65,899 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (6,242 পয়েন্ট)

1 উত্তর

1 টি পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (4,190 পয়েন্ট)

বিশ্বজগৎ সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে এবং মানব সৃষ্টির পূর্বে জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেন। ফেরেস্তা ও জ্বীনের মধ্যে মিল হল এই তারা উভয়ে অদৃশ্য, প্রয়োজনে যে কোন রূপ ধারণ করতে পারে, তাদের রয়েছে পাখা এবং তারা দ্রুতগতিতে সন্তরণ করতে সক্ষম। আর অমিল হল আকৃতি, গঠন ও প্রকৃতিগত। যেমন-ফেরেস্তাগণ নূরের (উত্তাপহীন আলোর) তৈরী আর জ্বীনেরা তাপ ও আলোর সমন্বয়ে (আগুনের) তৈরী।

ফেরেস্তাগণ জ্বীনের রূপ ধারণ করতে পারলেও জ্বীন ফেরেস্তার রূপ ধারণ করতে সক্ষম নয়। জ্বীন এক জোড়া পক্ষ বিশিষ্ট হলেও ফেরেস্তা দুই বা দু‘য়ের অধিক।ফেরেস্তাগণ বিশালাকৃতির আর তারা বিচারের সম্মুখীণ হবে না, কিন্তু জ্বীন বিচারের অধীন। ফেরেস্তাগণ লিঙ্গ ভিত্তিক নয়, কিন্তু জ্বীনেরা মানুষের মত লিঙ্গ ভিত্তিক। ফেরেস্তাগণ সত্য ও মিথ্যার জাল বুনতে পারে না কিন্তু জ্বীনেরা তা পারে ইত্যাদি।

ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহ তাঁর নির্দেশ পালন করার কাজে নিয়োজিত করলেন। আর তাদেরকে আসমানে বসবাস করতে দিলেন। পৃথিবীতে মহান আল্লাহর বিভিন্ন নির্দেশ পালিত করতে লক্ষ কোটি ফেরেস্তা নিয়োজিত হলেও প্রধান ফেরেস্তা মাত্র চারজন। এই ফেরেস্তা ও তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ-

 

জিব্রাইল- আল্লাহর দূত হিসেবে বার্তা পৌঁছানোর কাজে,

মিকাইল- মেঘ, বৃষ্টি, চন্দ্র, সূর্য্য পরিচালনাকারী,

আজরাইল- প্রাণ সংহারকারী হিসেবে

ইস্রাফিল- শিঙ্গা মুখে পৃথিবী এবং সমস্ত সৃষ্টি ধ্বংসের জন্যে তাঁর নির্দেশের অপেক্ষায়।

ফেরেস্তা ও জ্বীনের সৃষ্টি ও উপাদান সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-(ফেরেস্তা) ‘দুই, তিন কিংবা চার জোড়া পক্ষ বিশিষ্ট।’(৫:১) ‘এবং জ্বীনকে ’লু এর আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছি।(১৫:১৬) 

আল্লাহ পৃথিবীতে জ্বীন জাতিকে বসবাস করতে দিয়েছিলেন। এই জাতি পৃথিবীতে দীর্ঘকাল বসবাস করার পর পরস্পর আত্মকলহে লিপ্ত হয়ে পড়ল। আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি, কাটাকাটি, খুনোখুনি, অবিচার-ব্যভিচার ও অসৎ কর্মে লিপ্ত হয়ে দুনিয়ায় অশান্তির সৃষ্টি করল। তখন আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে পাঠিয়ে দুষ্টদেরকে ধ্বংস করলেন।

এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে কিছু জ্বীন রক্ষা পেয়েছিল। এদেরই একজন আযাযিল (Azazyl)। তার পিতার নাম ছিল খবীশ এবং মাতা নিবলীস। ছোটবেলা থেকেই সে অতিশয় মেধাবী এবং স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ছিল। যা সে একবার দেখত বা শুনত, তা চিরদিনের জন্যে মনে রাখতে পারত। এই আযাযিলই পরবর্তীতে হয়ে যায় ইবলিস (Satan)। 

আযাযিল দুনিয়াতে এক হাজার বৎসর আল্লাহর এবাদত করল। এবাদতে তার একাগ্রতা ও নিষ্ঠা দেখে ফেরেস্তাগণ অবাক হল। আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে তাকে জ্বীন জাতির সর্দার করে দিলেন।এভাবে আযাযিল তার ৭০ হাজার বৎসর এবাদতের দ্বারা অনেকগুলি গুণবোধক নাম অর্জন করেছিল।যেমন- ‘খাশে’,‘আবেদ’, ‘অলী’,‘সালেহ’ ইত্যাদি এবং এর সবগুণিই ফেরেস্তাদের দেয়া। এভাবে সে উর্দ্ধ আকাশে অবাধ বিচরণের সুযোগ, এমনকি আরশে মুয়াল্লার নিকট গমণের সৌভাগ্য অর্জন করেছিল। তার এতসব অর্জনের মূলে ছিল তার নিরলস শ্রম ও নিষ্ঠা। দিনের একাংশ সে দুনিয়ার জ্বীনদের সৎপথ প্রদর্শণে ব্যয় করে অবশিষ্ট সময়টা আল্লাহর এবাদতেই অতিবাহিত করত।

প্রথম মানব আদমকে সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ সমস্ত ফেরেস্তাদেরকে সমবেত হতে নির্দেশ দিলেন। তারা তৎক্ষণাৎ সমবেত হল। কিন্তু তারা বুঝতে পারছিল না কেন এই সমাবেশ, তাই পরস্পর ফিসফিস কথাবার্তা ও আলোচনা করতে লাগল। অতঃপর আল্লাহ সমবেত ফেরেস্তাদেরকে তাঁর পরিকল্পণার কথা জানালেন। তিনি বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’
 

ইতিপূর্বে ফেরেস্তাগণ জ্বীন জাতির অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল। সুতরাং তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে অশান্তি ঘটাবে ও রক্তপাত করবে? আমরাই তো রয়েছি আপনার পবিত্র মহিমা ঘোষণা করার জন্যে।’ 

তিনি বললেন, ‘আমি যা জানি তোমরা তো তা জান না। সুতরাং অমি ছাঁচে ঢালা শুকনো মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করছি, যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা তাকে সিজদা করবে।’

