্টাব্দে
প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
উদ্যোগে বিশ্বের ১৯২টি দেশে
পরিচালিত একটি গবেষণা
প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিজে
ধূমপান না করলেও অন্যের ধূমপানের
(পরোক্ষ ধূমপান) প্রভাবে
বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ৬,০০,০০০
মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে ১,৬৫,০০০-ই
হলো শিশু। শিশুরা পরোক্ষ ধূমপানের
কারণে নিউমোনিয়া ও অ্যাজমায়
আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়ে।
এছাড়া পরোক্ষ ধূমপানের কারণে
হৃদরোগ , ফুসফুসের ক্যান্সার সহ শ্বাস-
প্রশ্বাসজনিত রোগও দেখা দেয়।
গবেষণায়ও এও বেরিয়ে এসেছে
যে, পরোক্ষ ধূমপান পুরুষের তুলনায়
নারীর উপর বেশি ক্ষতিকর প্রভাব
ফেলে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে
বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৮১,০০০ নারী
মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে ২০০৪
খ্রিস্টাব্দে পরিচালিত এজাতীয়
আরেকটি গবেষণায় দেখা
গিয়েছিলো যে, পরোক্ষ ধূমপানের
শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ৪০% শিশু ,
৩৩% অধূমপায়ী পুরুষ এবং ৩৫%
অধূমপায়ী নারী রয়েছেন। তাতে
এও ফুটে ওঠে যে, পরোক্ষ ধূমপানের
কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির
স্বীকার হচ্ছেন ইউরোপ ও এশিয়ার
মানুষ ।[১]
ধূমপানজনিত প্রধান শ্বসন
জটিলতা
ক্যান্সার উৎপাদনে ধূমপানের
প্রভাবঃ সিগারেটের ধোঁয়ায়
ক্যান্সার সৃষ্টিকারী মিউটাজেন
থাকে। এরা মানুষের মুখ,
শ্বাসনালি,গ্রাসনালি এবং
ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
ব্রংকাইটিসঃ ধূমপান থেকে
শ্বাসনালিতে প্রদাহ এবং কাশির
সৃষ্টি হয়। একে ব্রংকাইটিস বলে।
এতে শ্বাসনালি ধীরে ধীরে
সংকুচিত হয়। হাঁপানি শ্বাসকষ্ট
সৃষ্টি হয়। ফুসফস অনেকাংশে
নিষ্ক্রিয় হয়।
এমফাইসিমাঃ ধূমপানের ফলে
শ্বাসনালিগুলোর বায়ুপথসমূহ সরু হয়
এবং ফুসফুসে অতি স্ফীতি দেখা
দেয়। একে এমফাইসিমা বলে। এর
ফলে ফুসফুসে জটিল পরিবরতন লক্ষিত
হয়।
উদ্গারি কাশিঃ ধূমপানের জন্য
অনেকের প্রচন্ড কাশি এবং কাশির
সাথে ফুসফুস থেকে মিউকাস
বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। একে
উদ্গারি কাশি বলে।
প্রতিরোধ
সামাজিক উদ্যোগ
আইনী উদ্যোগ
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে
প্রচলিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য
ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ৪
ধারা অনুযায়ী প্রকাশ্যে ধূমপানের
ফলে জরিমানা হিসেবে প্রথমবার
অনধিক ৳৩০০ (তিন শত) টাকা এবঙ
দ্বিতীয় বা পরবর্তী প্রতিবারের
জন্য দ্বিগুন টাকা দিতে হয়।{{ [২] ।
এছাড়া ১০ধারা অনুযায়ী
সিগারেট , বিড়ি ইত্যাদি
তামাকজাতীয় দ্রব্যের মোড়কে
'ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর'
কিংবা 'ধূমপান হৃদরোগের কারণ'
লেখা বাধ্যতামূলক।
টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

4 টি উত্তর
13 ফেব্রুয়ারি 2016 "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Arif by (9 পয়েন্ট)

289,188 টি প্রশ্ন

374,719 টি উত্তর

113,345 টি মন্তব্য

157,699 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...