 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- যখন ফেরেস্তাগণ কথাবার্তা বলছিল।(৩৮:৬১) আর যখন প্রতিপালক ফেরেস্তাদেরকে বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’ 

তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে অশান্তি ঘটাবে ও রক্তপাত করবে? আমরাই তো আপনার পবিত্র মহিমা ঘোষণা করি।’ 

তিনি বললেন, ‘নিঃসন্দেহে আমি যা জানি তোমরা তো তা জান না।’(২:৩০)‘আমি ছাঁচে ঢালা শুকনো ঠনঠনে মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করছি, যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তারমধ্যে আমার রূহ (প্রাণ) সঞ্চার করব, তখন তোমরা তাকে সিজদা করবে।’(১৫:২৮-২৯)

 

পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে মাটি সংগ্রহের জন্যে নির্দেশ দিলেন। অন্যান্য ফেরেস্তারা ব্যর্থ হলেও আল্লাহর নির্দেশ পালন করে আজরাইল পৃথিবী থেকে এই মাটি সংগ্রহ করে নিয়ে এল। অত:পর আল্লাহ প্রথম মানব আদমকে ঐ শুকনো মাটি থেকে সৃষ্টি করলেন। 

 

আদমের শরীর যখন সুঠাম হল, তখন আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, ‘তার রূহ আন।’-ইতিপূর্বে তিনি আদমের রূহ সৃষ্টি করে তা ফেরেস্তাদের তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন।

ফেরেস্তাগণ একটি নূরের আধারে ঐ রূহ এনে আদমের শির পার্শ্বে রাখল। আল্লাহ রূহকে আদেশ করলেন, ‘এই দেহে প্রবেশ কর।’

 

এই আদেশের পর রূহ কয়েকবার আদমের দেহের চাতুর্দিকে প্রদক্ষিণ শেষে নাসিকা পথে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করল। তৎক্ষণাৎ আদম চোখ মেলে চাইলেন এবং হাঁচি দিয়ে উঠে বসতে চেষ্টা করলেন। ফেরেস্তাগণ তা দেখে বলল, ‘নিশ্চয় এই বান্দা ত্বরাপ্রবণ হবে।’

প্রকৃতপক্ষে ফেরেস্তাদের ধারণাই ছিল সঠিক। আল্লাহ মানুষকে ত্বরাপ্রবণ করেই সৃষ্টি করেছেন। কোরআনেও এর প্রমান পাওয়া যায়- সৃষ্টিগত ভাবে মানুষ ত্বরা প্রবণ।(২১:৩৭)

 

আদম উঠে বসলেন। উপস্থিত ফেরেস্তাগণ আদমকে সম্মান প্রদর্শণ করল। আর এরূপ নির্দেশ তারা পুর্বেই আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত হয়েছিল। আর আদম তার চারিদিকে সমবেত ফেরেস্তাদেরকে এক নজর দেখে নিয়ে বললেন, ‘সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। ’আল্লাহ বললেন, ‘তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।’

 

আদমকে সৃষ্টির পর আল্লাহ তাকে বেহেস্তের উদ্যানে বাস করতে দিয়েছিলেন। আদম ঘুরতেন ফিরতেন খুশীমত খাওয়া-দাওয়া করতেন। এসময় আল্লাহ তাকে তাঁর তত্ত্বাবধানে যাবতীয় কিছুর নাম শিক্ষা দিতে লাগলেন। আদমের কৌতুহলও ছিল অদম্য। তিনি দ্রুত সবকিছু আয়ত্ব করে ফেলতে লাগলেন।যখনই কোন নুতন জিনিষ তার সম্মুখে পড়ত, তিনি তৎক্ষণাৎ সে সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জানতে চাইতেন। 


তার এবাদতের জন্যে বেহেস্তে একটি গৃহ (বায়তুল মামুর) নির্মিত হয়েছিল। ফেরেস্তাদের সাথে তিনি সেখানে এবাদত করতেন এবং অবসরে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। কিন্তু ফেরেস্তাগণ তো সর্বদা আল্লাহর নির্দেশ পালনে ব্যতিব্যস্ত এবং তাঁর এবাদতে মশগুল থাকত, তাই প্রায়ই আদম নিঃসঙ্গ হয়ে পড়তেন। আল্লাহ তো মহাজ্ঞানী, তিনি তার নিঃসঙ্গতা দূর করতে হাওয়াকে তার বাম পাঁজরের হাঁড় থেকে সৃষ্টি করলেন, যেন তিনি একজন সঙ্গী পান, যে সঙ্গী সর্বদা তার মনোরঞ্জন করবে, তাকে উৎফুল্ল ও আনন্দের মধ্যে রাখবে। এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত-তিনি আদমকে সৃষ্টি করলেন ও তার থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন যেন সে তার কাছে শান্তি পায়।’(৭:১৮৯)

 

হাওয়াকে আল্লাহ যখন সৃষ্টি করলেন, তখন আদম নিদ্রামগ্ন ছিলেন। তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখতে পেলেন তার মাথার পাশে বসে রয়েছে এক রমনী যে তার মুখের দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে। ঐ রমনীর সুন্দর মুখশ্রী এবং টানা টানা চোখের মাদকতা ভরা চাহনিতে আদম আকৃষ্ট হলেন। তিনি উঠে বসলেন এবং অবাক হয়ে ঐ নারীর সৌন্দর্য অবলোকন করতে লাগলেন। বেহেস্তে এমন সৃষ্টি তিনি পূর্বে দেখেননি। হাওয়ার সৃষ্টি সম্পর্কে Book of Chamis জানায়- Allah presented him, through Gabriel, with a bunch of grapes from Paradise, and when he had eaten them he fell into a deep sleep. The Lord then took a rib from Adam's side, and formed a woman of it, whom he called Hava [Eve], for he said, I have taken her from (hai) the living. She bore a perfect resemblance to Adam; but her features were more delicate than his, and her eyes shone with a sweeter luster, her hair was longer, and divided into seven hundred braids; her form was lighter, and her voice more soft and pure.

While Allah was endowing Eve with every female charm, Adam was dreaming of a second human being resembling himself. Nor was this strange, for had he not seen all the creatures which had been presented to him in pairs? -(Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.)

 

যে আদম ইতিপূর্বে আগ্রহ নিয়ে ফেরেস্তাদের সঙ্গে কথাবার্তায় সময় কাটাতেন, তিনি এখন এই নারীকে নিয়ে বিভোর হয়ে পড়লেন। এই সময় এক ফেরেস্তা ঐ নারীকে দেখে এবং আদমের এই পরিবর্তণে অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আদম, এ কে?’

আদম উত্তর করলেন, ‘এর নাম হাওয়া (Living Things)।’

ফেরেস্তা - ‘তার নাম এমন কেন?’

আদম - ‘তাকে আমার থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমি জীবন্ত (Living Being)।’

 

আল্লাহ আদমকে যাবতীয় কিছুর নাম শিক্ষা দিলেন। আদম যখন সবকিছুর নাম, পরিচয় শিখে ফেললেন তখন আল্লাহ ফেরেস্তাদের সম্মুখে সকল বস্তু উপস্থাপন করে বললেন, ‘এসবের নাম আমাকে বল।’ 

তারা বলল, ‘আপনি মহান। আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি প্রাজ্ঞ, তত্ত্বজ্ঞানী।’ 

তখন তিনি আদমকে বললেন, ‘হে আদম! তুমি ওদের এসবের নাম বলে দাও।’

 

যখন আদম তাদের ঐসবের নাম বলে দিলেন, তখন আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে আকাশ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বস্তু সম্বন্ধে আমি জানি, আর আমি জানি তোমরা যা প্রকাশ কর বা গোপন রাখ।’

 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন। তারপর তিনি ফেরেস্তাদের সামনে সেইসব উপস্থাপন করে বললেন, ‘এ সবের নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’ 

তারা বলল, ‘আপনি মহান। আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি প্রাজ্ঞ, তত্ত্বজ্ঞানী।’ 

তিনি বললেন, ‘হে আদম! ওদের এ সবের নাম বলে দাও।’ 

যখন সে তাদের ওদের নাম বলে দিল, তখন তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে আকাশ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বস্তু সম্বন্ধে আমি জানি, আর আমি জানি তোমরা যা প্রকাশ কর বা গোপন রাখ।(২:৩১-৩৩)

 

জ্ঞানের দিক থেকে ফেরেস্তাদের উপর আদমের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট হল। ফেরেস্তাদের মধ্যে জ্ঞানীকে এবং আল্লাহর অধিকতর নৈকট্যপ্রাপ্তদের প্রতি সম্মান প্রদর্শণের রীতি প্রচলিত ছিল। এই একই কারণে আযাযিলকে তারা সমীহ ও সম্মান করত। তাই আল্লাহ অধিকতর জ্ঞানী আদমের প্রতি সম্মান প্রদর্শণের জন্যে তাদেরকে নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, ‘আদমকে সিজদা কর।

 

এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় যে, ইতিপূর্বে আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে আদমকে সিজদা করার বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তাদেরকে সেইসময় বলেছিলেন- ‘অমি ছাঁচে ঢালা শুকনো মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করছি, যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা তাকে সিজদা করবে।’- তাই এই নির্দেশ তাদের কাছে নতুন ছিল না। আর তারা তো সর্বদা আল্লাহর নির্দেশ মান্যকারী। সুতরাং উপস্থিত সকল ফেরেস্তাগণ তৎক্ষণাৎ আদমকে সিজদা করল, আযাযিল ব্যতিত। যদিও সে ফেরেস্তা ছিল না, ছিল জ্বীন, তথাপি সেও এই নির্দেশের অন্তর্ভূক্ত ছিল। কেননা তখন পর্যন্ত সে ফেরেস্তাদের সঙ্গে একত্রে বসবাস করত এবং আল্লাহর এই নির্দেশ দানের সময়ও সে তাদের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিল।

 

জ্বীন জাতিকে আনুগত্য ও অবাধ্যতা প্রদর্শণের ব্যাপারে স্বাধীন করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। আগুণের সৃষ্ট জ্বীন আযাযিলের কাছে মাটির সৃষ্টি আদম শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হল না- যদিও বিশেষ জ্ঞানের ক্ষেত্রে একটু আগে আদম তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমান দিয়েছিলেন। সুতরাং সে আল্লাহর নির্দেশ উপেক্ষা করে অনড় দাঁড়িয়ে রইল।


এদিকে সিজদাকারী ফেরেস্তাগণ মস্তক উত্তোলন করেই বুঝতে পারল, সিজদা অস্বীকারকারী আযাযিল। কেননা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার সাথে সাথে তার মুখাবয়ব ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছিল। সে আযাযিল থেকে রূপান্তরিত হল ইবলিসে। ফেরেস্তাগণ তার এই রূপ দেখে ভয়ে পুনঃরায় সিজদায় পতিত হল। মূসার সঙ্গে তূর পর্বতের পাদদেশে ইবলিসের দেখা হলে তিনি তার এই ভয়ংকর চেহারার বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন। উত্তরে ইবলিস বলেছিল-‘Oh Musa, that is but the ambiguity of appearances, while the spiritual state does not rely on it and does not change. Gnosis remains true even as it was at the beginning and does not change even if the individual changes.’ -(Kitab at-tawasin by Mansur al-Hallaj)  যাইহোক, কাহিনীতে ফিরি-

 

আল্লাহ বললেন, ‘হে ইবলিস! তোমার কি হল যে তুমি সিজদাকারীদের সাথে যোগ দিলে না? কে তোমাকে বাঁধা দিল?’

সে বলল, ‘আমি তো তার চেয়ে বড়, তুমি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছ, আর তাকে কাদা দিয়ে।’

আল্লাহ বললেন, ‘হে ইবলিস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি তাকে সিজদা করতে তোমার বাঁধা কোথায়? তুমি যে অহংকার করলে, তুমি কি এতই বড়?’ 

সে বলল, ‘তুমি মাটি থেকে যে মানুষ সৃষ্টি করেছ আমি তাকে সিজদা করব না।’

তিনি বললেন, ‘তুমি এখানে (বেহেস্তে) থেকে অহংকার করবে এ হতে পারে না। সুতরাং বের হয়ে যাও, তুমি তো অধমদের একজন।’ 

 

এতক্ষণ আদম দাঁড়িয়ে তাকে ফেরেস্তাদের সিজদা করা দেখলেন। অতঃপর আল্লাহর সাথে ইবলিসের তর্ক-বিতর্ক করতে দেখলেন এবং সকল কথোপকথন নিজ কানে শুনলেন। মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে কতই না স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি কতই না উদার ও সহানুভূতিশীল যে তিনি তাঁর সৃষ্টির এই প্রকার ঔদ্ধ্যত্য সহ্য করছেন- আদম বিষ্মিত ও হতবাক হয়ে পড়লেন। এদিকে আল্লাহ দেখলেন এই ইবলিস আদমের প্রকাশ্য বিরোধীতায় লিপ্ত। সুতরাং আদমকে সতর্ক করে দিতে তিনি তাকে বললেন, ‘হে আদম! এই ইবলিস তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। সুতরাং সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত হতে বের করে না দেয়, দিলে তোমরা দুঃখ-কষ্ট পাবে। তোমরা জান্নাতে বাস করতে থাক। সেখানে তোমরা ক্ষুধার্ত বা উলঙ্গ বোধ করবে না এবং সেখানে পিপাসা বা রোদের তাপ তোমাদেরকে কষ্ট দেবে না।’

 

অতঃপর আল্লাহ তাদের চলাফেরায় সীমারেখা টেনে দিলেন। বাগানের মাঝখানে অবস্থিত এক বৃক্ষের নিকট গমন ও তার ফল ভক্ষণ নিষিদ্ধ করলেন। এই বৃক্ষটিই সেই জ্ঞানবৃক্ষ। আর এই বৃক্ষটি নির্দেশ করে আদমকে বললেন, ‘হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতের যেখানে ইচ্ছে যাও বা যা ইচ্ছে খাও, কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হইও না, হলে তোমরা সীমালংঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।’

 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-‘আমি যখন ফেরেস্তাদেরকে বললাম, ‘আদমকে সিজদা কর।’(২:৩৪) ‘তখন ফেরেস্তাগণ সকলেই সিজদা করল, ইবলিস ছাড়া, সে সিজদা করতে অস্বীকার করল।
আল্লাহ বললেন, ‘হে ইবলিস! তোমার কি হল যে তুমি সিজদাকারীদের সাথে যোগ দিলে না?’(১৫: ৩০-৩২) আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম, তখন কে তোমাকে বাঁধা দিল যে তুমি সিজদা করলে না?’

সে বলল, ‘আমি তো তার চেয়ে বড়, তুমি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছ, আর তাকে সৃষ্টি করেছ কাদা দিয়ে।’(৭:১২)
 

প্রতিপালক বললেন, ‘হে ইবলিস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি তাকে সিজদা করতে তোমার বাঁধা কোথায়? তুমি যে অহংকার করলে, তুমি কি এতই বড়?‘(৩৮:৭৫) 

সে বলল, ‘তুমি ছাঁচে ঢালা শুকনো মাটি থেকে যে মানুষ সৃষ্টি করেছ আমি তাকে সিজদা করব না।’(১৫:৩৩) 

তিনি বললেন, ‘তুমি এখান থেকে নেমে যাও, এখানে থেকে অহংকার করবে এ হতে পারে না। সুতরাং বের হয়ে যাও, তুমি তো অধমদের একজন।’(৭:১৩)
 

আমি বললাম, ‘হে আদম! এ (ইবলিস) তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। সুতরাং সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত হতে বের করে না দেয়, দিলে তোমরা দুঃখ-কষ্ট পাবে। তোমাদের জন্যে এ রইল যে, তোমরা জান্নাতে ক্ষুধার্ত বা উলঙ্গ বোধ করবে না এবং সেখানে পিপাসা বা রোদের তাপ তোমাদেরকে কষ্ট দেবে না।’(২০:১১৭-১১৯) ... ‘হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতে বাস কর এবং যেখানে ইচ্ছে যাও বা যা ইচ্ছে খাও, কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হইও না, হলে তোমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।’(৭:১৯)

 

ইবলিস আল্লাহর আদেশ অমান্য করায় শাস্তিস্বরূপ বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হল। আদমকে সিজদা না করার কারণে তার এই সাজা। সুতরাং যার জন্যে তার এই দুর্ভোগ সে বেহেস্তের অপার সুখ ভোগের মধ্যে শান্তিতে থাকবে এটা সে সহ্য করতে পারছিল না। তাই আদমকেও পথভ্রষ্ট করে কিভাবে সেখান থেকে বের করে দেয়া যায় সেই চিন্তায় সে মশগুল হল। কিন্তু যে পরিকল্পণাই সে করুক তা বাস্তবায়ন করতে হলে তাকে প্রথমে বেহেস্তে প্রবেশ করতে হবে। কিন্তু কিভাবে? 

 

ইবলিস বেহেস্তের দ্বারদেশে পৌঁছে ইতস্ততঃ ঘোরাঘুরি করতে লাগল। দ্বারের একপাশে প্রাচীরের উপর বসে ছিল এক ময়ূর। সে তাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তার পরিচয় জানতে চাইল।

 

ইবলিস বলল, ‘আমি আযাযিল, আল্লাহর এক বান্দা।’

চতুর ইবলিস দ্রুত ঐ ময়ূরের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলল। একসময় সে বেহেস্ত ঘুরে ফিরে দেখতে চাইল। ময়ূর বলল, ‘এরকম কোন ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দেননি। তবে তুমি অপেক্ষা কর। আমার এক বন্ধুকে ডেকে নিয়ে আসছি। সে হয়ত: এ ব্যাপারে সাহায়্য করতে পারে।’

 

ময়ূর তার বন্ধু সাপকে সঙ্গে করে নিয়ে এল। এই সাপ জ্ঞান বৃক্ষের ফল পাহারা দিত। সে বলল, ‘আল্লাহর অনুমতি ব্যতিত কারও ভিতরে প্রবেশের অধিকার নেই।’

ইবলিস বলল, ‘আমি বেহেস্তের কোথাও পা রাখব না, তোমার মুখের মধ্যেই অবস্থান করব।’

সাপ রাজী হল না। তখন ইবলিস তাদেরকে বলল, ‘আমি ‘ইসমে আযম’ জানি। আমি তোমাদেরকে তা শিখিয়ে দেব। তাতে তোমরা আল্লাহর আরও নৈকট্যলাভ করতে পারবে।’

তার এই কথা শুনে সাপ তার মাথা প্রসারিত করে দিল এবং তাকে মুখ গহব্বরে বসিয়ে বেহেস্তে প্রবেশ করাল। 

ইবলিস বলল, ‘আমাকে গন্ধম বৃক্ষের নিকটবর্তী কর।’

 

বেহেস্তের সুখ। নয়নাভিরাম নানা বর্ণের নানারকম ফলমূল, আরাম আয়েশ -আহা। বেহেস্তের মাঝামাঝি একস্থানে বসে ফল খেতে খেতে আদম ও হাওয়া নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলেন, ‘কতই না ভাল হত যদি আমরা অমর হতাম, আর আমাদের এই জান্নাত বাস চিরকালীন হত!’ 

 

ইবলিস তাদের এই কথা শুনল। সে ঐ সময় গন্ধম বৃক্ষের শাখায় জড়িয়ে থাকা পাহারাদার সাপের মুখ গহ্বরে বসে ছিল। বৃক্ষ থেকে অবতরণের পর দ্রুত তাদের সন্নিকটে এসে সে বলল, ‘হে আদম! আমি কি তোমাদেরকে অমর ও অক্ষয় রাজ্যের বৃক্ষের কথা বলে দেব?’

 

তারা দৃষ্টি ফেলে নিকটেই সাপ দেখে বললেন, ‘তুমি কে?’

সে বলল, ‘আমি সেই বৃক্ষ রক্ষণাবেক্ষণকারী।’ 

হাওয়া বিষ্মিত হয়ে বলল, ‘এখানকার কোন বৃক্ষ যে রক্ষণাবেক্ষণের অধীন তা তো আমি জানিনা।’ 

সে বলল, ‘আছে, আর মহামূল্যবান বলেই তো তা রক্ষণাবেক্ষণের অধীন।’

 

আদম ও হাওয়াকে নিয়ে সাপ ঐ বৃক্ষের একেবারে সন্নিকটে চলে এল। বৃক্ষের শাখায় শোভা পাচ্ছে নয়নমনোহর ফল একেবারে হাতের নাগালে। সুগন্ধে চারিদিক মৌ মৌ করছে। অভূতপূর্ব সৌন্দর্য। তারা অবাক নয়নে ফলের ভারে নূয়ে পড়া বৃক্ষটির শোভা উপভোগ করতে লাগলেন। ইবলিস বলল, ‘এটাই সেই বৃক্ষ, যার ফল ভক্ষণ করলেই তোমরা হবে অমর আর তোমাদের বাস বেহেস্তে চিরস্থায়ী হবে।’

তারা বলল, ‘কিভাবে আর কেনইবা আমরা তোমার কথা বিশ্বাস করব?’ 

সে তাদের মনোভাব লক্ষ্য করে কসম খেয়ে বলল, ‘আমি তো তোমাদের একজন হিতৈষী।’

 

আদম দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ছিলেন না। তাছাড়া তার তো মিথ্যা ও প্রতারণার বিষয়ে কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই ইবলিসের প্ররাচনায় সে ভুলে গেল এই সেই বৃক্ষ যেটি বাগানের মাঝখানে অবস্থিত এবং এই বৃক্ষ সম্পর্কে আল্লাহ তাদেরকে সতর্ক করেছিলেন যেন তারা এর নিকটবর্তী না হয়, হলে তারা সীমালঙ্ঘণকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।

চতুর ইবলিসের কথায় আদম-হাওয়া বিশ্বাস স্থাপন করলেন। তারা উভয়ে গাছ থেকে ফল ছিঁড়লেন। গন্ধম ফল পাহারাদার সাপের মুখের গহব্বরে ইবলিস ছিল তাই সে তাদেরকে কোনরূপ সতর্ক করতে বা বাঁধা দিতে পারল না।

তারা উভয়েই ফল ভক্ষণ করলেন। 

 

এদিকে ফল ভক্ষণ মাত্রই তাদের লজ্জাস্থান যা তাদের কাছে গোপন করা হয়েছিল- তা প্রকাশ হয়ে পড়ল। তারা উভয়ে উলঙ্গ হয়ে পড়লেন এবং ঐ অবস্থায় আল্লাহর সামনে পড়ার ভয়ে গাছপালার আড়ালে লুকালেন; আর নিজেদেরকে বৃক্ষপত্র দ্বারা আবৃত্ত করার নিরন্তন চেষ্টা করতে লাগলেন। তখন আল্লাহ তাকে ডেকে বললেন, ‘হে আদম! তুমি কোথায়?’ 

তিনি বললেন, ‘এই তো আমি। তোমার ডাক শুনেছি কিন্তু আমি উলঙ্গ তাই লুকিয়ে আছি।’ 

আল্লাহ বললেন, ‘তুমি যে উলঙ্গ সেকথা তোমাকে কে বলল?’ 

আদম নিরুত্তর রইলেন। 

 

আল্লাহ অসন্তুষ্ট হলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আদম! যে ফল খেতে আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম তা-কি তুমি খেয়েছ?’

তিনি বললেন, ‘আমরা শয়তানের ধোকায় পড়ে ভুল করে ফেলেছি।’

আল্লাহ বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে ঐ গাছের ব্যাপারে সাবধান করে দেইনি?’

তারা বললেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের উপর জুলম করেছি, যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা না কর, তবে নিশ্চয় আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হব।’   

 

এতদসম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- তারপর শয়তান তাকে ফুসমন্তর দিল। সে বলল, ‘হে আদম! আমি কি তোমাকে অমরতা ও অক্ষয় রাজ্যের গাছের কথা বলে দেব? (২০:১২০) 

তারপর তাদের লজ্জাস্থান যা গোপন রাখা হয়েছিল তা প্রকাশ করার জন্যে শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল ও বলল, ‘যাতে তোমরা দু’জনে ফেরেস্তা বা অমর না হতে পার তার জন্যেই তোমাদেরকে এ গাছের সম্বন্ধে নিষেধ করেছেন। সে তাদের দু’জনের কাছে শপথ করে বলল, ‘আমি তো তোমাদের একজন হিতৈষী।’
 

‘এভাবে সে তাদেরকে ধোঁকা দিল। তারপর যখন তারা সেইগাছের ফলের স্বাদ গ্রহণ করল তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল। আর তারা বাগানের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে ঢাকার চেষ্টা করল। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের এ গাছের ব্যাপারে সাবধান করে দেইনি?’ 

তারা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের উপর জুলম করেছি, যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা না কর, তবে নিশ্চয় আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হব।’(৭:২০-২৩)

আমি ইতিপূর্বে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ়তা পাইনি।(২০:১১৫)

 

‘আমি ইতিপূর্বে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে ভুলে গিয়েছিল..’এই আয়াতাংশে কেবলমাত্র আদমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে- হাওয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর কারণ হয়তঃ আল্লাহ নারী জাতির প্রতি বিশেষ রেয়াত প্রদর্শণ করেছেন। অথবা এটা হতে পারে- স্ত্রী যেহেতু পুরুষের অধীন সুতরাং স্বতন্ত্র্যভাবে হাওয়ার নাম উল্লেখের প্রয়োজন মনে করেননি।

 

ইবলিস প্রতারণার মাধ্যমে আদম ও হাওয়াকে গন্ধম ফল খাইয়ে পদঙ্খলিত করেছিল, তারা বেহেস্তে যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল। এই ঘটনায় একদিকে আদম নিজেকে অপরাধী ভেবে হৃতদ্যম ও হতবাকের মত হয়ে পড়েছিলেন, অন্যদিকে ভীষণ লজ্জিতও হলেন। আল্লাহ তাকে ফেরেস্তাদের ও জ্বিনদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন, অথচ সে কি করে ফেলল! তাই তিনি তার কোন অতিরিক্ত কথা অধিক শাস্তি ও কোপানলের কারণরূপে পরিগণিত হতে পারে এই আশঙ্কায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। তার এই অবস্থা দেখে আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমা পরবশ হলেন; তিনি তো ক্ষমাপরবশ, পরম দয়ালু। ফলে আদম তাঁর কাছ থেকে কিছু বাণী পেল। 

 

-এখানে একথা উঠতে পারে যে, আল্লাহ তো আদমকে সৃষ্টি করেছিলেন দুনিয়াতে পাঠানোর উদ্দেশ্য নিয়ে। ফেরেস্তাদের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য- ‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’ -থেকেই একথা সুস্পষ্ট। তাহলে তাদেরকে বেহেস্তে থাকতে দেয়া হল কেন? আর এখানে ক্ষমা ও দয়ার বিষয়টি এল কিভাবে যখন যা ঘটার তা ঘটল? এর উত্তর প্রথমত:এই যে, যা ঘটল তার বিষয়ে আল্লাহর উপর অপবাদ আরোপ করার সুযোগ যেন কেউ না পায়। দ্বিতীয়ত: আল্লাহ আদমকে ইবলিসের সাথে প্রত্যক্ষ পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। যেন ইবলিসকে শত্রু হিসেবে পরিস্কারভাবে জানতে এবং চিনতে তার কোন ভুল না হয়। 

 

তৃতীয়ত: আদম যেন সর্বদা তার নিজ চরিত্রের সেই দুর্বল দিকটি সম্পর্কেও সতর্ক থাকেন- যে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইবলিস তাকে বিভ্রান্ত করেছে। ফলে যেন দুনিয়াতে গিয়ে তিনি ইবলিসের কার্যকলাপের বিষযে তার সন্তান-সন্তুতিদেরকে সতর্ক করতে পারেন এবং আল্লাহর ইচ্ছা সেখানে বাস্তবায়ন করতে পারেন। 

 

আর ক্ষমার বিষয়টি এল কেননা আল্লাহ জ্বিন ও ইনসানকে তাঁর প্রতি বাধ্যতা ও অবাধ্যতা প্রদর্শণের ব্যাপারে স্বাধীন করে সৃষ্টি করেছেন। আদম আল্লাহর প্রত্যক্ষ নির্দেশ ভুলে গিয়ে গন্ধম খেয়ে যে অপরাধ করেছেন তারজন্যে তাকে কোন শাস্তি বা অভিসম্পাতের আওতায় আনলেন না- যেমনটা তিনি ইবলিসকে করেছিলেন যা পরবর্তীতে কাহিনীর বর্ণনায় দেখা যাবে। আর এখানেই তাঁর দয়ার্ততার প্রকাশ পেল যখন তিনি এতদসত্ত্বেও আদমকে ক্ষমা প্রার্থণার রীতি শিখিয়ে দিলেন। 

 

আল্লাহ ইবলিসকে ইঙ্গিত করে আদমকে বললেন, ‘তোমরা একে অন্যের শত্রু হিসেবে কিছুকালের জন্যে পৃথিবীতে নেমে যাও। আর সেখানে তোমাদের জন্যে আবাস ও জীবিকা রইল। সেখানেই তোমরা জীবন-যাপন করবে, সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে আর সেখান থেকেই তোমাদেরকে বের করে আনা হবে। সেখানে তোমাদের অবস্থান হবে স্বল্পকালের জন্যে ও আর সেখান থেকে লাভ সংগ্রহ করতে হবে।’

 

এরপর আল্লাহ আদমকে মনোনীত করলেন-আর তাকে পথের নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, ‘পরে আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সৎপথের নির্দেশ এলে যে আমার পথ অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না ও দুঃখ-কষ্ট পাবে না। আর যে আমার স্মরণে বিমুখ হবে তার জীবনের ভোগ-সম্ভার সঙ্কুচিত হবে।'-একই সঙ্গে আল্লাহ তার আদেশ ও নির্দেশ অমান্যকারীর শেষ পরিণতির কথাও স্মরণ করিয়ে দিলেন, বললেন- 'আর আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় ওঠাব।’ 

সে বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালে? আমি তো ছিলাম চক্ষুষ্মান।’ 

তিনি বলবেন, ‘তুমি এরূপই ছিলে, আমার নিদর্শণাবলী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। সেভাবে আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে এবং এভাবে আমি তাকে প্রতিফল দেই যে বাড়াবাড়ি করে ও প্রতিপালকের নিদর্শণে বিশ্বাস স্থাপন করে না। পরকালের শাস্তি অবশ্যই কঠোর ও স্থায়ী। যারা অবিশ্বাস করবে ও আমার নির্দেশকে প্রত্যাখ্যান করবে তারাই জাহান্নামে বাস করবে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।’

 

এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ-অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদঙ্খলিত করেছিল। পরে তারা যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল। (২:৩৬) তারপর আদম তার প্রতিপালকের কাছ থেকে কিছু বাণী পেল। আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমা পরবশ হলেন। তিনি তো ক্ষমাপরবশ, পরম দয়ালু।’(২:৩৭) তিনি বললেন, ‘তোমরা একে অন্যের শত্রু হিসেবে কিছুকালের জন্যে পৃথিবীতে নেমে যাও। আর (সেখানে) তোমাদের জন্যে আবাস ও জীবিকা রইল। সেখানেই তোমরা জীবন-যাপন করবে, সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে আর সেখান থেকেই তোমাদেরকে বের করে আনা হবে।’(৭:২৪-২৫) তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে।(২:৩৬)

 

এরপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করলেন-আর তাকে পথের নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, ‘পরে আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সৎপথের নির্দেশ এলে যে আমার পথ অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না ও দুঃখ-কষ্ট পাবে না। আর যে আমার স্মরণে বিমুখ হবে তার জীবনের ভোগ-সম্ভার সঙ্কুচিত হবে, আর আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় ওঠাব।’ সে বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালে? আমি তো ছিলাম চক্ষুস্মান।’ 

তিনি বলবেন, ‘তুমি এরূপই ছিলে, আমার নিদর্শণাবলী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। সেভাবে আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে এবং এভাবে আমি তাকে প্রতিফল দেই যে বাড়াবাড়ি করে ও প্রতিপালকের নিদর্শণে বিশ্বাস স্থাপন করে না। পরকালের শাস্তি অবশ্যই কঠোর ও স্থায়ী।’(২০:১২২-১২৭) 

‘যারা অবিশ্বাস করবে ও আমার নির্দেশকে প্রত্যাখ্যান করবে তারাই আগুনে বাস করবে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।’ (২:৩৯)

 

আদম-হাওয়াকে যখন আল্লাহ বচন দিচ্ছিলেন, তখন ইবলিস চুপচাপ একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু এবার সে মুখ খূলল। সে আদমকে দেখিয়ে আল্লাহকে বলল, ‘তুমি একে কি দেখেছ যাকে আমার উপরে তুমি মর্যাদা দিলে? কেয়ামত দিবস পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দাও, তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ব্যতিত তার বংশধরদের সমূলে নষ্ট করে ফেলব।
 

আল্লাহ বললেন, ‘যাও, জাহান্নামই তোমার প্রতিদান আর প্রতিদান তাদের, যারা তোমাকে অনুসরণ করবে। তোমার কন্ঠস্বর দিয়ে ওদের মধ্যে যাকে পার সত্য থেকে সরিয়ে নাও, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে ওদের আক্রমণ কর, আর ওদের ধন-সস্পদে ও সন্তান-সন্তুতিতে শরিক হও আর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাও।’
 

-এই প্রতিশ্রুতির বিষয়টি আল্লাহ কেন তুললেন যখন তিনি জ্ঞাত ছিলেন যে, ইতিপূর্বে আদম হাওয়ার নিকটেও সে শপথ করেছিল -‘আমি তো তোমাদের একজন হিতৈষী।’-এ কথা বলে এবং তা ছিল ছলনা? এটা সম্ভবত:একারণে যে-

এক,- এখন আল্লাহর নিকট কৃত এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তার কথিত শশ্রু আদম ও হাওয়া সাক্ষী থাকায়, আল্লাহর পরম দয়া ও ক্ষমা লাভের যে সুযোগ দুনিয়াতে আদম সন্তানদের থাকছে-তার সদ্ব্যবহার সে নিজে কখনও করতে পারবে না।

 

দুই,- যেন তার প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহও প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন, যাতে ইবলিস ও তার অনুসারীগণ তাদের শেষ পরিণতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে এবং যাতে কোনরূপ সন্দেহের অবকাশ না থাকে।


তিন,- আদম সন্তানগণ যেন তার ও আল্লাহর কৃত প্রতিশ্রুতির বিষয়টি স্বরণে রেখে তাকে চিরশত্রু জ্ঞান করে এবং তার প্রদর্শিত পথ পরিহার করে চলে, যাতে তাদেরকে তার পরিণতি ভোগ করতে না হয়।

 

আল্লাহ ইতিপূর্বে আদমকে মনোনীত করেছেন এবং তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, তার সন্তানদের মধ্যেও তাঁর মনোনীত বান্দা থাকবে যারা পথভ্রষ্টদেরকে পথ প্রদর্শণ করবেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, তিনি জানেন সুচতুর ইবলিস তাঁর ঐসব মনোনীত বান্দাদেরকে প্রধান টার্গেট করবে, যাতে আদম সন্তানগণ সরল পথ কখনও দেখতে না পায়। তাই তিনি ইবলিসের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি চাওয়ার সাথে সাথে এ বিষয় পরিস্কার করে দিতে বললেন- ‘আমার দাসদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা থাকবে না। কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।’

ইবলিস বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দাও।’ 

আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণ, তিনি ইবলিসের এতদিনের কর্মফল পুরোপুরি বিফল করে দিলেন না। তিনি বললেন, ‘তোমাকে অবকাশ দেয়া হল সেইদিন পর্যন্ত-যা অবধারিত। আর তোমার উপর আমার এ অভিশাপ কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী হবে।’

 

ইবলিস দেখল ইতিমধ্যে তার সর্বনাশ হয়ে গেছে, আল্লাহ তাকে কেয়ামত পর্যন্ত অভিশপ্ত করেছেন। সুতরাং যাদের কারণে তার এই সর্বনাশ, তাদেরকেও সর্বনাশ করার- পথভ্রষ্ট করার প্রতিশ্রুতি ও ওয়াদা দিল সে, বলল, ‘যাদেরকে উপলক্ষ্য করে তুমি আমার সর্বনাশ করলে, এ কারণে আমিও তোমার সরল পথে তাদের জন্যে নিশ্চয় ওৎ পেতে থাকব। তারপর আমি তাদের সামনে, পিছনে, ডান ও বাম থেকে তাদের কাছে আসবই, আর তুমি তাদের অনেককেই কৃতজ্ঞ পাবে না।
 

আমি তোমার দাসদের এক নির্দিষ্ট অংশকে আমার দলে নিয়ে ফেলব, আর আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবই, তাদের হৃদয়ে মিথ্যে বাসনার সৃষ্টি করব। আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব এবং তারা পশুর কান ফুটো করবে দেবদেবীকে উৎসর্গ করার জন্যে। আর আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব এবং তারা তোমার সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।’- এই সব প্রতিশ্রুতি ও ওয়াদা দেবার পর অবশেষে ইবলিস তার সর্বনাশের নামে কসম কেটে বলল-‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার যে সর্বনাশ করলে তার কসম! আমি পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপকে আকর্ষণীয় করব, আর আমি সকলের সর্বনাশ করব; তোমার নির্বাচিত দাস ছাড়া।’ -আল্লাহর নির্বাচিত দাসকে ইবলিস তার এই কসমের আওয়ার বাইরে রাখল। কেননা আল্লাহ ইতিপূর্বে তাকে পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের উপর তার কোন প্রভাব খাটবে না।

 

আল্লাহ বললেন, ‘এ-ই আমার কাছে পৌঁছানোর সরল পথ। বিভ্রান্ত হয়ে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে তারা ছাড়া আমার দাসদের ওপর তোমার কোন প্রভাব খাটবে না।’- আল্লাহর এই কথা থেকেই মানুষ আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর সরল পথের দিশা পেল-‘ইবলিস কতৃক আকর্ষণীয় করে উপস্থাপিত পাপকে পরিহার করে চলতে পারলেই মানুষ সর্বদা সেই সরল পথেই থাকবে, যে পথ তাকে আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে যাবে।’

 

একই সাথে আল্লাহ ইবলিস ও তার অনুসারীদের শেষ পরিণতিও সুস্পষ্ট করে দিলেন যেন এ ব্যাপারে কারও নিকট সন্দেহের কোন অবকাশ না থাকে-‘আর আমি সত্যিই বলছি যে, তোমাকে দিয়ে ও ওদের মধ্যে যারা তোমার অনুসারী হবে তাদেরকে দিয়ে আমি জাহান্নাম ভরিয়ে তুলব। তার সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্যে পৃথক পৃথক দল থাকবে।’

 

এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ-সে (ইবলিস) বলেছিল, ‘তুমি একে কি দেখেছ যাকে আমার উপরে তুমি মর্যাদা দিলে? কেয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দাও, তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ছাড়া তার বংশধরদের সমূলে নষ্ট করে ফেলব।’ 

 

আল্লাহ বললেন, ‘যাও, জাহান্নামই তোমার প্রতিদান আর প্রতিদান তাদের, যারা তোমাকে অনুসরণ করবে। তোমার কন্ঠস্বর দিয়ে ওদের মধ্যে যাকে পার সত্য থেকে সরিয়ে নাও, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে ওদের আক্রমণ কর, আর ওদের ধন-সস্পদে ও সন্তান-সন্তুতিতে শরিক হও আর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাও।’ আর শয়তান ওদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেবে তা তো ছলনা মাত্র। (আদমের উপস্থিতিতে ইবলিস ও আল্লাহর কথোপকখন মুহম্মদের নিকট বর্ণনাকালে আল্লাহ এই মন্তব্য করলেন বিশ্বাসীদের সতর্ক করতে এবং স্বরণ করিয়ে দিতে এটা যে, ইতিপূর্বে সে আদম-হাওয়ার কাছেও শপথ করেছিল বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল একথা বলে- ‘আমি তো তোমাদের একজন হিতৈষী।’-অথচ তা ছিল ছলনা।) আমার দাসদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা থাকবে না। কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট। (১৭:৬২-৬৫)

সে (ইবলিস) বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দাও।’ 

আল্লাহ বললেন, ‘তোমাকে অবকাশ দেয়া হল সেইদিন পর্যন্ত-যা অবধারিত। আর তোমার উপর আমার এ অভিশাপ কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী হবে।’(৭৮:৭৯-৮১,৭৮)

 

সে বলল, ‘যাদেরকে উপলক্ষ্য করে তুমি আমার সর্বনাশ করলে, তারজন্যে আমিও তোমার সরল পথে তাদের জন্যে নিশ্চয় ওৎ পেতে থাকব। তারপর আমি তাদের সামনে, পিছনে, ডান ও বাম থেকে তাদের কাছে আসবই, আর তুমি তাদের অনেককেই কৃতজ্ঞ পাবে না।’(৭:১৬-১৭) আমি তোমার দাসদের এক নির্দিষ্ট অংশকে (আমার দলে) নিয়ে ফেলব, আর আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবই, তাদের হৃদয়ে মিথ্যে বাসনার সৃষ্টি করব। আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব এবং তারা পশুর কান ফুটো করবে (দেবদেবীকে উৎসর্গ করার জন্যে)। আর আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব এবং তারা তোমার সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।(৪:১১৮-১১৯) হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার যে সর্বনাশ করলে তার দোহাই! আমি পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপকে আকর্ষণীয় করব, আর আমি সকলের সর্বনাশ করব; তোমার নির্বাচিত দাস ছাড়া।’

 

আল্লাহ বললেন, ‘এ-ই আমার কাছে পৌঁছানোর সরল পথ। বিভ্রান্ত হয়ে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে তারা ছাড়া আমার দাসদের ওপর তোমার কোন প্রভাব খাটবে না।’(১৫:৩৯-৪২) আর আমি সত্যিই বলছি যে, তোমাকে দিয়ে ও ওদের মধ্যে যারা তোমার অনুসারী হবে তাদেরকে দিয়ে আমি জাহান্নাম ভরিয়ে তুলব।(৩৮:৮৪-৮৫) তার সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্যে পৃথক পৃথক দল থাকবে।’(১৫:৪৪)

টি উত্তর
২১ জানুয়ারি ২০১৯ "ক্যারিয়ার" বিভাগে উত্তর দিয়েছেন Ariful (৬৩৭৩ পয়েন্ট )
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
11 অগাস্ট 2014 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আরিফুল (6,242 পয়েন্ট)
1 উত্তর
11 অগাস্ট 2014 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আরিফুল (6,242 পয়েন্ট)

288,296 টি প্রশ্ন

373,615 টি উত্তর

113,001 টি মন্তব্য

156,876 জন নিবন্ধিত সদস্য



বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
* বিস্ময়ে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, এক্ষেত্রে কোন প্রশ্নোত্তর কোনভাবেই বিস্ময় এর মতামত নয়।
...